১০ দিনের সাধারণ ছুটি ও ব্যাংকিং সেক্টর

0
1559

বাংলাদেশ এই মুহুর্তে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের শিকার এবং এই অবস্থার ভয়াবহ অবনতির আশংকা আছে বলেই সরকার আগামী ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ১০ দিন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে।

এই ছুটিকে সাধারণ ছুটি না বলে ১০ দিনের লকডাউন বলা যেতে পারে এবং সরকার হয়তো কৌশলগত কারণে লকডাউন শব্দটি ব্যবহার করেনি, তবে সামগ্রিক প্রস্তুতি দেখে মনে হচ্ছে দেশ লক ডাউনে যাচ্ছে।

এই মুহুর্তে এটির কোনো বিকল্প আছে বলে আমার জানা নেই। বরং আমি মনে করি অত্যন্ত সফলভাবে এই লকডাউন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

অন্যথায় আমাদের অনেক কঠিন পরিস্থিতিতে পড়তে হতে পারে যা বয়ে আনবে অকল্পনীয় মানবিক বিপর্যয়, কেননা আমাদের দেশটি পৃথিবীর অন্যতম জনবহুল দেশ। ১০ দিনের সাধারণ ছুটিতে ব্যাংক সীমিত পরিসরে খোলা রাখা হতে পারে।

দেশের সংকটময় মুহূর্তে ছুটিতে থাকার মধ্যে কোন গৌরব নেই। আমরা ব্যাংকার সম্প্রদায় দেশের সংকট সমাধানে সাধ্যমতো ভূমিকা রাখতে চাই। কিন্তু এই সংকটের সমাধান প্রক্রিয়ায় যত কম সংখ্যক কর্মীকে মাঠে রেখে তৎপরতা অব্যাহত রাখা যায় ততোই মঙ্গল।

এক্ষেত্রে প্রতিটি কর্মীকে অবশ্যই পিপিই সহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করতে হবে। ব্যাংকিং সেক্টরের কয়েক লক্ষ কর্মীকে এটি সরবরাহ করা মোটেই সহজ কাজ নয়। প্রতিটি কর্মীর পিপিই সহ প্রয়োজনীয় প্রটেকশন না থাকলে এক ব্যাংক কর্মকর্তার মাধ্যমেই শত শত গ্রাহক করোনা ভাইরাসে সংক্রোমিত হতে পারে।

বিষয়টি নিয়ে ভাববার অবকাশ আছে বৈকি। সাম্প্রতিক সময়ে ঈদের সময় ব্যাংকিং সেক্টর ৯ দিন ছুটিতে ছিলো। এসময় তেমন কোনো গুরুতর সমস্যার উদ্ভব হয়েছিল কি? সংকটময় এই মুহুর্তে তেমন কোনো ব্যাবসায়ীক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হবে না। ব্যক্তিগত লেনদেনের জন্য আছে ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, মোবাইল ব্যাংকিং সার্ভিস সহ নানা আয়োজন।

তাই, সাধারণ ছুটি কালীন সময়ে সীমিত পরিসরে ব্যাংকিং এর নামে পুরো দেশব্যাপী ব্যাংকের সকল শাখা না খোলাই উত্তম।

সীমিত ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে
★ করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে বয়স্ক লোকের ঝুঁকি বেশি থাকায় সাধারণ ছুটি কালীন সময়ে চল্লিশোর্ধ্ব সকল ব্যাংকারকে অবশ্যই ছুটিতে থাকতে হবে। তবে ফোনে বা মেইলের মাধ্যমে বাসায় বসে দিকনির্দেশনা দেয়া যেতে পারে। শুধুমাত্র তরুণ ব্যাংকাররাই এই সংকটময় মুহূর্তে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

★ কর্মকর্তাদের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য পিপিই সহ প্রয়োজনীয় প্রটেকশন সামগ্রীর ব্যবস্থা করতে হবে।

লেখকঃ মানবিক বাংলাদেশের মানবিক ব্যাংকার।

Leave a Reply