বন্ডের সুবিধা ও অসুবিধাসমূহ কী কী?

0
822

বন্ড হল এক ধরণের চুক্তি বা ঋণপত্র। বন্ড কাকে বলে সাধারণ অর্থে, যে চুক্তিপত্র বা ঋণপত্র মাধ্যমে কোন কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ঋণ মূলধন সংস্থান করে, সেই চুক্তিপত্র বা দলিলকেই বন্ড বলে। বন্ড হল বিনিয়োগকারীদের হাতিয়ার। বন্ড হল ইস্যুকারী এবং ধারকের মধ্যে একটি লিখিত চুক্তি পত্র। যেখানে ইস্যুকারী ধারককে বন্ডের লিখিত চুক্তি অনুযায়ী সুদের নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদান করেন।

বন্ডের সুবিধা ও অসুবিধা
বন্ড হলো একটি দীর্ঘমেয়াদি ঋণের দলিল। এর কিছু সুবিধা ও অসুবিধা রয়েছে। সেগুলো নিচে আলোচনা করা হলো-

বন্ডের সুবিধা
১. সুদের হারঃ বন্ডের ক্ষেত্রে সুদের হার নির্দিষ্ট থাকে ফলে বন্ডে বিনিয়োগকারীদের আয়ও নির্দিষ্ট থাকে। ফলে তাদের আয়ের নিশ্চিয়তা থাকে।
২. ঝুঁকি কমঃ বন্ড ইস্যুকারি প্রতিষ্ঠানকে বন্ডের বিপরীতে স্থায়ী বা অন্যান্য সম্পত্তি জামানত হিসেবে রাখতে হয়। ফলে বন্ডে বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি কম থাকে।
৩. মুনাফা এবং সম্পদের উপর অধিকারঃ কোম্পানির নিট মুনাফা থেকে সর্বপ্রথম বন্ড মালিকদের সুদ প্রদান করা হয় এবং কোম্পানি বিলুপ্তি বা অবসায়নের সময় সম্পদ বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে সর্বপ্রথম বন্ড মালিকদের পাওনা টাকা পরিশোধ করা হয়। অথার্ৎ যে কোন আর্থিক দাবি পূরণের সময় বন্ড মালিকদের দাবি সাধারণ এবং অগ্রাধিকার শেয়ার মালিকদের দাবির পূর্বে পরিশোধ করা হয়।
৪. বন্ড নিরাপদঃ বন্ডে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নিরাপদ সুবিধা আছে। কারণ নির্দিষ্ট মেয়াদপূর্তির পর আপনি বিনিয়োগের টাকা ফেরত পাবেন। তাছাড়াও বন্ডে লিখিত সুদের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করতে পারেন।
৫. ইক্যুইটিঃ অন্যান্য সিকিউরিটিজের উপর বন্ডের একটি সুবিধা আছে। স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদি বন্ডগুলো ইক্যুইটির চেয়ে কম।
৬. অর্থ ফেরতঃ বেশীরভাগ দেশের আইন অনুসারে, যদি কোন সংস্থা দেউলিয়া হয়ে যায়, তবে বন্ড হোল্ডারদের কিছু অর্থ ফেরত পাওয়ার বিধান রয়েছে।

বন্ডের অসুবিধা
১. কম আয় হারঃ সাধারণ শেয়ার এবং অগ্রাধিকার শেয়ারের তুলনায় বন্ড কম ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় বন্ড মালিকদের আয় হারও কম হয়।
২. নিয়ন্ত্রণঃ বন্ড মালিকদের ভোটাধিকার থাকে না ফলে বন্ড মালিকরা ভোটাধিকার প্রয়োগ করে কোম্পানিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না।
৩. নানারকম ঝুঁকিঃ বন্ড নানারকম ঝুঁকির মধ্যে থাকে। যেমন- প্রিপেমেন্ট ঝুঁকি, ক্রেডিট ঝুঁকি, পূর্ণবিনিয়োগের ঝুঁকি, তারল্য ঝুঁকি, ইভেন্ট ঝুঁকি, বিনিময় হার ঝুঁকি, উদ্বায়ীতা ঝুঁকি, মুদ্রাস্ফীতি ঝুঁকি, সার্বভৌম ঝুঁকি এবং উৎপাদন বক্ররেখা ঝুঁকি।
৪. মূল্য পরিবর্তনঃ মূল্য পরিবর্তনের ফলে বন্ড ধরে রাখার জন্য মিউচুয়াল ফান্ডগুলোকে প্রভাবিত করে। যদি ট্রেডিং পোর্টফোলিওতে বন্ডের মূল্য পতিত হয় তবে পোর্টফোলিও মূল্যও পড়ে। এটি ব্যাংক, বীমা সংস্থা, পেনশন ফান্ডগুলোর পেশাদারী বিনিয়োগকারীর পক্ষে ক্ষতিকর হতে পারে।
৫. মূল্য নির্ধারণঃ অনেকের ক্ষেত্রে বন্ডের মূল্য নির্ধারণ করা বিভ্রান্তিকর হতে পারে।

Leave a Reply