ব্যাংকিংয়ে নীতি-নৈতিকতাঃ অতি কর্মিকের জাবেদা

0
624

প্রতি বছর ব্যাংকিং খাত থেকে করপোরেট ট্যাক্স হিসেবে সরকার একটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব আয় করে। এছাড়া ব্যাংক আমানতের বিপরীতে যে সুদ-মুনাফা গ্রাহকদের প্রদান করে, এর ১০ কিংবা ১৫ শতাংশ হারে উৎসে আয়কর সংগ্রহ করে সরকারের রাজস্ব আয়ের ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করে। ব্যাংকাররা যত বেশি আমানত সংগ্রহে অবদান রাখতে পারেন, সরকারও তত বেশি আয় করতে পারে। আবার ওই আমানত ব্যাংকাররা ঋণ-গ্রাহকদের কাছে বিনিয়োগ করে নতুন নতুন শিল্প-কারখানা গড়ায় জনগণকে উদ্বুদ্ধ করেন এবং নতুন উদ্যোক্তা শ্রেণীর উন্মেষ ঘটান। ঋণের প্রবাহ যত বাড়বে, ব্যাংক মুনাফাও তত বেশি করতে পারে। আর ব্যাংকের মুনাফা বাড়লে সরকারের করপোরেট ট্যাক্সও বাড়ে।

ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার কিংবা কৃষি শিল্পে সমৃদ্ধি আনয়ন কিংবা আমদানি-রফতানিকে ত্বরান্বিত করা ইত্যাদি কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ব্যাংকাররা দেশের অর্থনীতিতে এক বিরাট ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন। এক খাত থেকে টাকা নিয়ে অন্য খাতে তা বিনিয়োগ করার মধ্যেই কি ব্যাংকারের কর্মকাণ্ড সীমাবদ্ধ? ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৭ ধারায় ব্যাংক কোম্পানির কার্যাবলির মধ্যে ২৮টি কাজের কথা বিধৃত হয়েছে, যেখানে সর্বশেষ কাজটি হলো— ‘সরকার কর্তৃক সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা অন্য যেসব ব্যবসা ব্যাংক কোম্পানি কর্তৃক করা যাইতে পারে বলিয়া নির্দিষ্ট করা হয় সেই সকল ব্যবসায়।’ বাস্তব ক্ষেত্রে শুধু ওই ২৮টি নয়, আরো অনেক কর্মকাণ্ড ব্যাংকারদের করতে হয়, যা মূলত জাতীয় স্বার্থে। সে রকম কিছু কর্মকাণ্ডের ফিরিস্তি দেয়া যাক।

আবগারি শুল্ক আদায় করা, সুদ প্রদানের সময় উৎসে আয়কর আদায় করা, কর বিভাগের চাহিদা মোতাবেক গ্রাহকদের হিসাবের তথ্য পাঠানো কিংবা করের বিপরীতে অ্যাকাউন্টের অর্থ জব্দ করে কর বিভাগে পাঠানো, গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রতি বছর আয়কর পরিশোধের প্রমাণপত্র সংগ্রহ করা, সরকারের সঞ্চয়পত্র/বিনিয়োগ বন্ড বিক্রয় করা, প্রাইজবন্ড বিক্রয় করা, জাল নোট চেনার ব্যাপারে জনগণকে সচেতন করে তোলা, আইপিওর সাবস্ক্রিপশনের টাকা সংগ্রহ করা, বিশেষ সময়ে জনসাধারণের কর পরিশোধের সুবিধার্থে অনেক রাত পর্যন্ত ব্যাংক খোলা রাখার ব্যবস্থা করা ইত্যাদি সেবা দিয়ে ব্যাংকাররা অর্থ মন্ত্রণালয়কে সহযোগিতা করেন।

ব্যাংকে জমা টাকা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহার হচ্ছে কিনা, তা দেখভাল করা, সন্দেহজনক লেনদেন তথা এসটিআর রিপোর্টিং করা এবং ক্যাশ ট্রানজেকশন রিপোর্ট (সিটিআর) পাঠানো ইত্যাদি কাজের মাধ্যমে ব্যাংকাররা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সহযোগিতা করেন।

নির্বাচন কমিশনের কাছে খেলাপি ঋণের তথ্য পাঠানো, নির্বাচনের তফসিল মোতাবেক গভীর রাত পর্যন্ত ব্যাংক খোলা রেখে নির্বাচনী কর্মকর্তার কাছে মনোনয়ন প্রার্থীর খেলাপি ঋণের তথ্য দেয়া, নির্বাচনের সময় ভোটকেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসার বা পুলিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ইত্যাদি সেবা দিয়ে ব্যাংকাররা নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করেন।

স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি জমা নেয়া, স্কুল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলা ইত্যাদি সেবা দিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ডকে উন্নত করতে ব্যাংকাররা সচেষ্ট।

জাকাতের টাকা আদায় করে সরকারি জাকাত ফান্ডে জমা করা, কোরবানির সময় পশুর হাটে গভীর রাত পর্যন্ত জাল নোট শনাক্তকরণে পশু বিক্রেতাদের বিশেষ সেবা দেয়া, হাজিদের সৌদি আরব গমনের জন্য আনুষঙ্গিক সেবা প্রদান করা ইত্যাদি কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ব্যাংকাররা ধর্ম মন্ত্রণালয়কে সহযোগিতা করেন।

ব্যাংকাররা টেলিফোন বিল, বিদ্যুত্ বিল, গ্যাস বিল ও ওয়াসার বিল সংগ্রহ করে যথাক্রমে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে সহযোগিতা প্রদান করেন।

১০ টাকা দিয়ে কৃষকের হিসাব খোলা এবং সরকারের সময়ে সময়ে ঘোষিত পরিকল্পনা মোতাবেক কৃষকদের কম সুদে ঋণ প্রদান করে কৃষি উত্পাদন বৃদ্ধির ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে ব্যাংকাররা কৃষি মন্ত্রণালয়কে সহযোগিতা করেন।

বৈদেশিক রেমিট্যান্স বৃদ্ধির জন্য বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশীদের ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ প্রেরণের উদ্দেশে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং এ-বিষয়ক বিভিন্ন সেবা খাত সৃষ্টির মাধ্যমে ব্যাংকাররা প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ডকে ত্বরান্বিত করে থাকেন।

আমদানি নিবন্ধন সনদ ও রফতানি নিবন্ধন সনদের নবায়ন ফি আদায় করে তা নবায়ন করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে সহযোগিতা দেয়া, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ মোতাবেক চাল, ডাল ইত্যাদি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সহজ শর্তে আমদানি করে খাদ্যের জোগান ঠিক রাখা, মোটরযানের রেজিস্ট্রেশন ও নবায়ন ফি সংগ্রহ করে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়কে সহযোগিতা প্রদান এবং শিল্প-কারখানায় ইটিপি প্রকল্প স্থাপনে সহযোগিতা প্রদানের মাধ্যমে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়কে সহযোগিতা করে থাকেন ব্যাংকাররা।

শুধু তা-ই নয়, মত্স্য উত্পাদন ও গো-ছাগল উত্পাদনে উদ্যোক্তাদের উত্সাহ প্রদান ও ঋণ প্রদানের মাধ্যমে মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা, স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে প্রবর্তিত বিভিন্ন লটারি বিক্রি করে অর্থ সংগ্রহ করে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়কে সহযোগিতা করা, গৃহঋণ প্রদানের মাধ্যমে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা, সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদে নারী উদ্যোক্তাদের ঋণ প্রদানের মাধ্যমে মহিলা ও শিশু-বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা, খেলাধুলার টিকিট বিক্রি করে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়কে সহযোগিতা করা, মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বিশেষ অ্যাকাউন্ট সুবিধা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ-বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে সহযোগিতা প্রদান এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ত্রাণ কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য ত্রাণের কুপন বিক্রি করে অর্থ সংগ্রহ করে থাকেন ব্যাংকাররা।

এছাড়া সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা জমাপূর্বক তা তাদের প্রদানের ব্যবস্থা করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে সেবা দেয়া, বিদেশ গমনেচ্ছুদের সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিভিন্ন হাইকমিশনকে সেবা দেয়া এবং পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার জন্য টিউশন ফি ও অন্যান্য ফি যথাসময়ে পাঠানোর ব্যবস্থা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সহযোগিতা দেয়া, খাদ্যশস্যের ব্যবসায় ঋণ দেয়ার সময় মঞ্জুরির শর্তের মাধ্যমে খাদ্যশস্য প্যাকিংয়ে পাটের বস্তা ব্যবহারে বাধ্য করা এবং পাটজাত দ্রব্য রফতানিতে রফতানিকারকদের উত্সাহিত করা এবং সরকারি প্রণোদনা তাদের কাছে পৌঁছে দিয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়কে সহযোগিতা দেয়া, শ্রমিক অসন্তোষ লাঘব করার জন্য শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ অনুযায়ী ঈদের সময় কিংবা বিশেষ সময়ে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রদানে বিশেষ ব্যবস্থা করা, অর্থঋণ আদালত আইনের ২২ ধারা মোতাবেক সেটেলমেন্ট কনফারেন্সের মাধ্যমে আইন, বিচার ও সংসদ-বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা, ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়ন করার মাধ্যমে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়কে সহযোগিতা দেয়া, আর্থিক কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত নিয়মিতভাবে প্রদান করে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়কে সহযোগিতা দেয়া এবং ব্যাংকের সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে আর্তমানবতার সেবায় বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কার্যপরিধি বিস্তৃত করা ইত্যাদি দায়িত্ব সুচারুরূপে ব্যাংকাররা পালন করেন।

অর্থাৎ সরকারের হেন কোনো বিভাগ নেই, যেখানে ব্যাংকারের সেবা বা সংশ্লিষ্টতা নেই। তাই ‘জ্যাক অব অল ট্রেড’ প্রবাদটি সম্ভবত ব্যাংকারের জন্যই শতভাগ প্রযোজ্য। স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করা কঠিন। আর এ স্বাধীনতা রক্ষা করার জন্য প্রধানত যে জিনিসটি দরকার, তা হলো অর্থনৈতিক স্বয়ম্ভরতা। এ অর্থনৈতিক স্বয়ম্ভরতা অর্জনের সংগ্রামে ব্যাংকাররা প্রধান প্রভাবক হিসেবে কাজ করেন। ১৯৮৩ সালে বেসরকারি ব্যাংক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশের ব্যাংকিং সেক্টর ঘুরে দাঁড়ায় এবং তা ব্যাংকারদের নিরলস প্রচেষ্টায় বর্তমানে মহীরুহ আকার ধারণ করে অর্থনীতিতে দ্যুতি ছড়াচ্ছে। ব্যাংকাররাই একটি তরুণ উদ্যোক্তা শ্রেণীর জন্ম দিয়েছেন, যে উদ্যোক্তারা দেশের শিল্প, বাণিজ্য ও কৃষিকে অচিরেই নিয়ে যেতে পারবেন অনন্য উচ্চতায়। খাদ্য উত্পাদন বাড়াতে হবে, তাই বাড়ি বাড়ি গিয়ে ব্যাংকাররা প্রকৃত কৃষকের সন্ধানে নেমে পড়েছেন কৃষিঋণের প্রবাহ বাড়ানোর জন্য। খাদ্যে এখন স্বয়ম্ভর দেশ। শিল্প-কারখানা গড়ায় বিশেষ করে এসএমই ও পোশাক শিল্প স্থাপনে উদ্যোক্তাদের উত্সাহিত করেছেন ব্যাংকাররাই। তাই পোশাক রফতানিতে বিশ্বের দ্বিতীয় স্থানটি এ দেশেরই।

যে ব্যাংকাররা অর্থনীতিতে এত অবদান রেখে যাচ্ছেন, তাদের ব্যক্তিগত খবরাখবর একটু পীড়াদায়ক বটে। হালে ব্যাপারটা তুলে এনেছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট। তাদের এক গবেষণায় উঠে এসেছে যে, বাংলাদেশে ব্যাংকিং খাতে কর্মরত ৬৭ শতাংশ কর্মীই চাকরিতে সন্তুষ্ট নয়। এটা প্রণিধানযোগ্য যে, অনেক ব্যাংকার ঘরেবাইরে নিষ্পেষিত। অনেকে সারা জীবন চাকরি করে রিটায়ারমেন্ট বেনিফিটটা নিয়ে ঘরে যেতে পারেন না, ঝুলে থাকেন দিনের পর দিন, বছরের পর বছর। ব্যাংকের খরচ কমানোর অজুহাতে ছাঁটাইয়ের ঝুঁকি ব্যাংকারকে রাখে স্নায়বিক চাপে। অনেকে আবার কর্মস্থলের বাইরে নিষ্পেষিত ও নিগৃহীত— কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিজেদের অসততার কারণে হলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে নিজেদের অদক্ষতা ও অকারণই প্রধান কারণ। তাদের দেখে তরুণ ব্যাংকারদের স্বপ্ন ভঙ্গের উপক্রম— পেশা নির্বাচনে ভুল হয়ে যায়নি তো! এ ধরনের নানা সংশয়। অথচ তাদের হাতে দেশের আগামী দিনের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ। তারা যদি ‘চিত্ত যেথা ভয় শূন্য, মুক্ত যেথা শির’ হিসেবে এগিয়ে যেতে না পারেন, অগ্রগতি, ঊর্ধ্বগতি, উন্নতি, প্রবৃদ্ধি হোঁচট খাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা।

একজন রফতানিকারক এক বেসরকারি ব্যাংক ম্যানেজারের কাছে অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বললেন, ‘ভাই, আমার মনে হয় বেহেশতের প্রথম কাতারে থাকবেন এ দেশের ব্যাংকাররা। কারণ এই একটি জায়গায় কোনো ধরনের অহেতুক সময়ক্ষেপণ কিংবা ঝামেলা ছাড়াই আমাদের কাজ হয়ে যায়।’ এ সুনাম এ দেশের ব্যাংকাররা অর্জন করেছেন সততা, শ্রম ও মেধা দিয়ে। তাই তারা প্রাপ্য সম্মানের সুযোগ্য দাবিদার।

সংসারে যে ছেলেটি বেশি কাজ করে, বেশি দায়িত্ব বোঝে এবং বেশি কর্মতৎপর, সে সমালোচিতও হয় বেশি। তাকে জবাবদিহি করতে হয় বেশি, অসম্মানিতও হতে হয় তাকে বেশি। আর যে ছেলেটি দায়িত্বজ্ঞানহীন, সংসারে যার কোনো অবদান নেই, তার কোনো সমালোচনা নেই, দোষারোপ নেই, মানসম্মান খোয়ানোর ঝুঁকিও নেই। অর্থনীতির চাকাকে যে ব্যাংকাররা বেগবান রাখছেন, তাদের মানসম্মান রক্ষার ব্যাপারে নজর দেয়া সংশ্লিষ্ট সবার কর্তব্য। যে ক্যারিয়ারে ছন্দপতন হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, সে ক্যারিয়ারে মেধাবী ও কর্মঠ কর্মীদের অনাগ্রহ বাড়তে পারে। তাই ব্যাংকিং ক্যারিয়ারে যাতে ছন্দপতন না হয়, তার ব্যবস্থা নিজ নিজ ব্যাংকের যেমন নেয়া উচিত, তেমনি রাষ্ট্রেরও এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া উচিত। কারণ ব্যাংকারের সেবা অর্থনীতির জন্য সার্বক্ষণিকভাবে ‘জরুরি সেবা’ হিসেবে আমলে নেয়ার যোগ্য। সারা জীবন ব্যাংকাররা ব্যাংককে তথা দেশকে যা দিয়ে যান, ঘরে ফেরার সময় তার স্বীকৃতি হিসেবে তাদের প্রস্থানটা কুসুমাস্তীর্ণ হওয়া বাঞ্ছনীয় বটে এবং নিজেদের জাবেদায় তাদের সামাজিক মর্যাদাটা যেন অক্ষুন্ন থাকে, অতি কর্মিকরা এ আশাটা করতেই পারেন।

লেখক: ড. এস এম আবু জাকের, ব্যাংকার

Leave a Reply