ইসলামী ব্যাংকিং কি এবং কেন?

0
812

ব্যাংকিং নিউজ বাংলাদেশঃ মানুষের অর্থনৈতিক জীবনকে হালাল ও পবিত্র করতে এবং সুদের ভয়াবহতা থেকে মানুষকে মুক্তি দিতে ইসলামী ব্যাংকিং এর যাত্রা শুরু হয়েছে।

মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেছেন-
يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ كُلُواْ مِمَّا فِي ٱلۡأَرۡضِ حَلَٰلٗا طَيِّبٗا وَلَا تَتَّبِعُواْ خُطُوَٰتِ ٱلشَّيۡطَٰنِۚ إِنَّهُۥ لَكُمۡ عَدُوّٞ مُّبِينٌ
অর্থাৎ হে মানবজাতি পৃথিবীতে যা কিছু হালাল ও পবিত্র খাদ্য রয়েছে তা থেকে তোমরা খাও। সূরা আল বাকারাহ, আয়াত-১৬৮

وَأَحَلَّ اللّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا
অর্থাৎ আল্লাহ ক্রয় বিক্রয়কে (ব্যবসা) হালাল করেছেন এবং সুদকে করেছেন হারাম। সূরা আল বাকারাহ, আয়াত-২৭৫

» ইসলামী ব্যাংকের সংজ্ঞায় ওআইসি বলেছে-
ইসলামী ব্যাংক এমন একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান যা তার উদ্দেশ্য ও মূলনীতি এবং কর্মপদ্ধতির সকল স্তরে ইসলামী শরীয়ার নীতিমালা মেনে চলে এবং এর সকল কার্যক্রমে সুদের লেনদেন সম্পূর্ণরূপে বর্জন করে।
» প্রচলিত ব্যাংক ব্যবস্থায় অর্থকে পণ্যের মতো বিবেচনা করা হয় কিন্তু ইসলামী ব্যাংক ব্যবস্থায় অর্থকে বিনিময়ের মাধ্যম (Medium of Exchange) হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
» ইসলামী ব্যাংকের সাথে গ্রাহকের সম্পর্ক সাহিবুল মাল ও মুদারিব (মূলধন দাতা ও মূলধন ব্যবস্থাপক) ক্রেতা ও বিক্রেতা, কারবারের অংশীদারে ইত্যাদি। আর প্রচলিত (সুদভিত্তিক) ব্যাংকে গ্রাহক ও ব্যাংক এর মধ্যকার সম্পর্ক প্রধানত ঋণদাতা ও ঋণগ্রহীতা।

সুদ ও মুনাফার মধ্যে কতিপয় পার্থক্য
ক) পণ্য কেনাবেচা ও মুনাফা হালাল আর সুদ হারাম।
খ) ঋণের শর্ত অনুযায়ী মূলধনের অতিরিক্ত আদায় করা সুদ। আর পণ্যের ক্রয় মূল্য থেকে বিক্রয় মূল্য বেশি হলে তা মুনাফা।
গ) প্রচলিত ব্যাংক (সুদ ভিত্তিক) অর্থ ঋণ দিয়ে সুদ আদায় করে। আর ইসলামী ব্যাংক কেনাবেচা, ভাড়া, অংশীদারি ইত্যাদি চুক্তি ও ব্যবসা পদ্ধতির ভিত্তিতে বিনিয়োগ করে মুনাফা অর্জন করে।
ঘ) সুদের ক্ষেত্রে মুদ্রার বিনিময় একই জাতীয় মুদ্রার লেনদেন হয়। পক্ষান্তরে পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ে অর্থকে প্রথমে পণ্যে রূপান্তর করা হয় এরপর পন্যকে আবার নগদ অর্থে রূপান্তর করা হয় (Transformation of Money into goods and goods into Money)।
ঙ) সুদের সম্পর্ক ঋণ ও সময়ের সাথে। মুনাফার সম্পর্ক ব্যবসা কিংবা কেনাবেচার সাথে। আর কেনাবেচায় সম্পর্ক পণ্যের সাথে।
চ) সুদের ক্ষেত্রে মূলধন দাআকে কোন ঝুঁকি বহন করতে হয় না। কেনা বেচা বা ব্যবসার ক্ষেত্রে মূলধন দাতাকে ঝুঁকি বহন করতে হয়।
সুদ ভিত্তিক ঋণ ও লাভে পণ্য বিক্রয় এর উদাহরণ
১০০ টাকা ঋণ দিয়ে শর্ত অনুযায়ী ১১০ টাকা নিলে অতিরিক্ত ১০ টাকা সুদ। কিন্তু ১০০ টাকার পণ্য কিনে তার ওপর ১০ টাকা মুনাফা ধার্য করে ১১০ টাকায় বিক্রি করলে অতিরিক্ত ১০ টাকা মুনাফা।

ইসলামী ব্যাংক জমাকারী কে সবসময় মুনাফা দেয় কিভাবে?
একজন ব্যবসায়ী যেমন সব পণ্যে লাভ না করলেও সব পণ্য বিক্রির পর মোটের উপর লাভ করতে পারে, ইসলামী ব্যাংকের ক্ষেত্রেও তেমনটি ঘটে। ইসলামী ব্যাংক মুদারাবা জমাকারীদের অর্থ দিয়ে একটি যৌথ তহবিল গঠন করে। এরপর উক্ত তহবিল শরিয়াহ সম্মত বিভিন্ন পদ্ধতিতে শাখার মাধ্যমে গ্রাহকের কাছে বিনিয়োগ করে। বছর শেষে দেখা যায়, কোথাও লাভ হয়েছে আবার কোথাও লোকসান হয়েছে। কোন শাখা লাভ করেছে আবার কোন শাখা লোকসান দিয়েছে। তবে সকল মুদারাবা তহবিলকে একত্রে বিবেচনা করলে দেখা যায় যে, মোটের উপর লাভ হয়েছে। বছর শেষে চূড়ান্ত হিসাব করে যদি লাভ হয় তাহলে জমাকারীদের মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী তা বন্টন করা হয়। লাভ বেশি হলে সবাই বেশি লাভ পায় আর কম হলে কম লাভ পায়।

Leave a Reply