ব্যাংকিং ডিপ্লোমা-ভিন্ন স্বাদের অভিজ্ঞতা

0
709

ব্যাংকিং নিউজ বাংলাদেশঃ ২০১২ সালের ডিসেম্বরে প্রথম পরীক্ষা দেই। ম্যানেজমেন্ট, বিজনেস কমিউনিকেশন আর ল-তে পাশ করি। জুন ১৩ তে বিসিএস রিটেন প্রস্তুতির কারনে পরীক্ষায় এটেন্ড করতে পারি নি। ডিসেম্বর ১৩ তে একাউন্টিং আর ইকনোমিকস এ পাশ করে যায়। মার্কেটিং গেরো এটে যায়। এ গেরো আর ছাড়াতে চায় না।

জুন ১৪ তে পাশের জন্য ভালো প্রস্তুতি নেই। কিন্তু বিধি বাম। কাছে বই রাখার অপরাধে ধাইন্না মরিচ ম্যাডাম (সম্ভবত নতুন নিয়োগ প্রাপ্ত) খাতা নিয়ে নিল। ম্যাডামকে রিকোয়েস্ট করে বললাম পাশ করার মত প্রস্তুতি আছে। খাতা দিলে সামনে আর দেখা হবে না। ধাইন্না মরিচ আমাকে ভালোবেসেই ফেললো। তাই সে দেখাই শেষ দেখা হোক চান নি। ৪৫ মিনিট পর খাতা পেয়ে ও ট্রায় করেছিলাম কিন্তু রক্ষা মেলেনি। খুবই হতাশ হলাম।

ডিসেম্বর ১৪। সামনে প্রমোশন ডিউ। পাশের বিকল্প নেই। পাশে মর্তুজা ভাই আর তুলি আপা ব্যাপক প্রস্তুতি দেখে ঘাবড়ে গেলাম। ওরা আমাকে বলল একসাথে ইংরেজিতে লিখি। ওদের দুজনকে একপাশে দিয়ে মনযোগ দিয়ে বাংলায় লেখা শুরু করলাম। মর্তুজা (৩৪ এর ক্যাডার) ভালো পরীক্ষা দিয়েছে এ বিষয়ে আমার কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু আমি পাশ করলাম। ওরা ফেল করল। আইবিবির উপর আমার অনাস্থা নেই তবে ওদের উপরে বিশ্বাস মাত্রাতিরিক্ত ছিল।

২য় পাঠ পাশের অভিজ্ঞতাও সুখকর ছিল না। ২০১৫ জুনে এসএমই, লেন্ডিং ম্যানেজমেন্ট ও আইটি তে পাশ করি। ম্যানেজমেন্ট একাউন্টিং আর ফরেন এক্সচেঞ্জ এ ধরা খেলাম। ডিসেম্বর এ কোনটিই পাশ করি নি। জুন ১৬ তে পারিবারিক কারনে অংশ নেয়া হয় নি। ডিসেম্বর এ ও ডাব্বা খেলাম। ১৭ জুনে ফরেন এক্সচেঞ্জ ফেসবুকের কল্যানে পার পেলেও ম্যানেজমেন্ট একাউন্টিং সাংবাদিকদের হলুদ সাংবাদিকতার শিকার হলাম। ভাবলাম এ গেরো কেমনে ছোটানো যায়।

ছোট ভাই রুহুল (ঢাবি ব্যাংকিং এর ২য়) কে বাসায় এনে ম্যাথ শিখতে শুরু করি। বইতে গতানুগতিক সমাধান গুলো ওর সাথে মেলে না। জানি না এখন বাজারের বইগুলোর কী অবস্থা । বিইপি, কস্ট, পেব্যাক পিরিয়ড ও লিজিং এর অংকগুলো মোটামুটি শিখে আকাশ চুম্বি আত্মবিশ্বাস নিয়ে হলে যাই। প্রথম অংক করতে যেয়ে ফিনিশ গুড ইন্ডিং বের করতে ভুল করি। অনেক সময় ব্যায় হয়ে যায়। পরের তিনটি অংক পারলেও মনের মধ্যে সন্দেহ রয়ে গেল। আল্লাহর রহমতে পাশ করে গেলাম।

সো বন্ধুরা হতাশ হইওনা। নিজেকে হামবড়া ভাবিও না। গ্রুপিং ও অন্যের দেখে অনেকে পার পেলেও কেউ কেউ ধরা খেয়ে যান। আর ধরা খেয়ে গেলে অন্যের না দেখে নিজের দুর্বল জায়গা চিহ্নিত করে প্রস্তুতি নেন। আশাকরি ভালো ফল পাবেন।

কাউকে হার্ট করে ফেললে ক্ষমা করবেন।

কার্টেসিঃ মোঃ মেহেদী হাসান

Leave a Reply