ব্যাংকিং এর গঠন কাঠামো (Banking Structure) কি?

0
189

ব্যাংকিং নিউজ বাংলাদেশঃ একটি দেশে কার্যরত অবস্থায় বিভিন্ন ধরনের ব্যাংকিং প্রতিষ্টান দেখা যায়। এক এক প্রকার ব্যাংক এক এক ধরনের ব্যাংকিং কার্য সম্পাদন করে থাকে।

➡ Banking Structure (ব্যাংকিং গঠন কাঠামো)
বিশ্বের সকল দেশের উন্নয়নের গতি প্রকৃতি এক রকম নয়। বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক সংগঠন বিভিন্ন রকম এবং বিভিন্ন দেশের ব্যাংকিং পদ্ধতিও বিভিন্ন রকম। তবে সব ধরনের অর্থনৈতিক ও ব্যাংকিং উন্নয়নের মূলে রয়েছে কতকগুলো প্রভাব। এসব প্রভাব তথা কার্যকারয়িতার উপর ভিত্তি করে ব্যাংক ব্যবস্থার কাঠামোর দিক থেকে বিভিন্ন ধরনের শ্রেণীবিন্যাস করা হয়ে থাকে। নিন্মে ব্যাংকিং এর গঠন কাঠামো সংক্ষেপে আলোচনা করা হল-

ক) Unit Banking (একক ব্যাংকিং)
যে ব্যাংক শুধুমাত্র একটি অফিসের মাধ্যমে কোন নির্দিষ্ট এলাকা বা জনগোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে তাকে একক ব্যাংকিং বলা হয়। একটি মাত্র শাখা বা অফিসের মাধ্যমে এই ব্যাংক সেবা প্রদান করে বলে এর পরিধি ও সীমাবদ্ধ হয়ে থাকে। এ ধরনের ব্যাংককে সাধারণত এক মালিকানার ব্যাংক বলা হয়। তবে একক ব্যাংকিং অংশীদারি ও যৌথ মূলধনী কোম্পানিও হতে পারে। আমাদের দেশে কোন একক ব্যাংকিং নেই। যুক্তরাষ্ট্রে সর্বপ্রথম একক ব্যাংকিং প্রথার প্রচলন শুরু হয়।

খ) Branch Banking (শাখা ব্যাংকিং)
একটি প্রিন্সিপাল বা প্রধান শাখার অধীনে বিভিন্ন শাখার মাধ্যমে যে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে থাকে তাকে শাখা ব্যাংকিং ব্যবস্থা বলা হয়। অর্থাৎ প্রধান শাখার মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে শাখাগুলো পরিচালিত হয় এবং বিভিন্ন ব্যাংকিং সেবা প্রদান করে থাকে।

মোটকথা শাখা ব্যাংকিং ব্যবস্থা একটি বৃহদায়তন ব্যাংকিং ব্যবস্থা। এই ধরনের ব্যাংকিং ব্যবস্থার উৎপত্তি হয় যুক্তরাজ্যে। আমাদের দেশের পরিচালিত সকল ব্যাংক শাখা ব্যাংকিং এর আওতাভুক্ত।

গ) Chain Banking (চেইন ব্যাংকিং)
কতগুলো স্বতন্ত্র ব্যাংক নিজস্ব সত্তা বজায় রেখে বিশেষ কৌশলের মাধ্যমে একীভূত হয়ে একটি সাধারণ ব্যাংকিং সংস্থায় রূপান্তরিত হয় এবং একক নিয়ন্ত্রণাধীনে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হতে থাকলে তাদেরকে চেইন ব্যাংকিং বলে। আসলে চেইন ব্যাংকিং এর মূল উদ্দেশ্য হলো পারস্পরিক প্রতিযোগিতা বন্ধ করে একে অপরের স্বার্থের প্রতি লক্ষ্য রেখে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা, বিভাগীয়করণ, মিতব্যয়িতা অর্জন, যৌথ প্রচার ইত্যাদি। আমাদের দেশে চেইন ব্যাংকিং এর প্রচলন নেই।

ঘ) Group Banking (গ্রুপ ব্যাংকিং)
যখন সমজাতীয় কিন্তু অপেক্ষাকৃত দুর্বল ব্যাংকসমূহ একীভূত হয়ে কোন একটি শক্তিশালী ব্যাংকের অধীনে থেকে কার্যাবলী সম্পাদন করে থাকে তখন তাকে গ্রুপ ব্যাংকিং বলে। একীভূত ব্যাংকগুলোকে অধীনস্থ ব্যাংক এবং যে ব্যাংকের অধীনে দুর্বল ব্যাংকগুলো একীভূত হয়ে থাকে তাকে হোল্ডিং ব্যাংক বলে।

ঙ) Mixed Banking (মিশ্র ব্যাংকিং)
যে ধরনের ব্যাংক বিশেষায়িত ও বাণিজ্যিক উভয় ব্যাংকের কার্য সম্পাদন করে থাকে তাকে মিশ্র ব্যাংক বলে। অর্থাৎ মিশ্র ব্যাংক একদিকে যেমন বিশেষায়িত কাজ করে তেমনি বাণিজ্যিক কার্যাবলীও করে থাকে। এ ধরনের ব্যাংগুলো শিল্প-কারখানা ও অন্যান্য উৎপাদন কাজে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে দীর্ঘ ও মধ্যমেয়াদী এবং ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে স্বল্পমেয়াদি ঋণ দান করে থাকে। মিশ্র ব্যাংক জনগণের সঞ্চয় আমানত হিসেবে গ্রহণ করে এবং বিভিন্ন খাতে তা বিনিয়োগ করে থাকে। তবে আমাদের দেশে বড় বড় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো দীর্ঘমেয়াদী ঋণ দান করে আবার কিছুটা মিশ্র ব্যাংকের কার্যও সম্পাদন করে থাকে।

চ) Merchant Banking (মার্চেন্ট ব্যাংকিং)
বিনিময় ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ ব্যাংকিং এর সংমিশ্রণে গড়ে ওঠা ব্যাংককেই মার্চেন্ট ব্যাংক বলে। বৈদেশিক বাণিজ্যে এসব ব্যাংক গ্রাহকদের পক্ষে প্রত্যয়পত্র ইস্যু, রপ্তানিকারক কর্তৃক উত্থাপিত বিলে স্বীকৃতি দান ও বিলের অর্থ পরিশোধ করে। মার্চেন্ট ব্যাংক দীর্ঘমেয়াদে ঋণ দেয়, যৌথ উদ্যোগে অর্থ বিনিয়োগ করে এবং অবলেখকের দায়িত্ব পালন করে থাকে।

Leave a Reply