জালনোট প্রাপ্তির ঘটনায় ব্যাংকের করনীয় সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার

0
2361

সাম্প্রতিক সময়ে প্রাপ্ত তথ্যাদি এবং বিভিন্ন ব্যাংকের শাখা পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ ব্যাংক দেখতে পায় যায় যে, দেশের বিভিন্ন ব্যাংক-শাখাসমুহে জাল নােট উপস্থাপন করা হলে তা Treasury Rules এর নির্দেশনা অনুযায়ী নিষ্পত্তি করা হচ্ছে না যা অত্র বিভাগ কর্তৃক জারিকৃত ০৪/০৭/২০০৭ তারিখের পরিপত্র নং- জালনােটঃ ১ (পলিসি)/২০০৭-১৯১ এ বর্ণিত নির্দেশনার পরিপন্থি। এছাড়া অধিকাংশ ব্যাংক শাখার নথিতে উল্লেখিত সার্কুলারের কপি পাওয়া যায় না এবং ক্যাশ অফিসারগণও জাল নােট নিষ্পত্তির নিয়ম-কানুন সম্পর্কে সম্যক অবহিত নয় মর্মে পরিলক্ষিত হয়।

এমতাবস্থায়, ব্যাংক-শাখাসমুহে জাল নােট পাওয়া গেলে তা উল্লেখিত সার্কুলারের নির্দেশনা মােতাবেক নিষ্পত্তির নিমিত্ত শাখাসমূহকে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়ােজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেছে। ভবিষ্যতে কোন ব্যাংক-শাখার নথিতে জাল নােট সম্পর্কিত সার্কুলার পাওয়া না গেলে এবং সার্কুলারে বর্ণিত নির্দেশনা মােতাবেক জাল নােট নিষ্পত্তির ব্যবস্থা গ্রহন না করলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে বিধি মােতাবেক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করার কথা বলা হয়েছে উক্ত সার্কুলারের মাধ্যমে।

জালনোট পেলে করণীয়
ব্যাংকে লেনদেনের সময় কোনো গ্রাহক জাল নোট প্রদান করলে কর্মকর্তারা তা ছিদ্র করে আবার ফেরত দেয়ার অভিযোগ উঠেছে- যা বিধিসম্মত নয়। কারও কাছে জাল নোট পেলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে দিন। কোনো ব্যক্তি যদি কারও কাছ থেকে জাল নোট পান তা হলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে ওই নোটসহ পুলিশে দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। জাল নোটের ওপর বড় করে ‘লাল রং দিয়ে জাল নোট’ শব্দটি লিখতে হবে।

নোটের অপর পৃষ্ঠায় প্রদানকারীর নাম, স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা, তারিখসহ পূর্ণ স্বাক্ষর এবং লিখিত স্বীকৃতিনামা নিতে হবে। কিন্তু জাল নোট প্রদানকারী যদি নিজেই প্রতারিত বলে মনে করেন অথবা ব্যক্তির অজান্তে এটি পকেটে চলে আসে, তাহলে ওই নোটটি নিজেকেই ধ্বংস করে ফেলতে হবে। ব্যক্তি মনে করলে ওই নোটটি থানায় দিতে পারেন। তবে সে ক্ষেত্রে ব্যক্তির অজান্তে এই জাল নোট তার কাছে এসেছে এর সপক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ থাকতে হবে।

জালনোট প্রদানকারী হিসেবে কারও সন্দেহ হলে সেই নাম বলা যেতে পারে। তবে ওই সন্দেহভাজন ব্যক্তি যে তাকে ওই নোটটি দিয়েছেন তার সপক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ থাকতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট থেকে এসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এই আইনি প্র্রক্রিয়ায় গেলেও ব্যক্তি জাল নোটের বদলে আসল অর্থ ফেরত পাবেন না। তাই অজান্তে কোনোভাবে একবার জাল নোট কেউ পেলে এটাকে নিজের ক্ষতি মনে করে ধ্বংস করে দিতে হবে।

Treasury Rules, Part-III, Chapter-IV এর ৫২ ধারায় এই বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। যা নিম্নে তুলে ধরা হলো-
“(1) In the event of a forged note being presented, the note and the presenter should be made over to the police, if the Bank considers it advisable to do so. If, however, the Bank office is convinced that the presenter has presented the forged note in good faith, believing it to be genuine he should impound the note, take his name, his father’s name, local and permanent address and his full signature with date or left hand thumb impression if he is illiterate on the back of forged note, and his statement regarding the person from whom he received the note. The forged note and the presenter’s statement should be sent to the police for further enquiry. After the enquiry has been completed, the police will forward the forged note to the Currency office along with a report.
Note: When a forged note is impounded, it should be stamped with the word “Forged” or the word “Forged” should be written on it in red ink in large letters before it is sent to the police for enquiry.

(2) Notes disfigured by oil or other substances should be scrutinised with special care, as forged notes are sometimes intentionally thus disfigured to render detection difficult.
(3) The managers of all banks have instructions to send forged notes presented to them to the police who will send them to Currency Officer for necessary action.
(4) The Bangladesh Bank has authorised Currency Officer in Dhaka and designated officers in its other branches to impound forged notes.”

সূত্রঃ ডিপার্টমেন্ট অব কারেন্সী ম্যানেজমেন্ট, বাংলাদেশ ব্যাংক
সূত্র নং- ডিসিএম জালনােটঃ ১ (পলিসি)/২০১৯-৪৩৬৮ তারিখঃ ২১/১০/২০১৯ ও পরিপত্র নং- জালনােটঃ ১ (পলিসি)/২০০৭-১৯১ তারিখঃ ০৪/০৭/২০০৭

Leave a Reply