মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (MFS)

0
748

ব্যাংকিং নিউজ বাংলাদেশঃ মার্চ ২০১১ থেকে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস এর আওতায় লেনদেন শুরু হয়। মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস এর আওতায় Inward Remittance এর অভ্যন্তরীণ অর্থ বিতরণ, এজেন্ট/ব্যাংক শাখা/এটিএম/মোবাইল অপারেটর আউটলেট এর মাধ্যমে অর্থ লেনদেন, ব্যক্তি কর্তৃক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের অর্থ পরিশোধ (যেমনঃ Utility Bill), বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ব্যক্তির অর্থ পরিশোধ (যেমনঃ বেতন বিতরণ), সরকার কর্তৃক ব্যক্তির অর্থ পরিশোধ (যেমনঃ বয়স্ক ভাতা, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ইত্যাদি), ব্যক্তি কর্তৃক সরকারের অর্থ পরিশোধ (যেমনঃ কর পরিশোধ) ও ব্যক্তি কর্তৃক ব্যক্তিকে অর্থ পরিশোধ সংক্রান্ত লেনদেন করা যায়। বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে ৬৯০ কোটি টাকার লেনদেন হচ্ছে।

Mobile Financial Services ব্যবস্থার আওতায় সেবাসমূহ
দেশের ব্যাংকিং সেবা বঞ্চিত আপামর জনসাধারণের দোরগোড়ায় ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেবার লক্ষ্যে ২০১১ হতে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (MFS) ব্যবস্থার প্রচলন শুরু হলেও বর্তমানে এর আওতায় দেশের সর্বস্তরের মানুষের জন্যই উপযোগী প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান করা হচ্ছে। MFS এর আওতায় প্রদেয় সেবাসমূহ নিম্নরূপঃ

১. নিজ হিসাবে ইলেকট্রনিক অর্থ ক্রয় (Cash In) এবং ইলেকট্রনিক অর্থকে নগদ অর্থে রূপান্তরকরণ (Cash Out):
নিজ মোবাইল হিসাবে ইলেকট্রনিক অর্থ গ্রহণ করাকে Cash In বলা হয় এবং মোবাইল হিসাবে ইলেকট্রনিক অর্থকে নগদ অর্থে রূপান্তর করাকে Cash Out বলা হয়। মোবাইল হিসাবে ক্যাশ আউট করার জন্য গ্রাহককে এজেন্ট পয়েন্ট/ব্যাংক শাখার দ্বারস্থ হতে হয়।

২. ব্যক্তি কর্তৃক ব্যক্তির হিসাবে অর্থ স্থানান্তর (P2P):
এ ধরনের লেনদেনের আওতায় একজন মোবাইল হিসাব গ্রাহক দেশের অভ্যন্তরে অপর একজন মোবাইল হিসাব গ্রাহককে নিজের মোবাইল হিসাব থেকে যেকোনো সময়ে যেকোনো স্থানে টাকা স্থানান্তর করতে পারেন।

৩. ব্যক্তি কর্তৃক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে অর্থ পরিশোধ (P2B):
নগদ টাকা বহনের ঝুঁকি ও ঝামেলা থেকে মুক্তি দিয়ে এই সেবা MFS ব্যবহারকারীদের বিশেষ সুবিধা দিয়েছে। বর্তমানে একজন মোবাইল হিসাব গ্রাহক তার হিসেবে রক্ষিত অর্থ হতে ইউটিলিটি বিল পরিশোধ করতে পারেন। এছাড়া দেশের অনেক বিপণি বিতানে MFS এর মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করার সুবিধা থাকায় ক্রেতা পণ্য ও সেবার মূল্য বিপণি বিতানের MFS এর হিসাবে প্রদান করতে পারেন। এ সেবার ব্যবহার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

৪. প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ব্যক্তিকে অর্থ পরিশোধ (B2P):
এ সেবার আওতায় একটি প্রতিষ্ঠান তার কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, ডিভিডেন্ড, Warrant ইত্যাদি সহজে ও দ্রুততর সময়ের মধ্যে প্রদান করতে পারে। এতে একদিকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের সময় এবং শ্রমের যেমন সাশ্রয় হচ্ছে, অপরদিকে গ্রাহকরাও ঘরে বসে তাদের মোবাইল হিসাবে অর্থ পেয়ে যাচ্ছেন বিধায় তাদের শ্রম, সময় ও খরচ বেঁচে যাচ্ছে।

৫. ব্যক্তি কর্তৃক সরকারকে অর্থ পরিশোধ (P2G):
এ সেবাটি এখনো চালু হয়নি। তবে এটি চালু হলে ব্যক্তি কর্তৃক সরকারকে প্রদেয় আয়করসহ সব ধরনের ফি পরিশোধে গ্রাহকের স্বাচ্ছন্দ্য বৃদ্ধি পাবে।

৬. সরকার কর্তৃক ব্যক্তিকে অর্থ প্রদান (G2P):
অবসর ভাতা, বয়স্ক ভাতা, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তিসহ সরকার কর্তৃক ব্যক্তিকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ভাতাই মোবাইল হিসাবের মাধ্যমে প্রকৃত স্বত্বভোগীর নিকট সহজেই পৌঁছে দেয়া সম্ভব। এতে এসব ভাতা বিতরণে সরকারের বাড়তি জনবলের প্রয়োজন নেই এবং প্রশাসনিক ব্যয় হ্রাস সহ সংশ্লিষ্ট খাতে দুর্নীতি হ্রাস পাবে। ইতোমধ্যে রূপালী ব্যাংক কর্তৃক MFS ব্যবহার করে শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের উপবৃত্তির অর্থ তাদের মায়েদের মোবাইল হিসাবে প্রদান করা হচ্ছে।

৭. প্রবাসী-আয় বিতরণ:
এ সেবার মাধ্যমে বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিরা তাদের পরিবার-পরিজনের মোবাইল হিসাবে টাকা পাঠাতে পারেন। এ ব্যবস্থায় ব্যাংক রেমিটেন্স এর অর্থ সংগ্রহ করে MFS এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সুবিধাভোগীর হিসাবে অর্থ প্রেরণ করে থাকে। এ ব্যবস্থায় ব্যাংক রেমিটেন্সের অর্থ সংগ্রহ করে এমএমএসের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সুবিধাভোগী হিসেবে অর্থ প্রেরণ করে থাকে। এতে প্রবাসী-আয় গ্রহীতার ব্যাংকে গিয়ে টাকা তোলার খরচ ও সময় বাঁচে। ঘরে বসেই তিনি তার মোবাইল হিসাবে অর্থ পেতে পারেন এবং বাড়ির পাশের এজেন্ট পয়েন্ট হতে প্রয়োজনমতো সে অর্থ তুলতে পারেন।

৮. অন্যান্য:
উল্লিখিত সেবাসমূহের বাইরে MFS এর আওতায় আরও অনেক আর্থিক সেবা দেয়া সম্ভব, যেমন-ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ, Insurance Premium পরিশোধ, ডিপিএস কিস্তি জমাকরণ ইত্যাদি।

 বাংলাদেশ মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (MFS) রেগুলেশনস, ০১৮ পেতে ক্লিক করুন এখানে

Source: Bangladesh Bank

Leave a Reply