ব্যাংক নোটেও যখন ক‌রোনার ঝুঁকি

0

ঈদ, পূজা কিংবা অন্যান্য পরবে এবং উৎসবে একটু বড় ছুটির ব্যাপার হলেই ব্যাংকাররা সেই ছুটি থেকে বাদ পড়েন। অন্য সকল পেশার লোকদের উৎসব উদযাপনের সুযোগের জন্য অপরিহার্য অর্থসেবার প্রয়োজনে ব্যাংকারদের সেসময়েও হাসিমুখেই অফিস করতে হয়। হয়তো সময়মত বাড়ি ফেরা হয় না কিংবা বড় ছুটি ভোগ করা যায় না তবুও খুব কম ব্যাংকারই ওসব নিয়ে আক্ষেপ করেন।

এবার করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বিলম্বে হলেও দেশ সাধারণ ছুটিতে। সামাজিক সঙ্গনিরোধ নিশ্চিত করতে পুলিশের পাশাপাশি মাঠে আছে বিজিবি ও সেনাবাহিনী। এতদোপলক্ষে সঙ্গত কারণেই ব্যাংকারদেরও ছুটিতে থাকার কথা। কারণ ব্যাংক খোলা মানেই জনসমাগম এবং ব্যাংক খোলা মানেই প্রবাসীদের যাতায়াত। এর মাধ্যমে ভাইরাসের সোশ্যাল ট্রান্সমিশনের উচ্চ ঝুঁকির আশংকা আছে। তবে এসব বাস্তবতার মাঝেও খবর হলো সাধারণ ছুটিতে ব্যাংক খোলা থাকছে দৈনিক দু’ঘন্টা করে।

সীমিত জনশক্তি নিয়োগ করে শুধুমাত্র জরুরী নগদ টাকার সেবার জন্য সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ব্যাংক খোলা রাখতে বলা হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে। এ নিয়ে ব্যাংকারদের মাঝে উদ্বেগ বাড়ছে। কারণ যথেষ্ট ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা (পিপিই) ছাড়া সেবার কাউন্টারে বসা মানে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকির সামনে নিজেকে সঁপে দেয়া। অথচ ২৯ মার্চ থেকে তাই করতে হবে ব্যাংকারদের।

প্রশ্ন হলো, তাহলে অন্যান্য আক্রান্ত দেশে ব্যাংকিং ব্যবস্থা কেমনে চলছে? এ ব্যাপারে ইতালী প্রবাসী আমার ব্যক্তিগত পরিচিত একজনের সাথে গতকাল কথা বলতে গিয়ে যা জানলাম তাহলো ওখানেও দিনে দু’ঘন্টা করে ব্যাংক খোলা আছে। তবে ওখানকার ব্যাংকিং সিস্টেম সম্পূর্ণ ভিন্ন বলে তিনি জানালেন। সবাই ডিজিটাল ব্যাংকিংএ অভ্যস্থ বলে ব্যাংকিং কাজের ৯০ পার্সেন্টই স্ব-স্ব অবস্থানে থেকে করা সম্ভব বলে ব্যাংকে ভীড় থাকে না। বিশেষ প্রয়োজনে নগদ টাকার প্রযোজন হলে আগে ব্যাংককে নোটিশ দেয়া লাগে। ব্যাংকারের সন্তুষ্টিসাপেক্ষে ব্যাংক থেকে নগদ টাকা নেয়া যায়। তবে তার জন্য অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ পে করতে হয় যা ভার্চুয়াল ব্যাংকিয়ে প্রয়োজন হয় না।

চীনের ব্যাপারে একটি খবরে দেখলাম আক্রান্তের সময় তারা ব্যাংকের ভোল্টের টাকাগুলো আল্ট্রা ভায়োলেট রশ্মি দিয়ে জীবানুমুক্ত করার উদ্যোগ নেয়। পাশাপাশি ৪ বিলিয়ন নতুন নোট ছাড়ে সেদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আর আমাদের দেশের ব্যাংক নোটগুলো এমনিতেই জীবানুবাহক। তদুপরি বিশ্বজুড়ে এই মরণ ঘাতক করোনাভাইরাসের রাজত্বের সময়ে এগুলোও হয়ে ওঠতে পারে আরো ভয়ানক। আর এসব নোট দিয়েই ব্যাংকিং লেনদেন চললে টাকার মাধ্যমেও কমিউনিটি ট্রান্সমিশন যে হবে না তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।

জাতীয় স্বার্থে জরুরী প্রয়োজন বলেই ব্যাংকারদের সেবায় থাকা উচিত। তবে দ্রুতগতিতে সকল ব্যাংকের ভোল্টের টাকা জীবানুমুক্ত করার উদ্যোগ নেয়ার পাশাপাশি ব্যাপক আকারে নতুন নোট বাজারে ছাড়ার বিষয়টি বিবেচনা করলে ভালো হবে। অহেতুক ভীড় এড়াতে গ্রাহকদেরও দায়িত্বশীল আচরণ কাম্য। এক্ষেত্রে সম্মানিত গ্রাহকদের প্রতি কিছু পরামর্শ থাকবে। যেমন-

# প্রয়োজন অনিবার্য না হলে আপাতত: ব্যাংকে না আসাই ভালো।
# অতি প্রয়োজনে আপনি একাই আসুন। পরিবারের আর সদস্য/ বন্ধুদের সাথে আনবেন না।
# সদ্য বিদেশ ফেরত এবং তাদের সংস্পর্শে আসা পরিবারের কেউ ব্যাংকে আসবেন না। (একান্ত প্রয়োজনে ফোন/ ইমেইল করুন।)
# ব্যাংকে প্রবেশের আগে হাতে হ্যান্ড সেনিটাইজার লাগান অথবা হাত ধুয়ে নিন। (ওয়াশিং এরিয়ায় সাবান/ হ্যান্ডওয়াশ দেয়া আছে।)
# হা‌তে গ্লাভস পরে টাকা ধরা ছোঁয়া করুন।
# কারো সাথে মোসাফাহা/ হ্যান্ডশেক করতে হাত বাড়িয়ে দিবেন না।
# ভীড় এড়াতে কাউন্টারের সামনে চাপাচাপি নয়, দূরে অবস্থান করুন। অন্যকে সুযোগ দিন, আপনিও সুযোগ নিন।
# বিকল্প সেবা চ্যানেল যেমন ATM, Internet Banking, SMS Banking, CellFin এবং Call Center (IBBL-16259) ব্যবহার করুন। তাহলে ব্যাংকে আসার প্রয়োজন হবে না।

আসুন আপনার আমার সকলের স্বার্থে অবহেলা কিংবা গোয়ার্তুমি নয়। সাবধান হই এবং আল্লাহর কাছে নিরাপত্তার জন্য প্রার্থনা করি।

কার্টেসিঃ মোসলেহ উদ্দিন, ম্যানেজার, আইবিবিএল

Leave a Reply