টাকা ধার দেওয়ার সময় করণীয় এবং পাওনা টাকা আদায়ের সহজ পদ্ধতি

0
2349

ব্যাংকিং নিউজ বাংলাদেশঃ যখন আপনি টাকা ধার দেন, আপনি ভাবেন সম্পর্ক বাঁচিয়ে রাখার জন্য হলেও আপনার বন্ধু বা পরিবারের কোন সদস্য টাকা ফেরত দেবে কিন্তু মাঝে মাঝে আপনি যা ভাবেন তা হয় না। মাঝে মাঝে আপনাকেই টাকা চাইতে হয়।

টাকা ধার দেওয়ার সময় যা করবেন
প্রয়োজনে যদি টাকা ধার দিতেই হয়, তাহলে যতই আপনজন হোক না কেন, তাঁর সঙ্গে আপনি একটি লিখিত চুক্তি করে নিন। ৩০০ টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে একটি চুক্তি করে নিন এবং এই চুক্তিতে কী কারণে কত টাকা ধার দিলেন, তা স্পস্ট করে উল্লেখ করতে হবে। কবে অপর পক্ষ টাকা ফেরত দেবে এবং পুরোটা একসঙ্গে না কিস্তিতে পরিশোধ করবে, তা উল্লেখ করতে হবে।

যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা ফেরত না দেয়, তবে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ থাকবে—বিষয়টা স্ট্যাম্প কাগজে উল্লেখ করা দরকার। মনে রাখতে হবে, চুক্তিপত্রটি যেন আইন অনুযায়ী সম্পাদিত হয়। এ ছাড়া চুক্তিটি নোটারি বা প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারা সত্যায়িত করে নিতে হবে। চুক্তিপত্র সম্পাদনের সময় সাক্ষী হিসেবে রাখুন কয়েকজনকে। যদি কোনো প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির মাধ্যমে টাকা দেওয়া হয়, তাহলেও চুক্তিপত্র করে নিতে হবে। চুক্তিপত্র ছাড়া আইনের অশ্রয় গ্রহণ করা অনেকটা দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে।

আপনি যদি সম্পর্কে কোন আঁচ লাগতে না দিয়ে আপনার পাওনা টাকা ফেরত চাইতে চান, তাহলে আপনি নিম্নবর্ণিত পদ্ধতিগুলো পরখ করে দেখতে পারেন-

১) সুন্দরভাবে মনে করিয়ে দিন
মাঝে মাঝে কিছু মানুষ ভুলে যাবে যে আপনি তার কাছে যে টাকা পান। আপনার এই ছোট রিমাইন্ডার তাকে মনে করিয়ে দিতে পারে সে যে আপনার কাছে ঋণী । যাদের কাছে আপনি টাকা পান তাদের সাথে সুন্দর ভাষায় কথা বলুন। তাদের যদি মনে পড়ে যায় জিজ্ঞেস করুন কবে টাকা দিতে পারবে।

২) টাকা কি কারনে দরকার ছিল জানুন
মানুষ কোন দরকারেই টাকা ধার করে এবং তা সে সহজেই বলতে পারে টাকা ধার নেয়ার পেছনে কারন কি। যদি টাকা শিক্ষার কোন দরকারে নেয়া হয় জুজ্ঞেশ করুন স্কুল কেমন চলছে। এটি তাকে মনে করিয়ে দিতে পারে আপনি যে তার কাছে টাকা পান। এবং সে কবে টাকা নিতে পারবে এই সুযোগে জিজ্ঞেস করে নিন।

৩) আপনাকে খাওয়াতে বলুন
টাকার পরিমান যদি কম হয়, আপনার বন্ধুকে অনায়েসেই বলতে পারেন পরের রাতের বা দুপুরের খাবার খাওয়ানোর জন্য। এতে কাজ হবেই কারন আপনার পাওনা টাকা আদায় ও হবে
আর এর সাথে এটি আপনার বন্ধুকে রিমাইন্ডার দিবে যে সে আপনার কাছে ঋণী।

৪) তাদের কাছে সাহায্য চান
তাদের দরকারে আপনি তাদের পাশে ছিলে, তাদের টাকা ধার দিয়েছেন। এবার তাদের পালা। যদি আপনার টাকা খুব দরকার হয় এবং এই মুহূর্তে টাকা চাওয়া খুব জরুরী হয়ে পরে তবে তাদের বলুন আপনাকে টাকা ফেরত দিতে কারন আপনার টাকা খুব দরকার। আশা করা যায়, তারা আপনার পাশে এসে অবশ্যই দাঁড়াবে যেমন আপনি দাঁড়িয়েছিলেন।

এ ব্যাপারে ইসলামে কি দিক নির্দেশনা দেয়া আছে? আসুন তা জেনে নেই- টাকা আপনার, সুতরাং বিচার আপনার, হাদিসের দলিল দেয়া হল আপনি যেকোন পন্থা ব্যবহার করতে পারেন।

১) মূসা’দ্দাদ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এক লোক (ঋণ পরিশোধের) তাগাদা দিতে আসল এবং কড়া কথা বলল। সাহবীগণ তাকে শায়েস্তা করতে উদ্যত হলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাকে ছেড়ে দাও। হক্‌দারের কড়া কথা বলার অধিকার রয়েছে।

২) হযরত আলী ইবনু আইয়্যাশ (রহঃ) হযরত জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যাক্তি ক্রয়-বিক্রয় এবং পাওনা তাগাদায় নম্র ব্যবহার করে, মহান আল্লাহ্ তা’আলা তার উপর রহম করেন।

Leave a Reply