পরিবেশবান্ধব ব্যাংকিং ব্যবস্থা টেকসই অর্থনীতির জন্য

0
746

ব্যাংকিং নিউজ বাংলাদেশঃ পরিবেশ বান্ধব ব্যাংক ব্যবস্থা টেকসই অর্থনীতির জন্য (Sustainable Development and Green Banking) এখন সবচেয়ে বেশি জরুরি। জলবায়ুর পরিবর্তন Green House এর প্রভাবে প্রতিকূল প্রাকৃতিক অবস্থা, নানা বিপর্যয় মোকাবেলা করে অর্থনৈতিক, ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড যথাযত ভাবে এগিয়ে নেয়াটা চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। সুন্দর আগামীর জন্য পরিবেশবান্ধব অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার তাগিদ থেকে Green Banking ধারণার উদ্ভব হয়েছে।

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক অর্থায়নের মাধ্যমে পরিবেশ বিধ্বংসী, ক্ষতিকারক ও দূষণ কর্মকাণ্ডকে বিরত রাখার কার্যক্রমই Green Banking। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে। অর্থনীতির পাশাপাশি সমাজ ও পরিবেশ উন্নয়নে ব্যাংকের ব্যাপক ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। পরিবেশবান্ধব ব্যাংকিং এখন সময়ের দাবি। পরিবেশবান্ধব ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা Green Banking নীতিমালার মূল উদ্দেশ্য।

ব্যাংকের কোন কর্মকান্ড যাতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বিপর্যয়ের কারণ হয়ে না দাড়ায় তা নিশ্চিত করে অর্থায়ন ও সার্বিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষা করা গ্রিন ব্যাংকিং নীতিমালার মূল লক্ষ্য। বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০১১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি তারিখের একটি সার্কুলারে ব্যবস্থা যাত্রা শুরু করে গত কয়েক বছরে এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। গ্রীন ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনায় বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক ইতিমধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে নীতিমালা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন, এ খাতে আলাদা বাজেট বরাদ্দ এবং তার সদ্ব্যবহার, ইউনিট গঠন, পরিবেশ ঝুঁকি রেটিং, গ্রীন ফাইনান্সিং, জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় ফান্ড গঠন এবং এর ব্যবহার, গ্রীন মার্কেটিং এবং সক্ষমতা সৃষ্টি, অনলাইন ব্যাংকিং এর বিকাশ, অভ্যন্তরীণ পরিবেশ ব্যবস্থাপনা, বিভিন্ন সেক্টরের জন্য পরিবেশ নীতিমালা প্রণয়ন, গ্রীন স্ট্র্যাটেজিক পরিকল্পনা গ্রহণ, পরিবেশ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রভৃতি।

বর্তমানে Green Banking নীতিমালার আওতায় বিভিন্ন ব্যাংক গ্রীন অর্থায়নের ব্যাপারে বেশ জোর দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে ব্যাংকগুলো পরিবেশবান্ধব শিল্প ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অর্থায়ন করছে। Green Finance এর অংশ হিসেবে ব্যাংকসমূহের গৃহীত পদক্ষেপ গুলোর মধ্যে রয়েছে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ঋণ প্রদান হ্রাস, মোট ঋণের একটি নির্দিষ্ট অংশ পরিবেশবান্ধব শিল্প ও ব্যবসায় বিনিয়োগ, পরিবেশ বান্ধব পণ্য উদ্ভাবন এবং উদ্ভাবিত পণ্য উৎপাদন প্রকল্পে অর্থায়ন। গ্রীন ব্যাংকিং নীতিমালার উদ্দেশ্যসমূহ বাস্তবায়নে দেশের বিভিন্ন ব্যাংক এখন গভীরভাবে মনোযোগী হয়েছে।

ব্যাংকগুলোর গৃহীত গ্রীন ব্যাংকিং নীতিমালার মূল উদ্দেশ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর প্রকল্পে অর্থায়ন বা অন্য কোনরুপ সংশ্লিষ্টতা এড়িয়ে পরিবেশ সুরক্ষায় অবদান রাখা, পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন প্রোডাক্ট উদ্ভাবন ও বিপণনে অর্থায়ন এবং উৎসাহ প্রদানের মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক আর্থিক খাতকে পরিবেশ মুখী করা, ব্যাংকের আভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনাকে পরিবেশবান্ধবকরণ, ব্যাংকের নিজস্ব কর্মীবাহিনী ও বিপুল সংখ্যক গ্রাহককে পরিবেশ সুরক্ষায় উদ্বুদ্ধকরণ, বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচি গ্রহণের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ে গণসচেতনতা সৃষ্টি, সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ক বিভিন্ন কর্মসূচিতে আর্থিক ও নৈতিক সমর্থন দান।

পরিবেশবান্ধব ব্যাংকিং কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন স্থানে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো গ্রীন শাখা স্থাপনে উদ্যোগী হয়েছে। যেখানে পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো রয়েছে, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী এনার্জি বাল্ব ও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার হচ্ছে, পানি, বিদ্যুৎ, কাগজ প্রভৃতির কম ব্যবহার হচ্ছে, নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে। পানির পুনঃ পুনঃ ব্যবহারের মাধ্যমে প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। পরিবেশবান্ধব ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু এবং গত কয়েক বছরে এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হওয়ার পেছনে বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন সময় যে উদ্যোগ গ্রহণ করছে তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য পরিবেশবান্ধব ব্যাংক ব্যবস্থা যে কতটা জরুরি তা এখন সবাই উপলব্ধি করেছে এবং এ বিষয়ে যার যার অবস্থান থেকে সচেতন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। অনলাইন এবং পেপারলেস ব্যাংকিং এর সবার আগ্রহ ক্রমাগত বাড়ছে। পরিবেশবান্ধব ব্যাংক ব্যবস্থা চালুর ক্ষেত্রে এটা একটা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সন্দেহ নেই।

কার্টেসিঃ সংগৃহীত।

Leave a Reply