শেয়ার ও শেয়ার বাজার কি? শেয়ার কত রকম হয়?

0
204

শেয়ার হচ্ছে কোম্পানির মালিকানার অংশ। অবশ্য পুঁজিরও অংশ বটে। এ শেয়ার কেনাবেচা করা যায়। আর শেয়ার বাজার এমন একটি স্থান যেখানে বিভিন্ন সসীম দায়বদ্ধ কোম্পানি (পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি) যারা স্টক একচেঞ্জে নিবন্ধিত তাদের শেয়ার বেচা কেনা করা হয়। একে পুঁজি বাজারও বলা হয়।

শেয়ার কি?
শেয়ার ইংরেজি (share) শব্দের বাংলা রূপ। অর্থ ভাগ, অংশ, সহমর্মিতা ইত্যাদি। শেয়ার হচ্ছে কোম্পানির মালিকানার অংশ। অবশ্য পুঁজিরও অংশ বটে। এ শেয়ার কেনাবেচা করা যায়। এখানে বিনিয়োগ করে দুই ভাবে লাভবান হওয়া যায়। একটি হচ্ছে ওঠানামার কারণ, অপরটি হচ্ছে কম্পানির বন্টিত মুনাফার অংশ, যা লভ্যাংশ বা ডিভিডেন্ড হিসেবে দেয়া হয়৷ এক কথায় বলতে গেলে কোনো কোম্পানি মূলধন সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তার উদ্দিষ্ট প্রাথমিক মূলধনকে কতোগুলো ছোট অংশে ভাগ করে জনগণের কাছে বিক্রি করে দেয়া হয়, এই প্রত্যেকটি অংশকে এক একটি শেয়ার বলে।

কোম্পানির ক্ষেত্রে কোন কোম্পানির মালিকানার অংশ সাধারণের মধ্যে নির্দিষ্ট অঙ্কে সমান পরিমাণে ভাগ করে দেয়া। যেমন: স্কয়ার টেক্সটাইল তার ১০ টাকা মূল্যের ৩,০০,০০০ শেয়ার বাজারে বা সাধারণের জন্য ন্যূনতম ৫০টির একটি স্ক্রিপ্ট আকারে উন্মুক্ত করে দিয়েছে (এটি সঠিক সংখ্যা নয় উদাহরন মাত্র)। যারা ঐ শেয়ারগুলো কিনছেন তারা ঐ কোম্পানির শেয়ার অনুপাতে অংশের মালিক। যার যত বেশি সংখ্যক শেয়ার সে তত বেশি অংশের মালিক, এবং একক ভাবে সর্বাধিক শেয়ারের মালিক কোম্পানির পরিচালনায় নিয়োজিত হওয়ার উপযুক্ত হতে পারেন। এই শেয়ার সমুহের অনুপাতে শেয়ার হোল্ডাররা কোম্পানির লাভ বা ক্ষতির অংশ পেতে পারেন।

শেয়ার বাজার কি?
শেয়ার বাজার হচ্ছে কোন কম্পানির মালিকানার অংশ। কোন কোম্পানির মূলধনকে ছোট ছোট কতকগুলো অংশে ভাগ করা হয় এবং সে যতটুকু অংশ ক্রয় করে তাকে সেই অংশের মালিক বা শেয়ার হোল্ডার বলে। অতএব, যে সব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান শূলধন সঙগ্রহ ও বিতরণে নিয়জিত রয়েছে বা শেয়ারের মালিকানা ক্রয় বিক্রয়ে নিয়োজিত তাদের সমন্ময়ে পুজিবাজার বা শেয়ার বাজার গঠিত। সিকিউরিটি মার্কেটকে ব্যাপক অর্থে পুজিবাজারও বলা হয়। শেয়ার বাজারে সরকারী ও বেসরকারী এবং বিভিন্ন প্রাইভেট লিমিটেড কম্পানির শেয়ার- এর লেনদেন হয়ে থাকে৷

শেয়ার বেচা কেনার জন্য বাংলাদেশে শেয়ার মার্কেট আছে বর্তমানে ২টি। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ও চিটাগাং স্টক এক্সচেঞ্জ। এখন সেকেন্ডারি মার্কেট হতে শেয়ার বেচা কেনা করা হয়। নিউইয়র্কের শেয়ার বাজার নিউ ইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জ বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম স্টক/ শেয়ার বাজার।

কিভাবে শুরু করা যায় (How to Create Trading Account)
প্রাপ্ত বয়স্ক মানে ১৮+ যে কেউ শেয়ার ব্যবসায় আসতে পারেন। তবে তার জন্য প্রথম যে কাজটি করতে হবে তা হলো ব্যাংকে সঞ্চয়ী (savings) হিসাব খুলতে হবে। এরপর সেই ব্যাংক হিসেবের বিপরীতে CDBL (সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি অফ বাংলাদেশ লিমিটেডের) অধীনে বিও (বেনিফিসিয়ারি অনার) একাউন্ট খুলতে হবে। মানে সোজা বাংলায় আপনি যে কোনো ব্রোকার হাউসে থেকে এ বিও একাউন্ট খুলতে পারেন। এ বিও একাউন্ট খোলার পর একজন বিনিয়োগকারী প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি উভয় মার্কেটে শেয়ার ব্যবসা করতে পারেন।

কত রকম শেয়ার হয়?
পুঁজিবাজারে শেয়ার বলতে একটি কোম্পানির মালিকানার অংশ বিশেষকে বোঝায়। প্রাইভেট ও পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির মূলধন অনেকগুলো ইউনিটে বিভক্ত থাকে। প্রতিটি ইউনিট একটি শেয়ার। একটি কোম্পানির কতগুলো শেয়ার থাকবে তা নির্ভর করে ওই কোম্পানির মূলধন কত এবং শেয়ারের অভিহিত মূল্য কত তার উপর। ধরা যাক-এবিসি কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ১০ কোটি টাকা। আর তার শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০ টাকা। এ ক্ষেত্রে কোম্পানিটির শেয়ার সংখ্যা দাঁড়ায় ১ কোটি।

এক শেয়ারহোল্ডার সংশ্লিষ্ট কোম্পানির কতটুকু মালিক তা নির্ধারতি হয় তার কাছে থাকা ওই কোম্পানির শেয়ার সংখ্যার উপর। একজন বিনিয়োগকারী কোম্পানি ঘোষিত লভ্যাংশও পেয়ে থাকেন শেয়ার সংখ্যার ভিত্তিতে। তাই বলা যায়, শেয়ার এমন এক ধরনের সিকিউরিটি যা একটি কোম্পানির মালিকানা এবং তার আয় ও সম্পদের ওপর অংশীদারিত্ব প্রকাশ করে। ধরা যাক, সাফকাত ইসলাম এবিসি কোম্পানির ১০ লাখ শেয়ার ধারণ করছেন। তাই তিনি কোম্পানিটির এক দশমাংশের মালিক (১,০০,০০০০০/১০০০০০০=১০%)।

যুক্তরাজ্য, ভারত ও বাংলাদেশসহ অনকে দেশে এটি শেয়ার নামে পরিচিত। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রসহ কিছু দেশে একে বলা হয় স্টক। শেয়ারের বিপরীতে সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীকে একটি সার্টিফিকেট দেওয়া হয়। একে শেয়ার সার্টিফিকেট বলে। শেয়ার অনেক ধরনের হতে পারে। তবে এর প্রধান দুটি ধরণ হচ্ছে কমন শেয়ার ও প্রেফারেন্স শেয়ার।দুই ধরনের শেয়ারহোল্ডারই কোম্পানির কিছু অংশের মালিক।

কমন শেয়ারের ক্ষেত্রে ওই শেয়ারের মালিক কোম্পানির লভ্যাংশ পেয়ে থাকেন,আবার তিনি সাধারণ সভা এবং বিশেষ সাধারণ সভায় ভোটও দিতে পারেন। প্রেফারেন্স শেয়ারে মালিক লভ্যাংশ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পেয়ে থাকেন। এমনকি কোম্পানি কোন কারণে দেওলিয়া হয়ে গেলে বা কোম্পানির অবসায়ন ঘোষণা করা হলেও তিনি তার পাওনার বিষয়ে অগ্রাধিকার পান। তবে এ ধরনের শেয়ারধারীদের কোনো ভোটাধিকার থাকে না।

প্রেফারেন্স শেয়ারের ক্ষেত্রে প্রাপ্য লভ্যাংশ আগেই নির্ধারণ করা থাকে। কিন্তু কমন বা অর্ডিনারি শেয়ারের ক্ষেত্রে লভ্যাংশ কম-বেশি হতে পারে। এমনকি কোনো বছর মুনাফা অর্জন সত্ত্বেও পরিচালনা পর্ষদ লভ্যাংশ ঘোষণা নাও করতে পারে। তবে সাধারণত কোম্পানির ব্যবসা তথা মুনাফা যত ভাল হতে থাকে লভ্যাংশের পরিমাণো তত বাড়তে থাকে। কোম্পানির পারফরমেন্স ভাল হলে লভ্যাংশের হার বেড়ে যায় বলে বাজারে কমন শেয়ারের দামও বাড়ে। তাই এ শেয়ারে মূলধনী মুনাফার ভাল সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু প্রেফারেন্স শেয়ারের লভ্যাংশ নির্ধারিত থাকে বলে এতে মূলধনী মুনাফার তেমন সম্ভাবনা বা সুযোগ থাকে না।

অনেক ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সময় পর প্রেফারেন্স শেয়ারের অংশবিশেষ বা পুরোটা সাধারণ শেয়ারে রূপান্তরের সুযোগ থাকে। সেটি সাধারণ শেয়ারের অভিহিত মূল্যেও হতে পারে। আবার বিশেষ মূল্যেও হতে পারে। প্রেফারেন্স শেয়ার বা অগ্রাধিকার শেয়ার কি দামে সাধারণ শেয়ার বা অর্ডিনারি বা কমন শেয়ারে রূপান্তরিত হবে তা ওই প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যুর প্রস্তাবে উল্লেখ করা থাকে। অনেক দেশে কমন শেয়ারের মত প্রেফারেন্স শেয়ার স্টক এক্সচেঞ্জে কেনাবেচা হয়। তবে বাংলাদেশে শুধু কমন শেয়ারই লেনদেনযোগ্য।

Leave a Reply