লিডারশীপ নিয়ে কিছু কথা

0
927

লিডারশীপ তাদের জন্য, যারা লিডারশীপ গ্রহণ করে। কারণ আত্মবিশ্বাসই মানুষকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যায়। এখনে বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা এবং ক্যারিয়ার এর সফলতা বিষয়ক সকল তথ্য অত্যন্ত সহজ সরল ভঙ্গিতে সবার সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে যা যেকোনো মানুষকে অনুপ্রাণিত করতে সামান্য প্রচেষ্টা।

স্টীভ জবস এবং লিডারশীপ
যেদিন স্টীভ জবস মারা যান,সেদিন তিনি ফ্রাঙ্কফুর্ট এর অ্যাপেল স্টোর এ গিয়েছিলেন আইফোন কেনার জন্য। খবরে স্টীভ জবস এর মৃত্যু সংবাদ প্রচারিত হওয়ার পরেই অ্যামেরিকা এর সব জায়গায় অ্যাপেল স্টোরগুলোতে ছুটি ঘোষণা করা হয় এবং দোকানে কাস্টমারদের পরদিন আসতে অনুগ্রহ করা হয়। তিনি পরদিন স্টোরটির সামনে যেয়ে দেখতে পান, হাজার হাজার সবুজ রঙের আপেল (অর্ধেক কামড়ে খাওয়া) স্টোরটির সামনে রাখা। এটি ছিল স্টীভ জবস এর কর্মের ও লিডারশীপ এর প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালবাসার এক অপার দৃষ্টান্ত। স্টীভ জবস এর লক্ষ্য ছিল যে, পুরো পৃথিবীতে যত সংখ্যক আপেল ফল আছে, তিনি তার থেকে বেশি সংখ্যক অ্যাপেল প্রোডাক্ট বিক্রি করবেন। তার কর্মনিষ্ঠা ও লিডারশীপের কারনে তিনি তার লক্ষ্যে পৌঁছতে পেরেছেন।

কর্মক্ষেত্র এবং লিডারশীপ
আমরা সাধারণত চাকুরীর ইন্টার্ভিউতে চাকরি করার ইচ্ছা এবং ক্যারিয়ার গড়ার ইচ্ছার মধ্যে যেকোনো একটিকে বেছে নিতে বললে ৯০ শতাংশ উত্তরে জানাই যে আমরা চাকরি করতে ইচ্ছুক। প্রকৃতপক্ষে ক্যারিয়ার গড়ার প্রতি অটুট লক্ষ্য থাকা উচিত। শুধুমাত্র কতটুকু কাজ করলাম, কতটুকু সুযোগ সুবিধা পেলাম এবং কতটুকু উপার্জন করলাম– এতে সীমিত থাকা উচিত না। ক্রমাগত নিজ অবস্থান উন্নয়নের জন্য কাজ করে যেতে হবে। ক্যারিয়ার গড়ার মনোবলই কর্মক্ষেত্রে একজন মানুষকে নিজের অবস্থান উন্নয়নের প্রতি উৎসাহ দেয় ও কর্মক্ষেত্রের যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সাহস যোগায়।

সবার লিডারশীপ এক রকম নয়
আমাদের মস্তিষ্কে দুটি দিক আছে, একদিক কাজ করে অ্যানালিটিকালি যেমন Einstein এবং Bill Gates এর মস্তিষ্ক , এবং অপর দিক কাজ করে creatively যার কারনে স্টীভ জবস ও পাবলো পিকাসোর মত গুনধর ব্যক্তিদের আমরা পেয়েছি। আইনস্টাইন এবং পিকাসো যদি স্থান অদল বদল করে কাজ করার চেষ্টা করতেন তাহলে তারা কখনোই নিজ লক্ষ্যে পৌছতে পারতেন না। কারন, তাঁরা নিজেদের শক্তি ও সামর্থ্যর বাইরে কোন কিছু অর্জন করার স্বপ্ন দেখতেন যাতে করে বিশৃঙ্খলা ও দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হত।

প্রতিটি মানুষের নিজস্ব শক্তি ও সামর্থ্য খুঁজে বের করে ও সেই সাথে সেগুলোর পর্যাপ্ত অনুশীলন করার জন্য অনুপ্রেরণা যোগানো এবং অন্যদের যত্ন নেওয়ার ব্যাপারে তাদের ক্ষমতা,স্পষ্ট যোগাযোগ স্থাপনের সৃষ্টিশীল চিন্তাভাবনাই হলো লিডারশীপ।

লিডার কারা?
“Leadership belongs to those who take it”. লিডারশীপ তাদের জন্য, যারা লিডারশীপ গ্রহণ করে। জন্মগতভাবে কারো মধ্যে লিডারশীপের গুণাবলী থাকে না। বরং লিডারশীপ অর্জন করে নিতে হয়, খুঁজে নিতে হয়। লিডারশীপ সবার ভেতরেই থাকে, বেরিয়ে আসে কেবল সঠিক অনুশীলনের মাধ্যমে। আমরা অনেক সময় লিডারশীপের অনুশীলন করতে চাই না কারন লিডার হলে সব পরিস্থিতি নিয়ে সুনিপুণ চিন্তা ভাবনা থাকা দরকার। এতে করে একজন লিডারের উপর অনেক দায়িত্ব চলে আসে এবং সবকিছুর দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে লিডারকে তখন সারাক্ষণ ঝামেলার মধ্যে থাকতে হয়। কিন্তু যখনি আমরা এমনটা ভেবে লিডারশীপ অনুশীলন করা থেকে বিরত থাকব, তখনি আমরা আমাদের ক্যারিয়ারে বাধার সম্মুখীন হব।

জীবনে সফলতা কিভাবে আসবে?
জীবনে তারাই সফল যারা প্রতিনিয়ত দুঃখ–কষ্ট ও বাধা মোকাবেলা করে। কারন পরাজয় ও না পাওয়ার কষ্ট মানুষের মনে সফল হওয়ার খুধা জন্মায়।

“Perhaps the best shortcut in life is the long cut”.হয়ত জীবনের সবচেয়ে বড় শর্টকাট হল জীবনের লংকাট। কারন অনেক ক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করা সহজ হয় কিন্তু তা ধরে রাখা সহজ হয় না। আমরা যদি লিডারশীপের অনুশীলন করি তাহলে আমরা আমাদের শক্তি ও দুর্বলতা খুঁজে বের করতে পারব। আমাদের পক্ষে ছোটবেলা থেকে বোঝা সম্ভব নয় যে আমরা কোন কাজে ভাল এবং কোন কাজে ভাল না। আমাদের কে ক্রমাগত অনুশীলন করে যেতে হবে, লিডারশীপের শিক্ষা নিতে হবে।

আবার অনেক সময় এমনও হয় যে আমরা যা ভাবি তা হতে পারি না, বরং তার থেকে অনেক আলাদা কিছু হয়ে যাই যেখানে আমাদের ভাবনার বাইরে সাফল্য চলে আসে। জীবনে কোন কিছুই কম সময়ের জন্য করা উচিত নয়। ব্যক্তিগত জীবনে বা কর্মক্ষেত্রে, যে কাজেই জড়ানো হোক না কেন, তা যেন দীর্ঘকালীন হয়।ম্যানেজার বা ডিরেক্টর কেবলমাত্র একটি পদ, যা যেকোনো সময় বদলিয়ে যেতে পারে কিন্তু মানুষের ভিতরে যে অপার শক্তির কারখানা, তা কখনো বদলানো বা কেঁড়ে নেয়া সম্ভব নয়। পার্থিব যেকোনো কিছুর অভাবে আমরা থাকতে পারি, কিন্তু আমরা নিজের দক্ষতার অভাব কোনদিন আমাদের হবে না।

লিডারশীপ অনুশীলনের ব্যাপারে কর্মক্ষেত্রে দশটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো-
১। নিজের শক্তি জানা।
২। কিভাবে কাজ সম্পন্ন করতে হবে তা জানা।
৩। কৌশলের চেয়ে দূরদর্শিতায় বিশ্বাস রাখা।
৪। পরিকল্পনা অনুযায়ী পেশায় সফলতা আসে না। পরিকল্পনার চেয়ে চর্চায় বিশ্বাস রাখা, কারন, চর্চাই দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য বয়ে আনে।
৫। সৃষ্টিশীল চিন্তা-ভাবনা দিয়ে এগিয়ে যাওয়া।
৬। কাজের চেয়ে টিমে বিশ্বাস রাখা এবং পদ্ধতিতে নয়, মানুষে বিশ্বাস রাখা।
৭। বন্ধুসুলভ, স্পষ্টভাসি, নমনীয় ও দৃঢ় হওয়া এবং অন্যের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়া।
৮। সততায় ভরসা রাখা, নিয়ন্ত্রনে নয়।
৯। আজকে জেতা, কালকে গড়া।
১০। ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, সর্বদা পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত থাকা।

আজকের অর্জন আগামীর ভবিষ্যৎ
আমরা সবাই যে যেই পদে কাজ করছি, সে সেই পদ থেকেই নতুন কিছু করতে চাই, ভাল কিছু অর্জন করতে চাই। কিন্তু, আমাদের মনে রাখা উচিত যে আমরা যা অর্জন করি না কেন, তা আমাদের ভবিষ্যতের জন্য অনেক জরুরি। আজকের অর্জন আগামীর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। আমরা আজ আমাদের সংস্থা বা ব্যাবসাতে যে মাইলস্টোন অর্জন করি না কেন, তা যেন আমাদের সংস্থা বা ব্যাবসার ভবিষ্যৎ উন্নয়নে কাজে লাগে।

আমরা যে যেই প্রফেশনে থাকিনা কেন, সে প্রফেশনের আনন্দ নেয়ার চেষ্টা করা।যদি না পারি, তাহলে বুঝতে হবে যে আমি আমার কাজটি আনন্দ নিয়ে করতে পারছি না অথবা আমার অফিস আমাকে কাজের আনন্দ দিতে পারছে না। যদি এমন হয় যে আপনি আনন্দ পাচ্ছেন না, তাহলে কর্মক্ষেত্র পরিবর্তন করতে পারেন কারন, ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাজ করলে কখনো সেই কাজে উন্নতি সম্ভব নয়। অফিসও তখন আপনার কাছ থেকে আপনার সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স পাবে না। এতে করে আপনি এবং আপনার অফিস উভয়েই সমস্যায় পড়বেন। কিন্তু, যদি আপনার প্রফেশন আপনাকে আনন্দ বা উৎসাহ দিতে না পারে কাজের প্রতি, তবে এটি আপনার চিন্তার বিষয় নয়। এটি আপনার অফিসের ব্যর্থতা, আপনার নয়। আমরা আজ থেকে কারও জীবনে প্রতিবন্ধকতা নয়, বরং সহায়ক হব।

কার্টেসিঃ সংগৃহীত

Leave a Reply