ব্যাংক ম্যানেজার হিসেবে আপনি কতটুকু দক্ষ?

0
738

ব্যাংকিং নিউজ বাংলাদেশঃ ব্যাংক ব্যবস্থাপনা কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি নয় যে, পাশ করার পর আর উন্নয়নের প্রয়োজন নেই। আইনজীবী চিকিৎসক ইত্যাদি পেশার মতো এখানেও নিরন্তর অধ্যাবসায় প্রয়োজন। পেশাদারিত্ব একটি ব্যক্তিগত দায়। প্রতিটি পদক্ষেপ প্রতিটি সিদ্ধান্ত এবং প্রতিটি সম্পর্ককে পর্যালোচনা করতে হয়। এমন একটি পর্যালোচনার জন্য আজকের এই লেখাটি।

নিচের কুইজটি মাত্র দশ মিনিটে ব্যাংক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে একটি চমৎকার মানসিক অবস্থান তৈরি করে দেবে। ব্যাংক ম্যানেজারের দক্ষতা সম্পর্কে এই উচ্চতর মূল্যায়নটি অনলাইন থেকে পাওয়া। বিষয়গুলো এতোই চিন্তা-জাগায় যে, সকলের সাথে শেয়ার না করে পারলাম না।

১. ভালো ব্যাংক ব্যবস্থাপক…
ক) সিদ্ধান্ত নিতে পারে;
খ) সহকর্মীদের সাথে সামাজিক অনুষ্ঠানে সময় দেয়;
গ) নিজের দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিষ্ঠা করার জন্য আলোচনা করে।

২. ভালো ব্যাংক ব্যবস্থাপক দিনের অধিকাংশ সময় ব্যয় করে…
ক) কর্মীদের একক কাজের মূল্যায়নে;
খ) উর্ধতন কর্মকর্তার প্রত্যাশা পূরণে;
গ) সহকর্মীদেরকে প্রশিক্ষণ দানে।

৩. একজন ব্যাংক ব্যবস্থাপকের প্রাথমিক দায়িত্ব হলো…
ক) প্রত্যাশারও বেশি কাজ করা;
খ) বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন;
গ) সহকর্মীর মাধ্যমে কাজের বাস্তবায়ন।

৪. একজন ব্যাংক ব্যবস্থাপকের পক্ষ থেকে যা গ্রহণযোগ্য নয়, তা হলো…
ক) সহকর্মীকে সহানুভূতি দেখানো;
খ) মেজাজ বিগড়ে যাওয়া;
গ) কর্মীদের জন্য ব্যক্তিগত প্রশংসাপত্র তৈরি।

৫. কর্মীদের দায়বদ্ধতা মুহূর্তেই কমে যায় যখন ব্যাংক ব্যবস্থাপকেরা…
ক) একই মেজাজে থাকেন না;
খ) নির্ধারিত সময়ের আগে অফিস ত্যাগ করেন;
গ) অফিসের দরজা বন্ধ রাখেন।

৬. নতুন ব্যাংক ব্যবস্থাপক হিসেবে প্রথমেই যা করতে হয়, তা হলো…
ক) আপনার প্রকল্প থেকে প্রেরণযোগ্য প্রতিটি প্রতিবেদন মনযোগ দিয়ে দেখা;
খ) সহকর্মীকে কাজের নির্দেশ (ডেলিগেট) দিতে শেখা;
গ) সহকর্মীদের সাথে ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকারের আয়োজন করা।

৭. আপনার শাখাটি যখন কর্তৃপক্ষের রোষাণলে পড়ে, তখন…
ক) ব্যাংক ব্যবস্থাপক সকল অভিযোগের ধারক হবেন;
খ) সমস্যাটি বের করে সমাধান খুঁজবেন;
গ) শান্ত থাকবেন।

৮. ব্যাংক ব্যবস্থাপককে অবশ্যই বুঝতে হবে যে…
ক) কর্মীরা প্রশংসা এবং স্বীকৃতি পেলে বেশি কাজ করে;
খ) কাজ না থাকলে কর্মীদের আগ্রহ কমে যায়;
গ) অর্থনৈতিক সুবিধা থাকলে প্রত্যাশার বেশি কাজ করে।

৯. যখন কোন কিছু শেখাতে হয়…
ক) অফিসের বাইরে আয়োজন করুন;
খ) কর্মীদের চেষ্টা ও শেখার আগ্রহকে পুরস্কৃত করুন;
গ) একাধিক পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ দিন।

১০. সহকর্মীরা যখন ভিন্ন একটি উপায়ে কাজটি করতে পারে, তখন…
ক) সেটি গ্রহণ করা উচিত, কারণ সহকর্মীদের থেকেও শেখার সুযোগ হয়;
খ) এটি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না, কারণ তারা ভুল করতে পারে;
গ) পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

নম্বর মূল্যায়ন
প্রতিটি সঠিক উত্তরের জন্য ১০ বিবেচনা করুন-
৮০-১০০: আপনি একজন দক্ষ এবং অভিজ্ঞ ব্যাংক ব্যবস্থাপক।
৬০-৭০: যেসব ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হয়েছে সেগুলো নিয়ে পর্যালোচনা করুন।
৬০ এর নিচে: বিষয়গুলো নিয়ে গভীরভাবে ভাবুন, হয়তো ব্যাংক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে আপনার উন্নয়ন জরুরি!
ব্যাংক ব্যবস্থাপনা একটি সহজ কাজ একথা কেউ কখনও বলেন নি। কাজের উন্নয়নের জন্য আমাদেরকে কর্মীর চাহিদা নিয়ে আরও ভাবতে হবে। প্রত্যেক ব্যাংক ব্যবস্থাপক তার অধীনস্থ কর্মীর অভিভাবক। তাদেরকে গেঁথে তোলার মধ্যেই রয়েছে তার প্রকল্পের উন্নয়নের সম্ভাবনা।

What is your bank’s managerial skills (আপনার ব্যাংক ব্যবস্থাপকীয় দক্ষতা কতটুকু)
[উত্তর ও পর্যালোচনা] ১/ক] সিদ্ধান্ত নিতে হলে সাহসের প্রয়োজন। সঠিক সিদ্ধান্তটি নিতে পারার জন্য পর্যাপ্ত তথ্য হয়তো আপনার নেই। তাই ভুল হতেই পারে। ভীতু বা দায়িত্ব এড়িয়ে চলা নেতাকে কোন কর্মীই পছন্দ বা শ্রদ্ধা করে না।

২/গ] কর্মীর উন্নয়ন করা ব্যাংক ব্যবস্থাপকের প্রধান দায়িত্ব। বাস্তবে দেখা যায়, প্রশিক্ষণের সময় পাওয়া কঠিন। তবু কৌশলে সময় বের করে নিতে হবে, কারণ এটি কর্মীর এমন এক চাহিদা যা পূরণ হলে প্রতিষ্ঠান এগিয়ে যায়।

৩/গ] কর্তৃপক্ষ চায়, ব্যাংক ব্যবস্থাপকের নেতৃত্বে প্রকল্প/দলটি দক্ষতা এবং গতিশীলতার সাথে কাজ করুক। কর্মীকে কাজে সম্পৃক্ত করা মানে হলো দলের সবাই কর্মতৎপর হওয়া। ব্যাংক ব্যবস্থাপক যত নিজের কাজে ব্যস্ত, তদারকি ততই দুর্বল এবং দলের কার্যকারীতা ততই কম।

৪/খ] হতাশ হওয়া খুবই স্বাভাবিক এবং মানবিক। এমন পরিস্থিতির জন্যই ব্যাংক ব্যবস্থাপক, কিন্তু মেজাজ বিগড়ে যাওয়া মানসিক অপরিপক্কতার লক্ষণ। আবেগ দমনে রাখতে পারা একটি বড় গুণ এবং কঠোর আত্মনিয়ন্ত্রণের পরিচয়।

৫/ক] ব্যাংক ব্যবস্থাপক যখন একদিন থাকেন খোশ মেজাজে, অন্যদিন চরমভাবে ক্ষিপ্ত – এটি কর্মীর মনেও খারাপ ধারণার সৃষ্টি করে। ব্যাংক ব্যবস্থাপকের সংযত এবং অভিন্ন আচরণ কর্মীর মনে প্রেরণা যোগায়।

৬/খ] সুদক্ষ ব্যাংক ব্যবস্থাপক নিজেই যখন কাজটি করেন, সেটি হয় সঠিক এবং দ্রুত। সুদক্ষ ব্যাংক ব্যবস্থাপকেরা যখন অভিজ্ঞতার অভাবে থাকেন, তখন তারা কর্মীকে যথাযথভাবে সম্পৃক্ত করতে পারেন না। নতুন ব্যাংক ব্যবস্থাপকের প্রথম কাজ হলো, কর্মীকে কাজের নির্দেশনা দিতে শেখা এবং একই সাথে তাদেরকে শেখানো। এতে তার জন্য ব্যাংক ব্যবস্থাপনার কাজটি সহজ হয়।

৭/ক] পরিস্থিতি খারাপ হয়ে গেলে কাঁধ শক্ত করে দলের দায়িত্ব নিন। সমস্ত তপ্ত বাক্য আপনিই গ্রহণ করুন, এটিই ব্যাংক ব্যবস্থাপকের দায়। অধিনস্ত কর্মীকে চাপমুক্ত রাখুন, যেন তারা স্বাভাবিক কাজ চালিয়ে যেতে পারে। ব্যাংক ব্যবস্থাপক যখন দায় এড়িয়ে কর্মীর ওপর তুলে দেয়, কর্মীরা তার প্রতি আস্থা, শ্রদ্ধা ও আনুগত্য সবই হারায়।

৮/ক] প্রশংসা পেতে এবং নিজেদেরকে ‘আলাদা’ ভাবতে সকল কর্মীই পছন্দ করে। কর্মীর কর্মদক্ষতার সর্বোচ্চ সুফল পেতে এরকম পরিস্থিতির খুবই প্রয়োজন। কর্মমুখর পরিবেশ সৃষ্টিতে অবদান রাখা ব্যাংক ব্যবস্থাপকের প্রধান কাজ।

৯/গ] নতুন ধারণা রপ্ত করানোর জন্য প্রশিক্ষণার্থীর বিভিন্ন ইন্দ্রিয়গুলোর ব্যবহার করুন। আপনার বিষয়টিতে তাদেরকে শুনতে দিন, বুঝতে দিন, দেখতে দিন করতেও দিন। সবাইতো আর একভাবে শেখে না।

১০/ক] নতুন কিছু শেখার জন্য মানুষের কোন নির্ধারিত বয়স-সীমা নেই। সহকর্মীর বিশেষ গুণ থেকে শিখলে ব্যাংক ব্যবস্থাপকের মান ক্ষুণ্ন হয় না, বরং বাড়ে। একই সাথে কর্মীরও সংশ্লিষ্ট ভালো দিকটি থেকে প্রতিষ্ঠান উপকৃত হয়।

লেখাটি ব্যাংক ম্যানেজারের পেশাদারিত্বের উন্নয়নে শুধু একটি অধ্যয়ন/অনুসন্ধানের জন্য। কোন উত্তরই অকাট্য/অখণ্ডনীয় হিসেবে বিবেচনার করার জন্য নয়।

Leave a Reply