‘রিবা’ (সুদ) কী? তা শিখতে হবে এবং জানতে হবে

0
497

কেউ যদি নামায পড়তে চায়, তাহলে আগে তাকে নামাজ শিখতে হবে। শরীয়াহ্ এর আলোকে জানতে হবে নামাযের পদ্ধতি কী? তেমনি কেউ যদি ‘রিবা’ বা সুদ থেকে বাঁচতে চায়, তাহলে তাকে তা শিখতে হবে।

এখানে শেখার গুরুত্বটা অনেক কারণেই একটু বেশি। কারণ রিবার প্রয়োগ ও ব্যাপ্তী অনেকটাই জটিল। বিভিন্ন ধরনের রিবাকে শরীয়াহ্তে নিষেধ করা হয়েছে। কুরআনুল কারীমে এক ধরনের রিবাকে নিষেধ করা হয়েছে। হাদীসে এর সাথে আরো কিছু লেনদেনকেও রিবা হিসাবে নিষেধ করা হয়েছে।

এর পাশাপাশি হাদীস ও সুন্নাহতে রিবা বা সুদ নিষিদ্ধতার কিছু নীতিমালা বলে দেয়া হয়েছে। সেই সব নীতিমালার আলোকে পরবর্তী ফকীহগণ প্রচলিত আরো কিছু লেনদেনকে রিবা আখ্যায়িত করেছেন।

শুধু তাই নয়, আধুনিক বিভিন্ন লেনদেনে কোনটা রিবাযুক্ত, কোনটা রিবামুক্ত, এ নিয়েও ফকীহগণের বিস্তর কথা রয়েছে।

আল্লামা ইবনে কাছীর রহ. যথার্থই বলেছেন-
باب الربا من أشكلالأبواب على كثير من أهل العلم اهـ.
‘রিবা বিষয়টি অনেক জ্ঞানী লোকের কাছেই জটিল একটি বিষয়’। (তাফসীরে ইবনে কাছীর, সূরা বাকারা, ২৭৫, সংশ্লিষ্ট)

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার অশেষ শুকরিয়া, সেই সাথে পূর্ববর্তী ও বর্তমান বিজ্ঞ ফকীহগণেরও শুকরিয়া আদায় করছি, তাঁরা বেশ পরিশ্রম করে আমাদের জন্য রিবার মত জটিল বিষয়টিকে অত্যন্ত সহজ-সাবলীল করে উপস্থাপন করে এর থেকে বেঁচে থাকার পথ সুগম করে দিয়েছেন।

এখন আমাদের দায়িত্ব সেটা সঠিকভাবে শেখা ও বুঝা। এর থেকে বেঁচে থাকা। ছোট বেলায় নিয়ম করে আমরা যেমন কুরআনুল কারীম কারো থেকে শিখেছি, তেমনি রিবাও শিখতে হবে।

আর না হয় খলিফাতুল মুসলিমীন হযরত উমর রা. এর কথাই বাস্তব হয়ে উঠবে৷ তিনি বলেছেন-
لا يتجر في سوقنا إلا من فقه، وإلا أكل الربا
‘প্রচলিত লেনদেন সম্পর্কে না জেনে কেউ যেন আমাদের বাজারে ক্রয়-বিক্রয় করতে না আসে। অন্যথায় সে অভিশপ্ত ‘রিবা’-য় জড়িয়ে যেতে পারে।’

তাই আমাদের উচিত রিবা বা সুদ সম্পর্কে প্রাথমিক ও প্রায়োগিক বিষয়গুলো জেনে নেওয়া।

কার্টেসিঃ আব্দুল্লাহ মাসুম

Leave a Reply