বিট কয়েন কী এবং কেন?

0

ক্রিপ্টোগ্রাফিক কয়েন ভার্চুয়াল মুদ্রা বিট কয়েনের ব্যবহার ক্রমাগত বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র, চীন, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, জার্মানি ও ভারতের মতো বিশ্বের বেশ কিছু দেশে বিকেন্দ্রীকরণ পদ্ধতির এই ডিজিটাল মুদ্রাব্যবস্থার প্রচলন শুরু হয়েছে। অনলাইনে পণ্যমূল্য পরিশোধ করে বিট কয়েনের মতো লাইট কয়েন, পিয়ার কয়েন, রিপল, ড্রাক কয়েন, ডগ কয়েন, নেম কয়েন- এমন অন্তত ডজনখানেক ভার্চুয়াল কয়েন দিয়ে কেনা যাচ্ছে প্রয়োজনীয় পণ্যও। অনলাইন থেকে পণ্য ক্রয়ে এই মুদ্রার কার্যক্রম শুরু হয়েছে বাংলাদেশেও।

২০০৯ সালের জানুয়ারি মাসে অনলাইন বিশ্বে বিটকয়েনের আবির্ভাব ঘটে। ২০০৮ সালে সাতোশি নাকামোতো নামের জনৈক সফটওয়্যার ডেভেলপার এই বিটকয়েন আবিষ্কার করেন। এটিই বিশ্বের প্রথম ভার্চুয়াল কারেন্সি। ইলেকট্রনিক উপায়ে সৃষ্ট এই বিনিময় মাধ্যমটি পিয়ার টু পিয়ারের মাধ্যমে আদান-প্রদান হয়। বর্তমানে কানাডা, মেক্সিকো, নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি ও ডেনমার্কে বিটকয়েনের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। তবে এখনও বৈধ বা আনুষ্ঠানিক মুদ্রা হিসেবে স্বীকৃতি পায়নি। কেবল নিরাপত্তা ও বিকেন্দ্রীকরণ সুবিধায় জনপ্রিয়তার বিচারে বিস্তৃতি লাভ করছে।

বিট কয়েন কী?
বিট কয়েন একটি অনলাইন নির্ভর ক্রিপ্টোকারেনসি বা ডিজিটাল মুদ্রা যার কোন বাস্তব অস্তিত্ব নেই। অর্থাৎ অন্যান্য মুদ্রার মত এটি ধরা ছোঁয়া যায় না; কোন ব্যাংকের ভল্টে কিংবা ক্যাশ বাক্সে এটি রাখা যায় না। এই মুদ্রার কোন নিয়ন্ত্রণকারী দেশ বা ব্যাংক নেই। সাধারণত মুদ্রা ব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণের উদ্দেশ্য থেকে এই মুদ্রার ধারণা চালু হয়। ব্যাংক ব্যবস্থার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত মুদ্রা দিয়ে কোন পণ্য বা সেবার লেনদেন করতে গেলে সেই লেনদেন যেমন কোন দেশ, ব্যাংক বা সংস্থা কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয়, এই মুদ্রার সেরকম কোন নিয়ন্ত্রণ কারী নেই। তাই এই মুদ্রা দিয়ে সারা বিশ্বে সকল প্রকার বৈধ অবৈধ লেনদেন নিশ্চিন্তে সম্পন্ন করা যায়।

সহজ কথায়- বিটকয়েন হল একটি বিকেন্দ্রীভূত ডিজিটাল মূদ্রাব্যবস্থা যা কোন মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই সরাসরি কিনতে, বিক্রয় এবং বিনিময় করতে পারেন। অর্থাৎ বিট কয়েন লেনদেন করতে কোন মধ্যস্থতাকারী লাগেনা। কোন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান এই লেনদেনের মাঝে নেই। অন্যান্য মূদ্রার সাথে যেমন ঐ দেশের সরকার ও কেন্দ্রিয় ব্যাংক সরাসরি যুক্ত থাকে বিট কয়েনে তেমনটি থাকেনা।

ব্যাংকিং নিউজ বাংলাদেশ (A Platform for Bankers Community) প্রিয় পাঠকঃ ব্যাংকিং বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ খবরগুলো আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ ব্যাংকিং নিউজ বাংলাদেশ এ লাইক দিন এবং ফেসবুক গ্রুপ ব্যাংকিং ইনফরমেশন এ জয়েন করে আমাদের সাথেই থাকুন।

বিট কয়েনের আবিস্কারক
বিট কয়েন কে আবিস্কার করেছেন তা আজ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি। তবে ধারণা করা হয়, ২০০৯ সালে সাতোশি নাকামোতো ছদ্মনামে কোন এক ব্যক্তি বা গোষ্ঠী একটি সফটওয়্যার চালুর মাধ্যমে এই ভার্চুয়াল মুদ্রা ব্যবস্থার প্রচলন করে যা পিয়ার-টু-পিয়ার মুদ্রা বা ক্রিপ্টোকারেন্সি বলে ব্যাপক পরিচিতি পায়। যাকে আজ আমরা বিট কয়েন বলছি। এর সাংকেতিক নাম BTC এবং আর ক্ষুদ্র একক হল সাতোশি। ১ বিটকয়েন সমান ১০ কোটি সাতোশি।

২০০৯ সালে এটি সবার সামনে উম্মোচিত হলেও ২০০৭ সাল থেকে তারা এটি নিয়ে কাজ শুরু করেন। ১৮ আগস্ট ২০০৮ সালে www.bitcoin.org ডোমেইন নেমটি রেজিস্টার করা হয় এবং একই বছর নভেম্বরে সাতোশি নাকামোতো বিশদভাবে বিটকয়েন কি এবং কিভাবে কাজ করে তা প্রকাশ করেন।

২০১০ সালে সাতোশি নাকামোতো বিটকয়েন Network Key এবং বিটকয়েন কোর (সফটওয়্যার ওয়ালেট যেখানে বিটকয়েন সংরক্ষণ করা হয়) এর কোড রিপোজিটরির দখল গ্যাভিন অ্যান্ড্রেসেন নামে এক সফটওয়্যার ডেভেলপার এর কাছে হস্তান্তর করেন। এরপরেই গ্যাভিন অ্যান্ড্রেসেন বিটকয়েন ফাউন্ডেশোনের প্রধান ডেভেলপার হিসেবে পদপ্রাপ্ত হন। উল্লেখ্য বছরের পর থেকে সাতোশি নাকামোতোর আর কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি।

বিটকয়েন এর বাজার মূল্য
প্রথম দিকে ১৩০৯ বিটকয়েন সমান ১ ডলার ছিল, অবাধ ও নিয়ন্ত্রনহীন লেনদেনের সুবিধার কারণে খুব দ্রুত সারা বিশ্বে বিটকয়েন গ্রহণযোগ্যতা পায়। বর্তমানে ২৫ জুলাই ২০১৯ এর হিসাব অনুযায়ী ১ বিটকয়েন সমান প্রায় ৯,৯৯৩ ডলার যা বাংলাদেশি টাকার হিসেবে প্রায় ৮৪৪,৩৪৮ টাকা। বিটকয়েন রাখার জন্য কোন ব্যক্তি কে অবশ্যই একটি অনলাইন ওয়ালেট থাকতে হবে প্রতি বিটকয়েন ওয়াললেট এর বিপরীতে একটি ইউনিক আইডি বা অ্যাকাউন্ট নম্বর দেয়া হয়। যেখান থেকে আপনি বিটকয়েন খরচ করতে পারবেন অথবা, জমা করতে পারবেন।

২০০৯ সালে বিট কয়েন সবার সামনে আসার পর থেকে বিটকয়েনের মূল্য নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। প্রথমে ডলারের বিপরীতে প্রতি বিটকয়েনের দাম ১৫০.০০ ডলারের নিচে ছিল কিন্তু ২০২১ সালে প্রতি বিটকয়েন প্রায় ৬০,০০০.০০ ডলার উঠে যায়। এবং ধারণা করা হয় সময়ের সাথে সাথে এর দাম আরও বাড়তেই থাকবে। কারণ এর সরবরাহ ২১ মিলিয়ন কয়েনের মধ্যে সীমাবদ্ধ। একারনেই একে স্বর্ণের সাথে তুলনা করেন অনেকে। স্বর্ণ যেমন পৃথিবীতে সীমিত, তেমনি বিট কয়েন। এর দাম বাড়ার পেছনে এটাও একটি কারণ।

২০২১ সালের মে মাসে ১ বিট কয়েন সমান প্রায় ৬০,০০০.০০ ডলার বা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৫১,০০,০০০.০০ টাকা ছিল আবার এখনকার সময়ে মানে আজ ২০২১ জুলাই মাসে ৩৩,০০০.০০ ডলার বা ২৮,০০,০০০.০০ টাকা।

বিট কয়েন আসলে কোনো কয়েন নয়। এটি একটি ভার্চুয়াল মুদ্রা, যা কম্পিউটারের মাধ্যমে আদানপ্রদান করা হয়। বিট কয়েনের সাংকেতিক প্রতীক হল BTC, এবং এর ক্ষুদ্র একক হল সাতোশি। ১ বিট কয়েন সমান ১০০০ মিলি বিটয়েন এবং সাতোশি ১ বিটকয়েন সমান ১ কোটি সাতোশি। বিট কয়েন কোনো ক্যাশবাক্স বা ব্যাংকে রাখা যায় না। এই মুদ্রার নির্দিষ্ট কোনো নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাও নেই।এটি অনলাইনের মাধ্যমে লেনদেন করা হয়।

যেহেতু এটি একটি ক্রিপ্টোক্রারেন্সি সিস্টেম তাই অনলাইনে সকল প্রকার বৈধ ও অবৈধ কাজে এটি ব্যবহার করা হয় এবং যেহেতু নির্দিষ্ট কোনো নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা নেই তাই বিটকয়েনের মাধ্যমে লেনদেন করলে কে বা কারা করছে এটি ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়।

বিটকয়েন সংগ্রহ বা উপার্জন বা আয়
নিম্নোক্ত মাধ্যমে বিটকয়েন সংগ্রহ বা উপার্জন বা আয় করা যায়-
১) অন্যান্য মুদ্রার মতো কোন কিছু ক্রয় বা বিক্রয় করে আপনি বিটকয়েন পেতে পারেন।
২) অন্য কোন মুদ্রা বিনিময়ের মাধ্যমে বিটকয়েন পাওয়া যায়।
৩) কোন ওয়েব সাইটে কাজ করার মাধ্যমে বিটকয়েন পাওয়া যায়।
৪) এটি যেহেতু এটা ক্রিপ্টোকারেন্সি, সেহেতু অনলাইনে মাইনিং এর মাধ্যমে বিট কয়েন সংগ্রহ করা যায়। মাইনিং হল সারা পৃথিবীর কোন না কোন প্রান্তে বিটকয়েনের মাধ্যমে সংঘটিত হওয়া কোনো লেনদেন কে কোন ইউজার কর্তৃক অথরাইজ করার জন্য একটি স্বয়ংক্রিয় অ্যালগরিদম প্রক্রিয়া।

কোন কোন কাজে বিট কয়েন
সাধারণত আইনশৃঙ্খলা পরিপন্থি কাজেই বিট কয়েন ব্যবহার করা হয়। মাদক কেনাবেচা, অস্ত্র ব্যবসা এমনকি খুন খারাবির কাজেও বিট কয়েন ব্যবহার করা হচ্ছে। ডার্ক-অয়েবে বিট কয়েনের মাধ্যমে সব লেনদেন করা হয়। ডার্ক-অয়েব ইন্টারনেটের একটি গোপন অন্ধকার জগৎ। বিট কয়েনের জনপ্রিয়তা ও দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেকে বিট কয়েন সংগ্রহ করে রাখছেন।

বিট কয়েন সংগ্রহ করে রাখার জন্য কোনো ব্যক্তির অবশ্যই একটি অনলাইন ওয়ালেটের বিপরীতে একটি ইউনিক আইডি বা অ্যাকাউন্ট নাম্বার দেওয়া হয়, যেখান থেকে গ্রাহক বিটকয়েন খরচ বা জমা করতে পারেন। অনেক উপায়ে বিটকয়েন উপার্জন করা যায়, যেমন কিছু ওয়েবসাইটের কাজ করে, কোনো মুদ্রা বিনিময়ের মাধ্যমে, কোনো কিছু বিক্রয়ের মাধ্যমে। তবে বিটকয়েন উপার্জনের সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম হচ্ছে বিটকয়েন মাইনিং করা।

ভার্চুয়াল মুদ্রার ব্যবহার ইন্টারনেটের জগতে অনেকটা শেয়ার বা মুদ্রার মতো লেনদেন হয় বিটকয়েন নামের এই ভার্চুয়াল কারেন্সিটি। নিয়মিত এর দর বা বিনিময়মূল্য ওঠানামা করে। এটি নিজেই ডলার বা ইউরো_ এসব আন্তর্জাতিক মুদ্রাগুলোর মতো বিনিময়মাধ্যম। পৃথিবীর কোনো কোনো দেশে সীমিত পরিসরে বিটকয়েনকে ব্যবহার করা হয় নিজস্ব মুদ্রার মতো। বিট কয়েনের লেনদেনটি বিটকয়েন ইউজারদের পিসিতেই সংরক্ষিত থাকে। পিয়ার টু পিয়ার যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুক্ত থাকা একাধিক কম্পিউটার বা স্মার্টফোনের মধ্যে বিটকয়েন লেনদেন হলে এর ইউজার রেফারেন্স অনুযায়ী লেজার হালনাগাদ করে দেয়। অর্থাৎ কোনো ক্লিয়ারিং হাউসের খবরদারি নেই এখানে। ক্রিপ্টোগ্রাফিক প্রক্রিয়ায় বিটকয়েনের লেনদেন সম্পন্ন হয়।

বিট কয়েনের বাজার
আমাদের দেশে এখনও বিটকয়েনের ব্যবহার চালু হয়নি। বিশ্বে এখন ৭০২ কোটি ডলারের ওপর ভার্চুয়াল মুদ্রাবাজার রয়েছে। এর মধ্যে বিশ্বের প্রায় ৩৭টিরও বেশি দেশে বিটকয়েন ভার্চুয়াল মুদ্রাটির ব্যবহৃত হচ্ছে। এখনও তৈরি হচ্ছে বিটকয়েন মুদ্রা। প্রতিদিন মাইনিংয়ের মাধ্যমে এই মুদ্রা উৎপাদন করা হচ্ছে। নেটওয়ার্কের মধ্যে প্রতি দশ মিনিটে অ্যালগরিদম সমস্যার সমাধান করায় ২৫ মাইনারকে দেওয়া হচ্ছে বিটকয়েন। বর্তমানে এক কোটি ২৪ লাখ বিটকয়েন প্রচলিত আছে।

এর মোট বাজারদর এখন ৬২০ কোটি ডলার। ২১৪০ সাল পর্যন্ত নতুন সৃষ্টি হওয়া বিট কয়েনগুলো প্রতি চার বছর পরপর অর্ধেকে নেমে আসবে। ২১৪০ সালের পর ২১ মিলিয়ন বিটকয়েন তৈরি হয়ে গেলে আর কোনো নতুন বিটকয়েন তৈরি করা হবে না। তাই চাইলে বাংলাদেশ থেকেও যোগ্য কম্পিউটার সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়াররা এই ভার্চুয়াল মুদ্রাটি উৎপাদনে অংশ নিতে পারেন। একটি বিটকয়েনের বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী তিনিও দশ মিনিটে আয় করতে পারেন ৫০৮ ডলার বা ৩৯ হাজার ৫০০ টাকা।

বিট কয়েন লেনদেন যেভাবে হয়
বিট কয়েন এর সকল ট্রানজেকশন/ লেনদেন হয় অনলাইনে। কেউ আপনার ট্রানজেকশন/ লেনদেন সম্পর্কে কিছুই জানবে না। কোন দেশ কিংবা কোন ব্যাংক আপনার লেনদেন সম্পর্কে অবগত থাকবে না। লেনদেন হবে কম্পিউটার থেকে কম্পিউটারে। বিট কয়েন থাকবে আপনার কম্পিউটারের ওয়ালেটে কিংবা পেনড্রাইভে অথবা ক্লাউডে। এই মূদ্রা রাখার জন্য না লাগে মানি ব্যাগ, না লাগে আলমারি বা সিন্দুক, না লাগে কোন ব্যাংক।

বিট কয়েন এর লেনদেন কোনো ব্যাংকিং ব্যবস্থা নাই। ইলেকট্রনিক অনলাইন মাধ্যমে দুজন ব্যবহারকারী তাদের মধ্যে সরাসরি (পিয়ার-টু-পিয়ার) আদান-প্রদান করে থাকেন। লেনদেনের নিরাপত্তার জন্য ব্যবহার করা হয় ক্রিপ্টোগ্রাফি নামক পদ্ধতি। কেউ কারো পরিচয় না জেনেই বিট কয়েন আদান প্রদান করতে পারেন ওয়ালেটের মাধ্যমে।

বিট কয়েনের সমস্ত কিছু সম্পন্ন করা হয় অনলাইনে একটি ওপেন সোর্স সফটওয়্যার দিয়ে। যা ব্লকচেইন নামে পরিচিত। ব্লকচেইন সকল লেনদেনের তারিখ ও অন্যান্য তথ্য যেমন- ক্রেতা, বিক্রেতা, সময়, পরিমান ইত্যাদি উপাত্ত ধারণ করে এবং ক্রমান্বয়ে চেইন আকারে সংরক্ষণ করে। বিটকয়েন মাইনিং এর মাধ্যমে যে কেউ বিটকয়েন উৎপন্ন করতে পারে। বিটকয়েন তৈরি করার প্রক্রিয়াটা সবসময় অনুমানযোগ্য এবং সীমিত। বিটকয়েন উৎপন্ন হওয়ার সাথে সাথে এটি গ্রাহকের ডিজিটাল সিকিউরড ওয়ালেটে সংরক্ষিত থাকে।

এই সংরক্ষিত বিট কয়েন যদি গ্রাহক কর্তৃক অন্য কারো অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয় তাহলে এই লেনদেনের জন্য একটি স্বতন্ত্র ইলেক্ট্রনিক স্বাক্ষর তৈরী হয়ে যায় যা অন্যান্য মাইনার কর্তৃক নিরীক্ষিত হয় এবং নেটওয়ার্কের মধ্যে গোপন অথচ সুরক্ষিতভাবে সংরক্ষিত হয়। সাথে সাথে গ্রাহকের বর্তমান লেজার সেন্ট্রাল ডাটাবেজে আপডেট করা হয়।

বিট কয়েন দিয়ে কোন কিছু কেনা হলে তা বিক্রেতার অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয় এবং বিক্রেতা আবার সেই বিটকয়েন দিয়ে পণ্য কিনতে পারে, অপরদিকে একই পরিমাণ বিট কয়েন ক্রেতার ওয়ালেট থেকে কমিয়ে দেওয়া হয়। প্রত্যেক চার বছর পর পর বিটকয়েনের মোট সংখ্যা পুনঃনির্ধারন করা হয় যাতে করে বাস্তব মুদ্রার সাথে সামঞ্জস্য রাখা যায়।

বিট কয়েন এতো জনপ্রিয়তা পাচ্ছে কেন
গোটা পৃথিবী জুড়েই দেখা গেছে, বিট কয়েন শুরু থেকেই ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। আসলে এই জনপ্রিয়তার মূল কারণ কি? খতিয়ে দেখলে জনপ্রিয়তার কারণ হিসেবে দেখা যায়-
✓ মানুষের মাঝে অতি উৎসাহ একে জনপ্রিয় করে তুলেছে।
✓ বিট কয়েনের আদান প্রদান খুব সিকিউরড।
✓ কেন্দ্রিয় ব্যাংকের অগোচরে লেনদেন করা যায়।
✓ অর্থ পাচার ও অজস্র ব্যবসার লেনদেনের মাধ্যম।
✓ এর মূল্যের উর্ধগতির কারনে ব্যাপক চাহিদার বিপরিতে সরবরাহ সীমিত।
✓ বিশ্বের ধনী ব্যক্তিরা একে ভবিষ্যতের মূদ্রা ভেবে স্টক করে বিনিয়োগ করছেন।
✓ কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান (paypal) ও দেশ (Australia, Canada, Japan) বিট কয়েনকে বৈধতা দেয়া।

আরও দেখুন:
ফিনটেক কী এবং কেন?
ফিনটেক এবং ব্যাংকিং খাতের ভবিষ্যৎ

বিট কয়েন এর সুবিধা
১. বিট কয়েন পদ্ধতি অনেকটা নতুন বিষয়। এটাও এক ধরনের পেইজা, পেপাল, মানি বুকার্স এর মত বিট কয়েন লেনদেন পদ্ধতি বা গেট ওয়ে। তবে একে আলাদা ভাবে দেখা হয় অনেকটা এর নাম টির জন্য এবং এর Authorization এর পার্থক্য এর জন্য।
২. আরেকটি সুবিধা হল এর সিকিউরিটি। বিট কয়েন ব্যবহার করতে, একটি বিটকয়েন অ্যাড্রেস তৈরি করা লাগবে। এই অ্যাড্রেস সাধারনত ৩৪ Character-এর হয়। এই কারনেই এটা এতো বেশি সিকিউর।
৩. বিট কয়েন এর জন্য আপনি আপনার সরকার বা অন্য কারো কাছে আপনার হিসাব দিতে হবে না৷ আয়ের উৎস দেখাতে হয় না। এজন্য ব্লাক হ্যাট হ্যাকাররা কোনো কিছুর মূল্য বাবদ বিট কয়েন নিয়ে থাকে।
৪. কোনো ব্যবহারকারী যদি নিজে থেকে বিট কয়েন এর ট্রানজেকশন বা লেনদেন এর হিসাব কাউকে না দেয় তবে এটা কেউ জানতে পারবে না।
৫. আরেকটি বিষয় হচ্ছে কখনো আপনার বিট কয়েন অ্যাকাউন্ট কেউ ফ্রিজ বা বাজেয়াপ্ত করতে পারবে না। এমনকি কোনো দেশের সরকারও না।
৬. ব্যাংক ব্যবহার করতে হলে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এর জন্য আমাদের একটা ফি ব্যাংককে প্রদান করতে হয়, সে আমি লেনদেন করি বা না করি। বিট কয়েন এর ক্ষেত্রে আপনাকে এক পয়সাও দিতে হবে না। শুধুমাত্র টাকা ইউথড্রো করতে কিছু পরিমাণ ফি নেয়।
৭. আরেকটা অন্যতম উপযোগী হচ্ছে এর অনলাইন বা ইন্টারনেটে তরলত্য, ইন্টারনেট এ এটি খুব সহজে ব্যবহারযোগ্য।

বিট কয়েন এর অসুবিধা
১. এটাও যেহেতু একটি অনলাইন কারেন্সি, এটিকে যখন আপনি ব্যবহার করতে যাবেন তখন একটু ঝামেলায় পড়তে পারেন, কারণ খুব অল্প সংখ্যায় মারচেন্টাস এটাকে টাকায় কনভার্ট করতে পারে, এজন্য এখনো এর বিস্তৃত ব্যবহার ওভাবে হয়ে ওঠেনি। যদিও উন্নত দেশগুলোতে এটিকে নরমাল, পেপাল এর মত স্বীকৃত দিয়েছে।
২. যেহেতু অনলাইন কারেন্সি তাই যদি একটি হার্ড ড্রাইভ ক্রাস করে বা ভাইরাস এর ডেটাকে করাপ্টেড করে দেয় তবে আপনি আজীবন এর জন্য আপনার অ্যাকাউন্ট ও টাকা হারিয়ে ফেলবেন। যা কখনোই রিকভার করা সম্ভব হবে না।
৩. বিট কয়েন এর দাম বা মূল্য মাঝে মধ্যে অস্বাভাবিক ভাবে ওঠা নামা করেছে। যেমন- ২০১১ সালের জুনে বিট কয়েনের দাম ছিল ৯.৯ বা ১০ ডলার যার দাম মাত্র একমাসের ব্যবধানে ১ ডলার এর নিচে নেমে আসে। যদিও এটি বিট কয়েন এর ইতিহাস এ সব চেয়ে বড় ফল ডাউন।
৪. ২০১৯ সালের মে মাসের কথা, তাইওয়ান বেজড একটি কারেন্সি এক্সচেঞ্জ কোম্পানি দাবী করে হ্যাকাররা প্রায় ৭০০০ বিট কয়েন হ্যাক করে। তাও এক ট্রাঞ্জেকশন এ শুধু। যখন ১ বিট কয়েন এর দাম ছিল প্রায় ৬,000 USD । হ্যাকাররা কিন্তু বিট কয়েন এর সিস্টেমটি হ্যাক করেনি, করেছিল এক্সচেঞ্জ কোম্পানির সার্ভার।

বিট কয়েনের প্রতিদ্বন্দ্বী
বিট কয়েনের চোখ ধাঁধানো উত্থান দেখে আরও অনেক (হাজারেরও বেশি) ভার্চুয়াল কয়েনের প্রচলন শুরু হয়ে গেছে। যদিও এর মাঝে কয়েকটি বাদে বেশিরভাগই তেমন জনপ্রিয় নয়। জনপ্রিয় ১০টি ভার্চুয়াল কয়েনের নাম হলো- ইথেরিয়াম (ETH), লাইট কয়েন (LTC), কারডানো (ADA), পোল্কাডোট (DOT), বিট কয়েন ক্যাশ (BCH), স্টেলার (XLM), চেইন লিংক (Chainlink), বাইন্যান্স কয়েন (BNB), তেথার (USDT), মনেরো (XMR)। এর বাইরে আরও হাজার ভার্চুয়াল কারেন্সি রয়েছে। আবার অনেক কয়েন টিকতে না পেরে বিলুপ্তও হয়ে গেছে।

বাংলাদেশে বিট কয়েনের বৈধতা
বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১৪ সালে বিট কয়েন লেনদেনকে অবৈধ বলে ঘোষণা দেয়। তাদের মতে, “এসব মুদ্রায় লেনদেন বাংলাদেশ ব্যাংক বা অন্য কোন নিয়ন্ত্রক সংস্থা কর্তৃক অনুমোদিত নয় বিধায় এসব ভার্চুয়াল মুদ্রার ব্যবহার বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৪৭; সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯ এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর দ্বারা সমর্থিত হয় না”। তাই কখনই কারও সাথে কেনাবেচা কিংবা বিট কয়েনে বিনিয়োগে উৎসাহী হবেন না। জেল-জরিমানা কিংবা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা দ্বারা হেনেস্থার শিকার হতে পারেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক কিপ্টোকারেন্সি নিয়ে আবারও সতর্ক করলো
অনলাইনে ভার্চ্যুয়াল মুদ্রায় লেনদেন করার ক্ষেত্রে আবারও সর্তকতা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সম্প্রতি কয়েকটি গণমাধ্যমে ভার্চ্যুয়াল মুদ্রা/ ক্রিপ্টোকারেন্সি বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদ নজরে আসার পরে এক বিবৃতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর আগে ২০১৭ সালে ২৪ ডিসেম্বর সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন প্রচার করে কিপ্টোকারেন্সিতে লেনদেনের বিষয়টি মানুষের নজরে আনার চেষ্টা করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, একটি নির্দিষ্ট মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার গোপনীয় ব্যবহারের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক প্রেরিত মতামতের অংশ বিশেষ কোনো কোনো পত্রিকায় খণ্ডিতভাবে উপস্থাপিত হয়েছে, যা কোনক্রমেই সাধারণভাবে প্রচারযোগ্য নয়।

আরও বলা হয়, “সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এবং ইন্টারনেট হতে প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায় যে, অনলাইন ভিত্তিক ভার্চ্যুয়াল মুদ্রা বা কিপ্টোকারেন্সি যথা বিটকয়েন, ইথিরিয়াম, রিপিল, লাইটকয়েন ইত্যাদি বিবিধ বিনিময় প্লাটফর্মে লেনদেন হচ্ছে। এসব ভার্চ্যুয়াল মুদ্রা কোনো দেশের বৈধ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ইস্যুকৃত বৈধ মুদ্রা নয় বিধায় এর বিপরীতে কোনো আর্থিক দাবির স্বীকৃতও থাকে না।

এসব মুদ্রায় লেনদেন বাংলাদেশ ব্যাংক বা অন্য কোনো নিয়ন্ত্রক সংস্থা কর্তৃক অনুমোদিত নয় বিধায় এসব ভার্চ্যুয়াল মুদ্রার ব্যবহার বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৪৭; সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯ এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর দ্বারা সমর্থিত হয় না।

অনলাইনে নামবিহীন/ছদ্মনামিক প্রতিসঙ্গীর সাথে ভার্চ্যুয়াল মুদ্রায় লেনদেনের দ্বারা অনিচ্ছাকৃতভাবে মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ সম্পর্কিত আইনের লঙ্ঘন হতে পারে। মূলত অনলাইন ভিত্তিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ভার্চ্যুয়াল মুদ্রায় অর্থমূল্য পরিশোধ ও নিষ্পত্তি সংঘটিত হয় এবং এটি কোনো কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ/পেমেন্ট সিস্টেম নিয়ন্ত্রণ কতৃর্পক্ষ কর্তৃক স্বীকৃত না হওয়ায় গ্রাহকরা ভার্চ্যুয়াল মুদ্রার সম্ভাব্য আর্থিক ও আইনগত ঝুঁকিসহ বিভিন্ন ঝুঁকির সম্মুখীন হতে পারেন।

এমতাবস্থায়, সম্ভাব্য আর্থিক ও আইনগত ঝুঁকি এড়ানোর লক্ষ্যে বিটকয়েনের ন্যায় ভার্চুয়াল মুদ্রায় লেনদেন বা এসব লেনদেনে সহায়তা প্রদান ও এর প্রচার হতে বিরত থাকার জন্য সর্বসাধারণকে অনুরোধ করা যাচ্ছে।”

বাংলাদেশ ব্যাংক ক্রিপ্টোকারেন্সির বৈধতা নিয়ে যা জানাল
দেশে কোনো প্রকার ভার্চুয়াল মুদ্রা বা ক্রিপ্টোকারেন্সি অনুমোদিত নয় বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে সম্ভাব্য আর্থিক ও আইনগত ঝুঁকি এড়াতে যে কোনো ধরনের ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ভার্চুয়াল মুদ্রায় লেনদেন অথবা এধরনের কাজে সহায়তা করা থেকে সকল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে বিরত থাকতে বলেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের কমিউনিকেশন্স অ্যান্ড পাবলিকেশন্স বিভাগের মহাব্যবস্থাপক (সহকারী মুখপাত্র) জী. এম আবুল কালাম আজাদ স্বাক্ষরিত জনস্বার্থে জারি করা এক সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়।

উল্লেখ্য, ভার্চুয়াল মুদ্রা ক্রিপ্টোকারেন্সির মালিকানা, সংরক্ষণ এবং লেনদেন করা অপরাধ কিংবা অবৈধ নয় সম্প্রতি এই মর্মে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ একটি চিঠি পাঠায়। ওই চিঠির সূত্র ধরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেশে ভার্চুয়াল মুদ্রা ক্রিপ্টোকারেন্সির বৈধ না অবৈধ সে বিষয় নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

ক্রিপ্টোকারেন্সি সংক্রান্ত সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক এই স্পষ্টীকরণ বিজ্ঞপ্তি জারি করে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে ভার্চুয়াল মুদ্রা/ক্রিপ্টোকারেন্সি বিষয়ে প্রকাশিত রিপোর্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরে এসেছে। একটি নির্দিষ্ট মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার গোপনীয় ব্যবহারের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পত্রের মাধ্যমে প্রেরিত মতামতের অংশ বিশেষ কয়েকটি পত্রিকায় খণ্ডিতভাবে উপস্থাপিত হয়েছে যা কোনোক্রমেই সাধারণভাবে প্রচারযোগ্য নয়।

উল্লেখ্য, সকলের সচেতনতার লক্ষ্যে ভার্চুয়াল মুদ্রায় লেনদেন থেকে বিরত থাকার বিষয়ে ২০১৭ সালের ২৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংক গণমাধ্যমে ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে একটি সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি প্রচার করে।

প্রচারিত সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম এবং ইন্টারনেট থেকে প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায় যে, অনলাইন ভিত্তিক ভার্চুয়াল মুদ্রা বা ক্রিপ্টোকারেন্সি যথা বিটকয়েন, ইথারিয়াম, রিপল ইত্যাদি বিবিধ বিনিময় প্লাটফর্মে লেনদেন হচ্ছে। এসব ভার্চুয়াল মুদ্রা কোনো দেশের বৈধ কর্তৃপক্ষ ইস্যুকৃত বৈধ মুদ্রা নয় বিধায় এর বিপরীতে কোনো আর্থিক দাবির স্বীকৃতিও থাকে না।

এসব মুদ্রায় লেনদেন বাংলাদেশ ব্যাংক বা অন্য কোনো নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদিত নয় বিধায় এসব ভার্চুয়াল মুদ্রার ব্যবহার বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৪৭: সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯ এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর দ্বারা সমর্থিত হয় না। অনলাইনে নামবিহীন/ছদ্মনামিক প্রতিসঙ্গীর সঙ্গে ভার্চুয়াল মুদ্রায় লেনদেনের দ্বারা অনিচ্ছাকৃতভাবে মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ সম্পর্কিত আইনের লঙ্ঘন হতে পারে।

সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, মূলতঃ অনলাইন ভিত্তিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ভার্চুয়াল মুদ্রায় অর্থমূল্য পরিশোধ ও নিষ্পত্তি সংঘটিত হয় এবং এটি কোনো কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ/পেমেন্ট সিস্টেম নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ স্বীকৃত না হওয়ায় গ্রাহকরা ভার্চুয়াল মুদ্রার সম্ভাব্য আর্থিক ও আইনগত ঝুঁকিসহ বিভিন্ন ঝুঁকির সম্মুখীন হতে পারেন। এ অবস্থায়, সম্ভাব্য আর্থিক ও আইনগত ঝুঁকি এড়ানোর লক্ষ্যে বিটকয়েনের ন্যায় ভার্চুয়াল মুদ্রায় লেনদেন বা এসব লেনদেনে সহায়তা প্রদান ও এর প্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য সর্বসাধারণকে অনুরোধ করা যাচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে সর্বসাধারণের জ্ঞাতার্থে জানানো যাচ্ছে যে, কোনো ভার্চুয়াল মুদ্রা বা ক্রিপ্টোকারেন্সি বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত নয়। সম্ভাব্য আর্থিক ও আইনগত ঝুঁকি এড়ানোর লক্ষ্যে যে কোনো ধরনের ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ভার্চুয়াল মুদ্রায় (যেমন বিটকয়েন, ইথারিয়াম, রিপল ইত্যাদি) লেনদেন অথবা এরূপ কার্যে সহায়তা প্রদান থেকে বিরত থাকতে সকল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে পুনরায় অনুরোধ করা যাচ্ছে। এ সংক্রান্ত প্রচারণা থেকে বিরত থাকার জন্য জনস্বার্থে এ সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হলো।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) পাঠানো এক চিঠিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ বলেছে ক্রিপ্টোকারেন্সির মালিকানা, সংরক্ষণ এবং লেনদেন করা অপরাধ কিংবা অবৈধ নয়। ক্রিপ্টোকারেন্সি এক ধরনের ভার্চুয়াল মুদ্রা, যার কোনো বাস্তব রূপ নেই। এর অস্তিত্ব শুধু ইন্টারনেট জগতেই আছে। এটি ব্যবহার করে লেনদেন শুধু অনলাইনেই সম্ভব, যার পুরো কার্যক্রম ক্রিপ্টোগ্রাফি নামক একটি সুরক্ষিত প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়। ২০১৭ সাল থেকে এটি একটি উঠতি মার্কেটে পরিণত হয়েছে।

অনলাইনে লেনদেন হওয়া এই মুদ্রার সংখ্যা এখন প্রায় ৮ হাজার। এগুলোর মধ্যে সবথেকে জনপ্রিয় হচ্ছে বিটকয়েন। ২০০৮ সালের শেষভাগে জাপানি নাগরিক সাতোশি নাকামোতো নামের একজন বা একদল সফটওয়্যার বিজ্ঞানী এই ‘ক্রিপ্টোকারেন্সির’ উদ্ভাবন করেন। গত ১৮ মে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগের সহকারী পরিচালক শফিউল আজম ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে ব্যাংকের অবস্থান জানিয়ে সিআইডিকে লেখেন, ‘ক্রিপ্টোকারেন্সির মালিকানা, সংরক্ষণ বা লেনদেন স্বীকৃত না হলেও এটিকে অপরাধ বলার সুযোগ নেই মর্মে প্রতীয়মান হয়।’

ওই চিঠিতে তিনি আরও বলেন, ভার্চুয়াল মুদ্রায় লেনদেনের ফলাফল হিসেবে দ্বিতীয় পর্যায়ে বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৪৭; সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২–এর আওতায় অপরাধ হতে পারে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সিআইডি এ নিয়ে অনুসন্ধান করে দেখতে পারে। একই চিঠিতে ক্রিপ্টোকারেন্সির বাজারদর সম্পর্কে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকের মতে বর্তমান বিশ্বে ভার্চুয়াল মুদ্রার বাজার দুই ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রচলনের প্রাথমিক পর্যায়ে বিশ্বের কোনো আইনগত কর্তৃপক্ষ এই মুদ্রাকে স্বীকৃতি দেয়নি।

কিন্তু বর্তমানে কয়েকটি দেশ যেমন: জাপান, সিঙ্গাপুর, আরব আমিরাত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং মুদ্রা নিয়ন্ত্রক সংস্থা ক্রিপ্টোকারেন্সির লেনদেনকে বৈধতা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এখন পর্যন্ত ক্রিপ্টোকারেন্সির মতো এ ধরনের প্রাইভেট কারেন্সিতে লেনদেন বা সংরক্ষণের অনুমোদন দেয়নি। কিন্তু কয়েক মাসের ব্যবধানে সিআইডিকে পাঠানো চিঠির মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক তার অবস্থান পরিবর্তন করলো বলে ধারণা করা যাচ্ছে। উল্লেখ্য, বর্তমানে বাংলাদেশে ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন বিষয়ক সাতটি মামলা হয়েছে, যার মধ্যে র‍্যাবেরই রয়েছে পাঁচটি মামলা।

Leave a Reply