AML এবং CFT প্রতিরোধে ডেস্ক পর্যায়ে করণীয়

0
2050

ব্যাংকিং নিউজ বাংলাদেশঃ ব্যাংকের শাখায় শুধুমাত্র BAMLCO-এর এককভাবে দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়। প্রত্যেক জনশক্তি ডেস্ক পর্যায়ে আইনের বিধান পরিপালনে সহযোগিতার মাধ্যমে AML বা CFT বিষয়ক শাখার মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। নিম্নে সে লক্ষ্যে ডেস্ক পর্যায়ে করণীয় ব্যাংকারদের মৌলিক কয়েকটি বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলো-

হিসাব খোলার ক্ষেত্রে
শাখায় হিসাব খোলার ডেস্ক খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কার্য্যে অর্থযোগানের প্রথম ধাপই হচ্ছে ব্যাংকিং চ্যানেলে হিসাব খোলার মাধ্যমে অর্থ প্রবেশ করানো। তা-ই প্রাথমিক পর্যায়ে যথাযথভাবে গ্রাহকের হিসাব খোলা না হলে ব্যক্তি বা শাখা ও প্রতিষ্ঠানের সার্বিক ঝুঁকির আশঙ্কা থাকে। সেহেতু হিসাব খোলার ক্ষেত্রে অধিক সর্তকতা অবলম্বন করা বাঞ্ছনীয়;
– হিসাব খোলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক জারীকৃত সার্কুলার সমূহ অনুসরণ করা, বিশেষ করে ব্যাংক কর্তৃক প্রবর্তিত Customer Acceptance Policy (CAP) শাখায় বাস্তবায়ন করা।
– হিসাবের ইন্ট্রোডিউসার সংশ্লিষ্ট শাখার হওয়া এবং যথাযথ হিসাবধারী হওয়া (নিয়মিত লেনদেনকারী, ব্যক্তির তথ্যাবলী হালনাগাদ থাকা)।
– গ্রাহকের উপস্থিতি ছাড়া ও অনলাইনে কোন হিসাব না খোলা, শাখা এরিয়ার বাহিরে হিসাব খোলার ক্ষেত্রে অধিকতর সর্তকতা অবলম্বন করা।
– গ্রাহক ও নমিনির ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র, হালনাগাদ পাসপোর্ট অথবা ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকতে হবে, তবে নমিনি অপ্রাপ্ত বয়স্ক হলে ব্যাংকের সন্তুষ্টি সাপেক্ষে ছবিসহ জন্ম নিবন্ধন কপি অথবা গণ্যমান্য ব্যক্তি কর্তৃক ছবিসহ সত্যায়িত সনদপত্র।
– হিসাবধারীর পেশা ও আয়ের উৎস, ব্যবসায়ের ধরন-প্রকৃতি ও ঠিকানার বিষয়ে আশ্বস্ত হওয়া ও এন্টি দেওয়া। মাঠ পর্যায়ে পরিদর্শন করা ও পরিদর্শন রিপোর্ট রাখা।
– হিসাবধারীর আর্থিক বা লেনদেনের অবস্থা সঠিকভাবে জানা।
– হিসাবধারীর পেশার স্বপক্ষে প্রমাণ পত্র নেয়া।
– নাবালক ও মহিলাদের হিসাব খোলার ক্ষেত্রে অভিভাবক বা স্বামীর (Beneficial Owners) পূর্ণাঙ্গ KYC নেয়া।
– ছবি সম্বলিত প্রমাণ বা পরিচিতি (জাতীয় পরিচয়পত্র, হালনাগাদ পাসপোর্ট অথবা ড্রাইভিং লাইসেন্স) ছাড়া হিসাব না খোলা।
– ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ধরন অনুযায়ী সঠিক Sector Code বাছাই করা ও এন্টি দেয়া।
– Dormant ও Inoperative হিসাব রেগুলার করার সময় KYC, TP এবং Enhance due diligence (EDD) প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা এবং উক্ত হিসাবের লেনদেন বিশেষভাবে মনিটরিং করা।
– এককালীন বা মেয়াদী হিসাব খোলার ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী কোন ডিপোজিট হিসাব যেমন-সঞ্চয়ী হিসাব, কারেন্ট হিসাব এসএনডি হিসাব, ডিপিএস হিসাব ইত্যাদি থাকলে ঐ সকল হিসাবের তথ্যাবলী আপডেট করা।
– হিসাব খোলার ফরম যথাযথভাবে পূরণ করা, প্রতিটি ঘরই নির্ভুল তথ্যসহ সঠিকভাবে পূরণ করা, কোন ঘর খালি রাখা যাবে না।
– Legacy হিসাব সমূহ (৩০/০৪/২০০২ ইং তারিখের পূর্বে খোলা হিসাব) Uniform Account Opening Form (UAOF) এর মাধ্যমে হালনাগাদ করা।

Leave a Reply