ইসলামী ব্যাংকের বিরূদ্ধে অপপ্রচার ব্যর্থ

0
4437

ব্যাংকিং নিউজ বাংলাদেশঃ সম্প্রতি কয়েকটি জাতীয় পত্রিকায় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের বিরূদ্ধে জঘন্য অপপ্রচার হয়েছে। দৈনিক প্রথম আলো, ইত্তেফাক ও ডেইলি স্টার তম্মদ্ধে উল্লেখ্য। অপপ্রচার সম্বলিত পত্রিকাসমূহ ব্যাপক বিক্রি হয়েছে। এতে পত্রিকাসমূহ তাদের ব্যবসায়িক মন্দাত্ব কাটিয়েছে। অন্যদিকে জনমনে আতংকও ছড়িয়েছে। এতোকিছুর পরও শুধুমাত্র ইসলামী ব্যাংক এর শক্ত ভিত্তির কারণে সকল ঘৃণ্য অপপ্রচার প্রতিহত করে সগৌরবে টিকে আছে এবং উত্তরোত্তর প্রবৃদ্ধি করছে।

এ ব্যাংকটি বাংলাদেশে ইসলামী শরিয়াহ (জীবনব্যবস্থা) ভিত্তিক সুদমুক্ত অর্থনীতি বাস্তবায়নের মহান লক্ষ্য নিয়ে ১৯৮৩ সালে যাত্রা করেছে। বহু ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে এদেশে এই একটি ব্যাংকই পৃথিবীর সেরা এক হাজার ব্যাংকের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এর ভিত্তি অনেক মজবুত। কথিত আছে, ব্যাংকটির একজন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য প্রথমদিকে জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর প্রহর গুনছিলেন। তখন তাঁর অনুগতা স্ত্রী পবিত্র কাবা ঘরের গেলাফ ধরে অঝোরে কান্না করেছিলেন এবং ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠা পর্যন্ত জীবিত রাখার জন্য নিজের বয়সসীমা থেকে স্বামীকে প্রদান করতে মহান স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা করেছিলেন। এতে তিনি সম্পুর্ণ সুস্থ হয়ে ব্যাংকটি প্রতিষ্ঠা করে আরো বহুদিন যাবত এর সফল অগ্রযাত্রায় ভূমিকা রাখেন। এভাবে ব্যাংকটির সাথে বহু দ্বীনদার ব্যক্তিদের আবেগ জড়িয়ে আছে। তাদের অক্লান্ত নিঃস্বার্থ প্রচেষ্টার ফলেই এ ব্যাংকটি বাংলাদেশের সেরা অবস্থানে এসেছে। এটি দেশের অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণের অন্যতম নিয়ামকও বটে। গুটিকয়েক বাম ঘরানার পত্রিকার অপপ্রচারে এর পতন সম্ভব নয়। অপপ্রচারকারীরা ব্যর্থতার নিকৃষ্ট গহবরে পতিত হয়েছে।

বাংলাদেশে ইসলামী অর্থনীতির ধারক-বাহক বলতে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডকেই বুঝায়। যদিও এখন দেশে আরো ৭(সাত) টি পুর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংক রয়েছে। এছাড়া প্রচলিত অন্যান্য ব্যাংকও ইসলামী ব্যাংকিং শাখা খুলেছে। অর্থাৎ ইসলামী ব্যাংক এখন ব্রান্ডে পরিণত হয়েছে। একটি নামকরা ব্রান্ডের যেমন কদর রয়েছে, তেমনি ইসলামী ব্যাংক নাম থাকলেই জনগণ তা স্বাদরে গ্রহণ করে। এ সাফল্য অতি সহজে আসেনি। ১৯৮৩ সাল থেকে কঠিন পরিস্থিতি পেরিয়ে সাফল্যের শীর্ষে ওঠার পর ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশে ২য় ইসলামী ব্যাংক হিসেবে আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক যাত্রা করে। মূলত ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধির অতি সহজ মাধ্যম হিসেবে আজ প্রায় সব ব্যাংকই ইসলামী নামফলক ব্যবহার করছে। এতে ইসলামী ব্যাংকের ভিত্তি আরো মজবুত হয়েছে। সুতরাং, এ ব্যাংকের বিরূদ্ধে পত্রিকায় অপপ্রচারের পিছনে গভীর ষঢ়যন্ত্র থাকতে পারে। সরকারের উচিত, তা খতিয়ে দেখা।

ব্যাংক কোম্পানী আইন-১৯৯১ অনুসারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সকল নিয়ম-নীতি পরিপালন করেই ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই এর সকল দায় ও গ্রাহকদের স্বার্থ, সরকারের কাছেই ন্যস্ত। আর কোম্পানী আইন অনুযায়ী পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তন স্বাভাবিক ব্যাপার। বাংলাদেশে অন্যান্য ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তন হলে, মিডিয়ায় তেমন তৎপরতা দেখা যায়না। তাতে পত্রিকা বিক্রিতেও প্রভাব পড়েনা। শুধুমাত্র ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের ক্ষেত্রে তা বিপরীত। অর্থাৎ পত্রিকার কাটতি বাড়াতেই কতিপয় মহল ইসলামী ব্যাংকের বিরূদ্ধে ঘৃণ্য অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছিল। অপপ্রচারকারীদের জেনে রাখা উচিত, যে মহান আদর্শ নিয়ে ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত; এর ব্যর্থতা বা পরাজয় নেই। এটি পরশ পাথর সদৃশ। যারাই এর ছায়াতলে বা পরিচালনা পর্ষদে আসুক না কেন, সামান্য হলেও এতে উজ্জীবিত হবে। এটি একটি সম্মোহক শক্তি। এর মূল ভিত্তি- তাকওয়া বা আল্লাহ ভীতি। স্বয়ং মহান স্রষ্টা পবিত্র কোরআনে তাকওয়া অবলম্বনকারীদের প্রশংসা করেছেন। তাদের জন্য ঘোষণা করেছেন মহান সাফল্য। যেমন উল্লেখ রয়েছে, নিশ্চয়ই যারা আল্লাহকে ভয় করে, তাদের জন্য রয়েছে সাফল্য। (সুরা আন-নাবা, আয়াত-২১)। সরকারের আস্থাভাজন সাবেক আমলা ও ইসলামী ব্যাংকের সদ্যবিদায়ী সফল চেয়্যারম্যান জনাব আরাস্তু খান দায়িত্বে থাকাকালে তাঁর সকল বক্তব্যে এ ব্যাংকে সংশ্লিষ্টদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন। এরপরও অপপ্রচারকারীদের বোধোদয় হয়নি।

সিরাজী এম আর মোস্তাক
ইমেইলঃ [email protected]

Leave a Reply