ব্যাংক কাস্টমার বা গ্রাহকের সংজ্ঞা ও ব্যাংক কাস্টমার বা গ্রাহকের বৈশিষ্ট্য সমূহ

0
322

ব্যাংকিং নিউজ বাংলাদেশঃ হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন, ১৮৮১ তে স্পষ্টভাবে ব্যাংকের ‘Customer বা গ্রাহক’ এর সংজ্ঞা প্রদান করা হয়নি। তথাপি হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন, ১৮৮১ এর সেকশন ১৩১ অনুযায়ী বলা যায় যে, যদি কোন ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ কোন ব্যাংকে লেনদেন করার জন্য একাউন্টে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ জমা রাখার উদ্দেশ্যে বা চেকের মাধ্যমে জমাকৃত অর্থ উত্তোলনের জন্য ব্যাংক হিসাব খোলে তাকে Customer বা গ্রাহক বলা হয়।

✔ অন্য কথায় Bank Client/Customer বা ব্যাংকের গ্রাহক/কাস্টমার বলতে এমন কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে বুঝানো হয়, যার ব্যাংকে কোনো হিসাব রয়েছে এবং সেই হিসাবের মাধ্যমে লেনদেন পরিচালিত হয়। ব্যাংকের Customer বা গ্রাহক হওয়ার পূর্ব শর্ত হলো- কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অবশ্যই ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে। ব্যাংক কাস্টমার বা গ্রাহকের নামে হিসাব খুলে তাকে বিনিয়োগ বা ঋণ দান করতে পারে। আর ব্যাংক Customer বা গ্রাহককে বিভিন্ন রকম সেবাদানের মাধ্যমে তার সিংহভাগ আয় অর্জন করে থাকে।

Sir John Paget এর মতে ব্যাংক ক্লায়েন্ট বা কাস্টমার হল-
To constitute a customer there must some negotiable course or habit of dealing in the nature of regular banking business.
অর্থাৎ একজন গ্রাহক তৈরি করার জন্য নিয়মিত ব্যাংকিং ব্যবসায় কিছু বিনিময়যোগ্য কার্যধারা বা আচরণের অভ্যাস থাকতে হবে। (হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন, ১৮৮১, আনসার আলী খান নিউ ওয়ার্সী বুক কর্পোরেশন, পৃষ্ঠা ৫৫)।

✔ তাই বলা যায়- ব্যাংকের গ্রাহক হওয়ার জন্য দুটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত পূরণ করতে হবে:
ক) গ্রাহক এবং ব্যাংকারের মধ্যে লেনদেনগত অভ্যাস থাকতে হবে; এবং
খ) আর এই লেনদেন নিয়মিত ব্যাংকিং ব্যবসার মধ্যে থাকা উচিত।
কিন্তু বিস্তৃত অর্থে, আমরা সেই সকল ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে ব্যাংক কাস্টমার বা গ্রাহক হিসেবে বিবেচনা করতে পারি যিনি কোন না কোন ব্যাংকিং সেবা পাওয়ার জন্য ব্যাংকে এসে থাকেন। একজন ব্যক্তি যিনি ব্যাংক থেকে একটি DD, TT অথবা PO কিনেছেন কিংবা Online Transaction করেছেন কিন্তু তার ব্যাংকে চলতি হিসাব বা সঞ্চয়ী হিসাব নেই তিনিও অবশ্যই একজন ব্যাংক গ্রাহক।

✔ Basel Committee একজন ব্যাংক কাস্টমার বা গ্রাহককে সংজ্ঞায়িত করেছে এইভাবে-
– একজন ব্যক্তি বা সত্তা যিনি একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে একটি হিসাব বজায় রাখেন বা তার পক্ষ থেকে একটি হিসাব বজায় রাখা হয় (যেমন, Beneficial Owner বা প্রকৃত সুবিধাভোগী)।
– পেশাদার মধ্যস্থতাকারী (যেমন, এজেন্ট, হিসাব রক্ষক, আইনজীবী) দ্বারা পরিচালিত লেনদেনের সুবিধাভোগী; এবং
– আর্থিক লেনদেনের সাথে যুক্ত ব্যক্তি বা সত্তা যিনি ব্যাংকের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি বহন করতে পারে।

✔ আসুন জেনে নেই বিএফআইইউ সার্কুলার নং- ১৯ এ মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় গ্রাহক বলতে নিম্নোক্ত ব্যক্তি বা সত্ত্বাকে বুঝাবে-
১) ব্যাংকের সাথে হিসাব সংরক্ষণ করে বা ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে এমন যে কোনো ব্যক্তি বা সত্তা;
২) ব্যাংক হিসাব বা ব্যবসায়িক সম্পর্কের প্রকৃত সুবিধাভোগী (Beneficial Owner); প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যার পক্ষে হিসাব পরিচালিত হয়;
Beneficial owner বা প্রকৃত সুবিধাভোগী বলতে এমন ব্যক্তিকে বোঝায় যিনি চূড়ান্তভাবে একজন গ্রাহক এবং অথবা তার পক্ষে একটি লেনদেন পরিচালিত করেন। এটি এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করে যাঁরা আইনী ব্যক্তি বা ব্যবস্থার উপর চূড়ান্ত কার্যকর নিয়ন্ত্রণ করে।
নোটঃ বৈধ প্রকৃত সুবিধাভোগী মালিকানা সনাক্তকরণের ক্ষেত্রে, পল্লী, ট্রাস্টি, অভিভাবক বা অনুরূপ অবস্থা বা যে কোনও সুবিধাভোগী বা নির্ভরযোগ্য শ্রেণীতে CDD প্রয়োজন হয়, যাঁরা ট্রাস্ট ব্যবস্থাপনার উপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ রাখে।
৩) বিদ্যমান আইনি কাঠামোর আওতায় কোন হিসাবধারী, ট্রাস্ট বা লেনদেন এর প্রকৃত সুবিধাভোগীর হিসাব পরিচালনার জন্য নিযুক্ত কোন পেশাদার মধ্যস্থতাকারী (আইনজীবী, আইন পরামর্শক প্রতিষ্ঠান, চার্টার্ড একাউন্টেন্ট ইত্যাদি);
৪) কোনো ব্যক্তি বা সত্তা কর্তৃক একক লেনদেনে সংঘটিত অধিক মূল্যের Occasional Transaction বা প্রতিষ্ঠানের সুনাম এবং অন্য কোনো ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে এমন আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা সত্তা;
এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা/পেশা/প্রোফাইলের নিরিখে স্বাভাবিক লেনদেন এর তুলনায় কোন লেনদেন অস্বাভাবিক প্রতীয়মান হলে তা অধিক মূল্যের বলে বিবেচিত হবে। এবং
৫) বিএফআইইউ কর্তৃক সময় সময় সংজ্ঞায়িত ব্যক্তি বা সত্তা।

Leave a Reply