ডেবিট কার্ড কি? ডেবিট কার্ডের সুবিধা ও অসুবিধাসমূহ

0
458

ব্যাংকিং নিউজ বাংলাদেশঃ ডেবিট কার্ড হলো প্রথমে টাকা জমা করবেন। আপনার এ্যাকাউন্টে বা কার্ডে যত টাকা থাকবে তার বেশি ব্যবহার বা খরচ করতে পারবেন না বা তুলতে পারবেন না। ইহা পুরাই প্রি-পেইড সিমের মতো।

ডেবিট কার্ড (Debit Card)
সহজ কথায়, আমরা যখন একটা বাংক অ্যাকাউন্ট করি এবং বাংক অ্যাকাউন্টে থাকা টাকা খরচ করার জন্য আমাদেরকে যে ATM কার্ড দেওয়া হয়, সেটাই মুলত একটি ডেবিট কার্ড যা অনেক ক্ষেত্রে “ব্যাংক কার্ড” নামেও পরিচিত। ডেবিট কার্ড থেকে টাকা খরচ করার জন্য আপনার কাছে বা আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আগে থেকেই টাকা থাকতে হবে। এখানে আপনার মাসিক ইনকাম বা জব বা আপনার ক্রেডিট লিমিট এই ধরনের কোন ব্যাপার নেই। ব্যাপারটা শুধুই এইটুকুই যে, আপনার কাছে টাকা আছে এবং সেই টাকা আপনি ইলেকট্রনিক পেমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে পেমেন্ট করছেন বা খরচ করছেন।

ধরুন আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১ লক্ষ টাকা আছে। তাহলে ব্যাংক থেকে আপনার অ্যাকাউন্টের বিপরীতে আপনাকে যে ডেবিট কার্ডটি দেওয়া হবে, সেটিতেও আপনার ওই ১ লক্ষ টাকাই থাকবে। আপনি যখনই ডেবিট কার্ডটির সাহায্যে কোথাও পেমেন্ট করবেন বা ক্যাশ উইথড্ করবেন, তখন আপনি যতটুকু টাকা খরচ করেছেন সেটা ইনস্ট্যান্টলি আপনার ব্যাংক হিসাব থেকেই কেটে নেওয়া হবে। মুলত পেমেন্টটি করা হবে আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকেই। ডেবিট কার্ড পকেটে রাখা মানে বলতে পারেন আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টটিকেই তার সম্পূর্ণ ব্যালেন্সসহ আপনার পকেটে রাখা। আর এইজন্যই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ক্রিয়েট করলে সাধারনত অ্যাকাউন্টের সাথেই একটি ডেবিট কার্ড ইস্যু করে দেওয়া হয়।

ডেবিট কার্ড সাধারনত ইন্টারন্যাশনালি কাজ করে না, তবে অনেকক্ষেত্রে ব্যাংক আপনাকে বিশেষ কিছু শর্ত এবং কার্যক্রমের মাধ্যমে আপনার ডেবিট কার্ডটি বাংলাদেশের বাইরে ব্যাবহার করার সুযোগ দিতে পারে। তবে সেটা সম্পূর্ণ ব্যাংকের সিদ্ধান্তের ওপরেই নির্ভর করে। তবে ডেবিট কার্ড যদি আপনাকে ইন্টারন্যাশনালি ব্যাবহার করার সুযোগও দেওয়া হয়, তবুও আপনার অবশ্যই একটি ইন্টারন্যাশনাল পাসপোর্টের প্রয়োজন পড়বে। তবে ডেবিট কার্ডগুলো সাধারনত বাংলাদেশের ভেতরে কোন স্টোরে পেমেন্ট করা বা কোন ATM থেকে ক্যাশ উইথড্র করা কিংবা অনলাইনে পেমেন্ট করার কাজেই ব্যাবহার করা হয়ে থাকে।

প্রিপেইড ডেবিট কার্ড (Prepaid Debit Card)
বর্তমানে বাংলাদেশের কয়েকটি ব্যাংক একটি বিশেষ ধরনের ইন্টারন্যাশনাল ডেবিট কার্ড ইস্যু করে থাকে যাকে সাধারনত প্রিপেইড কার্ড বলা হয়। এই ডেবিট কার্ডগুলো ব্যাবহার করার জন্য আপনার কোন ব্যাংক অ্যাকাউন্টও থাকার দরকার পড়বে না এবং আপনাকে চাকুরিজীবীও হতে হবে না। এই কার্ডগুলোতে আপনাকে আগে থেকেই কার্ডের বিপরীতে টাকা ডিপোজিট করতে হবে এবং ডিপোজিট করার পরেই এই কার্ডটি আপনি ব্যাবহার করতে পারবেন। অনেকটা আপনার ফোনে টাকা রিচার্জ করে তারপর টাকা খরচ করার মতো।

আর আপনার যদি ইন্টারন্যাশনাল পাসপোর্ট থাকে, তাহলে আপনি ফরেইন কারেন্সি (USD, EUR, GBP) ডিপোজিট করতে পারবেন এবং তার সাহায্যে ছোট ছোট ইন্টারন্যাশনাল ট্রাঞ্জেকশনগুলো করে ফেলতে পারবেন। তাছাড়া অনলাইনেও ইন্টারন্যাশনাল ট্রাঞ্জেকশনগুলো করতে পারবেন। যেমন- গুগল প্লে স্টোর থেকে কোন অ্যাপ/গেমস পারচেজ করা, কিংবা ফরেইন ই-কমার্স সাইটগুলো থেকে প্রোডাক্ট পারচেজ করা, কিংবা ফেসবুক বুস্ট বা গুগল অ্যাডসে খরচ করা ইত্যাদি। তবে এই সব ইন্টারন্যাশনাল ট্রাঞ্জেকশনের জন্যই আপনার পাসপোর্ট থাকার দরকার হবে। আপনি ডিপোজিট করবেন, তারপর সেটা খরচ করবেন, তারপর আবার ডিপোজিট করবেন, আবার খরচ করবেন। এভাবেই মুলত কাজ করে প্রিপেইড কার্ডগুলো। বাংলাদেশে প্রিপেইড ডেবিট কার্ড হিসেবে ইস্টার্ন ব্যাংকের EBL Aqua Prepaid Card বেশ জনপ্রিয়।

ডেবিট কার্ডের সুবিধাসমূহ (Benefits of Debit Card)
ডেবিট কার্ড আমাদের চলমান হিসেব এবং সঞ্চয়ী হিসেবের সাথে যুক্ত থাকে। তাই কেনাকাটায় ডেবিট কার্ড ব্যবহারের সুবিধাগুলি হচ্ছে-

• ফি (Fees)
যখন আপনার সকল লেনদেনের ক্ষেত্রে ডেবিট কার্ড ব্যবহার করছেন, বার্ষিক কোন ফি বা চাঁদা দেয়ার ভাবনা নিয়ে মাথাব্যথা করতে হবে না। ডেবিট কার্ড সাধারণত বিনামূল্যে ব্যবহার করা যায় এবং কোন চাঁদা বা ফি প্রযোজ্য হয় না যদি না সঞ্চয়ী হিসেবের ওভারড্রাফট সুবিধা ব্যবহার করেন।

• নিয়ন্ত্রিত খরচ (Controlled costs)
কেনাকাটায় ডেবিট কার্ড ব্যবহারে আপনি কখনই খরচের সাধ্যের বাইরে যেতে পারবেন না কেননা যদি অ্যাকাউন্টে টাকা না থাকে তবে কার্ড ঘষার মেশিনে ডেবিট কার্ড ঘষে টাকা তুলতেই পারবেন না। শুধু কিছু ব্যাঙ্ক বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে ওভারড্রাফট সুবিধা দিয়ে থাকে ডেবিট কার্ডের ক্ষেত্রে।

• সুদ নেই (No interest)
ডেবিট কার্ডে লেনদেনের ক্ষেত্রে সুদ নিয়ে ভাবতে হবে না যেহেতু সকল লেনদেনের ক্ষেত্রে টাকা প্রদান করা হয় আগেভাগে।

• চৌর্যবৃত্তি ঠেকাতে (To prevent thieves)
চুরি হয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ডেবিট কার্ডে কিছু সুবিধা পাওয়া যায় কেননা বেশীরভাগ ডেবিট কার্ডেই কার্ডধারী নির্দিষ্ট সংখ্যকবার এবং নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা তুলতে পারে। এছাড়াও PIN নম্বর ডেবিট কার্ডের সামগ্রিক নিরাপত্তা বাড়িয়ে তোলে।

ডেবিট কার্ডের অসুবিধাসমূহ (Disadvantages of Debit Card)
নিম্নে ডেবিট কার্ডের অসুবিধাসমূহ তুলে ধরা হলো-

• হ্রাসকৃত পুরস্কার পয়েন্ট (Reduced reward points)
কেনাকাটা হতে প্রাপ্ত পুরস্কার পয়েন্ট ডেবিট কার্ডের ক্ষেত্রে অনেক কম ক্রেডিট কার্ড থেকে। এছাড়াও বেশীরভাগ ডেবিট কার্ড কেনাকাটা বা লেনদেনে কোন প্রকার পুরস্কার পয়েন্ট প্রদান করে না।

• ক্রেডিট স্কোর বাড়ায় না (Credit scores not increase)
যদি আপনার লেনদেনের হিসেবনামার হালচাল সুবিধাজনক না হয়, ডেবিট কার্ড দিয়ে কেনাকাটা করলে ক্রেডিট স্কোর বাড়বে না। মনে রাখতে হবে, ক্রেডিট স্কোর কম থাকলে ব্যক্তিগত লোন নেয়া কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে।

• নিয়মিত ব্যালান্স চেক (Regular balance checks)
যদি আপনি নিয়মিত ডেবিট কার্ড ব্যবহার করেন, সেক্ষেত্রে আপনাকে নিয়মিত অ্যাকাউন্ট ব্যালান্স ক্ষতিয়ে দেখতে হবে। ব্যয়ের ক্ষেত্রে সীমা ছাড়িয়ে যাওয়া যাবে না কেননা সেক্ষেত্রে বড়সড় ওভারড্রাফট জরিমানা হতে পারে যদি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেয়া হয়।

সত্যি বলতে সবকিছুর মতোই ডেবিট কার্ডের সুবিধা ও অসুবিধা দুইটিই আছে। খরচের ব্যক্তিগত অভ্যেস, মাসিক চাহিদা ইত্যাদির উপর নির্ভর করে এটি ব্যবহার করতে পারেন।

Leave a Reply