একজন ব্যাংকারকে কেন বিয়ে করবেন?

6
82427

ব্যাংকিং ব্যবসায় পরিচালনার সাথে সরাসরি যুক্ত ব্যক্তিবর্গকে ব্যাংকার বলা হয়৷ ভালো পরিমাণে বেতন আর বাড়তি সুযোগ সুবিধা নিয়ে এখন ব্যাংকিং হয়ে উঠেছে সময়ের সাথে তালমিলিয়ে চলার পেশা। আকর্ষণীয় বেতন, সামাজিক সম্মান, ক্যারিয়ারে দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ এই সবকিছু যে গুটিকতক পেশায় মেলে; ব্যাংকিং তার মধ্যে একটি। আজকের দিনের তরুণ পেশাজীবীদের কাছে ব্যাংকিং পেশাটি ক্রমেই পরিণত হয়েছে আকর্ষণীয় ও চ্যালেঞ্জিং একটি পেশায়। আর এই কারনেই বিয়ের বাজারে ব্যাংকারদের কদর দিনে দিনে বেড়েই যাচ্ছে।

১. ব্যাংকে চাকরী করলে অদূর ভবিষ্যতে ব্যাংকারদের একটা বাড়ি এবং একটা গাড়ি থাকবে এটা নিশ্চিত। সেক্ষেত্রে চোখে সুরমা লাগিয়ে নিজের বাড়ি গাড়ির স্বপ্নটা আপনি দেখতেই পারেন। লোকে বলে ব্যাংকে ১২ মাস চাকরী করে ১৮ মাসের বেতন পাওয়া যায় (কথা কিন্তু শতভাগ সত্য)।

২. সততার পরীক্ষায় ব্যাংকারদের চেয়ে উপরে কেউ নাই। কোটি টাকার মধ্যে বসে থেকে নিজের লোভ লালসা সংবরণ করে যে নৈতিক চর্চা হয়, তা অটুট থাকে জীবন চর্চার সব সময়।

৩. পৃথিবীতে এসেছেন খালি হাতে, যাবেন খালি হাতে। তেমনি ব্যাংকে ঢুকার সময় আপনার পকেট ফাকা, বের হওয়ার সময়েও পকেট ফাকা। মাঝখানে রঙের দুনিয়ায় বসবাস। এই যে দার্শনিক চিন্তা ও ধর্মীয় চিন্তার ভেতরে থেকে ব্যাংকাররা প্রতিদিন তাদের জীবন শুরু ও শেষ করে, এর মাধ্যমেই ব্যাংকারদের মানবিক, দার্শনিক ও ধার্মিক গুণাবলী ফুটে উঠে।

৪. অলস মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা। বাট ব্যাংকারদের মস্তিষ্ক কখনো অলস থাকে না বলে তাদের সাথে শয়তানী শব্দটা যায় না। কর্মশীল, সারাক্ষণ এক্টিভ একটা মস্তিষ্ক সর্বদা সুচিন্তায় মশগুল থাকে।

৫. কর্পোরেট ওয়ার্ল্ডে কলিগের সাথে প্রেম, অফিস ফাকি দিয়ে পরকিয়া এসব অনেক কিছুর কথা শোনা যায়। বাট আপনি আপনার ব্যাংকার স্বামী নিয়ে এটুকু নিশ্চিত থাকতে পারেন, এই রোবট এক কাপ চা খাওয়ার জন্যেও নিচে যেতে পারবে না, আর সুন্দরী কলিগের রূপ দেখার জন্য পাশে তাকানোর অবসর তার কখনই হবে না।

৬. বিভিন্ন প্রফেশন যেমন- শিক্ষকদের মধ্যে পরিমলের ধর্ষণ, পুলিশের মধ্যে ডিআইজির জোর করে বিয়ে, প্রশাসনের মধ্যে বউ পিটিয়ে হত্যা অনেক কিছু শোনা গেলেও ব্যাংকারদের চরিত্র নিয়ে আজ অবধি কোন কিছু শুনা যায় নাই। এরা সচ্চরিত্র, কারণ কুকাজ করার মত সময়ই পায় না।

৭. অফিসে এরা এত ব্যস্ত থাকে যে, বাসায় ফিরে বউ এর কথার বিরুদ্ধে কথা বলার মত মনোবল এদের থাকে না। বউ ইজ অলওয়েজ রাইট নীতিতে বিশ্বাসী ব্যাংকাররা আপনাকে দিবে অঢেল সম্মান। সেক্ষেত্রে আপনিই হতে পারেন সংসারের প্রধান কর্তা।

৮. ব্যাংকাররা নাকি বউকে সময় দিতে পারে না। মাসে ৮ দিন করে বছরে ৯৬টা শুক্র + শনিবার, ২৪ দিন সরকারী ছুটি, ১৫ দিন ক্যাজুয়াল লিভ, ১৫ দিন ম্যান্ডাটরি লিভ, টোটাল (৯৬+২৪+১৫+১৫=১৫০), মানে ৩৬৫ দিনের মধ্যে জামাইকে ১৫০ দিন ফ্রি পাইয়াও যদি বলেন জামাই সময় দেয় না, তাইলে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়া ঘর জামাই + কাজের লোক বিয়া করেন।

আপনি যদি ঝামেলাবিহীন, চিন্তাবিহীন, আর্থিকভাবে স্বচ্ছল, সৎ আয়ের, নিয়মতান্ত্রিক জীবন চান, কিংবা বিশ্বস্থ, সৎ, সুচরিত্রের অধিকারী, সময়জ্ঞান সম্পন্ন কাউকে বিয়ে করতে চান, তবে একজন ব্যাংকারই হতে পারে আপনার প্রথম পছন্দ।

কার্টেসিঃ নাজিরুল ইসলাম নাদিম (পরিমার্জিত)
উৎসর্গঃ ব্যাংকিং পেশায় নিয়োজিত সকল ব্যাংকারদের।

6 মন্তব্যসমূহ

  1. দারুণ লিখেছেন। তবে ১৫০ দিন ছুটির যে হিসাব মিলিয়েছেন, তা কেবলই কল্পনা। এর সাথে বাস্তবতার কোন মিল নেই।

Leave a Reply