প্রাইজ বন্ড কি? প্রাইজ বন্ড কোথায় পাওয়া যায়?

0
319

প্রাইজ বন্ড মুলত সরকারের প্রতি জনগণের একটি সুদ মুক্ত বিনিয়োগ। প্রাইজ বন্ড এটি জনপ্রিয় সঞ্চয় পদ্ধতি। আপনার যখন ইচ্ছে প্রাইজ বন্ডটি ব্যাংকে জমা দিয়ে টাকা তুলতে পারেন এবং এর কোন মেয়াদ নেই। প্রাইজ বণ্ডের বাহক-ই বণ্ডের মালিক। কারো জন্মদিনে বা বিয়েতে উপহার বা পরীক্ষায় কৃতিত্ব অর্জনে উপহার বা পুরষ্কার হিসেবে প্রাইজ বন্ড দিন। জাতীয় সঞ্চয় ব্যুরো, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ তফসিলী ব্যাংকসমূহ এবং ডাকঘর থেকে ক্রয় ও নগদায়ন বা বিক্রয় করা যায়।

প্রাইজবন্ড কি বা প্রাইজবন্ড কাকে বলে?
প্রাইজবন্ড অনেকটা লটারির মত। কিন্তু এটা লটারি না। লটারি যেমন একবার ড্র হয়ে গেলে সেটার আর মেয়াদ থাকেনা এবং লটারিটির মূল্যও থাকেনা। অর্থাৎ লটারিতে না জিতলে পুরো টাকাটা আপনার লস। এদিকে প্রাইজবন্ড এর ড্র হয়ে যাওয়ার পরও এর মেয়াদ শেষ হয়না। পরবর্তী ড্র এর সময়ও এর মেয়াদ থাকে। অর্থাৎ প্রাইজবন্ড এর মেয়াদ শেষ হয়না। আর সবচেয়ে মজার বিষয় হল প্রাইজবন্ড এর কয়েকবার ড্র হওয়ার পরও, আপনি চাইলে সেগুলো ভাঙ্গিয়ে আবার টাকা নিয়ে আসতে পারবেন। অর্থাৎ আপনার ভাগ্য ভাল হলে প্রাইজ পেতে পারেন। আর না পেলেও আপনার লস হবে না।

প্রাইজবন্ডকে লটারি বন্ডও বলা হয়। তবে এই লটারি সেই লটারি নয়। অর্থাৎ নব্বইয়ের দশকে ক্রীড়া উন্নয়ন তহবিলের প্রচারণামূলক বিজ্ঞাপন ‘যদি লাইগ্যা যায়’-এর লটারি নয়। যেকোনো সময় এই প্রাইজবন্ড ভাঙিয়ে টাকা ফেরত নেওয়া যায়। ভাঙানো ও কেনা—দুটিই করা যায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সব ক্যাশ অফিস, বাণিজ্যিক ব্যাংক ও ডাকঘর থেকে।

প্রাইজ বন্ড যে কারনে কিনবেন
তিল তিল করে কিছু টাকা জমিয়েছেন, কিন্তু ভেবে পাচ্ছেন না কোথায় খাটাবেন। চিন্তা কী, প্রাইজবন্ড কিনে রাখুন। যেকোনো সময় আপনি ব্যাংকে স্থায়ী আমানত (এফডিআর) করতেই পারেন। কিন্তু টাকা কম হলে তো এফডিআরও করা যায় না। অল্প টাকাওয়ালাদের জন্য মোক্ষম বিকল্প প্রাইজ বন্ড। সমাজের সব শ্রেণির মানুষের মধ্যে সঞ্চয় প্রবণতা বৃদ্ধির জন্য জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর ‘বাংলাদেশ প্রাইজবন্ড’ নামে প্রাইজবন্ড চালু করে।

প্রাইজ বন্ড এর মূল্য
প্রাইজবন্ড হচ্ছে বাংলাদেশ সরকার কতৃক প্রবর্তিত এবং বাংলাদেশ ব্যাংক কতৃক পরিচালিত এক ধরণের কাগজের মুদ্রা। প্রাইজবন্ড প্রথম চালু হয় ১৯৫৬ সালে আয়ারল্যান্ডে, আর বাংলাদেশ এ চালু হয় ১৯৭৪ সালে। বাংলাদেশে সর্বপ্রথম ১০ ও ৫০ টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ড চালু হয়, তারপর ১৯৯৫ সালে ১০০ টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ড চালু করা হয়। ১০০ টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ড চালু হওয়ার পর পূর্বের ১০ ও ৫০ টাকা মূল্যমানেরগুলো ব্যাংক থেকে তুলে নেওয়া হয়। বাংলাদেশে বর্তমানে মোট ৪ কোটি ৪০ লাখ টি প্রাইজবন্ড রয়েছে।

প্রাইজবন্ড কোথায় পাব?
বাংলাদেশে এক সময় প্রাইজবন্ড অনেক জনপ্রিয় ছিল। জন্মদিনে বা বিয়েতে উপহার বা পরীক্ষায় কৃতিত্ব অর্জনে ও উপহার বা পুরষ্কার হিসেবে প্রাইজ বণ্ডের বেশ প্রচলন ছিল। প্রাইজ বন্ড এত জনপ্রিয় হওয়ার কারন, এটি দারুন একটি সঞ্চয় এর পদ্ধতি। এখন কথা হচ্ছে, প্রাইজবন্ড কোথায় পাওয়া যায়? বাংলাদেশ ব্যাংকের সব শাখা অফিস, সব বাণিজ্যিক ব্যাংক, জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের অধীন সারাদেশে ৭১টি সঞ্চয় ব্যুরো অফিস এবং পোস্ট অফিস থেকে ১০০ টাকা মূল্যমানের বন্ড কেনা ও ভাঙানো যায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান ব্যতীত অন্য কোথাও প্রাইজবন্ডের লেনদেন সাধারণত বেআইনী।

প্রাইজবন্ড কেনার নিয়ম
উপরে উল্লেখিত যেকোন জায়গায় গিয়ে বলবেন প্রাইজবন্ড কিনতে চাই তখন তারা আপনাকে যত টাকার প্রাইজবন্ড কিনতে চান তত টাকার বন্ড দিবে। প্রাইজ বণ্ডের বাহক ই বণ্ডের মালিক। এর কোন মালিকানা নেই। যে কোন বয়েসের যে কেউ প্রাইজ বণ্ডের মালিক হতে পারে। বন্ড কিনতে কোনো রকম জাতীয় পরিচয়পত্র লাগে না তবে পুরস্কারের টাকা তুলতে গেলে বন্ডের রশিদ, জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত ফটোকপি, ব্যাংক হিসাবের বিবরণ, নমিনি এবং প্রথম শ্রেণীর গেজেটেড কর্মকর্তা কর্তৃক সনাক্তকারীর স্বাক্ষর লাগবে।

প্রাইজবন্ড এর ড্র
১০০ টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ডের ড্র অনুষ্ঠিত হয় বছরে চারবার: ৩১ জানুয়ারি, ৩০ এপ্রিল, ৩১ জুলাই ও ৩১ অক্টোবর। বন্ড কেনার দুই মাস পার হওয়ার পর প্রাইজবন্ড ড্রর আওতায় আসে। ঢাকার বিভাগীয় কমিশনারকে চেয়ারম্যান করে গঠিত একটি কমিটি ড্র অনুষ্ঠান করে থাকে। ড্র অনুষ্ঠানের দুই বছর পর্যন্ত পুরস্কারের টাকা দাবি করা যায়। এর মধ্যে কেউ দাবি না করলে পুরস্কারের অর্থ তামাদি হয়ে সরকারি কোষাগারে ফেরত যায়। আপনি “ড্র” এর ফলাফল দেখতে পারবেন পত্রিকায় অথবা বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েব সাইটে। আর যদি প্রাইজ বন্ডে পুরস্কার না পান, তবে যে কোন সময়ে প্রাইজ বন্ডের সমমূল্যের টাকা সরকারি/বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে অথবা পোস্ট অফিসেও ভাঙ্গাতে পারবেন।

প্রাইজবন্ড এর পুরষ্কার
প্রাইজবন্ডে প্রতি সিরিজের জন্য ৪৬টি পুরস্কার রয়েছে, যার মূল্যমান ১৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা।
(ক) ৬,০০,০০০ টাকার প্রথম পুরস্কার একটি
(খ) ৩,২৫,০০০ টাকার দ্বিতীয় পুরস্কার একটি
(গ) ১,০০,০০০ টাকার তৃতীয় পুরস্কার দু’টি
(ঘ) ৫০,০০০ টাকার চতুর্থ পুরস্কার দু’টি
(ঙ) ১০,০০০ টাকার পঞ্চম পুরস্কার চল্লিশটি।
জেতার পর মূল বন্ডসহ নির্ধারিত ফরমে আবেদন করলে সর্বোচ্চ দুই মাসের মধ্যে বিজয়ীকে পে-অর্ডার দেওয়া হয়। তবে পুরস্কারের টাকার ওপর কর দিতে হয় ২০ শতাংশ।

প্রাইজ বন্ড মুলত সরকারের প্রতি জনগণের একটি সুদ মুক্ত বিনিয়োগ। তাই আপনি চাইলে এটি সঞ্চয় করতে পারেন ড্র তে মিলিয়ে দেখার জন্য। প্রাইজবন্ড বিক্রি করে সরকার সরাসরি জনগণের কাছ থেকে ঋণ নেয়। ভারত ও পাকিস্তানে ১০০ থেকে ৪০ হাজার রুপি মূল্যমানের আট ধরনের প্রাইজবন্ড থাকলেও বাংলাদেশে ২০ বছর ধরেই রয়েছে শুধু ১০০ টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ড। সরকারের পক্ষে প্রাইজবন্ডের যাবতীয় কাজ করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

Leave a Reply