ব্যাংকিং

সিআরআর পরিপালনে ব্যাসেল-৩

ড. মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফাঃ দেশের সব তফসিলি ব্যাংককে মোট তলবি ও মেয়াদি দায়ের (আমানতের) একটি অংশ বাংলাদেশ ব্যাংকে সংরক্ষণ করতে হয়। এর মধ্যে যে অংশ নগদে রাখতে হয়ে সেটিই সিআরআর। অন্যদিকে ব্যাসেল–৩ হলো ব্যাংকের পুঁজির গুণগত মান এবং ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণ করে বিনিয়োগ করা থেকে ব্যাংকগুলোকে বিরত রাখার জন্য ঝুঁকিভিত্তিক পুঁজির সুরক্ষা, স্বল্পমেয়াদি তহবিলের ওপর ব্যাংকগুলোর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনা।

ক্যাশ রিজার্ভ রিকোয়ারমেন্ট (সিআরআর):
সিআরআর হলো, কোনো একটি দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সেই দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত একটি শতাংশ, যা মোট মেয়াদি ও তলবি বা চাহিবামাত্র দায়ের (Time and Demand Liabilities) সমন্বয়ে গঠিত মোট আমানতের বিপরীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সংরক্ষণ করতে হয়। সাধারণত ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবসা করে আমানতকারীদের ডিপোজিট ও মালিক পক্ষের মূলধন নিয়ে। ওই টাকা নির্দিষ্ট লাভে বা সুদে ঋণ বা বিনিয়োগের মাধ্যমে মুনাফা অর্জন করে। ব্যাংক ডিপোজিটরদের একটি নির্দিষ্ট হারে সুদ বা মুনাফা দিয়ে থাকে। এই ডিপোজিট রেট ও লোন রেটের পার্থক্য হলো স্প্রেড (Spread)। এর স্প্রেডের কিছু অংশ প্রশাসনিক ও অন্যান্য ব্যয় নির্বাহের পর যা থাকে তাই মুনাফা।

যেহেতু আমানতকারীদের আমানতগুলো বিনিয়োগ করে মুনাফা অর্জন করে থাকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো, সেহেতু আমানতকারীদের সুরক্ষা এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থায় অর্থ প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণ করার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সব টাকা ঋণ হিসেবে বিতরণ করা থেকে বিরত রাখতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিরাপত্তা সঞ্চিতি হিসেবে সিআরআর নামে তহবিল গঠন করে। সোজা কথা সিআরআর হচ্ছে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সংগ্রহ মোট মেয়াদি ও তলবি আমানতের এমন একটি নির্দিষ্ট অনুপাত, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের চলতি হিসাবে জমা রাখতে হয়। তালিকাভুক্ত সব বাণিজ্যিক ব্যাংককেই নিজ নিজ মেয়াদি ও তলবি আমানতের একটা নির্দিষ্ট অংশ বা অনুপাত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে নগদ জমা হিসেবে রাখতে হয়।

সিআরআর হার:
বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ ১৯৭২-এর আর্টিকেল নং ৩৬ ধারা নং ১ এবং ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১-এর ২৫ এবং ৩৩-নং আর্টিকেল অনুযায়ী, প্রতিটি তফসিলি ব্যাংক তার মোট মেয়াদি ও তলবি বা চাহিবামাত্র দায়ের (Demand and Time Liabilities) একটি নির্দিষ্ট অংশ বাংলাদেশ ব্যাংককে বা তার প্রতিনিধিত্বকারী ব্যাংকে নগদ (সিআরআর) আকারে জমা রাখতে বাধ্য। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ১৫ এপ্রিল ২০২১ থেকে ব্যাংকগুলোর দ্বিসাপ্তাহিক নগদ জমা সংরক্ষণের জন্য গড় হার ১০০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে ৪ শতাংশ করেছে, যা পূর্বে ছিল ৫ শতাংশ, এর ফলে অর্থনীতিতে প্রায় ১২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ইনজেক্ট করবে। আর দৈনিক ভিত্তিতে নগদ জমা সংরক্ষণ করতে হবে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ হারে, যা পূর্বে ছিল ৪ দশমিক ৫ শতাংশ। অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যাংকগুলো সিআরআর হিসেবে রক্ষিত টাকা ব্যবহার করতে পারবে না। বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক জারিকৃত ৯ এপ্রিল ২০১৯ সালের MPD সার্কুলার নং-০৩ অনুযায়ী সিআরআর হিসেবে সব ব্যাংককে দ্বিসাপ্তাহিক ভিত্তিতে (Bai-weekly basis) ৪ শতাংশ এবং দৈনিক ভিত্তিতে ৩.৫০ শতাংশ বাংলাদেশ ব্যাংককে জমা রাখতে হয়। ব্যাংকের তুলনায় আর্থিক প্রতিষ্ঠানে অনেক কম সিআরআর রাখতে হয়। সে হিসাবে মেয়াদি আমানত গ্রহণকারী একটি প্রতিষ্ঠানে ১.৫০ শতাংশ সিআরআর রাখতে হয়। ব্যাংকগুলোর অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের জন্য আলাদাভাবে সিআরআর বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে রক্ষিত এফসি হিসাবের বিপরীতে এবং টাকায় ১ জুলাই ২০১৯ সাল থেকে সংরক্ষণ করতে হয়।

ব্যাংকিং নিউজ বাংলাদেশ (A Platform for Bankers Community) প্রিয় পাঠকঃ ব্যাংকিং বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ খবরগুলো আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ ব্যাংকিং নিউজ বাংলাদেশ এ লাইক দিন এবং ফেসবুক গ্রুপ ব্যাংকিং ইনফরমেশন এ জয়েন করে আমাদের সাথেই থাকুন।

সিআরআর ক্যালকুলেশন:
সিআরআর গণনা করা হয় পাক্ষিকভাবে কিন্তু মেইনটেইন করা হয় প্রাত্যহিকভাবে। কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ব্যাংকে রক্ষিত তার চলতি হিসাবে মোট আমানতের ৩.৫০ শতাংশের কম প্রাত্যহিকভাবে জমা রাখতে পারবে না এবং পাক্ষিকভাবে গড় হিসাবায়ন করে সিআরআর হিসেবে রক্ষিত টাকার পরিমাণ কোনোক্রমেই ৪.০০ শতাংশের কম হবে না। পাক্ষিক ও প্রাত্যহিক হারের বিচ্যুতি (০.৫০ শতাংশ) রাখা হয়েছে মূলত লেনদেনের সুবিধার্থে। তাহলে এখানে মূল সিআরআর হলো ৪ শতাংশ। সিআরআর গণনা করার সময় মোট ডিপোজিট হিসেবে চলতি মাসের দ্বিতীয় গত মাসের (চৎবপবফরহম ঞড়ি গড়হঃযং) মোট গড় ডিপোজিট। উদাহরণস্বরূপ, যদি মুদারাবা ব্যাংকের ডিসেম্বর মাসের সিআরআর হিসাবায়ন করতে হয়, তাহলে অক্টোবর মাসের মোট গড় ডিপোজিটের (Preceding Two Months) ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হবে।

সিআরআর ও এসএলআর আলাদা হিসাবায়ন:
সংশোধিত ব্যাংক কোম্পানি আইন-২০১৩-এর আলোকে ১ ফেব্রয়ারি ২০১৪ থেকে নগদ সিআরআর ও এসএলআর আলাদাভাবে সংরক্ষণ করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৩৩-এর (২) উপধারায় এ পরিবর্তন আনা হয়েছে।

সিআরআর সংরক্ষণে ব্যর্থতা:
বাণিজ্যিক ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান যদি সিআরআর সংরক্ষণে ব্যর্থ হয় সে ক্ষেত্রে অসংরক্ষিত অংশের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার ১৯৭২ এবং ২০১০ সালের নির্দেশনার আলোকে ব্যাংক হারের সঙ্গে ৫ শতাংশ হারে জরিমানা আদায় করা হয়। ব্যাংক হার হলো, যে রেট এ কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দিয়ে থাকে। বর্তমানে ব্যাংক হার হলো ৪ শতাংশ।

অর্থনীতিতে সিআরআরের প্রভাব:
বর্তমানে ব্যাংকগুলোকে শুধু স্থানীয় মুদ্রা (টাকা) দিয়ে নগদ রিজার্ভ সংরক্ষণের জন্য অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দিনের বকেয়া নগদ রিজার্ভ গণনা করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় পরিচালিত টাকা চলতি হিসাবে দিন শেষে হিসাব করা হয়। সিআরআর বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক নীতির উপাদানগুলোর একটি। অর্থ সরবরাহ, মুদ্রানীতি, তারল্য নিয়ন্ত্রণ, ব্যাংকের আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং রেপো রেট নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় ভূমিকা পালন করে থাকে সিআরআর।

(১) ব্যাংকের তারল্য নিয়ন্ত্রণ:
বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়ন্ত্রণকারী ব্যাংক হিসেবে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জন্য তারল্য মাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণ করে থাকে। সেই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সিআরআরের সাহায্যে একটি সিস্টেমের মধ্যে তরলতা বাড়ায় বা কমায়। বাংলাদেশ ব্যাংক যদি ব্যাংকগুলোর তারল্য বাড়াতে চায়, তাহলে সিআরআর কমিয়ে দেয় ফলে ব্যাংকগুলো আরও বেশি গ্রাহকদের ঋণ দেয়ার সুযোগ পায়। অন্যদিকে যদি ব্যাংকগুলোতে তরলতা কমাতে চায় তাহলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সিআরআর বাড়িয়ে দেয়। যখন সিআরআর কমানো হয়, তখন অর্থনীতিতে টাকা সরবরাহ বেড়ে যায় অথবা ঋণযোগ্য তহবিল বৃদ্ধি পায়। সিআরআর হার যত কম ব্যাংকের সঙ্গে তারল্য তত বেশি। সিআরআর যত বেশি ব্যাংকের সঙ্গে তারল্য তত কম। দেশের তরলতা সিআরআর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।

(২) ব্যাংকের আর্থিক স্থিতিশীলতা:
বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর আর্থিক স্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য সিআরআর একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। যেহেতু ব্যাংকগুলো ব্যাংকিং নিয়ন্ত্রকের কাছে সিআরআর জমা রাখে, তাই আমানতকারীরা যখন একসঙ্গে টাকা উত্তোলন শুরু করে তখন ব্যাংকগুলো এই তহবিল ব্যবহার করতে পারে। ফলে সিআরআর ব্যাংকগুলোকে সংকট মুহূর্তে তারল্য সাপ্লাই দিয়ে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে রাখা নগদ রিজার্ভ নিশ্চিত করে, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো তাদের গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতে তারল্য সংকট দেখা দিলে তখন ওই তহবিল থেকে প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটানো হবে।

(৩) রেপো রেট নির্ধারণ:
বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো যে হারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক হতে স্বল্পমেয়াদি ঋণ গ্রহণ করে তাকে রেপো রেট বা পুনরায় ক্রয় হার বলে। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ট্রেজারি বিল, বন্ড ও বাংলাদেশ ব্যাংক বিল বিক্রি করে বাণিজ্যিক ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান হতে যে হারে টাকা তুলে নেয় তাকে রিভার্স রেপো রেট বলে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নগদ টাকার প্রয়োজন হলে তাদের হাতে থাকা ট্রেজারি বিল বা বন্ড কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পুনরায় ফেরত দিয়ে নগদ টাকা তুলে নিতে পারে, যা রেপো নামে অভিহিত। বর্তমানে রেপো রেট ৪.৭৫ শতাংশ। রেপো রেট নির্ধারণের সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংক সিআরআর রেটও বিবেচনা করে। যখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক চায় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর তারল্য বৃদ্ধি পাক, তখন রেপো রেট কমিয়ে দেয়। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রেপো রেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। বর্তমানে ওভারনাইট বা একদিন, ৭ দিন, ১৪ দিন ও ২৮ দিন মেয়াদি রেপো রয়েছে।

(৪) মুদ্রানীতি:
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্থ সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করতে সিআরআর ব্যবহার করা হয়ে থাকে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক যখন সিআরআর বাড়ায় তখন ব্যাংকগুলোকে আরও নগদ অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাখতে হয়। ফলে অর্থনীতিতে অর্থ সরবরাহ কমে যায়। একইভাবে যখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক সিআরআর হ্রাস করে, তখন ব্যাংকগুলোর হাতে নগদ অর্থের পরিমাণ বেড়ে যায়, ফলে অর্থনীতিতে টাকার পরিমাণ বেড়ে যায। সর্বোপরি সিআরআর ব্যাংকগুলোর অর্থের উৎপাদন ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করে। দেশের মূল্যস্ফীতি ও প্রবৃদ্ধির ওঠানামা সিআরআরের ওপর নির্ভর করে। মুদ্রাস্ফীতি যখন বাংলাদেশ ব্যাংকের পছন্দসই স্তরের ওপর চলে যায়, তখন মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সিআরআর বৃদ্ধি বা হ্রাস করে থাকে।

(৫) ব্যাংকগুলোর সচ্ছলতা (Solvency of Banks):
সিআরআর ব্যাংকগুলোর সচ্ছলতা বৃদ্ধি করে থাকে। সিআরআর রিজার্ভ দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রে অর্থ প্রদানের জন্য সংরক্ষিত তহবিল ব্যবহার করা যেতে পারে, যখন ব্যাংক অন্য কোনো উৎস থেকে ফান্ড ব্যবহার করতে পারে না।

(৬) উচ্চ সিআরআর হারের প্রভাব:
উচ্চ সিআরআর হারের ক্ষেত্রে সিস্টেমে টাকা সরবরাহ কমে যাবে, বাণিজ্যিক ব্যাংকের বিনিয়োগকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করবে। যেহেতু তারল্যের অভাব হবে সেহেতু ব্যাংকগুলো ঋণ/বিনিয়োগের সুদ বা মুনাফার হার বাড়িয়ে দেবে। ফলে অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়বে।

(৭) নিম্ন সিআরআর হারের প্রভাব:
সিআরআরের রেট যদি কমিয়ে দেয়া হয় তাহলে ব্যাংকগুলোর তারল্যতা বৃদ্ধি পাবে; ফলে চাহিদার তুলনায় বিনিয়োগ পরিমাণ বেড়ে যাবে। এটার ধারা বিনিয়োগ প্রদানের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতার সৃষ্টি হবে; ফলস্বরূপ সুদের/মুনাফার হার কমে যাবে। ঝিমিয়ে পড়া শিল্পোৎপাদন বৃদ্ধি করার জন্য সিআরআর হ্রাস করার প্রয়োজন হয়।

সিআরআর ও ব্যাসেল আদর্শ:
যেকোন দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হলো ব্যাংকিং সেক্টর। ব্যাংক জনগণের আমানত বিভিন্ন হিসাবের মাধ্যমে সংগ্রহ করে। ব্যাংক আমানতকৃত অর্থ বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি খাতকে গতিশীল করে। ঋণ বা বিনিয়োগের ফলে ঝুঁকির সৃষ্টি হয়। ঝুঁকির মাত্রা বেড়ে গেলে অর্থনৈতিক মন্দার সৃষ্টি হয়। অর্থনৈতিক মন্দার হাত থেকে দেশের অর্থনীতিকে বাঁচাতে হলে ঝুঁকির মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করার প্রয়োজন। সেই ধারণা থেকে ব্যাসেল কমিটি ব্যাংকের ঋণের বা বিনিয়োগের ঝুঁকি হ্রাস করার জন্য তিনটি ব্যাসেল পিলার বা আদর্শ প্রণয়ন করেছে (ব্যাসেল ১, ২, ও ৩)।

যার প্রধান উদ্দেশ্য হলো, গ্রাহকের আস্থা অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় তারল্য বজায় রাখা, ব্যাংকগুলোর ঋণের ঝুঁকি হ্রাস করা এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা অর্জন করার মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখা। সিআরআরের মাধ্যমে সংরক্ষিত তহবিল ব্যাসেল আদর্শের লক্ষ ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সহায়তা করে। দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, মুদ্রানীতি, মূল্যস্ফীতি, মুদ্রার মান সংরক্ষণ, ঋণের হ্রাস বা বৃদ্ধি ও তারল্য বজায় রাখার জন্য ব্যাংকগুলোকে সিআরআর ও ব্যাসেল আদর্শ একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে। সুতরাং ব্যাসেল আদর্শগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা হলে ব্যাংকের সিআরআর রাখার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে।

আরও দেখুন:
◾ ব্যাসেল-৩ পরিপালনে ইসলামি ব্যাংকিং

লেখকঃ ড. মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা: অফিসার, ইসলামি ব্যাংকিং ডিভিশন, ওয়ান ব্যাংক লিমিটেড।

রিলেটেড লেখা

Leave a Reply

Back to top button