শেয়ার কত প্রকার ও কী কী?

0

শেয়ার হলো একটি ডকুমেন্ট যা কোম্পানির আংশিক মালিকানা উপস্থাপন করে। প্রকৃতপক্ষে শেয়ারহোল্ডাররাই কোম্পানির প্রকৃত মালিক। একটি কোম্পানি সাধারণ (ইক্যুইটি) শেয়ার বা অগ্রাধিকার (প্রেফারেন্স) শেয়ার বিক্রয় করে ইক্যুইটি মুলধন সংগ্রহ করতে পারে। কোম্পানির শেয়ার মূলধনের ক্ষুদ্র অথচ সমান প্রত্যেকটি একককে শেয়ার নামে অভিহিত করা হয়। আর এই শেয়ারের কিছু প্রকারভেদ রয়েছে। শেয়ার কত প্রকার ও কী কী তা এই লেখাতে আলোচনা করা হলো–

শেয়ারের প্রকারভেদ (Types of Share)
সাধারনত শেয়ারকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। যথা-
১. ইক্যুইটি বা সাধারণ শেয়ার (Equity Share) ও
২. অগ্রাধিকার বা প্রেফারেন্স শেয়ার (Preference Share)।

১. ইক্যুইটি বা সাধারণ শেয়ার (Equity Share)
যে শেয়ার এর মালিকগণ সাধারণ অধিকারের ভিত্তিতে লভ্যাংশ ভোগ করেন এবং মূলধন ফেরত পান অথচ কোম্পানিতে দায়িত্ব, কর্তব্য ও অধিকার সর্বাধিক থাকে, সে সকল শেয়ারকে সাধারণ বা ইক্যুইটি শেয়ার (Equity Share) বলে। একে Ordinary Share ও বলা হয়। কোন বছর মুনাফা না হলে সাধারণ শেয়ার হোল্ডারগণ কোন লভ্যাংশ পান না। সাধারণ শেয়ার হোল্ডারগণ কোম্পানির প্রকৃত মালিক এবং কারবার বিলুপ্তির পর অগ্রাধিকার শেয়ার মালিকরা মূলধন ফেরৎ পাওয়ার পর সাধারন শেয়ার মালিকরা মূলধন ফেরৎ পায়। এ ধরনের শেয়ার মালিকরা পূর্ণ ভোটাধিকারপ্রাপ্ত হন এবং কারবার পরিচালনায় অংশগ্রহন করতে পারেন।

২. অগ্রাধিকার বা প্রেফারেন্স শেয়ার (Preference Share)
যে শেয়ার মালিকরা লভ্যাংশ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পায় তাকে অগ্রাধিকার শেয়ার (Preference Share) বলে। অগ্রাধিকার শেয়ারের উপর কি হারে লভ্যাংশ পাওয়া যাবে তা লেখা থাকে। কারবার বিলুপ্তির পর মূলধন ফেরৎ পাওয়ার ক্ষেত্রে এ ধরনের শেয়ার মালিকরা অগ্রাধিকার পেয়ে থাকে। অগ্রাধিকার শেয়ার মালিকরা কারবার পরিচালনায় অংশগ্রহন করতে পারে না। এ ধরনের শেয়ার মালিকদের ভোটাধিকার থাকে না। এ ধরনের শেয়ার হল শেয়ার ও ঋণপত্রের সংমিশ্রণ।

এছাড়াও শেয়ারকে আরো কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন-
১. রাইট শেয়ার (Right share);
২. বোনাস শেয়ার (Bonus Share); ও
৩. বিলম্বিত শেয়ার (Deferred Share)।

১. রাইট শেয়ার (Right share)
একটি কোম্পানি গঠনের পরবর্তীকালে যদি কোম্পানির অর্থের প্রয়োজন হয় এবং এক্ষেত্রে শেয়ার বিক্রয় করার সময় পুরাতন শেয়ারহোল্ডাররা শেয়ার ক্রয়ের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পেয়ে থাকে তখন তাকে রাইট শেয়ার (Right share) বলে। ষ্টক এক্সচেঞ্জের অনুমোদিত কোম্পানী যদি মূলধন (Paid-up Capital) বৃদ্ধি করতে চায় তবে BSEC-র অনুমোদন সাপেক্ষে রাইট শেয়ার ইস্যু করে। আইপিও বা প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের মাধ্যমে নয় বরং যারা সংশ্লিষ্ট কোম্পানীর শেয়ারহোল্ডার তারাই রাইট শেয়ার ক্রয় করতে পারবে।

মনে করি, কোম্পানী ২:১ অনুপাতে রাইট শেয়ার ইস্যু করবে। এ ক্ষেত্রে কোন শেয়ারহোল্ডারের ১০০টি শেয়ার থাকলে সে ৫০টি রাইট শেয়ার ক্রয় করতে পারবে। রাইট শেয়ার খুব লাভজনক। কারন রাইট শেয়ার কেনা যায় ওই কোম্পানীর শেয়ারের দামের চেয়ে কম দামে।

২. বোনাস শেয়ার (Bonus Share)
যখন কোন কোম্পানি তাদের অর্জিত নিট মুনাফার একটি অংশ শেয়ার মালিকদের মধ্যে নগদ লভ্যাংশ বা Dividend বন্টন না করে অবন্টিত মুনাফা শেয়ারে রূপান্তর করে শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে আনুপাতিকহারে বন্টন করা হয় তখন তাকে বোনাস শেয়ার বলে।

লভ্যাংশ নগদে প্রদান করলে কোম্পানীর তারল্য সংকট দেখা দেয়ার সম্ভাবনা থাকে। ফলে কোম্পানী নগদে লভ্যাংশ প্রদান না করে শেয়ার ইস্যু করে। শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ারের অনুপাতে বোনাস শেয়ার ইস্যু করা হয়। যেমন- ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিঃ ২০১১ সালে ২৫% বোনাস শেয়ার ঘোষনা করেছে। যে শেয়ারহোল্ডারের ১০০ শেয়ার ছিল, তিনি ২৫টি বোনাস শেয়ার পেয়েছেন। সুতরাং তার মোট শেয়ার সংখ্যা দাঁড়াল ১২৫টি।

৩. বিলম্বিত শেয়ার (Deferred Share)
যে শেয়ার মালিকরা অগ্রাধিকার ও সাধারন শেয়ার মালিকদের লভ্যাংশ বিতরন করার পরে অবশিষ্ট লভ্যাংশ পায় তাকে বিলম্বিত শেয়ার (Deferred Share) বা বিলম্বিত দাবিযুক্ত শেয়ার বলে। অর্থাৎ এ ধরনের শেয়ারহোল্ডারদের অন্যান্য শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ প্রদান করার পরে আনুপাতিকহারে লভ্যাংশ প্রদান করা হয়।

আবার কোম্পানি অবসায়নের সময়ও এ ধরনের শেয়ার মালিকদের আর্থিক দাবি সবার শেষে পরিশোধ করা হয়। এ ধরনের শেয়ার সাধারনত কোম্পানির প্রবর্তকগণ ক্রয় করে থাকে। এ জন্য এ ধরনের শেয়ারকে Founders Share বা প্রবর্তকের শেয়ার বলে অবহিত করা হয়।

উদাহরণ
এবার উদাহরণ দিলে আপনারা ভাল ভাবে বুঝে যাবেন। মনে করুন, MNC Ltd. নামের কোন কোম্পানি ১,০০,০০০ টাকার পরিমান মূলধন সংগ্রহের অনুমিত নিয়ে নিবন্ধিত হলো। প্রতি শেয়ার এর মুল্য ১০ টাকা। মোট শেয়ার ১০,০০০টি। এই মূলধনের থেকে প্রাথমিক কাজ শুরু করতে খরচ হলো ১০০০০ টাকা। আর এই টাকার যোগান দিলেন উদ্যোক্তাগণ।

তারপর কোম্পানি দ্রুত মূলধন সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ৩০০ শেয়ার ইস্যু করলেন এভাবে, যারা এই শেয়ার কিনবেন তারা কোম্পানি থেকে বছর শেষে শেয়ার প্রতি ২০ টাকা লাভ পাবেন কোম্পানির লাভ হোক আর না হোক।
আর ৪০০ শেয়ার ইস্যু করলেন এভাবে, এই শেয়ার মালিকগণ পরিচালনায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন, ভোটাধিকার পাবেন কিন্তু লাভ হলে লাভ পাবেন না হলে নাই।

আর বাকি শেয়ার ইস্যু করা হল না। তাহলে মোট শেয়ার ইস্যু হলো (৩০০+৪০০+১০০)=৮০০ শেয়ার। এখানে দেখা যাচ্ছে, প্রথম ১০০০০ টাকা যোগানদাতা অর্থাৎ ১০০ শেয়ার এর মালিক হলেন উদ্যোক্তাগণ। তাই এগুলো বিলম্বিত দাবীযুক্ত শেয়ার। ৩০০ শেয়ার এর মালিক লভ্যাংশ পাবার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাচ্ছে তাই এগুলো অধিকার যুক্ত শেয়ার। আর ৪০০ শেয়ার এর মালিক অধিকার বেশি পাবেন, কিন্তু লাভ হলে পাবে না হলে পাবেন না, তাই এগুলো সাধারণ শেয়ার।

এছাড়াও শেয়ারকে আরো দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন-
১. অতিমূল্যায়িত শেয়ার
যে শেয়ারের আয়ের তুলনায় বাজার মূল্য বেশি তাকে অতিমূল্যায়িত (Overvalued) শেয়ার বলে।
২. অবমূল্যায়িত শেয়ার
যে শেয়ারের আয়ের তুলনায় বাজার মূল্য কম তাকে অবমূল্যায়িত (undervalued) শেয়ার বলে।

Leave a Reply