এসএমই (SME) কী? এসএমই এর গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা

0
9115

বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে ক্ষুদ্র ও মাঝারি এন্টারপ্রাইজগুলোর উল্লেখযোগ্য ভূমিকা অনস্বীকার্য। এ খাতটি শ্রমঘন (labor intensive) এবং উৎপাদন সময়কাল (gestation period) স্বল্প হওয়ায় জাতীয় আয় বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে দ্রুত অবদান রাখতে সক্ষম। জিডিপিতে এসএমই খাতের অবদান ২৫-৩০%। সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যসমূহ (MDGs) বিশেষ করে চরম দারিদ্র্য ও ক্ষুধা নির্মূল করা এবং নারী পুরুষের সমতা ও নারীর ক্ষমতায়নে এ খাত ব্যাপক ভূমিকা রাখতে সক্ষম।

এশিয়ার বেশকিছু সমৃদ্ধশালী দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এসএমই খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, এছাড়া আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোও এসএমই এর ওপর ব্যাপক গুরুত্বারোপ করছে। তাদের দৃষ্টিতে এসএমই হচ্ছে ‘employment generating machine’ এবং সে কারণেই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন, আয় বৈষম্য কমিয়ে আনা, দারিদ্র্য বিমোচন প্রভৃতি লক্ষ্য অর্জনের হাতিয়ার হিসেবে তারা ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উন্নয়নকে বেছে নিয়েছে। এসএমই খাতের উন্নয়নকে শিল্পায়নের চালিকা শক্তি হিসেবে গ্রহণ করে এ খাতকে অগ্রাধিকার খাত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসএমইকে জাতীয় প্রবৃদ্ধির ইঞ্জিন রুপেও বিবেচনা করা হয়।

এসএমই (SME) কি?
SME হলো তিনটি ইংরেজী শব্দের প্রথম অক্ষর। এখানে এস বলতে স্মল (Small) অর্থাৎ ক্ষুদ্র, এম বলতে মিডিয়াম (Medium) অর্থাৎ মাঝারি এবং ই তে এন্টারপ্রাইজ (Enterprise) অর্থাৎ শিল্পোদ্যোগকে বুঝায়। কাজেই SME হলো ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোগ (Small and medium enterprise)।

এসএমই (SME) এর সংজ্ঞা
এসএমই (SME) এর সংজ্ঞায় উইকিপিডিয়াতে বলা হয়েছে-
Small and medium-sized enterprises (SMEs) or small and medium-sized businesses (SMBs) are businesses whose personnel numbers fall below certain limits.
অর্থাৎ ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের এন্টারপ্রাইজ (এসএমই) বা ছোট এবং মাঝারি আকারের ব্যবসায় (এসএমবি) হল এমন ধরনের ব্যবসা, যাদের কর্মীদের সংখ্যা নির্দিষ্ট সীমার নীচে থাকে।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের বর্তমান প্রচলিত সংজ্ঞাটি বেটার বিজনেস ফোরাম কর্তৃক সুপারিশকৃত এবং সরকারের শিল্প মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক তা অভিন্ন সংজ্ঞা হিসেবে চালু করেছে। নিম্নে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের সংজ্ঞার নিয়ামকগুলো দেয়া হ’লঃ

১. স্মল এন্টারপ্রাইজের সংজ্ঞা
স্মল এন্টারপ্রাইজ বলতে এমন প্রতিষ্ঠানকে বুঝাবে যা কোন পাবলিক লিমিটেড কোম্পানী নয় এবং নিম্নোক্ত নিয়ামকগুলো পূরণ করেঃ
খাত, ভূমি, ইমারত ব্যতীত স্থায়ী সম্পদের পরিমাণ এবং কর্মরত লোকবল (অনূর্ধ্ব)
ক) সেবা খাতঃ ৫০,০০০-৫০,০০,০০০= ২৫ জন
খ) ব্যবসা খাতঃ ৫০,০০০-৫০,০০,০০০= ২৫ জন
গ) শিল্প খাতঃ ৫০,০০০-১,৫০,০০,০০০= ৫০ জন।

২. মিডিয়াম এন্টারপ্রাইজের সংজ্ঞা
মাঝারি এন্টারপ্রাইজ বলতে এমন প্রতিষ্ঠানকে বুঝাবে যা কোন পাবলিক লিমিটেড কোম্পানী নয় এবং নিম্নোক্ত নিয়ামকগুলো পূরণ করেঃ
খাত, ভূমি, ইমারত ব্যতীত স্থায়ী সম্পদের পরিমাণ এবং কর্মরত লোকবল (অনূর্ধ্ব)
ক) সেবা খাতঃ ৫০,০০,০০০-১০,০০,০০,০০০= ৫০ জন
খ) ব্যবসা খাতঃ ৫০,০০,০০০-১০,০০,০০,০০০= ৫০ জন
গ) শিল্প খাতঃ ১,৫০,০০,০০০-২০,০০,০০,০০০= ১৫০ জন।

এসএমই (SME) এর গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা
দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে এসএমই এর গুরুত্ব অনস্বীকার্য। যা নিম্নে তুলে ধরা হলো-
১) অধিক কর্মসংস্থান এর সুযােগ সৃষ্টি করে।
২) বিনিয়ােগ বহুমূখীকরণে সাহায্য করে।
৩) নতুন নতুন বিনিয়ােগ খাত সৃষ্টি করে।
৪) অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখে।
৫) ব্যাংকিং খাতের রিস্ক কমাতে সহায়তা করে।
৬) অর্থনৈতিক মন্দার হাত হতে বাঁচাতে সহায়তা করে।
৭) নতুন নতুন টেকনােলজি উদ্ভাবনে সাহায্য করে।
৮) নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে সহায়তা করে।
৯) বড় উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে।
১০) জাতীয় প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
১১) দারিদ্র্য বিমােচনে ভূমিকা রাখে ইত্যাদি।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক ২৯ জুন ২০১৭ তারিখের এসএমইএসপিডি সার্কুলার নং-২ এর মাধ্যমে এসএমইকে নতুনভাবে সঙ্গায়িত করেছে যাতে মাঝারি উদ্যোগের ব্যবসাকে এসএমই খাত থেকে বাদ দেয়া হয়েছে।

অপরদিকে, ২৯ জুন ২০১৭ তারিখের এসএমই এসপিডি সার্কুলার নং-৩ এর মাধ্যমে ২০২১ সাল পর্যন্ত এসএমই ঋণ/বিনিয়ােগ পাের্টফোলিওর কাঙ্খিত খাত ভিত্তিক বিভাজন নির্ধারণ করে দিয়েছে। সামগ্রিকভাবে এসএমই খাতে ঋণ/বিনিয়ােগ বিতরণে মাঝারি খাতের চেয়ে ক্ষুদ্র খাতে ঋণ/বিনিয়ােগ বিতরণে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এসএমই খাতে সামগ্রিক অর্থায়নের অন্যূন ৫০% কটেজ, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য নির্ধারণ করতে হবে।

টেকসই এসএমই খাত গঠন করতে ২০২১ সালের মধ্যে এমএসএমই ঋণ/বিনিয়ােগ পাের্টফোলিওর কাঙ্খিত খাত ভিত্তিক বিভাজন হবে: ম্যানুফ্যাকচারিং-এ অন্যূন ৪০%, সেবায় অন্যূন ২৫% এবং ব্যবসায় সর্বোচ্চ ৩৫%। মােট এসএসই ঋণ/বিনিয়ােগের মধ্যে এসএমই নারী উদ্যোক্তা ঋণের হার হবে ন্যূনতম ১০% এবং ২০২১ সালে তা ১৫% এ উন্নীত করতে হবে। এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের লক্ষ্যে প্রয়ােজনীয় কার্যক্রম গ্রহন করতে হবে। পাের্টফোলিওর কাঙ্খিত স্বাভাবিক বিভাজন এসএমই পারফরমেন্স মূল্যায়নের নিয়ামক হিসেবে বিবেচিত হবে।

Leave a Reply