কৃষকের জন্য ৩ হাজার কোটি টাকার নতুন প্রণোদনা

0

কোভিড-১৯ মহামারির কারণে সৃষ্ট আর্থিক সংকট মোকাবেলায় দেশের কৃষি খাতের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। এমতাবস্থায় কৃষি কর্মকান্ড অধিকতর গতিশীল করার লক্ষ্যে কৃষির বিভিন্ন খাতসমূহে স্বল্প সুদে প্রয়োজনীয় ঋণ প্রবাহ নিশ্চিত করা আবশ্যক। ইতিপূর্বে গৃহীত বিভিন্ন প্রণোদনামূলক পদক্ষেপের ধারাবাহিকতায় কৃষি খাতের জন্য নতুন করে আরও ৩০০০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

আজ মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১) বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষি ঋণ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার (এসিডি সার্কুলার নং – ০২) জারি করে বাংলাদেশে কার্যরত তফসিলি ব্যাংকসমূহের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী (সিইও) কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়, এই প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ব্যাংক থেকে চার শতাংশ সুদে ঋণ নিতে পারবে কৃষক। ব্যাংক এই প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে এক শতাংশ হার সুদে তহবিল পাবে। এর সঙ্গে আরও তিন শতাংশ বাড়তি নিয়ে তারা ঋণ বিতরণ করতে পারবে। ছয় মাসের গ্রেস পিরিয়ডসহ এই ঋণের অর্থ পরিশোধ করতে হবে ১৮ মাসের মধ্যে (১২ মাস + গ্রেস পিরিয়ড ৬ মাস)।

এর আগে গত বছরের এপ্রিলে কৃষকদের জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ চালু করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ওই তহবিলের মেয়াদ গত জুনে শেষ হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, আগের গৃহীত বিভিন্ন প্রণোদনামূলক পদক্ষেপের ধারাবাহিকতায় কৃষি খাতের জন্য তিন হাজার কোটি টাকার একটি পুনঃঅর্থায়ন স্কিম গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

ব্যাংকিং নিউজ বাংলাদেশ (A Platform for Bankers Community) প্রিয় পাঠকঃ ব্যাংকিং বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ খবরগুলো আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ ব্যাংকিং নিউজ বাংলাদেশ এ লাইক দিন এবং ফেসবুক গ্রুপ ব্যাংকিং ফর অল এ জয়েন করে আমাদের সাথেই থাকুন।

পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের নাম ‘কৃষি খাতে বিশেষ প্রণোদনামূলক পুনঃঅর্থায়ন স্কিম (দ্বিতীয় পর্যায়)’। স্কিমের আওতায় তহবিলের পরিমাণ— তিন হাজার কোটি টাকা। উৎস: বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল। স্কিমের মেয়াদ হবে ২০২২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত।

কারা পাবেন এই ঋণ
নতুন এই স্কিমের আওতায় অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলোকে নিজস্ব নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কৃষক পর্যায়ে ঋণ বিতরণ নিশ্চিত করতে হবে। আগের ঋণ নেওয়া ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে অংশগ্রহণকারী ব্যাংক নিজ ব্যাংক হতে প্রদত্ত বিদ্যমান ঋণ সুবিধার অতিরিক্ত ২০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ (সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা) এ স্কিমের আওতায় বিতরণ করতে পারবে।

নতুন কৃষকের জন্য ঋণের সর্বোচ্চ পরিমাণ সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ‘কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালা’ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাইয়ের ভিত্তিতে বিতরণ করতে পারবে। ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও বর্গাচাষিদের শস্য/ ফসল চাষের জন্য এককভাবে জামানতবিহীন সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ বিতরণ করা যাবে।

গৃহস্থালি পর্যায়ে গাভী পালন, গরু মোটাতাজাকরণ খাতে ব্যক্তিগত গ্যারান্টির বিপরীতে ঋণ প্রদানে অগ্রাধিকার প্রদান করতে হবে। শস্য ও ফসল ঋণ ব্যতীত অন্যান্য খাতের ঋণগুলোর ক্ষেত্রে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে ন্যূনতম জামানত/সহায়ক জামানত গ্রহণের বিষয়ে ব্যাংক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবে। এ স্কিমের আওতায় গৃহীত ঋণ কোনোভাবেই গ্রাহকের পুরনো ঋণ সমন্বয়ের জন্য ব্যবহার করা যাবে না। ঋণ খেলাপি হলে ঋণ প্রাপ্তির যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না।

কৃষি খাতের জন্য ৩,০০০ (তিন হাজার) কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিম গঠন ও পরিচালনার নীতিমালা
বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ঘোষিত কৃষি খাতের জন্য ৩,০০০ (তিন হাজার) কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিম পরিচালনায় নিম্নরূপ নীতিমালা অনুসৃত হবেঃ-

১. স্কিমের নামঃ কৃষি খাতে বিশেষ প্রণোদনামূলক পুনঃঅর্থায়ন স্কিম (২য় পর্যায়)।
২. স্কিমের আওতায় তহবিলের পরিমাণঃ ৩,০০০.০০ (তিন হাজার) কোটি টাকা।
৩. উৎসঃ বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল।
৪. স্কিমের মেয়াদঃ ৩০ জুন, ২০২২ পর্যন্ত।

৫. ঋণ চুক্তি সম্পাদন ও তহবিল বরাদ্দঃ
(ক) পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় ঋণ সুবিধা প্রাপ্তির লক্ষ্যে ২০২১-২২ অর্থবছরের কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালার আওতাভুক্ত ব্যাংকসমূহের মধ্যে ইচ্ছুক ব্যাংকসমূহকে কৃষি ঋণ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, প্রধান কার্যালয়, ঢাকা এর সাথে একটি অংশগ্রহণ চুক্তি (Participation Agreement) সম্পাদন করতে হবে।
(খ) ব্যাংকসমূহের কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা, ঋণ বিতরণের সক্ষমতা ইত্যাদির ভিত্তিতে কৃষি ঋণ বিভাগ কর্তৃক ব্যাংকসমূহের অনুকূলে তহবিল বরাদ্দ করা হবে। অংশগ্রহণকারী ব্যাংক কর্তৃক এ স্কিমের আওতায় সময়ে সময়ে ঋণ বিতরণের সক্ষমতা পর্যালোচনান্তে বাংলাদেশ ব্যাংক পরবর্তীতে প্রয়োজনবোধে বরাদ্দকৃত তহবিলের পরিমাণ পুনঃনির্ধারণ করতে পারবে।
(গ) কৃষক/ গ্রাহক পর্যায়ে ঋণ বিতরণের পর পেশকৃত পুনঃঅর্থায়ন দাবী পর্যালোচনাপূর্বক পর্যায়ক্রমে বরাদ্দকৃত তহবিলের সমপরিমাণ অর্থায়ন করা হবে।

৬. কৃষক/ গ্রাহক পর্যায়ে ঋণ বিতরণঃ
(ক) এ স্কিমের আওতায় অংশগ্রহণকারী ব্যাংকসমূহকে নিজস্ব নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কৃষক/ গ্রাহক পর্যায়ে ঋণ বিতরণ নিশ্চিত করতে হবে।
(খ) কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালার আওতাভুক্ত খাতসমূহে বিতরণকৃত ঋণের বর্তমান গ্রহীতাদের মধ্য হতে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক/ গ্রাহকগণকে অংশগ্রহণকারী ব্যাংক নিজ ব্যাংক হতে প্রদত্ত বিদ্যমান ঋণ সুবিধার (Sanction limit) অতিরিক্ত ২০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ (সর্বোচ্চ ১০.০০ কোটি টাকা) এ স্কিমের আওতায় বিতরণ করতে পারবে।
(গ) নতুন কৃষক/ গ্রাহকগণের ঋণের সর্বোচ্চ পরিমাণ সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই এর ভিত্তিতে নির্ধারণপূর্বক এ স্কিমের আওতায় বিতরণ করতে পারবে।
(ঘ) ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও বর্গাচাষিদের অনুকূলে শস্য/ ফসল চাষের জন্য এককভাবে জামানত বিহীন (শুধুমাত্র ফসল দায়বন্ধনের বিপরীতে) সর্বোচ্চ ২.০০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ বিতরণ করা যাবে।
(ঙ) গৃহস্থালি পর্যায়ে গাভী পালন, গরু মোটাতাজাকরণ খাতে ব্যক্তিগত গ্যারান্টির বিপরীতে ঋণ প্রদানে অগ্রাধিকার প্রদান করতে হবে।
(চ) শস্য ও ফসল ঋণ ব্যতীত অন্যান্য খাতের ঋণসমূহের ক্ষেত্রে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে ন্যূনতম জামানত/ সহায়ক জামানত গ্রহণের বিষয়ে ব্যাংক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবে।
(ছ) এ স্কিমের আওতায় গৃহীত ঋণ কোনভাবেই গ্রাহকের পুরাতন ঋণ সমন্বয়ের জন্য ব্যবহার করা যাবে না।
(জ) কোন কৃষক/ গ্রাহক যেকোন ব্যাংক/ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ঋণ খেলাপি হলে তিনি এ স্কিমের আওতায় ঋণ প্রাপ্তির যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না।

৭. সুদ/ মুনাফা হারঃ
(ক) এ স্কিমের আওতায় অংশগ্রহণকারী ব্যাংকসমূহ বাংলাদেশ ব্যাংক হতে নির্ধারিত ১% সুদ/ মুনাফা হারে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা পাবে।
(খ) কৃষক/ গ্রাহক পর্যায়ে সুদ/ মুনাফা হার হবে সর্বোচ্চ ৪% (সরল হারে)। উক্ত সুদ/ মুনাফা হার নতুন ও পুরাতন সকল গ্রাহকের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে।

৮. ঋণের খাতসমূহঃ
(ক) কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালার অন্তর্ভুক্ত শস্য ও ফসল খাতের আওতাভুক্ত দানা শস্য, অর্থকরী ফসল, শাক সবজি, কন্দাল ফসল (আমদানী বিকল্প ফসলসমূহ যথাঃ ডাল, তৈলবীজ, মসলা জাতীয় ফসল ও ভুট্টা চাষে গ্রাহক পর্যায়ে ৪% সুদ হারে ঋণ বিতরণের পৃথক স্কিম চালু থাকায় এ খাত ব্যতীত), ফল ও ফুল চাষ, মৎস্য চাষ, পোল্ট্রি ও প্রাণিসম্পদ খাত, কৃষি ও সেচ যন্ত্রপাতি, বীজ উৎপাদন খাতসমূহে ঋণ বিতরণ করা যাবে।
(খ) ব্যাংকের অনুকূলে বরাদ্দকৃত তহবিলের ন্যূনতম ৩০% শস্য ও ফসল খাতে বিতরণ নিশ্চিত করতে হবে।

৯. ঋণের মেয়াদঃ
(ক) অংশগ্রহণকারী ব্যাংকসমূহ পুনঃঅর্থায়ন গ্রহণের তারিখ হতে অনধিক ১৮ মাসের (১২ মাস + গ্রেস পিরিয়ড ৬ মাস) মধ্যে আসল এবং সুদ/ মুনাফা (বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত ১% সুদ/ মুনাফা হারে) পরিশোধ করবে।
(খ) কৃষক/ গ্রাহক পর্যায়ে শস্য/ ফসল খাতে বিতরণকৃত ঋণের সর্বোচ্চ মেয়াদ হবে ১২ মাস। এছাড়া, অন্যান্য খাতে বিতরণকৃত ঋণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মেয়াদ হবে ন্যূনতম ৩ মাস গ্রেস পিরিয়ডসহ ১৮ মাস।

১০. পুনঃঅর্থায়ন আবেদন পদ্ধতিঃ
(ক) কৃষক/ গ্রাহক পর্যায়ে ঋণ বিতরণ শুরু করার পর অংশগ্রহণকারী ব্যাংক কর্তৃক মাসিক ভিত্তিতে পুনঃঅর্থায়ন দাবী করতে হবে।
(খ) সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কৃষক/ গ্রাহক পর্যায়ে ঋণ বিতরণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক হতে পুনঃঅর্থায়ন প্রাপ্তির লক্ষ্যে নিম্নোক্ত প্রয়োজনীয় তথ্য/ কাগজপত্রসহ মহাব্যবস্থাপক, কৃষি ঋণ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক এর নিকট পুনঃঅর্থায়ন দাবি করবেঃ
– প্রকৃত বিতরণ সংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র;
– বিতরণকৃত ঋণের সমন্বিত বিবরণী (সংযুক্ত ছক-১ মোতাবেক);
– ঋণ পরিশোধের প্রতিশ্রুতিপত্র (ডিপি নোট) ও লেটার অব কন্টিনিউটি;
– সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য।

১১. পরিশোধ পদ্ধতিঃ
(ক) বিভিন্ন দফায় ব্যাংকের অনুকূলে ছাড়কৃত অর্থ সংশ্লিষ্ট দফার মেয়াদ পূর্তির মধ্যেই সুদ/ মুনাফাসহ গৃহীত আসলের সমুদয় অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংককে পরিশোধ করতে হবে;
(খ) কৃষক/ গ্রাহক পর্যায়ে বিতরণকৃত ঋণ আদায়ের সকল দায়-দায়িত্ব ঋণ বিতরণকারী ব্যাংকের ওপর ন্যস্ত থাকবে। কৃষক/ গ্রাহক পর্যায়ে ঋণ আদায়ের সাথে বাংলাদেশ ব্যাংকের পাওনাকে সম্পর্কিত করা যাবে না;
(গ) ঋণের বকেয়া নির্ধারিত তারিখের মধ্যে পরিশোধিত না হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে রক্ষিত সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের চলতি হিসাব বিকলন করে তা আদায়/ সমন্বয় করা হবে;
(ঘ) স্কিমের আওতায় প্রদত্ত ঋণের অর্থ বা এর কোন অংশের সদ্ব্যবহার হয়নি মর্মে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকট প্রতীয়মান হলে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক সে পরিমাণ অর্থের ওপর নির্ধারিত হারের অতিরিক্ত ২% হারে সুদ/ মুনাফা ধার্য্যপূর্বক এককালীন আদায় করা হবে।
(ঙ) কৃষক/ গ্রাহক পর্যায়ে ঋণ বিতরণ না করে অথবা কৃষক/ গ্রাহক পর্যায়ে বিতরণকৃত ঋণে ৪% এর অতিরিক্ত সুদ ধার্য্যপূর্বক ব্যাংক কর্তৃক এ স্কিমের আওতায় পুনঃঅর্থায়ন গ্রহণ করা হয়েছে মর্মে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকট প্রতীয়মান হলে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক সে পরিমাণ অর্থের ওপর প্রযোজ্য ব্যাংক রেট (বর্তমানে ৪%) ছাড়াও অতিরিক্ত ১% হারে সুদ/ মুনাফাসহ এককালীন আদায় করা হবে।

১২. রিপোর্টিং ও মনিটরিংঃ
(ক) এ স্কিমের আওতায় বিতরণকৃত প্রতিটি ঋণের জন্য পৃথক হিসাব সংরক্ষণ করতে হবে।
(খ) বাংলাদেশ ব্যাংক হতে অর্থায়ন প্রাপ্তির পর নিবিড় মনিটরিং এর লক্ষ্যে ঋণ বিতরণের পুঞ্জিভুত বিবরণী (সংযুক্ত ছক-২ মোতাবেক) বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষি ঋণ বিভাগে পাক্ষিক ভিত্তিতে (পক্ষ সমাপনান্তে ০৭ কর্মদিবসের মধ্যে) দাখিল করতে হবে।
(গ) কৃষক/ গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের সদ্ব্যবহার নিশ্চিতকল্পে ব্যাংকের নিজস্ব সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা এবং মনিটরিং পদ্ধতি থাকতে হবে যা অংশগ্রহণ চুক্তি সম্পাদনকালে বাংলাদেশ ব্যাংকে দাখিল করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক সময় সময় সরেজমিনে পরিদর্শন এবং তথ্যাদি যাচাইয়ের মাধ্যমে কৃষক/ গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের সদ্ব্যবহার মনিটরিং এবং মূল্যায়ন করা হবে।

১৩. তহবিল ব্যবস্থাপনাঃ
এ তহবিল সামগ্রিক তদারকি/ পরিচালনা/ ব্যবস্থাপনার কাজ বাংলাদেশ ব্যাংক, প্রধান কার্যালয় এর কৃষি ঋণ বিভাগ কর্তৃক সম্পাদিত হবে এবং এ লক্ষ্যে কৃষি ঋণ বিভাগ প্রয়োজনীয় শর্ত/ বিধি অনুসরণের নির্দেশনা প্রদান করতে পারবে।

১৪. অন্যান্য শর্তাবলীঃ
(ক) বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকট হতে তহবিলের প্রাপ্যতা সীমা বিবেচনা সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ঋণ বিতরণ করবে এবং ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে ব্যাংক প্রচলিত বিধি-বিধান অনুসরণ করবে।
(খ) বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক জারিকৃত এবং বর্তমানে অনুসৃত কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালাসহ অন্যান্য নীতিমালা যেমন জামানত, আবেদনপত্র গ্রহণ ও প্রক্রিয়াকরণের সময়কাল, ঋণ গ্রহীতার যোগ্যতা নিরূপন, ঋণ বিতরণ, ঋণের সদ্ব্যবহার, তদারকি ও আদায় প্রক্রিয়া যথারীতি অনুসৃত হবে।
(গ) উপরোক্ত পুনঃঅর্থায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের চাহিদার প্রেক্ষিতে ব্যাংক প্রয়োজনীয় তথ্য, কাগজপত্র এবং দলিলাদির কপি বাংলাদেশ ব্যাংককে সরবরাহ করবে। পুনঃঅর্থায়ন সংক্রান্ত উল্লিখিত নীতিমালার শর্তাদির বিষয়ে সময়ে সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় সংযোজন, বিয়োজন ও পরিমার্জন করতে পারবে।

উপরোক্ত নীতিমালা ও শর্তাদি অনুসরণপূর্বক এ পুনঃঅর্থায়ন স্কিমে অংশগ্রহণে ইচ্ছুক ব্যাংকসমূহকে এ সার্কুলার জারির পরবর্তী ১৫ (পনেরো) দিনের মধ্যে অত্র বিভাগের সাথে অংশগ্রহণ চুক্তি (Participation Agreement) সম্পাদন করার জন্য পরামর্শ প্রদান করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

Leave a Reply