অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে হালাল-হারাম মেনে চলা

0
578

তৃণমুল পর্যায় থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ পর্যায়ে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে হালাল-হারামের চেতনা ছড়িয়ে দেয়া সময়ের অন্যতম দাবি। বালিশ দুর্নীতি, পর্দা দুর্নীতিসহ নানা অর্থনৈতিক অনৈতিক কাজ যেনো হ্রাস হয়, ঘুষ-সুদ বন্ধ হয় সে চিন্তা করা অতি জরুরী। ঈমান, আকীদা ও তাকওয়ার কথা অবশ্যই বলতে হবে। এরপরই গুরুত্বের সাথে সর্বত্র হালাল-হারামের কথা বলতে হবে। আপনি নিজের টাকায় দশ তলা বিল্ডিং নির্মাণ করতে পারেন না। ব্যাংক লোন নিতে হয়। একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি সুদ ছাড়া হাউজ লোন নিতে পারেন না। সুদমুক্ত কর্জ পাওয়া যায় না।

এতো গেল সুদের নামে সুদের সয়লাবের সামান্য চিত্র। ইসলামী ব্যাংকিং-এ মুরাবাহা প্রাক্টিসে পণ্যে ব্যাংকের মালিকানা সন্দেহযুক্ত থেকে যায় (তবে কিছু ব্যতিক্রম আছে)৷ ইসলামের নামে ক্রেডিট কার্ডে শরীয়াহ্ স্কলারগণ সন্তুষ্ট হতে পারেন না। টাকার পরিমাণের সাথে উজরাহ বাড়ে কমে। তারল্য সংকটের জন্য ইসলামী ব্যাংকিং মাঝেমধ্যে এমন ব্যাংকের সাথে লেনদেন করে বসে যে মুদারাবা বিশ্বাস করে না। সিটি ব্যাংক মুদারাবা বন্ড চালু করে, তবে প্রফিটের পরিবর্তে সেই ইন্টারেস্ট শব্দই ব্যবহার করে। তাকাফুলের নামে সম্পূর্ণ শরীয়াহ্ পরিপন্থী কাজ চলে।

ক্যাপিটাল মার্কেটে শরীয়াহ্ মেথডলজি সুদকে ফিল্টারিং করতে প্রস্তুত নয়। সুদের মত ভয়াবহ জিনিস এড়িয়ে যাওয়া হয়। আর মতভেদপূর্ণ বাকিতে স্বর্ণ ব্যবসার রুলিংকে আকড়ে ধরা হয়। এভাবে ইসলামের শিরোনামে প্রশ্নবিদ্ধ লেনদেন হয়ে থাকে।

কী করা উচিত?
সর্বত্র সচেতনতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই। যারা এসব করছেন তারা কিন্তু মুসলিম। কিছু হলেও আল্লাহর ভয় আছে। আমাদের উচিত সেই ভয়টা আরো জাগিয়ে দেয়া। শুধু হারাম-না জায়েয না বলে, বিকল্পও বলে দেয়া। শরীয়াহ্ এর সাথে প্রফিটকে সমন্বিত করা। ইসলামি ব্যাংকসহ যারা ইসলামী অর্থনীতির প্র্যাক্টিস করছেন তাদেরকে উৎসাহ দেয়া, ভালবাসা তবে সাথে বস্তুনিষ্ঠ ইসলাহ ও সংশোধনের কথাও বলা।

এর জন্য তরুণ আলেমদেরকেই এগিয়ে আসতে হবে। চারটি পদক্ষেপ হাতে নিতে হবে। যথা-
১) প্রচলিত অর্থনীতির পরিভাষা ও ভাষা বুঝা।
২) প্রচলিত নানা আধুনিক লেনদেন বুঝা।
৩) শরীয়াহ্ সমস্যা ও সমাধান বের করা। ও
৪) সেটা পেশ করার জন্য ভাষাগত জ্ঞান রপ্ত করা।

কার্টেসিঃ সংগৃহীত

Leave a Reply