কৃষিঋণ বিতরণে পিছিয়ে ২৩ ব্যাংক

0

কৃষিঋণ বিতরণে লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকেও র্পৌঁছাতে পারেনি ২৩ ব্যাংক। অর্থবছরের প্রথম আট মাসে ১ থেকে ৪৬ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ ব্যাংকগুলো। জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই আট মাসে কৃষিঋণ বিতরণ হয়েছে ১৫ হাজার ৯২ কোটি টাকা।

যা ব্যাংক খাতের মোট লক্ষ্যমাত্রার ৬২ দশমিক ৫৬ শতাংশ। আগের বছরের একই সময়ে বিতরণ হয়েছিল লক্ষ্যমাত্রার ৬৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ। সে হিসাবে এক বছরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২ দশমিক ১৮ শতাংশ ঋণ বিতরণ কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।

লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হওয়া ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে- রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক ও রূপালী ব্যাংক। অন্যদিকে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে- ব্যাংক আল ফালাহ, এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, এক্সিম, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামি, মেঘনা ব্যাংক, মধুমতি ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, এনআরবি গ্লোবাল, পূবালী, সীমান্ত ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামি, সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার এন্ড কমার্শিয়াল, সাউথ-ইস্ট ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক ও উত্তরা ব্যাংক। এছাড়া আলোচিত সময়ে উরি ব্যাংক, কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন কৃষি খাতে কোনো ঋণই বিতরণ করেনি।

চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে কৃষিঋণের লক্ষ্য রয়েছে ২৪ হাজার ১২৪ কোটি টাকা। সে হিসাবে জুলাই-ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আট মাসে কৌশলগত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৬ হাজার ৮২ কোটি টাকা। যা মোট লক্ষ্যমাত্রার ৬৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ। সে হিসাবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কিছুটা কম ঋণ বিতরণ হয়েছে।

আগের বছর কৃষিঋণ বিতরণ হয়েছিল লক্ষ্যমাত্রার ৬৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ এবং টাকার অঙ্কে যা ১৪ হাজার ১১৩ কোটি টাকা। তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি এই আট মাসে আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে টাকার অঙ্কে কিছুটা বাড়লেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কিছুটা কম ঋণ বিতরণ হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি ব্যাংক তাদের বিতরণ করা মোট ঋণের ২ শতাংশ কৃষকদের মাঝে বিতরণ করে থাকে। কৃষক পর্যায়ে সুদের হার নিয়ে থাকে ৯ শতাংশ। যেসব ব্যাংকের পল্লী অঞ্চলে নিজস্ব শাখা নেই, ওইসব ব্যাংক ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিতরণ করছে।

আর ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা এনজিওর মাধ্যমে কৃষিঋণ বিতরণে কৃষক পর্যায়ে সুদের হার মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথোরিটির (এমআরএ) বেঁধে দেয়া সুদহার সর্বোচ্চ ২২ শতাংশ।

কৃষিঋণ কৃষিপণ্য বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানও বিতরণ করছে। এ ক্ষেত্রে ব্যাংক থেকে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ হারে ঋণ নিয়ে একই হারে কৃষকদের কাছে ঋণ বিতরণ করছে। এ ঋণ নির্দিষ্ট কৃষককে নির্দিষ্ট ফসল চাষে বিতরণ করে থাকে। কৃষিপণ্য বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান এ ঋণের পাশাপাশি প্রযুক্তি সহায়তাও দিয়ে থাকে।

এ ঋণে কৃষিপণ্য বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ফসল উৎপাদিত ফসল কৃষকের কাছে থেকে বাজারদরে ক্রয় করতে বাধ্য থাকে। এসিআই ও প্রাণের মতো বৃহৎ কৃষিপণ্য বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান এ ধরনের ঋণ বিতরণ করে থাকে।

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর দেয়া তথ্যে দেখা যায়, আট মাসে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বেশি ঋণ বিতরণ করেছে। আট রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক বিতরণ করেছে ৭ হাজার ১২৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা। আলোচ্য সময়ে ৪৬ বেসরকারি দেশি-বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংক বিতরণ করেছে ৭ হাজার ৯৬৫ কোটি ৯২ লাখ টাকা।

Leave a Reply