ব্যাংক লোন নেয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস

0
967

ব্যাংক/ আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে এসএমই ঋণ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে প্রয়ােজনীয় ডকুমেন্টস/ দলিলাদির চেকলিস্ট। এসএমই উদ্যোক্তাদের অনেকেরই ব্যাংক ঋণ প্রাপ্তিতে প্রয়ােজনীয় ডকুমেন্টেশন ও প্রয়ােজনীয় পূর্ব প্রস্তুতি বিষয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞান নেই। এসএমই উদ্যোক্তাদের সুবিধার্থে ব্যাংক/ আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ঋণ আবেদনকারীদের কাছ থেকে যেসব প্রয়ােজনীয় কাগজপত্র নিয়ে থাকে তার একটি চেকলিষ্ট প্রস্তুত করা হয়েছে। এক্ষেত্রে বলা প্রয়ােজন যে, ঋণ প্রদানের সিদ্ধাড় সম্পূর্ণরূপে ব্যাংক/ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নীতিমালার আলােকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ কর্তৃর্ক নেয়া হয়ে থাকে। এ চেকলিষ্ট ব্যাংক ঋণ গ্রহণে আগ্রহী উদ্যোক্তাদের এ ক্ষেত্রে পূর্ব প্রস্তুতিতে সহায়ক হবে বলেই আমাদের বিশ্বাস। এ চেকলিষ্ট বিষয়ে যে কোন পরামর্শ ও সহযােগিতার জন্য উদ্যোক্তাগণ এসএমই ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই এন্ড স্পেশাল প্রােগ্রামস বিভাগে যােগাযােগ করা যেতে পারে।

● নবায়নকৃত ট্রেড লাইসেন্স।
● ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংকে চলতি হিসাব।
● জাতীয় পরিচয়পত্র।
● ড্রাগ লাইসেন্স (ঔষধ ব্যবসার ক্ষেত্রে প্রয়ােজ্য)।
● বিএসটিআই সাটিফিকেট (খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে)।
● ডিসির অনুমােদন (ডিজেল ও এসিড ব্যবসার ক্ষেত্রে)।
● পেট্রোবাংলার সার্টিফিকেট (ডিজেল ও অকটেন ব্যবসার ক্ষেত্রে)।
● বিগত ১ থেকে ৩ বৎসরের ব্যাংক প্রতিবেদন (বিভিন্ন ব্যাংকের চাহিদা ভিন্ন)।
● দোকানঘর ভাড়া চুক্তিনামা।
● পজিশনের দলিল।
● টিন সার্টিফিকেট।
● ভ্যাট সার্টিফিকেট (প্রযােজ্য ক্ষেত্রে)।
● বিদ্যুৎ বিল।
● টেলিফোন বিল।
● সর্বশেষ শিক্ষাগত যােগ্যতার সার্টিফিকেট।
● কর্মচারীদের নাম, পদবী এবং মাসিক বেতনের তালিকা।
● IRC ও IRE সার্টিফিকেট (আমদানী ও রপ্তানী ব্যবসার ক্ষেত্রে)।
● মজুদ মাল ও তার বর্তমান মূল্যের তালিকা।
● স্থায়ী সম্পদের তালিকা ও মূল্য।
● দেনাদারের তালিকা।
● পাওনাদের তালিকা।
● বর্তমানে অন্য কোথাও ঋন থাকলে তার বিবরণী।
● বাংলাদেশ ব্যাংকের CIB রিপোের্ট, এখানে উলেখ্য যে, এই রিপাের্টের ফরম সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানই উদ্যোক্তাকে সরবরাহ করে এবং উদ্যোক্তা উক্ত ফরম যথাযথভাবে পূরন করে দিলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানই বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে রিপাের্ট সংগ্রহের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে।
● ঋণের আবেদনকারী এবং গ্যারান্টর উভয়ের পাসপাের্ট সাইজ ছবি। এখানে উল্লেখ্য যে, আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ তাদের প্রয়ােজন অনুযায়ী একাধিক গ্যারান্টার নিতে পারেন। অনেক প্রতিষ্ঠানই মূল গ্যারান্টোরের অতিরিক্ত গ্যারান্টর হিসেবে পরিবাররের সদস্যকে গ্যারান্টার হিসেবে নিয়ে থাকে।
● গ্যারান্টর ব্যবসায়ী হলে তার ট্রেড লাইসেন্স ও CIB রির্পোট।
● ব্যবসার বিগত ১ বৎসরের বিক্রয় ও লাভের হিসাবের বিবরনী।
● প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানীর ক্ষেত্রে সার্টিফিকেট অব ইনকরপােরেশন এবং মেমােরেন্ডাম অব আর্টিক্যালস।
● প্রাইভেট লিমিটডে কোম্পানীর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণের সিদ্ধান্ত্রে রেজুলেশন।
● লিমিটেড কোম্পানীর ক্ষেত্রে অডিটকৃত আর্থিক বিবরণী, ট্রেড একাউন্ট, লাভ-ক্ষতির হিসাব, ব্যালেন্স শীট এবং Cash Flow ষ্টেটমেন্ট।
● লিমিটেড কোম্পানীর ক্ষেত্রে কোম্পানীর বর্তমান গ্রাহকদের তালিকা।
● পার্টনারশীপ ব্যবসার ক্ষেত্রে Joint Stock Company থেকে রেজিষ্টার্ড এবং নােটারী পাবলিক দ্বারা নােটারাইজড পার্টনারশীপ ডীড।
● ঋণ গ্রহন/ হিসাব খােলার জন্য পার্টনারদের রেজুলেশন।

উল্লেখিত কাগজপত্র মােটামােটিভাবে সমস্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানেই ঋণ গ্রহণের জন্য প্রয়ােজন হয়। এছাড়াও ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান প্রয়ােজনবােধে ঋণ আবেদনকারীর কাছ থেকে অন্য প্রয়ােজনীয় দলিলাদি ও তথ্য সংগ্রহ করতে পারে।

সূত্রঃ বাংলাদেশ ব্যাংক।

Leave a Reply