জমি কেনার ক্ষেত্রে যে সকল বিষয়ে সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত

0
1790

ব্যাংকিং নিউজ বাংলাদেশঃ জমিজমা কিনতে যে সকল বিষয়ে সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত সে বিষয়গুলো নিম্নে আলোকপাত করা হলো-

১) ক্রেতা যার কাছ থেকে জমি কিনবেন তার থেকে ওই জমি সংক্রান্ত সব কাগজপত্র চেয়ে নিবেন এবং সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখবেন বর্তমানে জমির মালিক কে।
২) জমির যিনি মালিক, তার নামে নামজারি (মিউটেশন) আছে কিনা তা নিশ্চিত হতে হবে।
৩) মালিক হালনাগাদ খাজনা (ভূমি কর) পরিশোধ করেছেন কিনা, নাকি অন্য কেউ পরিশোধ করেন, তাও স্থানীয় তহশিল অফিসে গিয়ে খোঁজ নিতে হবে।
৪) যিনি জমি কিনবেন তিনি স্থানীয় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে তল্লাশি দিয়ে দেখবেন প্রস্তাবিত জমি হেবা, দান, বিক্রি বা এওয়াজমূলে কোনভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে কিনা।
৫) বিক্রেতার শরিকদের সঙ্গে সম্পত্তির হিস্যাবন্টন সতর্কতার সঙ্গে সম্পন্ন করতে হবে। শরিকদের সঙ্গে বিক্রেতার অংশনামা হয়েছে কিনা তা জমি কেনার আগে মিলিয়ে দেখতে হবে।
৬) ক্রেতা যে জমি কিনবেন তা খাস, পরিত্যক্ত বা শত্রু সম্পত্তি কিনা তা জানতে হবে। এছাড়া এও জানতে হবে যে সরকার কোন কারনে এ জমিটি অধিগ্রহণ করেছে কিনা।
৭) জমি বিক্রি ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কাউকে ক্ষমতা অর্পণ করা অর্থাৎ আমমোক্তারনামা (পাওয়ার অফ এটর্নি) আছে কিনা তা দেখতে হবে।
৮) সরেজমিনে গিয়ে ক্রেতাকে জমি দেখতে হবে।
৯) জমির কাগজপত্র, দাগ নম্বর ও চৌহদ্দি (চারদিকের অবস্থান) মিলিয়ে দেখতে হবে যে, যে জমিটি বিক্রি করবে সেটি প্রস্তাবিত জমি কিনা?
১০) বিক্রেতার মালিকানা স্বত্ব বা বিক্রির বৈধ অধিকার আছে কিনা তা দেখতে হবে। জমির মালিক নাবালক বা অপ্রকৃতস্থ কিনা তা যাচাই করতে হবে।
১১) বিক্রির জন্য প্রস্তাবিত জমি নিয়ে কোন মামলা-মোকদ্দমা রয়েছে কিনা সেটাও ক্রেতাকে খুঁজে দেখতে হবে।
তারপর সবকিছু ঠিকঠাক পাওয়া গেলে জমি ক্রয় করা যেতে পারে। তবে উপরের পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজগুলো ক্রেতা নিজে সম্পন্ন করতে না পারলে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে তা করা যেতে পারে। অথবা ক্রেতা দেওয়ানী আইনে অভিজ্ঞ কোনো আইনজীবীর পরামর্শ ও মতামত নিয়ে জমি রেজিষ্ট্রেশন সম্পন্ন করতে পারেন। আশা করছি লেখাটি আপনাদের খুব কাজে লাগবে। আল্লাহ হাফিজ।

Leave a Reply