বাংলাদেশে মাইক্রো ফাইন্যান্স এর ঐতিহাসিক বিবর্তন

0
529

ব্যাংকিং নিউজ বাংলাদেশঃ মাইক্রো ফাইন্যান্স (MF) গ্রহীতারা বেশিরভাগই হচ্ছেন দরিদ্র মহিলা। এসব মহিলার পরিবারের দৈনিক আয় গড়ে এক মার্কিন ডলারের সমান বা তারও নিচে। আর্থিক দরিদ্র শ্রেণীর বেশিরভাগ জনগোষ্ঠিই অতীতে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ প্রদানকারী সংস্থা থেকে ঋণ সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিল এবং এর কারণগুলো নিম্নরূপ-
১. ঋণ গ্রহণকারীর জামানত দেয়ার কিছুই নেই;
২. তাদের প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের নিম্নতম পরিমাণ অংকের টাকা দক্ষতার সাথে ব্যবহারের দক্ষতা নেই;
৩. এরা প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ প্রদানকারী শাখা থেকে অনেক দূরে বাস করে থাকে;
৪. ঋণের টাকা একেবারে ফেরত দেয়ার ক্ষমতা না থাকা;
৫. ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান তাদের নিয়ে কাজ করার ঝামেলা এবং অনিচ্ছা থাকা; ও
৬. ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান শাখার বাইরে গিয়ে কাজ না করা।

Historical Background of Micro Finance in Bangladesh (বাংলাদেশে মাইক্রো ফাইন্যান্স এর ঐতিহাসিক বিবর্তন)
উপরোক্ত সমস্যাগুলো থেকে উত্তরনের জন্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রফেসর ডঃ মুহাম্মদ ইউনুস সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ঋণ প্রদানের জন্য একটি পাইলট প্রকল্প হাতে নেন। প্রাথমিকভাবে এর কাজ শুরু হয় ১৯৭৬ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্নিকটে হাটহাজারীর ছোট একটি গ্রামে। গ্রামের নাম ছিল জোবরা। এই পাইলট প্রজেক্ট এর সফলতা লাভ করায় নভেম্বর ১৯৭৯ সালে গ্রামীণ ব্যাংক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এ পরীক্ষা সফল হওয়ায় ১৯৮৭ সালে গ্রামীণ ব্যাংক আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ইফাদ, ইউনিসেফ, ফোর্ড ফাউন্ডেশন, গ্রামীণ ব্যাংকের মূলধন যোগান দেয়। পরবর্তীতে আরো বহু এনজিও (NGO) যেমন- আশা, প্রশিকা, আরডিএস, ঠেঙ্গামারা মহিলা সবুজ সংঘ (TMSS), কারিতাস, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র, বুরো বাংলাদেশ, ব্রাক, এসকেএস, জীবিত বাংলাদেশ, গাক, স্বনির্ভর বাংলাদেশ, গুচ্ছগ্রাম নারী স্বনির্ভর পরিষদ ইত্যাদি ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হয়।

ইহা ছাড়া MAB, দারুল হিকমা ওয়াল ফালাহ বাংলাদেশ (DKWFB), AMWAB, IBBL-RDSবাংলাদেশে ইসলামী পদ্ধতিতে মাইক্রো ফাইন্যান্স (MF) কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

বাংলাদেশ সরকার মাইক্রো ফাইন্যান্স (MF) কার্যক্রমে অবদান রাখার জন্য পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (PKSF) গঠন এবং অর্থায়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (PKSF) এর পক্ষ থেকে দেশের হত দরিদ্রদের সংগঠিত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এই মাইক্রো ফাইন্যান্স (MF) প্রদানকারী সংস্থাগুলো এক্ষেত্রে প্রমাণ করেছে মাইক্রো ফাইন্যান্স (MF) এর মাধ্যমে দারিদ্র্যের মাত্রা কমিয়ে আনা সম্ভব।

Leave a Reply