ইসলামী ব্যাংক সমূহের আমানত সংগ্রহ পদ্ধতি

0
1854

• ইসলামী ব্যাংক সমূহের আমানত সংগ্রহ পদ্ধতি
মহান আল্লাহর বানী- فَإِنْ أَمِنَ بَعْضُكُم بَعْضًا فَلْيُؤَدِّ الَّذِي اؤْتُمِنَ أَمَانَتَهُ وَلْيَتَّقِ اللَّهَ رَبَّهُ ۗ
অর্থঃ যদি তোমাদের মধ্য থেকে কোন ব্যক্তি অন্যের ওপর নির্ভর করে তার সাথে কোন কাজ কারবার করে তাহলে যার ওপর নির্ভর করা হয়েছে সে যেন তার আমানত যথাযথরুপে আদায় করে এবং নিজের রব আল্লাহকে ভয় করে।[১]

প্রচলিত ব্যাংকগুলোতে যেমন নানা প্রকারের হিসাবের মাধ্যমে আমানত সংগ্রহ করা হয়, ইসলামী ব্যাংক সমূহের ক্ষেত্রেও তাই। তবে ইসলামী ব্যাংক সমূহ সাধারণত দুটি নীতির ভিত্তিতে আমানত গ্রহণ করে। যথাঃ
ক. আল-ওয়াদীয়া নীতি ও
খ. মুদারাবা নীতি।

ক. আল-ওয়াদীয়া নীতি
আল-ওয়াদীয়া হচ্ছে ব্যবহারের অনুমতি সহ আমানত রাখা। ইসলামী ব্যাংক সমূহ আল-ওয়াদীয়া নীতির ভিত্তিতে চলতি হিসাবে আমানত সংগ্রহ করে থাকে। আল-ওয়াদীয়া শব্দটি আরবি। এটি এসেছে ওয়াদিয়ূন (ﻮﺪﻉ) থেকে। এর অর্থ সংরক্ষণ করা, জমা করা, বাদ দেয়া বা পরিত্যাগ করা ইত্যাদি।

আল-ওয়াদীয়া দ্বারা এমন এক চুক্তিকে বুঝানো হয়, যেখানে ব্যবহারের অনুমতি সহ এক পক্ষ অপর পক্ষের নিকট অর্থ জমা রাখেন। ব্যাংক হিসাবের ক্ষেত্রে ব্যাংকে যিনি অর্থ জমা রাখেন, তাকে বলা হয় মুয়াদ্দি। আর জমাগ্রহণকারী হিসেবে ব্যাংক হল মুয়াদ্দা ইলাইহি। জমাকৃত অর্থকে বলা হয়, মুয়াদ্দা।

Al-Wadiah implies that the bank receives fund with undertaking to refund the deposit on demand and also with authorization from the depositors to use the fund for benefit of and at the risk of the Bank.[২]

আল-ওয়াদীয়া একাউন্ট এর ক্ষেত্রে ব্যাংক আমানতদার হিসাবে আমানতের সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিধান করে। ব্যাংক চাহিবামাত্র আমানতকারীকে তার অর্থ ফেরত দেয়ার নিশ্চয়তা প্রদান করে। এ হিসাবের অর্থ খাটিয়ে ব্যাংক মুনাফা অর্জন করে। এ ধরনের আমানতে আমানতকারীগণ কোন ঝুঁকি বহন করে না।

তাই তারা ব্যাংকের মুনাফারও কোন অংশ পায় না। এরূপ হিসাবের অর্থ বিনিয়োগ করতে গিয়ে ব্যাংক যদি কোন লোকসান দেয়, তবে সে লোকসানের দায়িত্ব ব্যাংক বহন করে থাকে। আমানতকারী ব্যাংক চলাকালীন সময়ে যতবার ইচ্ছা এ হিসাব থেকে টাকা উত্তোলন করতে পারে।

খ. মুদারাবা নীতি
মুদারাবা আমানত সংগ্রহের বহুল আলোচিত একটি ইসলামী নীতি। ইসলামী ব্যাংক সমূহ এই নীতির ভিত্তিতে সঞ্চয়ী হিসাবে আমানত গ্রহণ করে।

মুদারাবা (ﻤﺪﺍﺭﺒﺔ) আরবী শব্দ দারবুন বা দারব (ﺪﺭﺐ) থেকে এসেছে। এর অর্থ আল্লাহর রহমতের তালাশে সফর করা এবং চেষ্টা সাধনা করা।
এ সম্পর্কে আল্লাহ বলেন-وَآخَرُونَ يَضْرِبُونَ فِي الْأَرْضِ يَبْتَغُونَ مِن فَضْلِ اللَّهِ
অর্থঃ তারা পৃথিবীতে চেষ্টা সাধনা করে নিজের জীবিকা উপার্জন করে।[৩]

এ নীতির আলোকে ব্যাংক মুদরাবা আমানতকারীদের সাথে এমন এক প্রকার চুক্তিতে আবদ্ধ হয় যে, আমানত ব্যবহারে ব্যাংকের পূর্ণ অধিকার থাকবে এবং এই আমানত ব্যবহার করে ব্যাংক যে মুনাফা অর্জন করবে তা একটি সম্মত অনুপাতে ব্যাংক ও আমানতকারীদের মাঝে বণ্টিত হবে।

এটি অংশীদারি কারবারের একটি পদ্ধতি। এতে এক পক্ষ মুলধন সরবরাহ করে, তাকে সাহিবুল মাল বলা হয়। যিনি ব্যবসা পরিচালনা করেন তাকে অর্থাৎ ব্যাংককে মুদারিব বলা হয়। আর যে অর্থ কারবারের জন্য যোগান দেয়া হয় তাকে রা’সুল মাল (رأس المال) বলা হয়।

Mudaraba principle implies that the bank receives deposits from the depositor with the authority that the bank will have exclusive right to manage the fund and the profit resulting from such deposits will be shared between the bank and the depositor at a pre-agreed Mudaraba ratio and the loss, not resulting from the negligence of the Bank or any of its representative, will be borne by the depositors.[৪]

Mudarabah is a kind of business where there are two parties, otherwise qualified to enter into a contract, joining in business in the manner that one gives his capital (ra’s al-mal/) رأس المال and the other his services (i.e., the abilities, the capabilities, the capacity, the skill and the doing of all sorts of work required by such business termed as effort or labour or mihnat/ محنۃ ) and they (both the 2 partners in Mudarabah/ مضاربۃ business) share the profit according as to their mutual lawful agreement.[৫]

• তথ্যসূত্র
১. সুরা আল বাকারা, আয়াত ২৮৩
২. Abdur Raquib, Principles & Practice of Islamic Banking, Page-77
৩. সুরা আল মুযাম্মিল, আয়াত ২০
৪. Abdur Raquib, Principles & Practice of Islamic Banking, Page-78
৫. Justice Dr. Munir Ahmad Mughal, Mudarabah in the light of Holy Quran and Sunnah, Page-1

লেখকঃ মোহাম্মদ শামসুদ্দীন আকন্দ, ব্যাংকার।

Leave a Reply