কাস্টমার ডিউ ডিলিজেন্স (CDD)

0
5331

ব্যাংকিং নিউজ বাংলাদেশঃ আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছেন সবাই? আশা করি আল্লাহর অশেষ মেহেরবানীতে ভাল আছেন। আজ আলোচনা করবো Customer Due Diligence (CDD) সম্পর্কে। এটি ব্যাংকারদের জন্য অতীব একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

CDD information comprises the facts about a customer that should enable an organisation to assess the extent to which the customer exposes it to a range of risks. These risks include money laundering and terrorist financing.

বাংলাদেশ ব্যাংক প্রদত্ত সার্কুলারে Customer Due Diligence সম্পর্কে বলা হয়েছে যে-
Customer Due Diligence বা গ্রাহক সম্পর্কিত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা (CDD) বলতে নির্ভরযোগ্য ও স্বাধীন উৎস হতে প্রাপ্ত তথ্য, উপাত্ত ও দলিলাদির ভিত্তিতে গ্রাহকের পরিচিতি নিশ্চিতকরণ, সংগৃহীত পরিচিতিমূলক তথ্য বা উপাত্তের সঠিকটা এবং অর্থের উৎস যাচাইকরণসহ হিসাবের পরিচিতিমূলক তথ্য বা উপাত্ত ও লেনদেন নিয়মিতভাবে (On-going) মনিটরিং করাকে বুঝাবে। উল্লেখ্য যে, গ্রাহকের যথাযথ পরিচিত গ্রহণ এবং যাচাইকরণ (KYC), CDD প্রক্রিয়ার একটি অংশ।

১) গ্রাহকের ঝুঁকি বিবেচনায় নিম্নবর্নিত বিভিন্ন পর্যায়ে CDD সম্পাদন করতে হবেঃ-
ক) গ্রাহকের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের সময়।
খ) ওয়াক-ইন- কাস্টমার (Walk-in Customer) কর্তৃক সম্পাদিত ৫,০০,০০০/- (পাঁচ লক্ষ) টাকা বা তদুর্ধব মূল্যের Occasional Transaction;
গ) যখন সন্দেহ করার যথেষ্ট কারণ থাকবে যে ইতিমধ্যে গ্রাহকের পরিচিতির স্বপক্ষে যে তথ্য বা দলিলাদি সংগ্রহ করা হয়েছে তা পর্যাপ্ত নয় বা সঠিক নয়। এবং
ঘ) কোন লেনদেন মানি লন্ডারিং বা সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়নের সাথে জড়িত মর্মে সন্দেহে CDD সম্পাদনের ক্ষেত্রে তথ্যের গোপনীয়তা ফাঁস (Tipping-Off) হবার সম্ভাবনা থাকলে CDD সম্পাদন না করেই সন্দেহজনক লেনদেন/কার্যক্রম রিপোর্ট করতে হবে।

২) গ্রাহকের পরিচিতি এবং ব্যাংকের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য প্রত্যেক ব্যাংক তাদের সন্তুষ্টি সাপেক্ষে পর্যাপ্ত তথ্য সংগ্রহ করবে। “ব্যাংকের সন্তুষ্টি সাপেক্ষে” বলতে বিদ্যমান নির্দেশনার আলোকে গ্রাহকের ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য, উপাত্ত ও দলিলাদি সংগ্রহপূর্বক CDD সম্পন্ন করা হয়েছে মর্মে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে সন্তুষ্ট করাকে বুঝাবে।

৩) যদি গ্রাহকের পক্ষে অন্য কোন ব্যক্তি হিসাব পরিচালনা করে সেক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তি যথাযথভাবে ক্ষমতা প্রাপ্ত কিনা তা নিশ্চিত হয়ে তার পরিচিতির সঠিক ও পূর্ণাংগ তথ্য সংগ্রহ করতে হবে।

৪) ট্রাস্টি ও পেশাদার মধ্যস্থতাকারী কর্তৃক গ্রাহকের পক্ষে পরিচালিত হিসাবের ক্ষেত্রে তাঁদের আইনগত অবস্থান পর্যালোচনা ও যথার্থতা নিরূপনপূর্বক সংশ্লিষ্ট সকলের পরিচিতির সঠিক ও পূর্নাংগ তথ্য সংগ্রহ করতে হবে।

৫) হিসাবের প্রকৃত সুবিধাভোগী (Beneficial owner) সনাক্তকরণপূর্বক ব্যাংকের সন্তুষ্টি সাপেক্ষে নির্ভরযোগ্য সূত্র হতে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে পরিচিতি নিশ্চিত হতে হবে।
ক) যদি কোন গ্রাহক অন্য কোন ব্যক্তির পক্ষে হিসাব পরিচালনা করে, সে ক্ষেত্রে গ্রাহক ছাড়াও উক্ত ব্যক্তির পরিচিতির সঠিক ও পূর্নাংগ তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করতে হবে।
খ) যদি কোন ব্যক্তি কোন গ্রাহককে নিয়ন্ত্রণ করে সে ক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তির পরিচিতির সঠিক ও পূর্নাংগ তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করতে হবে। এবং
গ) কোম্পানির ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণকারী শেয়ার হোল্ডার অথবা ২০% বা তদূর্ধ একক শেয়ার হোল্ডারকে হিসাবের প্রকৃত সুবিধাভোগী বিবেচনায় তার/ তাদের সঠিক ও পূর্নাংগ তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করতে হবে।

আমার কাছে মনে হয় মানি লন্ডারিং রোধকল্পে KYC, TP এর পাশাপাশি CDD এর নিয়মাবলী অনুসরণ করা অতীব গুরুত্বপূর্ণ।

ভাল থাকবেন। আল্লাহ হাফিজ।

Leave a Reply