ইক্যুইটি শেয়ার ও প্রেফারেন্স শেয়ারের মধ্যে পার্থক্য

0
374

ইক্যুইটি বা সাধারণ শেয়ার ও প্রেফারেন্স বা অগ্রাধিকার শেয়ার যৌথমূলধনী কোম্পানির মূলধন সংগ্রহের অন্যতম উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এদের মধ্যে বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে। সেগুলো নিচে আলোচনা করা হলো-

১. সংজ্ঞাগত পার্থক্যঃ
ইক্যুইটি বা সাধারণ শেয়ার হলো একটি ডকুমেন্ট যা কোম্পানির আংশিক মালিকানা উপস্থাপন করে। প্রকৃতপক্ষে ইক্যুইটি বা সাধারণ শেয়ারহোল্ডাররাই কোম্পানির প্রকৃত মালিক।
অন্যদিকে যে শেয়ার মালিকদের লভ্যাংশ প্রদান ও অন্যান্য আর্থিক দাবি পরিশোধের সময় অগ্রাধিকার প্রদান করা হয় তাকে প্রেফারেন্স বা অগ্রাধিকার শেয়ার বলে।

২. লভ্যাংশ প্রাপ্তিগত পার্থক্যঃ
ইক্যুইটি বা সাধারণ শেয়ারের লভ্যাংশের হার নির্দিষ্ট থাকে না। কোম্পানির পরিচালকগণের সিদ্ধান্ত অনুসারে লভ্যাংশ প্রদান করা হয়।
অপরদিকে প্রেফারেন্স বা অগ্রাধিকার শেয়ারের উপর নির্দিষ্ট হারে লভ্যাংশ প্রদান করা হয়।

৩. ভোটাধিকারগত পার্থক্যঃ
ইক্যুইটি বা সাধারণ শেয়ারহোল্ডারগণের ভোটাধিকার রয়েছে।
অপরদিকে প্রেফারেন্স বা অগ্রাধিকার শেয়ারহোল্ডারগণের ভোটাধিকার নেই।

৪. দায় পরিশোধগত পার্থক্যঃ
কোম্পানি বিলোপ বা অবসায়নের সময় বন্ড ও অগ্রাধিকার শেয়ার মালিকদের দায় মেটানোর পর ইক্যুইটি বা সাধারণ শেয়ার মালিকদের পাওনা পরিশোধ করা হয়।
অপরদিকে কোম্পানি বিলোপ বা অবসায়নের সময় ঋণ বা ঋণপত্রের মালিকদের পাওনা মেটানোর পর প্রেফারেন্স বা অগ্রাধিকার শেয়ারের পাওনা পরিশোধ করা হয়।

৫. মেয়াদগত পার্থক্যঃ
ইক্যুইটি বা সাধারণ শেয়ারের মেয়াদ চিরস্থায়ী।
অন্যদিকে প্রেফারেন্স বা অগ্রাধিকার শেয়ার চিরস্থায়ী বা পরিশোধ্য হতে পারে।

৬. ক্রমযোজিত লভ্যাংশগত পার্থক্যঃ
পর্যাপ্ত পরিমাণ মুনাফা অর্জিত হলেই কেবল ইক্যুইটি বা সাধারণ শেয়ারের উপর লভ্যাংশ প্রদান করা হয়।
অন্যদিকে পর্যাপ্ত পরিমাণে মুনাফা না হলে লভ্যাংশ প্রদানে ব্যর্থ হলে পরবর্তীকালে মুনাফা অর্জিত হলে প্রেফারেন্স বা অগ্রাধিকার শেয়ারের বকেয়া লভ্যাংশ সহ লভ্যাংশ প্রদান করতে হয়।

৭. রূপান্তরয্যোতাগত পার্থক্যঃ
ইক্যুইটি বা সাধারণ শেয়ারকে প্রেফারেন্স বা অগ্রাধিকার শেয়ারে রূপান্তর করা যায় না।
অন্যদিকে প্রেফারেন্স বা অগ্রাধিকার শেয়ারকে শর্ত অনুযায়ী ইক্যুইটি বা সাধারণ শেয়ারে রূপান্তর করা যায়।

Leave a Reply