জাপানে শাখা খুলছে গ্রামীণ ব্যাংক

0
412

বাংলাদেশ ভিত্তিক ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী সংস্থা গ্রামীণ ব্যাংক আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ে জাপানে নতুন শাখা খোলার মাধ্যমে দেশটিতে কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে। এ বছরই অষ্ট্রেলিয়াতেও শাখা খোলার কথা জানিয়েছিল গ্রামীণ ব্যাংক।
সম্প্রতি জাপানের একটি শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করে।

এতে বলা হয়, ‘গ্রামীণ জাপান’ নামে কার্যক্রম শুরু করতে যাওয়া শাখাটির কাজ হবে মানুষকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করা। যারা বিশেষত অনুদানের ওপর নির্ভরশীল এবং চাকরির খোঁজে সংগ্রামমুখর সময় পার করছে তারাই মূলত সংস্থাটির পক্ষ থেকে সুযোগ-সুবিধা পাবে।

সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাপান সফর করে মেইজি গাকুইন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাসাহিরো কানের সঙ্গে শাখা খোলার বিষয়ে একমত পোষণ করেন বলে জানানো হয় প্রতিবেদনে। মাসাহিরো কান একজন ক্ষুদ্রঋণ বিশেষজ্ঞ, যাঁর ইতিপূর্বে বিশ্ব ব্যাংকে কাজ করার মূল্যবান অভিজ্ঞতা রয়েছে।

জাপানের গ্রামীণ ব্যাংকের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায় অধ্যাপক কান এর একটি কথায়। তিনি বলেন, ‘জাপানে ছয়জনের একজন, সংখ্যায় প্রায় ২০ মিলিয়ন মানুষ দারিদ্র্যসীমার নীচে বসবাস করে।’ দেশটিতে বসবাসের জন্য আয়ের সর্বনিম্ন স্তর বিবেচনায় তুলে ধরা হয়েছে এ পরিসংখ্যান।

শাখাটি বাংলাদেশে গ্রামীণ ব্যাংকের ঋণ কার্যক্রমের পন্থাগুলো অনুসরণ করেই পরিচালিত হবে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ঋণ গ্রহীতারা ছয় মাসের জন্য স্বল্প সুদে ২ লক্ষ ইউয়ান (১,৮০০ ডলার সমমূল্য) ঋণ গ্রহণ করতে পারবেন।
শাখাটিতে প্রতি সপ্তাহে একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে যেখানে বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ ঋণগ্রহীতারা উপস্থিত থাকবে। সভার উদ্দেশ্য হলো, অর্থনীতি সম্পর্কে সম্যক ধারণা দেওয়া। সভায় কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হয়ে উঠার পরামর্শও থাকবে।

উল্লেখ্য, ১৯৮৩ সালে ড. মুহাম্মদ ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠা করেন। ক্ষুদ্রঋণ প্রদান এবং সঞ্চয়ে উৎসাহিতকরণের পাশাপাশি ব্যবসায়ীক সুযোগ-সুবিধা তৈরি করার মাধ্যমে দারিদ্র্যমুক্তিতে মানুষকে সহযোগিতা করা সংস্থাটির মূল লক্ষ্য। ব্যাংকটি মূলত নারীদের উৎসাহিত করে থাকে, যারা প্রায় সংস্থাটির ৯৭ শতাংশ ঋণ গ্রহীতা। ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং গ্রামীন ব্যাংক ২০০৬ সালে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।

সূত্র: দ্য জাপান টাইমস

Leave a Reply