1. bankingnewsbd@gmail.com : ব্যাংকিং নিউজ : ব্যাংকিং নিউজ
  2. mosharafnbl@yahoo.com : মোশারফ হোসেন : মোশারফ হোসেন
  3. msakanda@yahoo.com : ইবনে নুর : ইবনে নুর
  4. shafiqueshams@gmail.com : Shamsuddin Akanda : Shamsuddin Akanda
  5. surjoopathik@ymail.com : শরিফুল ইসলাম : শরিফুল ইসলাম
  6. tasniapopy@gmail.com : তাসনিয়া তাবাসসুম : তাসনিয়া তাবাসসুম



আল-কোরআনে ইসলামি ব্যাংকিং ধারণা

  • প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১

ড. মো. গোলাম মোস্তফাঃ ইসলামি স্বর্ণযুগ ৬২২-৬৬১ খ্রিস্টাব্দে ইসলামি অর্থনীতির সূচনা হয় মদিনায় ইসলামি রাষ্ট্র ও বায়তুল মাল প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে। হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর খিলাফত আমলে হজরত আবু উবায়দাহ (রা.)-কে এর নির্বাহী পরিচালক নিয়োগ করা হয়। হজরত ওমর (রা.)-এর যুগে বায়তুল মালে প্রাচুর্য দেখা দেয়। আধুনিক ইসলামি ব্যাংক ও ব্যাংকিং কার্যক্রমের অনেক কিছুই সেই বায়তুল মালের অনুসরণেই সম্পাদিত হয়ে থাকে। বায়তুল মাল মূলত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকা পালন করে। বায়তুল মালের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সম্পদ সংরক্ষণ করা, মুদ্রা প্রচলন ও মুদ্রা প্রচলনের মঞ্জুরি দান ও মুদ্রামান নিয়ন্ত্রণ করা হতো।

জনগণের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বিনা লাভে ঋণ প্রদান এবং উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য বিনিয়োগ সরবরাহ করা হতো। আব্বাসীয় খিলাফতের (৭৫০-১৫১৭) যুগে সাম্রাজ্য পরিচালিত হতো ইসলামি শরিয়াহ্ আইনের ভিত্তিতে। সেই সময় ইসলামি অর্থব্যবস্থা অনুসরণ করে প্রভূত আর্থিক উন্নতি সাধিত হয়েছিল। ফলে দীর্ঘ এক হাজার ৩০০ বছর ইসলামি সাম্রাজ্যে সুদ কোনো প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়নি। বরং সুদ ছাড়াই মুসলিম ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। আব্বাসীয়দের পর আসে উসমানীয় খেলাফত, যার পতন হয় ১৯২২ সালে। বিংশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে সারাবিশ্বে ইসলামের নবজাগরণের সূচনা হয়। এ সময় মুসলমানদের মাঝে সুদমুক্ত অর্থ ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভূত হয়।

কিন্তু তত দিনে সুদভিত্তিক অর্থ ব্যবস্থা সারাবিশ্বকে গ্রাস করেছে। ইসলাম একটি শাশ্বত ও পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। সে হিসেবে ইসলাম সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয়, নৈতিক ও আধ্যাত্মিক নীতির সমন্বয় সাধন করে আর্দশ অর্থনীতির প্রবর্তন করে। ইউরোপীয় রেনেসাঁ ও শিল্পবিপ্লবের মধ্য দিয়ে শুরু হয় আধুনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রসার। রেনেসাঁ ছিল পঞ্চদশ ও ষোড়শ শতাব্দীতে সংঘটিত ইউরোপীয় ইতিহাসে মধ্যযুগ থেকে আধুনিক যুগে পদার্পণের মধ্যবর্তী সময়। ১৪০১ খ্রিস্টাব্দে ‘ব্যাংক অব বার্সিলোনা’ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ব্যাংকের আধুনিক যুগ আরম্ভ হয়। কিন্তু আধুনিক যুগের প্রথম ইসলামি ব্যাংকিংয়ে যাত্রা গত শতকের ষাটের দশকে। আধুনিক ব্যাংক বিভিন্ন ধরনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কার্য সম্পাদন করে দেশের সার্বিক উন্নতিতে অবদান রাখে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ব্যাংক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে থাকে। ব্যাংকিং সুদ মূলত ইউরোপীয় শিল্পবিপ্লবের পর আবিষ্কৃত হয়।

মূলত সুদভিত্তিক ব্যাংকিং ইহুদিদের প্রবর্তিত একটি পদ্ধতি। সুদ যে শোষণের জাঁতাকল, তা সর্বজনবিদিত। ব্যাংক একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান। অর্থ নিয়েই এই প্রতিষ্ঠানের মূল কাজ। অর্থাৎ ব্যাংক এক পক্ষের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করে এবং অন্য পক্ষকে ঋণ দেয়। যে পক্ষ টাকা জমা রাখে, তাকে সুদ প্রদান করে এবং যে পক্ষকে ঋণ দেয়, তার কাছ থেকে অপেক্ষাকৃত বেশি হারে সুদ গ্রহণ করে। এই বেশি সুদ ব্যাংকের মুনাফা। দেখা যায়, ব্যাংক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কার্যসম্পাদন করে। লাভ-ক্ষতির তোয়াক্কা না করে নির্দিষ্ট পরিমাণ বাড়তি টাকা নেয়াকে সুদ বলে। ইসলামে সুদ দুই প্রকার, একটা হচ্ছে সময়ের সুদ বা রিবা আল নাসিয়া। অন্যটি হলো পণ্যের সুদ বা রিবা আল ফাদল।

ব্যাংকিং নিউজ বাংলাদেশ (A Platform for Bankers Community) প্রিয় পাঠকঃ ব্যাংকিং বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ খবরগুলো আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ ব্যাংকিং নিউজ বাংলাদেশ এ লাইক দিন এবং ফেসবুক গ্রুপ ব্যাংকিং ফর অল এ জয়েন করে আমাদের সাথেই থাকুন।

ব্যাংকের প্রধান কাজ হলো শিল্প ও ব্যবসায় অর্থের জোগান দেয়া। ব্যাংক আধুনিক সভ্যতা লালিত নানা ধরনের বস্তুর মধ্যে একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ ও উপকারী বস্তু। ব্যাংকিং ছাড়া আধুনিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব নয়। বর্তমান ডিজিটাল বিশ্বে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে এবং ব্যবসায়িক প্রয়োজনের ক্ষেত্রে এর উপকারিতা ও অপরিহার্যতা অনস্বীর্কায। ব্যাংকে সামান্যতম কমিশন দেয়ার মাধ্যমে আজকের আধুনিক যুগে একজন অতিব্যস্ত ব্যক্তি বহু রকমের সেবা পেয়ে থাকে। ব্যাংকিংয়ের এসব কল্যাণ ও সুফলকে বিশ্বমানবতার জন্য অকল্যাণ, অন্যায়, অনিষ্ঠ ও বিপর্যয়ে পরিণত করেছে যে বস্তুটি, তা হচ্ছে সুদ। সুদভিত্তিক অর্থব্যবস্থায় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও চড়া মূল্যের উত্তাল তরঙ্গ সৃষ্টি হয়।

আল-কোরআনের নির্দেশনা
ইসলামি ব্যাংকিং নিতান্তই একটি ব্যবসা। আল-কোরআনে আল্লাহ ব্যবসাকে করেছেন হালাল, আর সুদকে করেছেন হারাম (সুরা বাকারা: ২৭৫)। আল্লাহ কোরআনে ‘আল-বাই’ বা বাণিজ্য বা ট্রেডের কথা উল্লেখ করেন- ‘হে মুমিনগণ! তোমরা পরস্পরের সম্মতিক্রমে ব্যবসা ব্যতীত অন্যায়ভাবে পরস্পরের ধন-সম্পত্তি গ্রাস করো না।’ সুরা নিসা-২৯। কোরআনে সুদের প্রতিশব্দ হিসেবে রিবা শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। আল-কোরআনের চারটি সুরার মোট ১৫টি আয়াতকে রিবা-সংক্রান্ত আয়াত বলা হয়। অনেক তাফসিরকারকের মতে, কোরআনে সর্বমোট ২০টি আয়াতে রিবার উল্লেখ রয়েছে। যদিও এই ২০টি আয়াতের সবগুলোতেই শব্দগতভাবে সরাসবি এর উল্লেখ নেই, তবে আটবার উল্লেখিত হয়েছে, সুরা বাকারায় পাঁচবার (২৭৫, ২৭৬ ও ২৭৮), আল-ইমরানের ১৩০, নিসার ১৬১ এবং আর-রুমের ৩০নং আয়াতে একবার করে। চারটি সুরায় সুদের ওপর নিষেধাজ্ঞার কথা রয়েছে। অষ্টম হিজরিতে সুরা বাকারার রিবা-সম্পর্কিত আয়াতগুলো নাজিল হয়। নাজিলের ক্রমিক ধারা অনুসারে সুরার নাম ও আয়াত নম্বরগুলো হলো-

প্রথম পর্যায়: সর্বপ্রথম সুদের নিন্দা জানিয়ে সুরা রুম-৩৯ আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা যেসব সুদ প্রদান করো মানুষের সম্পদ বৃদ্ধির জন্য, তা আল্লাহর কাছে বাড়বে না।’

দ্বিতীয় পর্যায়: সুদের কারণে আগের উম্মতের ওপর আরোপিত আজাবের কথা বলা হয়েছে সুরা নিসার (১৬০-১৬১) আয়াতে, যেটি মদিনায় নাজিল হয়। ‘আমি ইহুদিদের জুলুমের কারণে তাদের জন্য যেসব পবিত্র বস্তু বৈধ ছিল, তা তাদের প্রতি অবৈধ করেছি এবং তারা অনেককে আল্লাহর পথ থেকে প্রতিরোধ করত এবং তারা সুদ নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও গ্রহণ করত।’ সুরা নিসা-১৬০।

তৃতীয় পর্যায়: চক্রবৃদ্ধিহারে সুদ হারাম ঘোষণা করা হয়েছে সুরা আল-ইমরানের ১৩০-১৩৪নং আয়াতে। ‘হে বিশ্বাস স্থাপনকারীরা, তোমরা দ্বিগুণের ওপর দ্বিগুণ সুদ ভক্ষণ করো না এবং আল্লাহকে ভয় করো।’ সুরা আল-ইমরান-১৩০।

চতুর্থ পর্যায়: চূড়ান্তভাবে দশম হিজরিতে সুদ হারাম করা হয়েছে সুরা বাকারার ২৭৫-২৮১নং আয়াত নাজিলের মাধ্যমে। ‘হে বিশ্বাস স্থাপনকারীরা, আল্লাহকে ভয় করো এবং যদি তোমরা মুমিন হও, তাহলে সুদের মধ্যে যা বাকি আছে তা বর্জন করো। কিন্তু যদি তা না কর তাহলে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের পক্ষ থেকে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হয়ে যাও।’ সুরা বাকারা-২৭৮। হজরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বিদায় হজের সময় চূড়ান্তভাবে তা হারামের ঘোষণা দেন।

সুদের উৎস হলো ঋণ। ব্যাংক সুদ হলো ঋণ থেকে পাওয়া অতিরিক্ত অর্থ, যা ঋণগ্রহীতা ঋণদাতাকে দিয়ে থাকে। সুদ বর্জন করে ইসলামি শরিয়াহ্ মোতাবেক কীভাবে ব্যাংকিং কার্যক্রমের মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও মানবকল্যাণ সাধন করা যায়, সে বিষয়ে আল-কোরআনে বিভিন্ন আয়াতের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হয়েছে।

সুরা বাকারার ২৮২নং আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! যখন কোনো নির্ধারিত মেয়াদের জন্য তোমরা পরস্পরের মধ্যে ঋণের লেনদেন কর, তখন তা লিখে রাখো। তারপর তোমাদের পুরুষদের মধ্য থেকে দুই ব্যক্তিকে এর সাক্ষী রাখো।’ সুরা বাকারার ২৮৩নং আয়াতে রয়েছে, ‘যদি তোমরা সফরে থাকো এবং দলিল লেখার জন্য কোনো লেখক না পাও, তাহলে বন্ধক রেখে কাজ সম্পন্ন করো।’ সুরা বাকারার ২৮০নং আয়াতে রয়েছে, ‘তোমাদের ঋণগ্রহীতা অভাবী হলে সচ্ছলতা লাভ করা পর্যন্ত তাকে অবকাশ দাও। আর যদি দান করে দাও, তাহলে এটা তোমাদের জন্য বেশি কল্যাণকর হবে, যদি তোমরা অনুধাবন করো।’ সুরা আ’রাফের ৮৫নং আয়াতে রয়েছে, ‘সুতরাং ওজন ও পরিমাপ পূর্ণ করে দাও।’ জাকাত আদায়ের মাধ্যমে সামাজিক কল্যাণ সাধনের জন্য ইসলামি ব্যাংকগুলো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালান করে। কোরআনের মোট ১৯টি সুরার ২৯টি আয়াতে জাকাত শব্দটির উল্লেখ রয়েছে। সুরা তাওবার ৬০নং আয়াতে ঋণগ্রস্তদের ঋণ পরিশোধের ব্যাপারে মুমিনদের উদ্দেশে আল্লাহ বলেন, ‘এ সাদাকাগুলো (জাকাত) ঋণগ্রস্তদের সাহায্য করার জন্য।’ সুরা হাশরের ৭নং আয়াতে বলা হয়েছে, ‘যাতে তা তোমাদের সম্পদশালীদের মধ্যেই কেবল আবর্তিত হতে না থাকে।’

ইসলামি ব্যাংকিং কার্যক্রম
আধুনিক ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থা আল্লাহর কিতাব আল-কোরআন, রাসুল (সা.)-এর হাদিস, সাহাবিদের বাস্তব প্রয়োগ এবং যুগে যুগে ইসলামি চিন্তাবিদদের গবেষণাপ্রসূত ইসলামি আইন দ্বারা গঠিত আর্থিক প্রতিষ্ঠান। ব্যবসা হলো পণ্য বা সেবার কেনাবেচা, সম্পদের ভাড়া খাটানো এবং কমিশনের বিনিময়ে সেবা প্রদান। ব্যবসায় বিনিয়োগ থেকে অর্জিত অর্থ-সম্পদকে মুনাফা বলে। ব্যবসার ফলে উভয়পক্ষের যে মার্জিনাল ইউটিলিটি বৃদ্ধি পায়, তা-ই হচ্ছে মুনাফা। টাকার ওপর সুদ হয়, কিন্তু মুনাফা হয় ব্যবসা থেকে। ইসলাম সুদ ও মুনাফার পার্থক্য করেছে। সুদ একতরফা লাভের কথা বলে, কিন্তু ব্যবসায় লাভ বা ক্ষতি উভয়ই হয়। কল্যাণ বাড়ানো ও অকল্যাণ দূর করা ইসলামি শরিয়াহ্র মাকাসিদ বা লক্ষ্য। জনগণের অবারিত কল্যাণ সাধন ইসলামি ব্যাংকিংয়ের মূল লক্ষ্য।

ইসলামি ব্যাংকগুলো মুদারাবা পদ্ধতিতে আমানত সংগ্রহ করে এবং ইসলামি ফকিহ্গণ কর্তৃক প্রণীত মুদারাবা, মুশারাকা, আকদে ইজারা, আকদে ইসতিসনা, বাইয়ে সালাম, বাইয়ে মুরাবাহাসহ বিভিন্ন বিনিয়োগ পদ্ধিতির মাধ্যমে বিনিয়োগ করে। ইসলামি অর্থনীতির মূল বিষয় হলো উৎপাদনমুখী বিনিয়োগ করা। আর উৎপাদনমুখী অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির সুযোগও কমে যায়, যে মূল্যস্ফীতি দেশের অর্থনীতির সবচেয়ে বড় সমস্যা। ইসলামি ব্যাংকিংয়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বিনিয়োগের ওপর চক্রবৃদ্ধি হারে মুনাফা আরোপের কোনো সুযোগ নেই। কোনো ব্যক্তি বৈধ উপায়ে যে ধন-সম্পদ উপার্জন করে, তার ওপর ইসলাম ব্যক্তির স্বত্বাধিকার অবশ্যই স্বীকার করে; কিন্তু উপার্জিত ধন-সম্পদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে ইসলাম ব্যক্তিকে পরিপূর্ণ স্বাধীনতা দেয়নি। বরং তার ওপর বিভিন্নভাবে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। উপার্জিত ধন-সম্পদ ব্যবহার করার তিনটি পদ্ধতি রয়েছে। সেগুলো হলো এক. খরচ বা ব্যয় করা; দুই. লাভজনক কাজে বিনিয়োগ করা এবং তিন. মজুত করা।

এক হাজার ৪৪২ বছর আগে অর্থনৈতিক মুক্তির দিশা হিসেবে আল-কোরআনে সুদকে হারাম করা হলেও সুদবিহীন ব্যাংক ব্যবস্থা না থাকায় শত শত বছর ধরে মুসলমানরা সুদের সংস্রব থেকে পুরোপুরি মুক্ত হতে পারেনি। বর্তমানে ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থা একটি শোষণমুক্ত ও কল্যাণকর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা তৈরির জন্য জোরালো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ডিজিটাল যুগে ইসলামি ব্যাংকগুলো প্রচলিত ব্যাংকগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছে। ফলস্বরূপ প্রক্রিয়াগত দিক থেকে শরিয়াহ্সম্মত কার্যক্রম পরিচালিত হলেও শোষণের মাত্রার ক্ষেত্রে প্রচলিত ব্যাংকগুলোর তুলনায় খুব বেশি তফাত নেই। তবে সামাজিক দায়বদ্ধতা পরিপালনে অনেক এগিয়ে ইসলামি ব্যাংকগুলো।

আরও দেখুন:
ইসলামী ব্যাংক সমূহের আমানত সংগ্রহ পদ্ধতি
ব্যাংকিং এ শরীয়াহ: প্রসঙ্গ আমানত
ইসলামী ব্যাংক সমূহের বিনিয়োগ পদ্ধতি
ইসলামি ব্যাংকিং ও প্রচলিত ব্যাংকিং

যেদিন সামগ্রিক আর্থিক ও ব্যাংকিং ব্যবস্থা শরিয়াহ্ মোতাবেক পরিচালিত হবে, সেদিন পরিপূর্ণ কল্যাণ সাধিত হবে। সুদ থেকে বাঁচতে হলে ব্যবসাতে যুক্ত হতে হবে। ইসলাম সুদকে নিষিদ্ধ করেছে ঠিকই, কিন্তু এর বিকল্প হিসেবে পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন স্থানে সুদমুক্ত হালাল উপার্জনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সেই নির্দেশ মোতাবেক আমাদের ব্যক্তিজীবন, সমাজ, রাষ্ট্রীয় কাঠামো গড়ে ইহকালীন ও পরকালীন কল্যাণ লাভ করাই কাম্য। বিশ্বায়নের যুগে কভিড-১৯ ও অর্থনৈতিক মন্দার করাল গ্রাস থেকে মুক্তি পেতে হলে সার্বিক অর্থনৈতিক কাঠামো শরিয়াহ্র আলোকে গড়ে তুলতে হবে।

লেখকঃ কর্মকর্তা, ইসলামি ব্যাংকিং ডিভিশন, ওয়ান ব্যাংক লিমিটেড।

Leave a Reply



লেখাটি ভালো লাগলে শেয়ার করে অন্যকে দেখার সুযোগ করে দিন:

এই বিভাগের অন্যান্য লেখা





ইমেইল সাবস্ক্রাইব করুন

আমাদের নতুন নতুন পোষ্ট গুলো ই-মেইল এর মাধ্যমে পেতে রেজিষ্ট্রেশন করুন।




আর্কাইভ



বিভাগ সমূহ