রিয়েল টাইম গ্রোস সেটলমেন্ট (RTGS)

0
4077

ব্যাংকিং নিউজ বাংলাদেশঃ আভ্যন্তরীন যে কোনো ধরনের আর্থিক (টাকা এবং বৈদেশিক মুদ্রার) লেনদেনকে আরো নিরাপদ, সুরক্ষিত এবং দ্রুতগতি সম্পন্ন করার লক্ষ্যে এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় এবং ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের প্রযুক্তিগত সাহায্যে Remittance and Payment Systems Infrastructure Development প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় ২০১৪ সাল হতে RTGS ব্যবস্থা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়। সুইডিস সফটওয়্যার ভেন্ডর প্রতিষ্ঠান CMA Small Systems AB এর সহায়তায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সফল সার্থক এবং ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় প্রয়োজনীয় হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার স্থাপন এবং System Integration Test (SIT) সম্পন্ন হওয়া সাপেক্ষে দেশের সবকটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে ২৯ অক্টোবর, ২০১৫ তারিখে RTGS ব্যবস্থার লাইফ যাত্রা সম্পন্ন হয় এবং এরই মধ্যে দেশের অভ্যন্তরে তাৎক্ষনিক নিষ্পত্তির বহু কাংখিত স্বপ্নটি বাস্তবায়িত হয়।

বর্তমানে দৈনিক প্রায় ৪০০০ লেনদেন এ ব্যবস্থায় সম্পাদিত হচ্ছে যার আর্থিক মূল্য প্রায় ৮০০০ কোটি টাকা। বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহের ৭ হাজার এরও অধিক শাখা বর্তমানে এ ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত। RTGS ব্যবস্থায় বর্তমানে কেবলমাত্র দেশীয় মুদ্রায় সম্পাদিত বড় অংকের আন্তঃব্যাংক লেনদেন সম্পাদিত হলেও অচিরেই দেশের অভ্যন্তরে বৈদেশিক মুদ্রায় যেকোনো অংকের লেনদেন RTGS ব্যবস্থায় সম্পাদিত হওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
RTGS বৈদেশিক মুদ্রায় লেনদেন চালু হলে নিম্নলিখিত ছয় মুদ্রায় লেনদেন করা যাবে-
১. বাংলাদেশী টাকা (BDT)
২. ব্রিটিশ পাউন্ড (GBP)
৩. কানাডিয়ান ডলার (CAD)
৪. ইউরো (EUR)
৫. জাপানি ইয়েন (JPY) এবং
৬. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ডলার (USD)

• RTGS পদ্ধতি ব্যবহার করতে চাইলে আপনাকে যা করতে হবেঃ
১. আপনাকে যেকোন ব্যাংকের হিসাবধারী হতে হবে।
২. লেনদেনের পরিমাণ ন্যূনতম ১ লক্ষ টাকা অথবা যেকোনো মূল্যে বৈদেশিক মুদ্রা হতে হবে।
৩. গ্রাহক অর্থের পরিমাণ, লেনদেনের উদ্দেশ্য এবং প্রাপকের বিভিন্ন তত্ত্ব (নাম, ব্যাংকের নাম ও কোড, হিসাব নম্বর ইত্যাদি) সম্বলিত একটি আদেশ তার নিজ ব্যাংকে প্রদান করবে।
৪. দ্রুতগতির এ লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যাংক সর্বোচ্চ ১০০ টাকা সেবা মূল্য গ্রহণ করতে পারবে।

• RTGS পদ্ধতিতে অর্থ স্থানান্তরের প্রক্রিয়াঃ
১. গ্রাহকের আদেশ প্রাপ্তির সর্বোচ্চ ৩০ মিনিটের মধ্যে ব্যাংক গ্রাহকের হিসাব বিকলন (কর্তন) করে লেনদেনটি ইলেকট্রনিক উপায়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকট প্রেরণ করবে।
২. বাংলাদেশ ব্যাংক লেনদেনটি পাওয়া মাত্রই গ্রাহকের ব্যাংকের হিসাব বিকলন (কর্তন) করে প্রাপকের ব্যাংকের হিসাব অর্থ আকলন (জমা) করবে এবং সে সংক্রান্ত বার্তা প্রাপকের ব্যাংকে প্রেরণ করবে।
৩. প্রাপকের ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকট থেকে উক্ত বার্তা প্রাপ্তির সর্বোচ্চ ৩০ মিনিটের মধ্যেই প্রাপকের হিসাবে টাকা জমা করবে।

• RTGS পদ্ধতিতে যেসব লেনদেন নিষ্পন্ন করা সম্ভবঃ
আন্ত ব্যাংক লেনদেনঃ
* আন্তঃ ব্যাংক/ কলমানি মার্কেট লেনদেন
* সরকারি সিকিউরিটিজ সংক্রান্ত লেনদেন
* আভ্যন্তরীণ বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন।
গ্রাহক লেনদেনঃ
* বাণিজ্যিক পর্যায়ে: B2B, B2P, B2G
ব্যক্তি পর্যায়ে: P2P, P2B
সরকারি পর্যায়ে: G2B, G2P

• RTGS পদ্ধতি ব্যবহারের সুবিধাঃ
নিম্নে RTGSপদ্ধতি ব্যবহারের সুবিধা সমুহ তুলে ধরা হলো-
১. দ্রুততম সময়ে লেনদেনের নিষ্পত্তি নিশ্চিত করে।
২. দ্রুততম উপায় পাওনা টাকা আদায়ে হওয়ায় প্রাপক তার জরুরী আর্থিক প্রয়োজন সহজেই মেটাতে পারে।
৩. প্রাপক তার পাওনা টাকা অধিকতর সম্ভাবনাময় আর্থিক খাতে বিনিয়োগ করতে পারেন।
৪. চেক জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের ঝুঁকিমুক্ত।
৫. ব্যাংকের তারল্য ব্যবস্থাপনাকে সুদক্ষ করে।
৬. সেকেন্ডারি বন্ড মার্কেটকে অধিকতর সুদক্ষ করে।
৭. সরকারের মনিটারি পলিসিকে সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে সাহায্য করে।
৮. ব্যাংকসমূহ নতুন নতুন ব্যাংকিং পণ্য ও সেবা উদ্ভাবন করে গ্রাহককে উন্নত বিশ্বের আর্থিক সেবা ভোগের সুযোগ প্রদান করতে পারে।

RTGS ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে দেশের গ্রাহকের নিকট বিশ্বমানের আর্থিক সেবা পৌঁছে দেয়া সম্ভব হয়েছে। এটি একদিকে যেমন দ্রুততম সময়ে লেনদেন নিষ্পত্তি করে অন্যদিকে তেমনি লেনদেনের ক্ষেত্রে চেক জালিয়াতির মতো অর্থ আত্মসাতের ঝুঁকিকেও নির্মূল করেছে। তাৎক্ষণিকভাবে সকল ধরনের লেনদেনের নিষ্পত্তি করা যায় বিধায় RTGS ব্যবস্থা সরকারের মনিটারি পলিসির সফল বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

• RTGS পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতেঃ
* আপনার ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ করুন।
* আরও অধিক কিছু জানতে চাইলে সরাসরি নিম্ন ঠিকানায় যোগাযোগ করুনঃ
মহাব্যবস্থাপক
পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট, বাংলাদেশ ব্যাংক, প্রধান কার্যালয়, ঢাকা।
ইমেইলঃ [email protected]

Source: Payment Systems Department of Bangladesh Bank

Leave a Reply