পে অর্ডার বা পেমেন্ট অর্ডার কি? পেমেন্ট অর্ডারের বৈশিষ্ট্যসমূহ

23

ব্যাংকিং নিউজ বাংলাদেশঃ ব্যাংক ড্রাফটের বেলায় ব্যাংকের এক শাখা বা ইস্যুকারী শাখা তার অন্য শাখার উপর বা পরিশোধকারী শাখার উপর নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদানের আদেশ দেয়। অথচ পেমেন্ট অর্ডার এর বেলায় ব্যাংক তার নিজের উপরই নিজে আদেশ দেয়। অর্থাৎ পেমেন্ট অর্ডার যে শাখা ইস্যু করে, তার অর্থও সে শাখাই প্রদান করে। পেমেন্ট অর্ডারের টাকা প্রাপক ছাড়া অন্য কাউকে দেয়া যায় না অর্থাৎ পেমেন্ট অর্ডার হস্তান্তর বা এনডোর্স করা যায় না। কেননা পেমেন্ট অর্ডার হস্তান্তরযোগ্য দলিল নয়।

Definition of Payment Order (পেমেন্ট অর্ডার এর সংজ্ঞা)
নিম্নে পেমেন্ট অর্ডার এর সংজ্ঞা সমূহ তুলে ধরা হলো-

Business Dictionary তে Payment Order এর সংজ্ঞায় বলা হয়েছে-
Instructions to transfer funds sent via paper and/or electronic means.
অর্থাৎ পেপার এবং / অথবা ইলেকট্রনিক উপায়ে পাঠানো তহবিল স্থানান্তরের নির্দেশাবলী।

LR Chowdhury তার A Dictionary of Banking and Finance গ্রন্থে বলেন-
A Pay Order is a Cash Order issued by a bank branch at the request of the constituent, drawn on the issuing branch itself.
অর্থাৎ পে অর্ডার ইস্যুকারী শাখা নিজেই নিজের উপর সংবিধিবদ্ধভাবে ব্যাংক শাখা দ্বারা জারি করা একটি নগদ আদেশ।

ব্যাংকিং নিউজ বাংলাদেশ (A Platform for Bankers Community) প্রিয় পাঠকঃ ব্যাংকিং বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ খবরগুলো আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ ব্যাংকিং নিউজ বাংলাদেশ এ লাইক দিন এবং ফেসবুক গ্রুপ ব্যাংকিং ইনফরমেশন এ জয়েন করে আমাদের সাথেই থাকুন।

Wikipedia তে Payment Order এর সংজ্ঞায় বলা হয়েছে-
Payment order, in international banking, is a directive to a bank from a bank account holder instructing the bank to make a payment or series of payments to a third party.
অর্থাৎ পেমেন্ট অর্ডার আন্তর্জাতিক ব্যাংকিংয়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্টধারীর কাছ থেকে তার ব্যাংককে অর্থ প্রদান বা তৃতীয় পক্ষকে অর্থ প্রদানের নির্দেশ দেয়।

B. N. Ahuja তার Dictionary of Commerce এ বলেন-
A pay order in a cheque drawn by a branch of the Bank on itself.
অর্থাৎ পে অর্ডার এমন একটি চেক যা কোন শাখা নিজের উপর প্রস্তুত করে।

Features of Payment Order (পেমেন্ট অর্ডার এর বৈশিষ্ট্যসমূহ)
নিম্নে পেমেন্ট অর্ডার এর বৈশিষ্ট্য সমূহ তুলে ধরা হলো-
১. পেমেন্ট অর্ডার এর বেলায় ব্যাংক তার নিজের উপরই নিজে আদেশ দিয়ে থাকে।
২. পেমেন্ট অর্ডার ইস্যূ ও প্রদান একই শাখাই করে থাকে।
৩. পেমেন্ট অর্ডার হস্তান্তরযোগ্য দলিল নয়।
৪. পেমেন্ট অর্ডার এর বেলায় এডভাইস ইস্যু করা হয় না।
৫. পেমেন্ট অর্ডার ক্রয় খরচ কম। ও
৬. পেমেন্ট অর্ডার এর বেলায় টেস্ট লাগে না।

Issue of payment order (পেমেন্ট অর্ডার ইস্যূ)
১. গ্রাহক পে অর্ডার এর দরখাস্ত নির্দিষ্ট ফরমে পূরণ করবেন।
২. গ্রাহক এই ফর্ম ও নগদ টাকাসহ ক্যাশে গিয়ে টাকা জমা করবেন। চেকের মাধ্যমেও টাকা জমা দেয়া যায়। আর পেমেন্ট অর্ডার এর টাকার সাথে ব্যাংকের কমিশন, ডাক ব্যয় বা টেলিগ্রাম খরচ আলাদাভাবে বা একই সাথে জমা দেয়া যায়।
৩. টাকা জমা করার পর দরখাস্তটি ব্যাংকের ভাউচারে পরিণত হবে। পেমেন্ট অর্ডার ইস্যুকারী ব্যাংকের কর্মকর্তা পেমেন্ট অর্ডার ইস্যূ করবেন। তারপর গ্রাহক পেমেন্ট অর্ডার এর পাতা গ্রহণ করে তা বুঝে নিবেন। পেমেন্ট অর্ডার এর বেলায় গ্রাহককে শুধু কষ্ট মেমো দেয়া হয়।

Pay Order Related some Questions (পে অর্ডার সংক্রান্ত কিছু প্রশ্ন)
সাধারনত টাকা জমা দেবার পর পে- অর্ডার (চেক) পাওয়া যায়। যাকে টাকা দেয়া হবে (গ্রাহকের) তার নাম ও ব্যাংক একাউন্ট নম্বর পে- অর্ডারে উল্লেখ থাকে। গ্রাহক পে- অর্ডারটি তার একাউন্টে জমা দেবার কতক্ষন পর টাকা তার একাউন্টে টাকা জমা হবে?

প্রশ্নঃ ১) যদি একই ব্যাংক হয়। যেমন- কোন দাতা সোনালী ব্যাংক বনানী শাখা থেকে ১ লক্ষ টাকার পে- অর্ডার তৈরি করে গ্রহীতাকে দিলেন।
গ্রহীতা সেই পে- অর্ডার তার যাত্রাবাড়ী সোনালী ব্যাংক শাখায় তার একাউন্টে জমা করলেন। কতক্ষন পর গ্রাহকের একাউন্টে টাকা জমা হবে?

উত্তরঃ প্রথমে বলে নেই- শব্দটি শুধু পে- অর্ডার বা পেমেন্ট অর্ডার (Pay Order or Payment Order), পে- অর্ডার চেক না। এখন মূল প্রশ্নের উত্তরে আসি।

যদি পে- অর্ডার ইস্যুকারী ব্যাংক ও গ্রাহকের একাউন্ট একই ব্যাংকের ভিন্ন শাখায় হয় তবে- অনলাইন ব্যাংকগুলো গ্রাহক পে- অর্ডার জমা দেওয়ার সাথে সাথেই পে করতে পারে। আর ব্যাংক যদি অনলাইন না হয়, সেক্ষেত্রে ব্যাংক চাইলে ফোনের মাধ্যমে ইস্যুকারী ব্যাংক থেকে নিশ্চিত হওয়ার পর পে করতে পারেন। ফোন না করলে তাঁরা Advice (ব্যাংকিং টার্ম) আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন এবং টাকা জমা করবেন।

প্রশ্নঃ ২) যদি দুটি ভিন্ন ব্যাংক হয়। যেমন- কোন দাতা সোনালী ব্যাংক বনানী শাখা থেকে ১ লক্ষ টাকার পে-অর্ডার তৈরি করে গ্রহীতাকে দিলেন। গ্রহীতা সেই পে-অর্ডার তার যাত্রাবাড়ী প্রাইম ব্যাংক শাখায় তার একাউন্টে জমা করলেন। কতক্ষন পর গ্রাহকের একাউন্টে টাকা জমা হবে?

উত্তরঃ গ্রাহক যদি অন্য ব্যাংকে পে- অর্ডারটি জমা করেন, তবে এই ব্যাংকটি টাকা সংগ্রহের জন্য Clearing House (যেখানে Clearing House বসে, সাধারনত থানা পর্যায়ে, যেখানে একাধিক ব্যাংক আছে, সেখানেই বসে)-এর মাধ্যমে সংগ্রহ করবে। এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ তিন কার্যদিবস লাগবে। তবে এখন কিছু কিছু ব্যাংক এক দিনের মধ্যেও টাকা গ্রাহকের হিসেবে জমা করে। সেক্ষেত্রে প্রথম ক্লিয়ারিং হাউজ (দিনে দুবার ক্লিয়ারিং হাউজ বসে) বসার পূর্বেই প্রাহককে তার হিসাবে পে- অর্ডারটি জমা করতে হবে। যেখানে ক্লিয়ারিং হাউস বসে না সেখানে সময় বেশি লাগে, তা দুই দিন থেকে এক মাসও হতে পারে (ডাক বা কুরিয়ার- এর উপর নির্ভর করতে হয়)।

তাছাড়া এখন কিছু কিছু ব্যাংক (বেসরকারি সকল ব্যাংক) এক দিনের মধ্যেও টাকা গ্রাহকের হিসেবে BACH এর মাধ্যমে জমা করে। সেক্ষেত্রে BACH শুরু হওয়ার পূর্বেই প্রাহককে তার হিসাবে পে-অর্ডারটি জমা করতে হবে।

প্রশ্নঃ ৩) দাতা পে- অর্ডার গ্রাহককে দিয়েছেন। কোন কারনে দাতা অসন্তুষ্ট হলেন, ভাবলেন যে, পে- অর্ডারের টাকা যাতে গ্রাহক না পায়, এখন দাতা কি কোনভাবে যে পে- অর্ডার দিয়ে দিয়েছেন তা আটকাতে পারবেন/ তিনি কি ব্যাংককে অনুরোধ করে তার প্রদানকৃত পে- অর্ডারটি যাতে গ্রহিতা নগদায়ন করতে না পারে সে জন্য অনুরোধ করতে পারেন? পে- অর্ডার কি ডিসঅনার করা যায়?

উত্তরঃ যদি সবকিছু ঠিক থাকে (যেমন- তারিখ, স্বাক্ষর, টাকার পরিমান অংকে ও কথায়) তবে পে- অর্ডারের টাকা না দেওয়ার (ডিসঅনার) কোন নিয়ম নেই। এটি সাধারনত নগদ টাকা হিসেবে বিবেচিত হয়।

23 মন্তব্যসমূহ

  1. যাকে পে অর্ডার দেয়া হলো তাকে কি বাবদ দেয়া হলো তা কি পে অর্ডারে উল্লেখ করা যায়। যেমন আমি কারো পাওনা টাকা পরিশোধ করতে চাই, সেক্ষেত্রে পে অর্ডারে সেটার উল্লেখ কি রাখা যাবে।

  2. আমার একটি ৫০ টাকার পে-অর্ডার বিল বা ব্যাংক ড্রাফট লাগবে! সেটা আমি চাকরির জন্য দরখাস্তের সাথে পাঠাবো, এখন কথা হচ্ছে আমি সেই ব্যাংক ড্রাফট কই পাব কিভাবে এটা সংগ্রহ করা যায়?

  3. একজন গ্রাহক তার ব‍্যাংক হিসাব থেকে ধারের টাকা পরিশোধ বাবদ পাওনাদারের নামে পে অর্ডার দিলে, পাওনাদার তার ব‍্যাংক হিসাবে জমা না দিয়ে নগদ ক‍্যাশ নিতে পারবে?

  4. আমার একটি ৫০ টাকার পে-অর্ডার বিল বা ব্যাংক ড্রাফট লাগবে! সেটা আমি চাকরির জন্য দরখাস্তের সাথে পাঠাবো, এখন কথা হচ্ছে আমি সেই ব্যাংক ড্রাফটে যাকে পে অর্ডার দেয়া হলো তাকে কি বাবদ দেয়া হলো তা কি পে অর্ডারে উল্লেখ করতে হবে..

  5. প্রশ্ন-১ঃ পে অর্ডার কি ব্যাংক একাউন্ট ছাড়া সরাসরি জমা(একাউন্ট ব্যাতিত) দিয়ে নগদ টাকা উত্তলন করা যায়??

    প্রশ্ন-২ঃ পে অর্ডার আমার নামে আছে এখন আমি ওই পে অর্ডার না ভাংগিয়ে অন্যের নামে দিতে চাইলে কি দেয়া যাবে???

Leave a Reply