ম্যানেজমেন্টের দশ ভুলে হারিয়ে যান যোগ্য কর্মীরা

0
102146

যোগ্য কর্মীরা তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা ও শ্রম দিয়ে একটি প্রতিষ্ঠানকে উন্নতির চুড়ায় নিয়ে যায়। কিন্তু ম্যানেজমেন্টের কতিপয় ভুলে সে সকল যোগ্য কর্মীরা তাদের কাজের আগ্রহ হারিয়ে ফেলে এবং হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে যান। আসুন জেনে নেই ম্যানেজমেন্টের সেই ভুলগুলো কি?

১) বাড়তি কাজ
দক্ষ কর্মীরা যতটুকু কাজ করেন তা গুণগত মানসম্পন্ন হয়। এ কারনে ম্যানেজমেন্ট তাদের দিয়ে সব সময় বাড়তি কাজ করিয়ে নিতে চান। তখন কর্মীদের কাছে পারদর্শিতা শাস্তি হয়ে দাঁড়ায়। ষ্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় বলা হয়, নিদ্রিষ্ট সময়ের পর থেকে বাড়তি প্রতি ঘন্টার কাজে, ঐ কাজের উৎপাদনশীলতা কমতে থাকে। কাজেই দক্ষদের নিয়ে বেশি বেশি কাজ করিয়ে লাভ নেই।

২) প্রতিদান না দেওয়া
দক্ষ কর্মীদের যোগ্যতার ভিত্তিতে পাওনাটাও অন্যদের চেয়ে বেশি হওয়া উচিত। তা না হলে মেধা বা প্রতিভার মূল্য কোথায়? কিন্তু যখন তারা অন্য সবার মত বিবেচিত হন,তখন কাজের আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন এবং অন্য কোথাও চলে যাওয়ার মানসিকতা তৈরি হয়।

৩) ভালো-মন্দ না দেখা
সাধারণত কাজের অনিচ্ছা বা চাকুরী ছেড়ে যাওয়ার মূল কারণটি হয় উপরস্থ বসের সঙ্গে সুসম্পর্ক না থাকা। যে সমস্ত বস কর্মীর সফলতায় আনন্দিত হন না অথবা সমস্যায় সমাধানের পথ দেখাতে এগিয়ে আসেন না, তাদের অধিনে কোন দক্ষ কর্মীই কাজ করতে চান না।

৪) প্রতিশ্রুতি পালন না করা
ভালো কর্মীদের কাজে সন্তুষ্টি হয়ে অনেক ম্যানেজমেন্ট নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকেন। কিন্তু মুখের কথা শেষ অবধি কথাই থেকে যায়। এ ক্ষেত্রে ম্যানেজমেন্টের উপর আস্থা হারান তারা। অবিশ্বস্ত ম্যানেজমেন্টের অধিনে নিরাপত্তাবোধ করেন না কোন দক্ষ কর্মী,তারা বিকল্প পথ খোঁজেন।

৫) অযোগ্য লোককে প্রমোশন দেওয়া
পরিশ্রমী দক্ষ কর্মীরা কিছুটা বেশি দাবি রাখেন। কিন্তু দেখা যায় অনেক সময় ম্যানেজমেন্ট তাদেরতো প্রমোশন দেন না বরং তাদের এড়িয়ে ভূল অযোগ্য লোকদের প্রমোশন দেন। এতে যোগ্য কর্মীদের মনে হতাশা চলে আসে। তারা মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়ে, কাজের স্বীকৃতি পেতে অন্য প্রতিষ্ঠানে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

৬) কর্মীর আবেগকে পাত্তা না দেওয়া
প্রত্যেক কর্মীর নিজস্ব পছন্দ এবং প্রয়োজন রয়েছে। এগুলো উপরস্ত বসের কাছে নিগৃহীত হলে দক্ষ কর্মীদের আত্বসন্মানে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। স্বাভাবিকভাবেই তাদের কাজের আগ্রহ কমতে থাকে। যারা সব নিয়ম পালন করেও আবেগ লালনে বাধাপ্রাপ্ত হন, তাদের কাছে কাজের পরিবেশ বিষাক্ত হয়ে ওঠে।

৭) কর্মীর দক্ষতাকে হেয় করা
লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হলে জবাবদিহির ক্ষেত্রে অনেক সময় দেখা যায় যে, উপরস্থ বসরা তাহাদের নিজেদের ব্যর্থতা দোষ কর্মীর উপর চাপিয়ে দেন। এই সমস্ত অনৈতিক আচারণ কোন দক্ষ কর্মীর কাছেই গ্রহণযোগ্য হয় না। তখন দক্ষ কর্মী নিজের লক্ষ্য অর্জনে বিতৃষ্ণা হয়ে পড়ে।

৮) সামান্য ভূলে অধিক শাস্তিভোগ
দক্ষ কর্মীর কাজের মাঝে সামান্য ভূলকে শুধরিয়ে না দিয়ে উপরস্থ বসরা কঠিন শাস্তি দেন। তাদের বিশ্বস্ততা, দক্ষতা, যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন যা কর্মঠ কর্মীদের কাজের যোগ্যতাকে ছোট করা হয়। তখন দক্ষ কর্মীরা সহজ কাজকে সহজভাবে নিতে পারে না এবং ভালো পরিবেশের আশায় থাকে।

৯) সৃষ্টিশীলতায় বাধা প্রদান
মনোযোগী কর্মীরা যেখানেই হাত দেন, সেখানেই ভালো কিছু ঘটে। সৃষ্টিশীল কর্মীদের এই অসাধারণত্ব গুণের কদর না করলেই নয়। কিন্তু উল্টো হেয়প্রতিপন্ন হওয়া মোটেই কাম্য নয়। আর বিপরীতটা ঘটলেই কাজে ভালো কিছু করার অনিহা চলে আসে।

১০) অযথা পীড়াদায়ক লক্ষ্য নির্ধারণ করা
প্রত্যেক কর্মীর কর্মদক্ষতার সীমা পরিসীমা রয়েছে। প্রাথমিক অবস্থায় প্রাথমিক লক্ষ্য না দিয়ে ম্যানেজমেন্ট অস্বাভাবিক লক্ষ্য নির্ধারণ করে দেন। আর তা অর্জনে কর্মীদের সুস্থ ও স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়।

এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া জরুরী মনে করেন প্রত্যেক দক্ষ কর্মী, যা প্রতিষ্ঠানের সার্বিক উন্নয়নে সর্বাত্মক ভাবে প্রযোজ্য।

কার্টেসিঃ অনলাইন

Leave a Reply