ডাচ-বাংলা ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং

1
8654

ব্যাংকিং নিউজ বাংলাদেশঃ ডিবিবিএল গ্রামীণ গ্রাহকদের জন্য এজেন্টের মাধ্যমে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা দানের মাধ্যমে রকেট নামে সার্ভিস চালু করেছে।

♣ DBBL এজেন্ট ব্যাংকিং
এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম সহজে করার জন্য একটি পৃথক “এজেন্ট ব্যাংকিং বিভাগ” তৈরি করা হয়েছে। বিভাগটি মোবাইল টেলিকমিউনিকেশন ডিভাইস/কম্পিউটার সিস্টেম/বায়োমেট্রিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ব্যাংকিং এবং আর্থিক সেবা প্রদানের মাধ্যমে সারা দেশে গ্রাহকদের ব্যাপকভাবে সেবা প্রদান করছে।

DBBL এজেন্ট ব্যাংকিং হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত একটি নতুন ব্যাংকিং ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে প্রতিটি লেনদেন “বায়োমেট্রিক মেশিন” ব্যবহার করে গ্রাহকের আঙুলের ছাপ সনাক্তকরণের মাধ্যমে পরিচালনা করা হয়।

♣ DBBL এজেন্ট ব্যাংকিং এর সেবা সমূহ
নিম্নলিখিত সেবাগুলো DBBL এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আওতায় হয়ে থাকে-
• নগদ আমানত সংগ্রহ এবং নগদ উত্তোলন;
• অভ্যন্তরীণ রেমিটেন্স বিতরণ;
• ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণ এবং ঋণের কিস্তি রিকভারি;
• ইউটিলিটি বিল পরিশোধের সুবিধা প্রদান;
• সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অধীনে ক্যাশ পেমেন্ট;
• তহবিল স্থানান্তরের সুবিধা;
• ব্যালেন্স অনুসন্ধান ও স্টেটমেন্ট;
• অ্যাকাউন্ট খোলা, ঋণ আবেদনপত্র, ক্রেডিট এবং ডেবিট কার্ড আবেদনপত্রের সাথে সম্পর্কিত ফরম/দলিলাদি সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াকরণ;
• ঋণের অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং ঋণ পুনরুদ্ধারকরণ;
• ক্লিয়ারিং চেক গ্রহণ;
• বীমা প্রিমিয়াম সহ মাইক্রো-বীমা ইত্যাদি সংগ্রহের মতো অন্যান্য ফাংশন;
• এটিএম উত্তোলন;
• মার্চেন্ট পেমেন্ট;
• অর্থ স্থানান্তর [ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি (P2P), ব্যক্তি থেকে ব্যবসা (P2B), ব্যবসা থেকে ব্যক্তি (B2P), ব্যক্তি থেকে সরকার (P2G), সরকার থেকে ব্যক্তি (G2P), ব্যবসা থেকে সরকার (B2G), সরকার থেকে ব্যবসা (G2B)]

♣ DBBL এজেন্ট ব্যাংকিং-এ লেনদেন এর সীমা
বর্তমানে DBBL এজেন্ট ব্যাংকিং এ লেনদেন এর সংখ্যা ও পরিমান নিচে দেওয়া হলো-

দৈনিক জমা
– কারেন্ট একাউন্ট- ৪ বার- ৬ লক্ষ
– সেভিংস একাউন্ট- ২ বার- ৪ লক্ষ

দৈনিক উত্তোলন
– কারেন্ট একাউন্ট- ২ বার- ৫ লক্ষ
– সেভিংস একাউন্ট- ২ বার- ৩ লক্ষ
– জেনারেল ব্যাংকিং একাউন্ট এ জমা
– কারেন্ট একাউন্ট- ৪ বার- ১৫ লক্ষ
– সেভিংস একাউন্ট- ২ বার- ৫ লক্ষ।

♣ DBBL এজেন্ট ব্যাংকিং-এর সার্ভিস চার্জ

এবার আসুন জেনে নেই DBBL এজেন্ট ব্যাংকিং সম্পর্কে কতিপয় প্রশ্ন ও সমাধান-

♣ DBBL এজেন্ট ব্যাংকিং কতটুকু নিরাপদ?
– DBBL এজেন্ট ব্যাংকিং ১০০% নিরাপদ, কারণ এতে গ্রাহকের স্বাক্ষরের পাশাপাশি আঙ্গুলের ছাপ থাকবে।
– বায়োমেট্রিক মেশিন কতৃক গ্রাহকের আঙ্গুলের ছাপের সঠিকতা নির্ধারনের পরেই কেবল এ একাউন্ট-এ লেনদেন করা যাবে।

♣ DBBL বায়োমেট্রিক একাউন্ট কি?
– DBBL অনুমোদিত এজেন্ট ব্যাংকিং শাখা থেকে গ্রাহক তাঁর আঙ্গুলের ছাপ ব্যবহার করে যে একাউন্ট খোলেন তাকে বায়োমেট্রিক একাউন্ট বলা হয়।

♣ DBBL বায়োমেট্রিক একাউন্ট-এর সুবিধা সমহূ কী কী?
– DBBL “বায়োমেট্রিক মেশিন” ব্যবহার করে গ্রাহকের আঙ্গুলের ছাপ সনাক্তকরণের মাধ্যমে ১০০% নিরাপদ লেনদেন ব্যবস্থা।
– প্রকৃত অনলাইন ব্যাংকিং সেবা যা দেশব্যাপী যে কোন সময় যেকোন স্থানে পাওয়া যাবে।
– জমাকৃত টাকার উপর মুনাফা লাভের সুবিধা।
– টাকা সঞ্চয়ের একটি অনন্য ব্যবস্থা।
– বাৎসরিক চার্জ প্রযোজ্য নহে।
– প্রথম বছরে ATM চার্জ ফ্রি।
– ডেবিট কার্ড, যার মাধ্যমে গ্রাহক DBBL ফাস্ট ট্র্যাক ও ATM থেকে টাকা উত্তোলন এবং মার্চেন্ট দোকান থেকে কেনাকাটা করতে পারবেন।
– DBBL অনুমোদিত যে কোন এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট এবং যেকোন শাখায় লেনদেনের সুবিধা।
– DBBL ফাস্ট ট্র্যাকে টাকা জমাদানের সুবিধা।
– মার্চেন্ট পেমেন্ট।

♣ DBBL এজেন্ট ব্যাংকিং এর মাধ্যমে কী কী সেবা পাওয়া যাবে?
– চলতি হিসাব খোলা
– সঞ্চয়ী হিসাব খোলা
– নগদ টাকা জমাদান/উত্তোলন
– ফিক্সড ডিপোজিট (FDR)
– ডিপোজিট প্লাস স্কীম (DPS)
– অন্য একাউন্ট-এ টাকা স্থানান্তর
– বেতন/ভাতা প্রদান
– একাউন্ট ব্যালেন্স জানা
– বিদেশ হতে প্রেরিত অর্থ গ্রহন
– বিল প্রদান।

♣ কোথায় এজেন্ট ব্যাংকিং এর আওতায় বায়োমেট্রিক একাউন্ট খুলবেন?
– DBBL মনোনীত যেকোন এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট এ বায়োমেট্রিক একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করা যাবে।

♣ বায়োমেট্রিক একাউন্ট রেজিষ্ট্রেশনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রগুলো কি কি?
– পূরণকৃত KYC বা একাউন্ট খোলার ফরম (যা মনোনীত এজেন্টদের কাছে পাওয়া যাবে)।
– গ্রাহকের ও নমিনীর ছবি (২+১) কপি।
– জাতীয় পরিচয় পত্র অথবা অন্য যে কোন ছবি সম্বলিত গ্রহণযোগ্য পরিচয়পত্র (ড্রাইভিং লাইসেন্স, পাসপোট)।

♣ কিভাবে বায়োমেট্রিক একাউন্ট রেজিষ্ট্রেশ করবেন?
– গ্রাহক DBBL মনোনীত যেকোন এজেন্ট ব্যাংকিং শাখায় এসে KYC (একাউন্ট খোলার ফরম) পুরণ করে জাতীয় পরিচয় পত্র অথবা যে কোন ছবি সম্বলিত গ্রহণযোগ্য পরিচয়পত্রের অনুলিপি ও তাঁর নিজের ও নমীনির ছবিসহ এজেন্টদের কাছে জমা দিবেন।
– এজেন্ট যাবতীয় কাগজপত্র যাচাই পূর্বক বায়োমেট্রিক মেশিনে লগইন করে গ্রাহকের জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা অন্য যে কোন ছবি সম্বলিত গ্রহণযোগ্য পরিচয়পত্রের নাম্বর প্রদান করবেন এবং গ্রহকের আঙুলের ছাপ বায়োমেট্রিক মেশিনে গ্রহন করবেন।
– পরবর্তীতে ব্যাংক কর্মকর্তা গ্রাহকের কাগজপত্রের সত্যতা যাচাই পূর্বক একাউন্টটি অনুমোদন করবেন। অনুমোদনের সাথে সাথে আপনি একটি SMS পাবেন (যদি মোবাই নম্বর দেওয়া থাকে)।

♣ একাউন্ট খুলতে কত টাকা প্রয়োজন?
মাত্র ১০/- (দশ) টাকা দিয়ে একজন গ্রাহক DBBL এজেন্ট ব্যাংকিং এর আওতায় বায়োমেট্রিক একাউন্ট খুলতে পারবেন।

♣ একাউন্ট খোলার সঙ্গে সঙ্গেই কি টাকা জমা ও উত্তোলন করা যাবে?
– একাউন্ট খোলার সঙ্গে সঙ্গেই কি টাকা জমা দেওয়া যাবে। তবে একাউন্টটি অনুমোদন হওয়ার পর টাকা তোলা যাবে।
– ব্যাংক কর্মকর্তা রেজিষ্ট্রেশন ফরমে (KYC) প্রদত্ত তথ্যাবলী যাচাই করে একাউন্টটি অনুমোদন করবেন। সাধারণত একাউন্ট অনুমোদনের জন্য ১-২ কর্মদিবস প্রয়োজন হয়। তাছাড়া এজেন্ট শাখায় বায়োমেট্রিক একাউন্ট খোলার সাথে সাথে একাউন্ট নাম্বার সম্বলিত একটি কার্ড গ্রাহককে দেওয়া হবে।

♣ ATM কার্ড কোথায়, কিভাবে পাওয়া যায়?
– গ্রাহকের একাউন্ট অনুমোদনের পর গ্রাহক যেকোন DBBL ফাস্ট ট্র্যাক ও সংশ্লিষ্ট জেলা শহরে অবস্থিত DBBL এর “মোবাইল ব্যাংকিং ও এজেন্ট ব্যাংকিং অফিস” থেকে ATM কার্ড সংগ্রহ করতে পারবেন। ATM কার্ডের জন্য প্রথম বৎসর কোন চার্জ প্রযোজ্য হবে না।
– তবে দ্বিতীয় বৎসর থেকে বাৎসরিক টাকা ৩৪৫/- (ভ্যাট সহ) চার্জ প্রযোজ্য হবে। DBBL এর কোন ATM বা ফাস্ট ট্র্যাক-এ লেনদেনের জন্য কোন ফি দিতে হবে না।

♣ ATM কার্ড হারিয়ে গেলে করনীয় কি?
– গ্রাহক নিজে সংশ্লিষ্ট জেলা শহরে অবস্থিত DBBL মোবাইল ব্যাংকিং ও এজেন্ট ব্যাংকিং অফিসে যোগাযোগ করে পুনরায় ATM কার্ড সংগ্রহ করতে পারবেন।

♣ DBBL এজেন্ট ব্যাংকিং এ কিভাবে টাকা জমা দিবেন?
– গ্রাহক টাকা জমাদানের জন্য এজেন্টকে তাঁর বায়োমেট্রিক একাউন্ট নাম্বর বলবেন এবং এজেন্টের নিকট টাকা জমা দিবেন।
– এজেন্ট/ব্যাংক অফিসার বায়োমেট্রিক মেশিনে গ্রাহকের একাউন্ট নম্বর ও জমাকৃত টাকার পরিমাণ প্রবেশ করাবেন।
– এজেন্ট গ্রাহককে টাকা জমাদানের রশিদ দিবেন।
– গ্রাহক সঙ্গে সঙ্গে টাকা জমাদানের তথ্য তাঁর মোবাইলে SMS এর মাধ্যমে জানতে পারবেন (যদি মোবাইল নম্বর দেওয়া থাকে)।

♣ DBBL ফাস্ট ট্র্যাকে টাকা জমা দেয়ার নিয়ম কি?
– গ্রাহক ফাস্ট ট্র্যাক অফিসারের নিকট বায়োমেট্রিক একাউন্ট নম্বর এবং টাকা জমা দিবেন।
– ফাস্ট ট্র্যাক অফিসার গ্রাহকের টাকা বঝে নিয়ে গ্রাহকের সামনে একটি খামে টাকা ভরে খামটির মুখ বন্ধ করে খামটিতে স্বাক্ষর দিবেন এবং খামটিতে গ্রাহকের স্বাড়্গর নিবেন।
– ফাস্ট ট্র্যাক অফিসার খামটি কিয়স্ক মেশিনে প্রবেশ করাবেন এবং গ্রাহককে মেশিন প্রদত্ত জমা রশিদ দিবেন।
– পরবর্তীতে গ্রাহকের একাউন্টে টাকা জমা হওয়ার সাথে সাথে গ্রাহক তাঁর মোবাইলে কনফারমেশন মেসেজ পাবেন।

♣ কিভাবে এজেন্ট আউটলেট হতে টাকা উত্তোলন করবেন?
– গ্রাহক টাকা উত্তোলনের জন্য এজেন্টকে তার বায়োমেট্রিক একাউন্ট নম্বর ও টাকার পরিমাণ বলবেন।
– এজেন্ট বায়োমেট্রিক মেশিনে গ্রাহকের একাউন্ট নম্বর ও উত্তোলনকৃত টাকার পরিমাণ প্রবেশ করাবেন এবং গ্রাহকের আঙ্গুলের ছাপ নেয়ার মাধ্যমে গ্রাহককে সনাক্ত করবেন। আঙ্গুলের ছাপ প্রদানের পর্বে গ্রাহক অবশ্যই বায়োমেট্রিক মেশিনের স্ক্রীনে টাকার পরিমাণ ও একাউন্ট নম্বর যাচাই করে নেবেন।
– এজেন্ট গ্রাহককে টাকা প্রদান করবেন এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রাহকের একাউন্ট থেকে সমপরিমাণ টাকা কমে যাবে।
– গ্রাহক সঙ্গে সঙ্গে টাকা উত্তোলনের তথ্য তাঁর মোবাইলে SMS এর মাধ্যমে জানতে পারবেন (যদি মোবাইল নম্বর দেয়া থাকে)।

♣ কিভাবে ব্যাংক শাখা থেকে টাকা উত্তোলন করবেন?
– গ্রাহক টাকা উত্তোলনের জন্য শাখা কর্মকর্তার নিকট বায়োমেট্রিক একাউন্ট নম্বর এবং টাকার পরিমাণ বলবেন।
– ব্যাংক অফিসার বায়োমেট্রিক মেশিনে গ্রাহকের একাউন্ট নম্বর ও উত্তোলনকৃত টাকার পরিমাণ প্রবেশ করাবেন এবং গ্রাহকের আঙ্গুলের ছাপ নেয়ার মাধ্যমে গ্রাহককে সনাক্ত করবেন।
– ব্যাংক অফিসার গ্রাহককে টাকা প্রদান করবেন এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রাহকের একাউন্ট থেকে সমপরিমাণ টাকা কমে যাবে।
– গ্রাহক সঙ্গে সঙ্গে টাকা উত্তোলনের তথ্য তাঁর মোবাইলে SMS এর মাধ্যমে জানতে পারবেন (যদি মোবাইল নম্বর দেয়া থাকে)।

♣ কিভাবে ATM থেকে টাকা উত্তোলন করবেন?
– ATM কার্ডটি মেশিনে প্রবেশ করাবেন।
– গ্রাহক ATM বাটনে তাঁর চার ডিজিটের পিন বা সিক্রেট নম্বর চাপবেন।
– পরবর্তী স্ক্রীন আসলে টাকা উত্তোলনের জন্য উত্তোলন বাটনটি চাপবেন।
– টাকা উত্তোলনের পরিমাণ লিখবেন।
– OK করবেন।
– ATM মেশিন থেকে আপনার নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা গুনে বুঝে নিবেন।

♣ ATM এ পিন পরিবর্তন কিভাবে করবেন?
– ATM কার্ডটি মেশিনে প্রবেশ করাবেন।
– গ্রাহক তার ATM কার্ডের ৪ (চার) ডিজিটের Pin বা সিক্রেট নম্বরটি চাপবেন।
– পরবর্তী স্ক্রীন আসলে পিন পরিবর্তনের জন্য পিন পরিবর্তন বাটনটি চাপবেন।
– ৪ (চার) ডিজিটের নতুন পিন নম্বর চাপবেন।
– ৪ (চার) ডিজিটের নতুন পিনটি পুনরায় বাটনে চাপবেন।

♣ কিভাবে ATM এ ব্যালেন্স অনসন্ধান করবেন?
– ATM কার্ডটি মেশিনে প্রবেশ করাবেন।
– গ্রাহক তাঁর ATM কার্ডের ৪ (চার) ডিজিটের PIN বা সিক্রেট নম্বরটি চাপবেন।
– পরবর্তী স্ক্রীন আসলে ব্যালেন্স অনুসন্ধানের জন্য ব্যালেন্স অনুসন্ধান বাটনটি চাপবেন।
– স্ক্রীনে আপনার ব্যালেন্স প্রদর্শিত হবে।

♣ ATM কার্ডের পিন ভুলে গেলে করণীয় কি?
– গ্রাহক নিজে সংশিস্নষ্ট জেলা শহরে অবস্থিত DBBL মোবাইল ব্যাংকিং ও এজেন্ট ব্যাংকিং অফিসে যোগাযোগ করে নতুন পিন নম্বর সংগ্রহ করতে পারবেন।

♣ বায়োমেট্রিক একাউন্ট এর মাধ্যমে কিভাবে অপর ব্যাক্তির একাউন্টে টাকা স্থানান্তর (P2P) করবেন?
– বায়োমেট্রিক একাউন্টের গ্রাহক এজেন্ট ব্যাংকে গিয়ে টাকার পরিমান ও গ্রাহকের বায়োমেট্রিক একাউন্ট নম্বর বলবেন।
– এজেন্ট গ্রাহক ও গ্রহীতার একাউন্ট নম্বর ঠিক আছে কিনা যাচাই করবেন এবং গ্রাহক এর আঙ্গুলের ছাপের মাধ্যমে অপর ব্যাক্তির একাউন্টে টাকা স্থানান্তর (P2P) করবেন।
– তাছাড়া গ্রাহক ও গ্রহীতা দুজনেই এই লেনদেনের SMS পাবেন (যদি মোবাইল নম্বর দেওয়া থাকে)।

♣ বিদেশ থেকে কিভাবে রেমিটেন্স পাঠাবেন?
বিদেশে অবস্থিত ডাচ্-বাংলা ব্যাংক এবং অন্যান্য বাংলাদেশী ব্যাংকের মনোনীত যে কোন Exchange House থেকে গ্রাহক বায়োমেট্রিক একাউন্টে সরাসরি রেমিটেন্স পাঠাতে পারেন। গ্রাহকের পাঠানো টাকা ২৪-৭২ ঘন্টা (ডাচ্-বাংলা ব্যাংক মনোনীত Exchange House এর ক্ষেত্রে ২৪ ঘন্টা) এর মধ্যে বেনিফিসিয়ারী/রেমিটেন্স গ্রহিতার বায়োমেট্রিক একাউন্টে জমা হয়ে যাবে। এই সহজ সুবিধা পেতে Exchange House এ গিয়ে নিচের তথ্যগুলো দিন-
– টাকার পরিমাণ
– যার কাছে টাকা পাঠাবেন তার নাম, ব্যাংকের নাম (DUTCH-BANGLA BANK) ও
– বায়োমেট্রিক একাউন্ট নম্বর।

♣ রেমিটেন্স গ্রহীতা কিভাবে তার একাউন্ট থেকে টাকা উত্তোলন করবেন?
– টাকা একাউন্টে জমা হওয়ার সাথে সাথে রেমিটেন্স গ্রহীতা তাঁর মোবাইলে SMS এর মাধ্যমে জানতে পারবেন।
(যদি মোবাইল নম্বর দেওয়া থাকে)।
– অতঃপর গ্রহীতা DBBL কতৃক নিযুক্ত যেকোন এজেন্ট ব্যাংকিং শাখা থেকেবিদেশ হতে প্রেরিত টাকা উত্তলোন করতে পারবেন।
– তাছাড়া DBBL এর যেকোন শাখা, ফাস্ট ট্র্যাক ও ATM থেকে ও টাকা উত্তলোন করতে পারবেন।

♣ কিভাবে আপনার একাউন্টের ব্যালেন্স/স্টেটমেন্ট জানবেন?
– একাউন্ট ব্যালেন্স/স্টেটমেন্ট জানতে গ্রাহককে এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট/ডাচ-বাংলা ব্যাংক শাখা/ATM এ যেতে হবে।
– এজেন্ট/ব্যাংক অফিসার বায়োমেট্রিক মেশিনে গ্রাহকের আঙ্গুলের ছাপ নেয়ার মাধ্যমে গ্রাহককে সনাক্ত করবেন এবং ব্যালেন্স/স্টেটমেন্ট গ্রাহককে জানাবেন।
– ATM থেকে ব্যালেন্স/স্টেটমেন্ট অনুসন্ধান পদ্ধতি পূর্বে উল্লেখ করা আছে।

♣ গ্রাহক কি বায়োমেট্রিক একাউন্টে জমাকৃত টাকার উপর মুনাফা পাবেন?
– হ্যাঁ। গ্রাহক তাঁর বায়োমেট্রিক সঞ্চয়ী একাউন্টে জমাকৃত টাকার উপর ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত হারে ষাম্মাষিক ভিত্তিতে মুনাফা পাবেন, যা বর্তমানে শতকরা ৩ ভাগ হারে নির্ধারন করা হয়েছে।

♣ বায়োমেট্রিক কারেন্ট একাউন্ট কি?
– গ্রাহক বায়োমেট্রিক সঞ্চয়ী একাউন্টের ন্যায় তাঁর ব্যবসায়িক প্রয়োজনে বায়োমেট্রিক কারেন্ট একাউন্টও খুলতে পারবেন। শুধুমাত্র একক ব্যক্তি মালিকানাধীন ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানের মালিকগণ এই বায়োমেট্রিক কারেন্ট একাউন্টটি খুলতে পারবেন।
– কারেন্ট একাউন্টের প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট হলো জাতীয় পরিচয়পত্র বা ছবি যুক্ত আইডি কার্ডের ফটোকপি, ২ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি, ট্রেড লাইসেন্স এর ফটোকপি, নমিনীর আইডি কার্ডের ফটোকপি ও ছবি ১ কপি।

♣ বায়োমেট্রিক ডিপোজিট প্লাস স্কীম (DPS) কি?
– বায়োমেট্রিক ডিপোজিট প্লাস স্কীম (DPS) হচ্ছে দীর্ঘ মেয়াদী সমায়ের জন্য টাকা জমানোর একটি অনন্য ব্যাবস্থা।
– গ্রাহক -১০০/- টাকা থেকে শুরু করে -১০,০০০/- টাকা পর্যন্ত ৩, ৫, ৮, ও ১০ বছর মেয়াদী বায়োমেট্রিক ডিপোজিট প্লাস স্কীম (DPS) খুলতে পারবেন। এখানে সবচাইতে বড় সুবিধা হচ্ছে গ্রাহকের বায়োমেট্রিক একাউন্ট থেকে নির্দিষ্ঠ পরিমান টাকা নির্দিষ্ঠ সময়ে বায়োমেট্রিক ডিপোজিট প্লাস স্কীম (DPS) এ জমা হয়ে যাবে। তাছাড়া মেয়াদ শেষে রয়েছে আকর্ষনীয় মুনাফা।
– একটি বায়োমেট্রিক একাউন্টের বিপরীতে একাধিক DPS একাউন্ট খোলা যাবে।

♣ DBBL-বায়োমেট্রিক ফিক্সড্ ডিপোজিট রিসিপ্ট্ (FDR) কি?
– বায়োমেট্রিক ফিক্সড্ ডিপোজিট রিসিপ্ট (FDR) এজেন্ট ব্যাংকিং-এর মাধ্যমে ১০,০০০/- টাকা বা তার চেয়ে বেশী পরিমান টাকার জন্য ৩ মাস, ৬ মাস, বা ১২ মাস মেয়াদী ফিক্সড্ ডিপোজিট বা FDR করা যায়।
– বায়োমেট্রিক FDR করার জন্য গ্রাহক তাঁর বায়োমেট্রিক সঞ্চয়ী হিসাবে নির্ধারিত পরিমান টাকা জমা দিয়ে একটি ফরম পূরণ করবেন।
– বায়োমেট্রিক সঞ্চয়ী হিসাব থেকে টাকা নিয়ে আপনার FDR খোলা হবে এবং আপনাকে একটি রসিদ দেওয়া হবে।
– মেয়াদন্তে মুনাফাসহ সমূদয় টাকা আপনার বায়োমেট্রিক সঞ্চয়ী হিসাব প্রদান করা হবে।
– একই বায়োমেট্রিক একাউন্টের বিপরীতে একাধিক FDR করা যায়।

♣ ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংকের শাখায় সঞ্চয়ী হিসাব খোলা গ্রাহকগণ কিভাবে এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট থেকে সার্ভিস পেতে পারেন?
ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংকের যেকোন শাখায় সঞ্চয়ী হিসাব খোলা গ্রাহকগণ যেকোন এজেন্ট আউটলেট এ টাকা জমা করতে পারবেন। তবে টাকা উত্তোলনের জন্য ব্যাংকের যেকোন শাখায় উপস্থিত হয়ে তাঁর আঙ্গুলের ছাপ রেজিস্ট্রেশন করার মাধ্যমে এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট থেকে টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। আঙ্গুলের ছাপ রেজিস্ট্রেশনের জন্য নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করবেনঃ
– গ্রাহক ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংকের যে কোন শাখায় রেজিস্ট্রেশন করার জন্য আসবেন।
– নির্দিষ্ট রেজিস্ট্রেশন ফরম পূরণ করে একাউন্টে প্রদত্ত স্বাক্ষর প্রদান করবেন।
– গ্রাহকের স্বাক্ষর ও ছবি যাচাই করে ব্যাংক কর্মকর্তা বায়োমেট্রিক মেশিনে গ্রাহকের আঙ্গুলের ছাপ নিবেন এবং একাউন্টি বায়োমেট্রিক মেশিনে লেনদেন করার জন্য রেজিস্ট্রেশন করে দিবেন।
– এরপর গ্রাহক বাংলাদেশের যেকোন স্থানে অবস্থিত ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট এ টাকা জমা ও উত্তোলন করতে পারবেন।
– এ ধরনের একাউন্টে দৈনিক সর্বোচ্চ ২ বার টাকা ৪,০০,০০০ জমা এবং টাকা ৩,০০,০০০/- উত্তোলন করা যাবে।

♣ Territory (এলাকা) কি?
– DBBL এজেন্ট ব্যাংকিং এ সাধারণত প্রতিটি উপজেলাকে একটি Territory বা এলাকা বলা হয়।
– গ্রাহক যে উপজেলা থেকে একাউন্ট খুলবেন সেই Territory বা এলাকায় লেনদেন এর ক্ষেত্রে কোন ফি লাগবে না।
– তবে অন্য এলাকায় লেনদেন এর ক্ষেত্রে ফি প্রযোজ্য।

বিস্তারিত জানতে ডায়াল করুনঃ ১৬২১৬
অথবা DBBL এর নিকটস্থ কোন শাখায় যোগাযোগ করুন।

১টি মন্তব্য

Leave a Reply