ইসলামের দৃষ্টিতে মুনাফাখোরী

0
505

মানুষ সামাজিক জীব। সমাজের সদস্যরা একে অপরের উপর নির্ভরশীল। কোন ব্যক্তির একার পক্ষে তার প্রয়োজনীয় যাবতীয় দ্রব্য-সামগ্রী সংগ্রহ করা সম্ভব নয়। এজন্যই আল্লাহ তা‘আলা তাদের মধ্যে ক্রয়-বিক্রয় তথা ব্যবসার মাধ্যমে পণ্য বিক্রয় ও মুনাফা লাভের বিধান প্রবর্তন করেছেন। খ্যাতনামা ফকীহ ইবনু কুদামা (রহঃ) এ প্রসঙ্গে বলেন- وَأَجْمَعَ الْمُسْلِمُونَ عَلَى جَوَازِ الْبَيْعِ فِي الْجُمْلَةِ، وَالْحِكْمَةُ تَقْتَضِيهِ؛ لِأَنَّ حَاجَةَ الْإِنْسَانِ تَتَعَلَّقُ بِمَا فِي يَدِ صَاحِبِهِ، وَصَاحِبُهُ لَا يَبْذُلُهُ بِغَيْرِ عِوَضٍ، فَفِي شَرْعِ الْبَيْعِ وَتَجْوِيزِهِ شَرْعُ طَرِيقٍ إلَى وُصُولِ كُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا إلَى غَرَضِهِ، وَدَفْعِ حَاجَتِهِ অর্থাৎ ‘সার্বিকভাবে ক্রয়-বিক্রয় জায়েয হওয়ার ব্যাপারে সকল মুসলমান ঐক্যমত পোষণ করেছেন। আর প্রজ্ঞার দাবীও তাই। কেননা মানুষের প্রয়োজন তার সাথীর নিকট যা রয়েছে তার সাথে সংশ্লিষ্ট। অথচ তার সাথী বিনিময় ব্যতীত তা প্রদান করবে না। সুতরাং ক্রয়-বিক্রয় বিধিসম্মত ও জায়েয করে তাদের উভয়েরই উদ্দেশ্যে পৌঁছা ও প্রয়োজন পূরণ করার পথ প্রবর্তন করা হয়েছে’।[1]

সাথে সাথে ব্যবসা-বাণিজ্যে সততা অবলম্বন করা এবং সর্ব প্রকার ধোঁকাবাজি ও প্রতারণা থেকে বেঁচে থাকার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। সৎ ব্যবসায়ীদের জন্য ঘোষণা করা হয়েছে সুসংবাদ ও অসৎ ব্যবসায়ীদের জন্য দুঃসংবাদ। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন- اَلتَّاجِرُ الصَّدُوقُ الأَمِينُ مَعَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ অর্থাৎ ‘সত্যবাদী ও আমানতদার ব্যবসায়ী (ক্বিয়ামতের দিন) নবী, ছিদ্দীক্ব ও শহীদদের সাথে থাকবে’।[2] অর্থাৎ যে ব্যবসায়ী পণ্য ক্রয় করে, বিক্রয় করে এবং সত্য কথা বলে সে ক্বিয়ামতের দিন উক্ত সৌভাগ্যবান ব্যক্তিদের সাথে থাকবে। এটি বিশাল একটি মর্যাদা। যা এই পেশার শ্রেষ্ঠত্বের প্রতি নির্দেশ করে।

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আরো বলেন- إِنَّ التُّجَّارَ يُبْعَثُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فُجَّارًا إِلاَّ مَنِ اتَّقَى اللهَ وَبَرَّ وَصَدَقَ অর্থাৎ ‘ক্বিয়ামতের দিন ব্যবসায়ীরা পাপিষ্ঠ রূপে উত্থিত হবে। তবে যারা আল্লাহকে ভয় করে এবং ব্যবসায় সততা ও সত্যবাদিতা অবলম্বন করে তারা ব্যতীত’।[3] রাসূল (ছাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হ’ল কোন উপার্জন সর্বোত্তম? তিনি বললেন- عَمَلُ الرَّجُلِ بِيَدِهِ وَكُلُّ بَيْعٍ مَبْرُورٍ অর্থাৎ ‘নিজ হাতে কাজ করা এবং প্রত্যেক বায়য়ে মাবরূর’।[4] যে ব্যবসায় মিথ্যা, প্রতারণা, ধোঁকা ও সংশয় থাকে না তাকে ‘বায়য়ে মাবরূর’ বলে।

কাতাদা (রহঃ) বলেন- اَلتِّجَارَةُ رِزْقٌ مِنْ رِزْقِ اللهِ حَلاَلٌ مِنْ حَلاَلِ اللهِ لِمَنْ طَلَبَهَا بِصِدْقِهَا وَبِرِّهَا অর্থাৎ ‘ব্যবসা আল্লাহর রিযিকের মধ্যে একটি রিযিক এবং আল্লাহর হালালকৃত বস্ত্তগুলির মধ্যে একটি হালাল ঐ ব্যক্তির জন্য, যে সততা ও ন্যায়পরায়ণতার সাথে ব্যবসা করে’।[5]

ইসলাম ব্যক্তি স্বার্থের চেয়ে জাতীয় ও সামষ্টিক স্বার্থকে গুরুত্ব ও অগ্রাধিকার দিয়েছে। এজন্য যেসব কারবারের ফলে ব্যক্তি বা গোষ্ঠী বিশেষ আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হয়, আর আপামর জনসাধারণের ওঠে নাভিশ্বাস, সেসব কারবারকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। অত্যধিক মুনাফা লাভের প্রত্যাশায় মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য-সামগ্রী মজুদ করে দ্রব্যমূল্যের পাগলা ঘোড়ার পদতলে তাদেরকে পিষ্ট করা এবং খাদ্যদ্রব্যসহ অন্যান্য পণ্যে ভেজাল প্রদান করে মুনাফা লুটে নেয়া তেমনি নিষিদ্ধ কারবার। উপরন্তু এগুলো অন্যায়ভাবে অন্যের সম্পদ ভক্ষণ করার শামিল।

আর আল্লাহ রববুল আলামীন কুরআন মাজীদে অন্যায়ভাবে অন্যের সম্পদ ভক্ষণ করার বিরুদ্ধে বজ্রনির্ঘোষ বাণী উচ্চারণ করে হুঁশিয়ারী প্রদান করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন-يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ إِلَّا أَنْ تَكُونَ تِجَارَةً عَنْ تَرَاضٍ مِنْكُمْ وَلَا تَقْتُلُوا أَنْفُسَكُمْ إِنَّ اللهَ كَانَ بِكُمْ رَحِيمًا ‘হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা একে অপরের মাল অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করো না, তোমাদের পারস্পরিক সম্মতিতে ব্যবসা ব্যতীত। আর তোমরা একে অপরকে হত্যা করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি দয়াশীল’ (নিসা ৪/২৯)।

সাইয়িদ কুতুব (রহঃ) বলেন-وأكل الأموال بالباطل يشمل كل طريقة لتداول الأموال بينهم لم يأذن بها الله، أو نهى عنها، ومنها الغش والرشوة والقمار واحةكار الضرورياة لإغلائها، وجميع أنواع البيوع المحرمة অর্থাৎ ‘মুমিনদের মধ্যে সম্পদ আবর্তনের প্রত্যেক পদ্ধতি যার অনুমতি আল্লাহ দেননি বা তিনি যা থেকে নিষেধ করেছেন তার সবই অন্যায়ভাবে অন্যের মাল ভক্ষণ করার মধ্যে শামিল রয়েছে। যেমন- প্রতারণা, ঘুষ, জুয়া, মূল্য বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি মজুদ করা এবং সকল প্রকার অবৈধ ক্রয়-বিক্রয়’।[6] আলোচ্য প্রবন্ধে মুনাফাখোরী সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি আলোচনা করা হলো-

মুনাফার সংজ্ঞা
মুনাফা শব্দের আরবী প্রতিশব্দ হচ্ছে رِبْحٌ । যেমন বলা হয়, رَبِحَ التَّاجِرُ فِىْ تِجَارَتِهِ، ‘ব্যবসায়ী তার ব্যবসায় লাভ করেছে’, رَبِحَتْ تِجَارَتُهُ ‘তার ব্যবসা লাভজনক হয়েছে’।[7] কুরআন মাজীদ ও হাদীছে এ অর্থে শব্দটির প্রয়োগ লক্ষ্য করা যায়। যেমন আল্লাহ রববুল আলামীন বলেন, فَمَا رَبِحَتْ تِجَارَتُهُمْ وَمَا كَانُوا مُهْتَدِينَ، ‘কিন্তু তাদের এ ব্যবসা লাভজনক হয়নি এবং তারা সুপথ প্রাপ্ত হয়নি’ (বাক্বারাহ ২/১৬)।
রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, إِذَا رَأَيْتُمْ مَنْ يَبِيعُ أَوْ يَبْتَاعُ فِى الْمَسْجِدِ فَقُوْلُوْا لاَ أَرْبَحَ اللهُ تِجَارَتَكَ وَإِذَا رَأَيْتُمْ مَنْ يَنْشُدُ فِيْهِ ضَالَّةً فَقُوْلُوْا لاَ رَدَّ اللهُ عَلَيْكَ، ‘যখন তোমরা দেখবে, কেউ মসজিদে বিক্রয় বা ক্রয় করছে, তখন বলবে, আল্লাহ তোমার ব্যবসাকে লাভজনক না করুন! আর যখন দেখবে, কেউ মসজিদে কোন হারানো বস্ত্তর বিজ্ঞপ্তি প্রচার করছে, তখন বলবে, আল্লাহ তোমাকে তা ফেরত না দিন’।[8]

আর মুনাফার ইংরেজী প্রতিশব্দ Profit। মুনাফার সংজ্ঞা প্রদান করতে গিয়ে ড. মাহমূদ আব্দুর রহমান আব্দুল মুনঈম বলেন,نَمَاءُ الْمَالِ نَتِيْجَةَ الْبَيْعِ وَالشِّرَاءِ، ‘ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে সম্পদ বা মূলধন বৃদ্ধি হওয়া’।[9]
ঐতিহাসিক ও সমাজবিজ্ঞানী ইবনে খালদূন বলেন,ان التجارة محاولة الكسب بتنمية المال بشراء السلع بالرخص وبيعها بالغلاء… وذلك القدر النامى يسمى ربحا– ‘সস্তায় পণ্য ক্রয় করে বেশী দামে বিক্রি করে মূলধনের প্রবৃদ্ধি ঘটানোর মাধ্যমে উপার্জনের প্রচেষ্টা চালানো হ’ল ব্যবসা। …আর ব্যবসার মাধ্যমে অর্জিত এ বাড়তি পরিমাণটাকেই বলা হয় মুনাফা’।[10]

ইমাম রাগিব ইস্পাহানী মুনাফার সংজ্ঞা প্রদান করতে গিয়ে বলেন, الربح: الزيادة الحاصلة فى المبايعة ثم يُتَجَوَّزُ به فى كل ما يعود من ثمرة عمل– ‘ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে অর্জিত বাড়তি সম্পদকে মুনাফা বলা হয়। … পরে তা পরোক্ষ অর্থে কর্মের ফল হিসাবে যা ফিরে আসে তা বোঝায়’।[11]
মোদ্দাকথা হালাল ব্যবসার মাধ্যমে উপার্জিত লভ্যাংশকে বলা হয় মুনাফা। আর মিথ্যা, ধোঁকা ও অবৈধ উপায়ে লাভ করার নেশায় যে মত্ত থাকে তাকে বলা হয় মুনাফাখোর (Profiteer)।

সূদ ও মুনাফার মধ্যে পার্থক্য
অনেকে সূদ ও মুনাফাকে একই মনে করেন। এমনকি ‘সূদ তো মুনাফার মতই’ বলতেও দ্বিধা করেন না। অথচ এ দু’য়ের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে, যা নিম্নরূপ:
(ক) সূদ হ’ল একই জাতীয় জিনিসের বিনিময়ে অতিরিক্ত গ্রহণ করা, যা হারাম (বাক্বারাহ ২/২৭৫; মুসলিম হা/১৫৮৮)। আর মুনাফা হ’ল হালাল ব্যবসার মাধ্যমে উপার্জিত লভ্যাংশ।
(খ) সূদ হ’ল ঋণের শর্ত অনুযায়ী ঋণগ্রহীতা কর্তৃক ঋণদাতাকে মূল অর্থের সাথে প্রদেয় অতিরিক্ত অর্থ। ইবনু আববাস (রাঃ) বলেন, كُلُّ قَرْضٍ جَرَّ مَنْفَعَةً فَهُوَ رِبًا ‘প্রত্যেক ঋণ যা লাভ নিয়ে আসে, সেটিই সূদ’।[12] পক্ষান্তরে মুনাফা হ’ল উৎপাদনের মূল্য ও উৎপাদন খরচের পার্থক্য।
(গ) সূদ পূর্ব নির্ধারিত। অপরপক্ষে মুনাফা অর্জিত হয় পরে।

(ঘ) সূদে কোন ঝুঁকি বা অনিশ্চয়তা নেই। অপরপক্ষে কোন উদ্যোগে বা কারবারে মুনাফা না হয়ে লোকসানও হ’তে পারে। এক্ষেত্রে মূলধন সরবরাহকারী এবং উদ্যোক্তা উভয়ের ক্ষেত্রেই ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা বিদ্যমান।
(ঙ) সূদ কখনই ঋণাত্মক হ’তে পারে না। বড় জোর খুবই কম বা তাত্ত্বিকভাবে শূন্য হ’তে পারে। মুনাফা ধনাত্মক, শূন্য এমনকি ঋণাত্মক (অর্থাৎ লোকসান) হ’তে পারে।
(চ) সূদের ক্ষেত্রে ঋণদাতা সময় ও শ্রম বিনিয়োগ করে না। পক্ষান্তরে মুনাফা উদ্যোক্তা ও পুঁজির যোগানদাতার সময় ও শ্রম বিনিয়োগের ফল।[13]

ইসলামের দৃষ্টিতে মুনাফাখোরী
মহান আল্লাহ বলেন, وَأَحَلَّ اللهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا ‘আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন ও সূদকে হারাম করেছেন’ (বাক্বারাহ ২/২৭৫)। ব্যবসার লক্ষ্য হ’ল সম্পদের প্রবৃদ্ধি ঘটানো বা মুনাফা লাভ করা। ব্যবসার মাধ্যমে মূলধনের মুনাফা লাভ ইসলামে সম্পূর্ণ জায়েয। মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা একে অপরের মাল অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করো না, তোমাদের পারস্পরিক সম্মতিতে ব্যবসা ব্যতীত…’ (নিসা ৪/২৯)। অত্র আয়াতের ব্যাখ্যায় হাফেয ইবনু কাছীর (রহঃ) বলেন, لا تتعاطوا الأسباب المحرمة فى اكتساب الأموال، ولكن المتاجر المشروعة التى تكون عن تراض من البائع والمشترى فافعلوها وتسببوا بها فى تحصيل الأموال– ‘ধন-সম্পদ উপার্জনে তোমরা অবৈধ পন্থা সমূহ অবলম্বন করো না। তবে ক্রেতা ও বিক্রেতার সম্মতিতে বৈধ ব্যবসা করো এবং এর মাধ্যমে সম্পদ অর্জন করো’।[14]

মানুষ ব্যবসার মাধ্যমে হালাল উপায়ে যে মুনাফা বা লাভ অর্জন করে, কুরআন মাজীদে তাকে ‘আল্লাহর অনুগ্রহ’ (فضل الله) বলা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন, فَانْتَشِرُوا فِي الْأَرْضِ وَابْتَغُوا مِنْ فَضْلِ اللهِ، ‘তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় আর আল্লাহর অনুগ্রহ হতে অনুসন্ধান কর’ (জুমু‘আহ ৬২/১০)। অন্যত্র তিনি বলেন, وَآخَرُونَ يَضْرِبُونَ فِي الْأَرْضِ يَبْتَغُوْنَ مِنْ فَضْلِ اللهِ ‘কেউ আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধানে দেশ-বিদেশ ভ্রমণে বের হবে’ (মুয্যাম্মিল ৭৩/২০)। পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থায় হালাল-হারাম বাছ-বিচার না করে যেকোন উপায়ে মুনাফা অর্জনের অবাধ সুযোগ রয়েছে। কিন্তু ইসলামী অর্থনীতিতে অবৈধ ব্যবসার মাধ্যমে উপার্জিত মুনাফা অবৈধ বা হারাম। কারণ তা শোষণের হাতিয়ার।

ইসলামী শরী‘আতে মুনাফা বা লাভের কোন পরিমাণ নির্ধারিত নেই। বরং তা সাধারণ বাজারদরের উপর নির্ভরশীল। মূলতঃ ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে লক্ষ্যণীয় হল- ১. তাতে যুলুম না থাকা। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন- اِتَّقُوا الظُّلْمَ فَإِنَّ الظُّلْمَ ظُلُمَاتٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، ‘তোমরা যুলুম থেকে বেঁচে থাক। কেননা যুলুম ক্বিয়ামতের দিন ঘন অন্ধকার হয়ে দেখা দিবে’।[15] ২. ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের সম্মতি (নিসা ৪/২৯)।[16] রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তাইতো বলেছেন, إِنَّمَا الْبَيْعُ عَنْ تَرَاضٍ ‘ক্রয়-বিক্রয় কেবল পারস্পরিক সম্মতিতে অনুষ্ঠিত হয়’।[17]

উরওয়া বিন আবিল জা‘দ আল-বারেকী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, عَرَضَ لِلنَّبِىِّ صلى الله عليه وسلم جَلَبٌ فَأَعْطَانِى دِيْنَاراً وَقَالَ أَىْ عُرْوَةُ ائْتِ الْجَلَبَ فَاشْتَرِ لَنَا شَاةً. فَأَتَيْتُ الْجَلَبَ فَسَاوَمْتُ صَاحِبَهُ فَاشْتَرَيْتُ مِنْهُ شَاتَيْنِ بِدِيْنَارٍ فَجِئْتُ أَسُوْقُهُمَا أَوْ قَالَ أَقُوْدُهُمَا فَلَقِيَنِىْ رَجُلٌ فَسَاوَمَنِىْ فَأَبِيْعُهُ شَاةً بِدِيْنَارٍ فَجِئْتُ بِالدِّيْنَارِ وَجِئْتُ بِالشَّاةِ فَقُلْتُ يَا رَسُوْلَ اللهِ هَذَا دِيْنَارُكُمْ وَهَذِهِ شَاتُكُمْ. قَالَ وَصَنَعْتَ كَيْفَ. قَالَ فَحَدَّثْتُهُ الْحَدِيْثَ فَقَالَ اللَّهُمَّ بَارِكْ لَهُ فِىْ صَفْقَةِ يَمِيْنِهِ‘ নবী করীম (ছাঃ)-এর নিকট পশুর একটি চালানের সংবাদ আসল। তিনি আমাকে একটি দীনার দিয়ে বললেন, উরওয়া! তুমি চালানটির নিকট যাও এবং আমাদের জন্য একটি বকরী ক্রয় করে নিয়ে আস। তখন আমি চালানটির কাছে গেলাম এবং চালানের মালিকের সাথে দরদাম করে এক দীনার দিয়ে দুইটি বকরী ক্রয় করলাম। বকরী দু’টি নিয়ে আসার পথে এক লোকের সাথে আমার সাক্ষাৎ হ’ল। লোকটি বকরী ক্রয় করার জন্য আমার সাথে দরদাম করল। তখন আমি তার নিকট এক দীনারের বিনিময়ে একটি বকরী বিক্রয় করলাম এবং একটি বকরী ও এক দীনার নিয়ে চলে এলাম। এসে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! এই হচ্ছে আপনার দীনার এবং এই হচ্ছে আপনার বকরী। তখন রাসূল (ছাঃ) বললেন, এটা তুমি কিভাবে করলে? উরওয়া (রাঃ) বলেন, আমি তখন তাঁকে ঘটনাটি বললাম। তখন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, হে আল্লাহ! আপনি তার হাতের লেন-দেনে বরকত দিন’।[18] উক্ত হাদীছ থেকে বুঝা যাচ্ছে যে, বৈধভাবে শতভাগ লাভ করলেও তাতে কোন সমস্যা নেই।

সঊদী আরবের সর্বোচ্চ ওলামা পরিষদের এক ফৎওয়ায় বলা হয়েছে, ليست الأرباح في التجارة محدودة، بل تتبع أحوال العرض والطلب، كثرة وقلة، لكن يستحسن للمسلم تاجراً أو غيره أن يكون سهلاً سمحاً في بيعه وشرائه، وألا ينتهز فرصة غفلة صاحبه، فيغبنه في البيع أو الشراء، بل يراعي حقوق الأُخوّة الإسلامية، ‘ব্যবসায়ে লাভ বা মুনাফা নির্ধারিত নেই। বরং সরবরাহ ও চাহিদার অবস্থা অনুপাতে মুনাফা কম বা বেশী হতে পারে। কিন্তু মুসলিম ব্যক্তি ব্যবসায়ী হৌক বা অন্য কেউ হোক তার জন্য উত্তম হল, ক্রয়-বিক্রয়ে সরল ও উদার হওয়া এবং ক্রেতার সরলতার সুযোগ নিয়ে তাকে ক্রয়-বিক্রয়ে ধোঁকা না দেয়া। বরং সে মুসলিম ভ্রাতৃত্বের অধিকার সমূহের প্রতি খেয়াল রাখবে’।[19]

সঊদী আরবের সাবেক গ্র্যান্ড মুফতী শায়খ আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ বিন বায (রহঃ) এক ফৎওয়ায় বলেন, ليس للربح حد محدود، بل يجوز الربح الكثير والقليل إلا إذا كانت السلع موجودة في السوق بأسعار محددة معلومة فليس له أن يغر الناس، بل عليه أن يخبر الناس يقول هذه السلعة موجود بأسعار كذا وكذا.. لكن سلعتي أنا هذه ما أبيعها بالسعر هذا، فإذا أحب أن يشتريها بزيادة فلا بأس، لكن يرشد الناس إلى الأسعار الموجودة، أما إذا كانت الأسعار غير موجودة ولا محددة فله يبيع بما أراد من الثمن ‘লাভ বা মুনাফার কোন পরিমাণ নির্ধারিত নেই। বরং বেশী ও কম লাভ করা জায়েয। তবে বাজারে পণ্য যদি নির্ধারিত ও নির্দিষ্ট মূল্যে মওজুদ থাকে তাহলে বিক্রেতার জন্য মানুষকে ধোঁকা দেয়া ঠিক নয়। বরং তার কর্তব্য হল মানুষকে জানিয়ে দেয়া যে, এই দ্রব্যটি এত মূল্যে (বাজারে) মওজুদ আছে। কিন্তু আমি এই মূল্যে আমার এই পণ্যটি বিক্রি করব না। এক্ষণে ক্রেতা যদি বেশী মূল্যে তা ক্রয় করতে পসন্দ করে তাতে কোন দোষ নেই। তবে বিক্রেতা বাজার দাম সম্পর্কে মানুষকে অবগত করবে। আর মূল্য যদি নির্ধারিত না থাকে তাহলে সে যেকোন মূল্যে বিক্রি করতে পারে’।[20]

ইসলাম সূদের মাধ্যমে মুনাফা লাভের পন্থাকে হারাম ঘোষণা করেছে। তার পরিমাণ কম বা বেশী যাই হোক। মহান আল্লাহ বলেন, يَا أَيُّهَا الَّذِيْنَ آمَنُوا اتَّقُوا اللهَ وَذَرُوا مَا بَقِيَ مِنَ الرِّبَا إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِيْنَ، ‘হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং সূদের পাওনা যা বাকী রয়েছে, তা ছেড়ে দাও, যদি তোমরা সত্যিকারের মুমিন হয়ে থাক’ (বাক্বারাহ ২/২৭৮)। আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ (রাঃ) বলেন, إِنَّ الرِّبَا وَإِنْ كَثُرَ فَإِنَّ عَاقِبَتَهُ تَصِيْرُ إِلَى قُلٍّ، ‘সূদের দ্বারা সম্পদ যতই বৃদ্ধি পাক না কেন তার শেষ পরিণতি হ’ল নিঃস্বতা’।[21]

সারকথা হল ইসলামী অর্থনীতিতে বৈধ ও সুবিচারপূর্ণ মুনাফা হচ্ছে-
১. যা সাধারণ সুস্থ-শান্ত অবস্থায় চাহিদা ও সরবরাহের নিয়মাধীন উন্মুক্ত স্বাধীন বাজারে লেনদেনের দরুন অর্জিত হয়।
২. উৎপাদন ব্যবস্থা ও পণ্য বিক্রয়ের কাজে নিযুক্ত শ্রমজীবিদের প্রাপ্য যথাযথভাবে আদায় করার পর ব্যবসায়ীদের নিকট যতটা উদ্বৃত্ত থাকবে।
৩. ব্যবহারকারীদের ক্রয়ক্ষমতা থেকে আনুপাতিক মূল্যে যা অর্জিত হবে।[22]

মুনাফাখোরী প্রতিরোধে ইসলামের গৃহীত পদক্ষেপ সমূহ
ইসলাম মুনাফাখোরীকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে এবং তা প্রতিরোধের জন্য কয়েক ধরনের কারবারকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। যথা-
১. পণ্যমূল্য জানে না এমন ক্রেতার নিকট থেকে বেশী মূল্য আদায় করা ইসলামে নিষিদ্ধ এবং এটা এক ধরনের ধোঁকার শামিল। ইমাম ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) এ প্রসঙ্গে বলেন, وَمَنْ عُلِمَ مِنْهُ أَنَّهُ يَغْبِنُهُمْ فَإِنَّهُ يَسْتَحِقُّ الْعُقُوبَةَ؛ بَلْ يُمْنَعُ مِنْ الْجُلُوسِ فِي سُوقِ الْمُسْلِمِينَ حَتَّى يَلْتَزِمَ طَاعَةَ اللهِ وَرَسُولِهِ وَلِلْمَغْبُونِ أَنْ يَفْسَخَ الْبَيْعَ فَيَرُدَّ السِّلْعَةَ وَيَأْخُذَ الثَّمَنَ وَإِذَا تَابَ هَذَا الْغَابِنُ الظَّالِمُ وَلَمْ يُمْكِنْهُ أَنْ يَرُدَّ إلَى الْمَظْلُومِيْنَ حُقُوقَهُمْ فَلْيَتَصَدَّقْ بِمِقْدَارِ مَا ظَلَمَهُمْ بِهِ وَغَبَنَهُمْ؛ ؛ لِتَبْرَأَ ذِمَّتُهُ بِذَلِكَ مِنْ ذَلِكَ ‘কোন বিক্রেতা সম্পর্কে যদি জানা যায় যে, সে ক্রেতাদেরকে ধোঁকা দেয় তাহ’লে সে শাস্তির হকদার হবে। এমনকি আল্লাহ ও তদীয় রাসূল (ছাঃ)-এর আনুগত্য অবলম্বন না করা পর্যন্ত তাকে মুসলমানদের বাজারে বসা থেকে নিষেধ করা হবে। অন্যদিকে প্রতারিত ব্যক্তি বিক্রয় ভঙ্গ করে পণ্য ফিরিয়ে দিয়ে মূল্য গ্রহণ করতে পারে। আর যদি এই অত্যাচারী প্রতারক তওবা করে এবং অত্যাচারিতদের কাছে তাদের পাওনা ফিরিয়ে দেয়া সম্ভব না হয়, তাহলে সে ক্রেতার সাথে কৃত প্রতারণা ও যুলুমের পরিমাণ মাফিক ছাদাক্বা করবে। যাতে এর দ্বারা আল্লাহর যিম্মা (পাকড়াও) থেকে সে রেহাই পায়’।[23]

২. অনেক সময় ব্যবসায়ীরা বেশী মুনাফা অর্জনের জন্য নিজের পণ্যের প্রশংসা করে মিথ্যা কসম করে। এতে হয়ত সাময়িক লাভ হয়, কিন্তু এরূপ ধোঁকাপূর্ণ ব্যবসায়ে বরকত থাকে না। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, اَلْحَلِفُ مُنَفِّقَةٌ لِلسِّلْعَةِ مُمْحِقَةٌ لِلْبَرَكَةِ– ‘কসম দ্বারা পণ্যের কাটতি বাড়ে তবে তা বরকত নির্মূল করে দেয়’।[24] অন্য বর্ণনায় এসেছে, اَلْحَلِفُ مَنْفَقَةٌ لِلسِّلْعَةِ مَمْحَقَةٌ لِلرِّبْحِ ‘কসম দ্বারা মালের কাটতি বাড়ে তবে তা মুনাফা নির্মূল করে দেয়’।[25]

ব্যবসায়ে পণ্যের কাটতি বাড়ানোর জন্য রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) কসম করাকে নিষেধ করেছেন স্পষ্ট ভাষায়। এ সম্পর্কে তিনি বলেন, إِيَّاكُمْ وَكَثْرَةَ الْحَلِفِ فِى الْبَيْعِ فَإِنَّهُ يُنَفِّقُ ثُمَّ يَمْحَقُ ‘ব্যবসায়ে অধিক কসম খাওয়া হতে বিরত থাক। এর দ্বারা মাল বেশী বিক্রি হলেও বরকত দূর হয়ে যায়’।[26] ব্যবসা-বাণিজ্যে অত্যধিক কসম করা নিষিদ্ধ হওয়ার কারণ সম্পর্কে শাহ অলিউল্লাহ মুহাদ্দিছ দেহলভী (রহঃ) তাঁর জগদ্বিখ্যাত গ্রন্থ ‘হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ’তে বলেন, يكره إكثار الحلف فى البيع لشيئين: كونه مظنة لتغرير المتعاملين، وكونه سببا لزوال تعظيم اسم الله من القلب، والحلف الكاذب منفقة للسلعة لان مبنى الإنفاق على تدليس المشترى، وممحقة للبركة لأن مبنى البركة على توجه دعاء الملائكة إليه، وقد تباعدت بالمعصية بل دعت عليه ‘দু’টি কারণে ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে অত্যধিক কসম করা অপসন্দনীয়। ১. এটা ক্রেতাদের ধোঁকা দেওয়ার শামিল। ২. তা হৃদয় থেকে আল্লাহর নামের মর্যাদা দূরীভূত হওয়ার কারণ। আর মিথ্যা কসম পণ্যের কাটতি বৃদ্ধি করে। কেননা তখন কাটতি বাড়ার ভিত্তি হয় ক্রেতাকে ধোঁকা দেওয়া এবং তা (মিথ্যা কসম) বরকত নির্মূল করে। কেননা তার (বিক্রেতার) জন্য ফেরেশতামন্ডলীর দো‘আ বরকতের ভিত্তি। আর পাপের কারণে সেই বরকত দূরীভূত হয়ে যায়। এমনকি ফেরেশতাগণ তার উপর বদদো‘আ করে’।[27]

৩. নাজাশ: নাজাশ শব্দের মূল অর্থ হচ্ছে- اَلْمَدْحُ وَالْإِطْرَاءُ অর্থাৎ কোন জিনিসের অতিরিক্ত প্রশংসা করা।[28] এর পারিভাষিক সংজ্ঞা প্রদান করতে গিয়ে ইবনু হাযম আন্দালুসী (রহঃ) বলেন, هو أن يريد البيع فينتدب إنسان للزيادة فى البيع، وهو لا يريد الشراء لكن ليغتر غيره فيزيد بزيادته– ‘বিক্রেতা কর্তৃক জিনিস বিক্রি করার জন্য কাউকে নিযুক্ত করা যাতে সে বেশী দাম বলে। বস্ত্ততঃ সে তা ক্রয় করার জন্য নয়; বরং অন্যকে প্রতারিত করার জন্য এরূপ দাম বলে। যাতে ক্রেতা তার দাম শ্রবণ করে আরো বেশী দাম বলে’।[29] ‘বিদায়াতুল মুজতাহিদ’ গ্রন্থে বলা হয়েছে, هو أن يزيد أحد فى سلعة وليس فى نفسه شراؤها، يريد بذلك أن ينفع البائع ويضر المشترى– ‘নাজাশ হ’ল কেউ পণ্যের বেশী দাম বলবে অথচ তা কেনার ইচ্ছা তার নেই। এর দ্বারা সে বিক্রেতার লাভ এবং ক্রেতার ক্ষতি সাধন করতে চায়’।[30]

ফকীহগণ উল্লেখ করেছেন নাজাশের মধ্যে এটিও অন্তর্ভুক্ত যে, বিক্রেতা বলবে, আমি এই জিনিসটি এত দামে ক্রয় করেছি। অথচ সে মিথ্যাবাদী। ক্রেতা যাতে ধোঁকায় পড়ে বেশী দামে ক্রয় করে সেজন্য সে মিথ্যা দামের কথা বলে। অথবা বিক্রেতা বলবে, এই পণ্যের জন্য আমাকে এত দাম দেয়া হয়েছে। অথবা বলবে, এই পণ্যের এত মূল্য হাঁকা হয়েছে। অথচ সে মিথ্যাবাদী। তার উদ্দেশ্য হ’ল ক্রেতাদেরকে ধোঁকা দেয়া। যাতে তার এই কল্পিত মিথ্যা দামের চেয়ে তারা বেশী দাম বলে। এটিও নাজাশ। যা থেকে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ) নিষেধ করেছেন।[31] এটি মুসলমানদের সাথে প্রতারণা করা এবং মিথ্যা বলে তাদের ধোঁকা দেয়া। তাছাড়া ব্যবসায়ীরা বা দোকানদাররা যদি এ মর্মে ঐক্যমত পোষণ করে যে, কোন পণ্য আমদানী হলে কেউ কারো চেয়ে বেশী দাম বলবে না। যাতে আমদানীকারক সস্তা মূল্যে তাদের নিকট সেই পণ্যটি বিক্রি করতে বাধ্য হয়। আর সবাই এর সুবিধাভোগী হয়। শায়খ ছালেহ ফাওযান বলেন, فهذا حرام وهذا من النجش وأكل أموال الناس بالباطل، ‘এটি হারাম, নাজাশের অন্তর্ভুক্ত এবং অন্যায়ভাবে মানুষের সম্পদ ভক্ষণ করার নামান্তর’।[32]

ক্রেতাদেরকে ধোঁকা দিয়ে মুনাফা অর্জনের এ উপায়কে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) কঠোরভাবে নিষেধ করে বলেন, لاَ تَنَاجَشُوا ‘তোমরা দালালী করো না’।[33] ইবনু কুদামা (রহঃ) বলেন, ولأن فى ذلك تغريرا بالمشترى، وخديعة له، ‘এ ধরনের বিক্রয় নিষিদ্ধ হওয়ার কারণ হ’ল, এটি ক্রেতার সাথে প্রতারণা করা ও তাকে ধোঁকা দেয়ার শামিল’।[34] আর রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, اَلْخَدِيعَةُ فِى النَّارِ ‘প্রতারণার ঠিকানা জাহান্নাম’।[35]

৪. তালাক্কী: আল্লামা তাহের পট্টনী ‘তালাক্কী’র সংজ্ঞা প্রদান করতে গিয়ে বলেন, هو أن يستقبل المصرى البدوى قبل وصوله إلى البلد ويخبره بكساد ما معه كذبا ليشترى منه سلعته بالوكس وأقل من الثمن ‘গ্রামের লোক শহরে প্রবেশের পূর্বেই শহুরে তার সাথে সাক্ষাৎ করে তার সাথে আনীত পণ্যের বাজার মন্দার মিথ্যা সংবাদ প্রদান করবে অল্পমূল্যে তা ক্রয় করার জন্য। এটাই হচ্ছে তালাক্কী’।[36] ড. ওয়াহবা আয-যুহায়লী বলেন, هو مبادرة بعض أهل المدينة أو البلد لتلقى الآتين إليها، فيشترى منهم ما معهم، ثم يبيع كما يرى لأهل البلد- ‘কোন শহুরে গ্রাম থেকে পণ্য নিয়ে শহরের দিকে আগত লোকদের সাথে সাক্ষাৎ করে তাদের পণ্য কিনে নিয়ে পরে তার ইচ্ছামত দামে শহর-নগরবাসীদের কাছে বিক্রি করাকে তালাক্কী বলে’।[37]

মুনাফাখোরীর পথকে রুদ্ধ করার জন্য রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বাজারে মাল আসার পূর্বেই বাইরে বাইরে এভাবে ক্রয় করতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন, وَلاَ تَلَقَّوُاالسِّلَعَ حَتَّى يُهْبَطَ بِهَا إِلَى السُّوقِ، ‘বিক্রয়ের বস্ত্ত বাজারে উপস্থিত করার পূর্বে অগ্রগামী হয়ে তা ক্রয়ের জন্য যেও না’।[38]

উল্লেখিত ক্রয়-বিক্রয়ের ফলে মূল বাজারে পণ্যদ্রব্যের আমদানী ব্যাহত হয়। ফলে পণ্যের সঠিক মূল্যও নির্ধারিত হয় না। কেননা সঠিক মূল্য নির্ধারণ সম্ভব হয় বাজারে পণ্যের আমদানী ও তার চাহিদা অনুপাতে। কিন্তু উক্ত অবস্থায় বিক্রেতা বাজারের দর-দাম কিছুই জানতে পারে না। এজন্য নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, لاَ تَلَقَّوُا الْجَلَبَ فَمَنْ تَلَقَّاهُ فَاشْتَرَى مِنْهُ فَإِذَا أَتَى سَيِّدُهُ السُّوقَ فَهُوَ بِالْخِيَارِ ‘যারা বাজারে বিক্রি করার জন্য পণ্যদ্রব্য নিয়ে আসছে, অগ্রগামী হয়ে তাদের সাথে সাক্ষাৎ করবে না। যদি কেউ তার সাথে সাক্ষাৎ করে এবং তার নিকট থেকে কোন বস্ত্ত ক্রয় করে, তবে ঐ পণ্যের মালিক বাজারে আসার পর (উক্ত বিক্রয়কে ভঙ্গ করার) অবকাশ পাবে’।[39]

শাহ অলিউল্লাহ দেহলভী (রহঃ) বলেন, وهذا مظنة ضرر بالبائع لأنه إن نزل بالسوق كان أغلى له،… وضرر بالعامت لأنه تَوَجَّهَ فى تلك التجارة حقُّ أهل البلد جميعا، والمصلحة المدنية تقتضى أن يقدم الأحوج فالأحوج…. فاستئثار واحد منهم بالتلقى نوع من الظلم ‘এ ধরনের ক্রয়-বিক্রয়ে বিক্রেতার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কেননা যদি সে বাজারে পৌঁছতে পারত, তাহলে বেশী মূল্যে বিক্রি করতে পারত।… অনুরূপভাবে এটা সাধারণ লোকদেরও ক্ষতির কারণ। কেননা তাতে শহরের সকল অধিবাসীর হক রয়েছে। যে অধিক মুখাপেক্ষী তার কাছে পণ্য পৌঁছিয়ে দেয়া নাগরিক কল্যাণের দাবী। সুতরাং তালাক্কীর মাধ্যমে তাদের একজনের সকল মাল একচেটিয়াভাবে দখল করা এক ধরনের যুলুম’।[40]

ইমাম বুখারী (রহঃ) বলেন, وَهُوَ خِدَاعٌ فِى الْبَيْعِ، وَالْخِدَاعُ لَا يَجُوْزُ، ‘এটা ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে ধোঁকা দেয়ার নামান্তর। আর ধোঁকা দেয়া নাজায়েয’।[41] ইমাম তিরমিযী (রহঃ) বলেন, هُوَ ضَرْبٌ مِنَ الْخَدِيْعَةِ ‘এটা এক ধরনের প্রতারণা’।[42]

৫. ইসলামে মজুদদারীকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যাতে মুনাফাখোরির কোন সুযোগ না থাকে। কারণ মুজদদারির উদ্দেশ্যই হচ্ছে অত্যধিক মুনাফা অর্জন। নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, مَنِ احْتَكَرَ فَهُوَ خَاطِئٌ ‘যে পণ্য মজুদ করে, সে পাপী’।[43] ইমাম নববী (রহঃ) বলেন, هذا الحديث صريح فى تحريم الاحتكار ‘মজুদদারী নিষিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে এ হাদীছটি দ্ব্যর্থহীন’।[44]

উল্লেখ্য যে, সাধারণভাবে পণ্য মজুদ করা দোষের নয়। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) নিজের পরিবারের জন্য এক বছরের খাদ্য মজুদ রেখেছেন।[45] তবে বাজারে পণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে মুনাফাখোরির উদ্দেশ্যে মজুদ করলে অবশ্যই তা অপরাধ হবে।[46]

৬. ঈনা ক্রয়-বিক্রয় কোন ব্যক্তি কারো নিকট বাকীতে নির্দিষ্ট দামে কোন জিনিস বিক্রি করবে এবং সেটি তার নিকট হস্তান্তর করবে। অতঃপর মূল্য গ্রহণের পূর্বে বিক্রিত মূল্যের চেয়ে কম দামে নগদে বস্ত্তটি ক্রয় করে নিবে। অতঃপর নির্দিষ্ট মেয়াদান্তে ১ম ক্রেতার কাছ থেকে ১ম নির্ধারিত মূল্য গ্রহণ করবে। এ ধরনের ক্রয়-বিক্রয়কে ‘বায়য়ে ঈনা’ বলা হয়। যেমন বিক্রেতা ১ বছরের জন্য কারো কাছে ১২০০০/- টাকায় একটি জিনিস বিক্রি করল। অতঃপর ক্রেতা মূল্য গ্রহণের পূর্বেই বিক্রেতা দশ হাযার টাকা দিয়ে তার কাছ থেকে সেটি ক্রয় করে নিল। পরে মেয়াদান্তে সে ১ম ক্রেতার কাছ থেকে ১২০০০/- অসুল করে নিল। এভাবে সে ২০০০/- টাকা বেশী লাভ করল। এটিকেই বলা হয় ‘বায়য়ে ঈনা’। ক্রেতা পণ্যের পরিবর্তে নগদ মূল্য গ্রহণ করার কারণে একে ‘বায়য়ে ঈনা’ বলা হয়।[47] অথবা বিক্রিত মূল বস্ত্তটি বিক্রেতার কাছে ফিরে আসার কারণে একে বায়য়ে ঈনা বলে (لأن عين المبيع رجعت إلى صاحبها)।[48] ইমাম ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেন, فَهَذَا مَعَ التَّوَاطُؤِ يُبْطِلُ الْبَيْعَيْنِ؛ لِأَنَّهَا حِيلَةٌ، ‘ঐক্যমত সত্ত্বেও এটি ক্রয়-বিক্রয়দ্বয়কে বাতিল করে দিবে। কেননা এটা কৌশল’।[49]

শায়খ ছালেহ ফাওযান বলেন, وهذا حرام لإنه احةيال على الربا كأنك بعة دراهم حاله بدرا هم مؤجلة أكثر منها وجعلت السلعة مجرد حيلة ووسيلة إلى الربا، ‘এটা হারাম। কারণ এটা সূদ খাওয়ার কৌশল। যেন আপনি বর্তমান মূল্যের চেয়ে বাকীতে বেশী মূল্যে বিক্রয় করলেন এবং স্রেফ সূদ খাওয়ার কৌশল ও মাধ্যম হিসাবে পণ্যকে গ্রহণ করলেন’।[50] রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এ ধরনের পাতানো ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ করে বলেন, إِذَا تَبَايَعْتُمْ بِالْعِينَةِ وَأَخَذْتُمْ أَذْنَابَ الْبَقَرِ وَرَضِيتُمْ بِالزَّرْعِ وَتَرَكْتُمُ الْجِهَادَ سَلَّطَ اللهُ عَلَيْكُمْ ذُلاًّ لاَ يَنْزِعُهُ حَتَّى تَرْجِعُوا إِلَى دِينِكُمْ ‘যখন তোমরা প্রকৃত মূল্যের চেয়ে বাকীতে অধিক মূল্যে ক্রয়-বিক্রয় করবে, গরুর লেজ অাঁকড়ে ধরবে, কৃষিকাজেই সন্তুষ্ট থাকবে (অর্থাৎ দুনিয়া নিয়ে ব্যস্ত থাকবে এবং আখেরাতের উপর দুনিয়াকে প্রাধান্য দিবে) এবং জিহাদ পরিত্যাগ করবে তখন আল্লাহ তোমাদের উপর লাঞ্ছনাদায়ক ও অপমানকর অবস্থা চাপিয়ে দিবেন। তোমরা নিজেদের দ্বীনে প্রত্যাবর্তন না করা পর্যন্ত আল্লাহ তোমাদেরকে এই অপমান ও লাঞ্ছনা থেকে মুক্তি দিবেন না’।[51]

৭. নিজের কাছে মজুদ নেই এমন জিনিস বিক্রি করা ইসলামে নিষিদ্ধ। যেমন- ক্রেতা কোন ব্যবসায়ীর কাছে এসে কোন নির্দিষ্ট পণ্য কিনতে চাইল। অথচ সেই পণ্যটি এই ব্যবসায়ীর কাছে মজুদ নেই। এবার নগদে বা বাকীতে ক্রেতা ও বিক্রেতা চুক্তি ও মূল্যের ব্যাপারে ঐক্যমতে পৌঁছল। তখন পর্যন্ত ব্যবসায়ী বা বিক্রেতা পণ্যের মালিক নন। অতঃপর ব্যবসায়ী সেই পণ্য ক্রয় করে এনে ক্রেতার কাছে হস্তান্তর করল। এ ধরনের ক্রয়-বিক্রয় হারাম।[52] হাকীম বিন হিযাম রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর কাছে এসে বলল, يَأْتِينِى الرَّجُلُ يَسْأَلُنِى مِنَ الْبَيْعِ مَا لَيْسَ عِنْدِى أَبْتَاعُ لَهُ مِنَ السُّوقِ ثُمَّ أَبِيعُهُ قَالَ لاَ تَبِعْ مَا لَيْسَ عِنْدَكَ ‘আমার নিকট কোন ব্যক্তি এসে এমন জিনিস ক্রয় করতে চায়, যা আমার কাছে নেই। আমি কি বাজার থেকে পণ্য কিনে তারপর তার নিকট সেটি বিক্রি করব? তিনি বললেন, ‘তোমার নিকট যা মজুদ নেই, তা তুমি বিক্রি করো না’।[53]

উপসংহার
পরিশেষে বলা যায়, মুনাফাখোরী সমাজ ও জনকল্যাণ বিরোধী ঘৃণ্য পুঁজিবাদী মানসিকতা। অত্যধিক মুনাফা অর্জনের নেশায় বুঁদ হয়ে ব্যবসায়ীরা পণ্য-দ্রব্য মজুদ করে বাজারে পণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে। এমনকি অনেক সময় শত শত মণ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য (গম, আলু প্রভৃতি) গুদামে রেখে পচিয়ে ফেলা হয়। তবুও চড়া মূল্যের আশায় বাজারজাত করা হয় না। আবার কখনো কখনো মুনাফাখোর ব্যবসায়ীরা বাজারে পণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির জন্য আমদানীকৃত চাল/গম সমুদ্রে নিক্ষেপ করে। এতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির যাতাকলে সাধারণ মানুষ পিষ্ট হয়। দৈনন্দিন চাহিদা মেটাতে তাদের ওঠে নাভিশ্বাস। কিন্তু সেদিকে মুনাফাখোররা দৃষ্টিপাত করে না। ইসলাম এ ধরনের মুনাফাখোরী মনোভাবকে ধিক্কার দিয়েছে। তবে ইসলামে হালাল উপায়ে ব্যবসার মাধ্যমে মুনাফা অর্জনে কোন বাধা নেই। বরং তা বৈধ। কিন্তু অবৈধ ব্যবসার মাধ্যমে উপার্জিত মুনাফা অবৈধ বা হারাম।[54]

ফলকথা, মুনাফাখোরী, মজুদদারী ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি একটি অপরটির সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। অত্যধিক মুনাফা অর্জনের জন্যই পণ্যদ্রব্য মজুদ করে রাখা হয়। আর এর ফলেই বাজারে পণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয় এবং দ্রব্যমূল্য গগণচুম্বী হয়ে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যায়। তাই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির লাগাম টেনে ধরার জন্য মুনাফাখোরদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। গড়ে তুলতে হবে সামাজিক সচেতনতা। সাথে সাথে যাকাত ভিত্তিক অর্থব্যবস্থা চালু করে মজুদদারী ও মুনাফাখোরীর কবর রচনা করতে হবে।

লেখকঃ ড. নূরুল ইসলাম

[1]. ইবনু কুদামা, আল-মুগনী (রিয়াদ: দারু আলামিল কুতুব, ৩য় সংস্করণ, ১৪১৭হিঃ/১৯৯৭খ্রিঃ), ৬/৭।
[2]. তিরমিযী হা/১২৫২; সুনানে দারেমী (দামেশক: দারুল কলম, ১৪১৭ হিঃ/১৯৯৬খ্রিঃ), ২/৬৯৮, হা/২৫৩৯; আল-হাকেম আন-নায়সাপুরী, আল-মুসতাদরাক আলাছ ছহীহাইন (বৈরূত: দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ, ১৪১১হিঃ/১৯৯০খ্রিঃ), ২/৮; ছহীহ তারগীব হা/১৭৮২, ছহীহ লি-গায়রিহী; তারাজু‘আতুল আলবানী হা/১৪৪।
[3]. তিরমিযী হা/১২১০; ইবনু মাজাহ হা/২১৪৬; ছহীহা হা/৯৯৪; হাকেম, ২/৮, হাদীছ হাসান।
[4]. আহমাদ হা/১৭২৬৫; মিশকাত হা/২৭৮৩; ছহীহা হা/৬০৭।
[5]. বায়হাকী, আস-সুনানুল কুবরা (বৈরূত: দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ, ১৪১৪হিঃ/১৯৯৪খ্রিঃ), ৫/৪৩২।
[6]. সাইয়িদ কুতুব, ফী যিলালিল কুরআন (জেদ্দা: দারুল ইলম, ১২তম সংস্করণ, ১৪০৬হিঃ/১৯৮৬খ্রিঃ), ৫/৬৩৯।
[7]. আল-মাওসূ‘আতুল ফিক্বহিয়্যাহ (কুয়েত: ওযারাতুল আওক্বাফ ওয়াশ শুউন আল-ইসলামিয়্যাহ, ২য় সংস্করণ ১৪১২হিঃ/১৯৯২ খ্রিঃ), ২২/৮৩; আল-মু‘জামুল ওয়াসীত (নয়াদিল্লী : দার লিইশা‘আতে ইসলামিয়াহ, তাবি), পৃ: ৩২২।
[8]. তিরমিযী হা/১৩২১; হাকেম ২/৬৫; মিশকাত হা/৭৩৩; হাদীছ ছহীহ।
[9]. ড. মাহমূদ আব্দুর রহমান আব্দুল মুনঈম, মু‘জামুল মুছতালাহাত ওয়াল আলফায আল-ফিক্বহিয়্যাহ (কায়রো: দারুল ফাযীলাহ, ১৯৯৯), ২/১২০।
[10]. মুক্বাদ্দামা ইবনে খালদূন (কায়রো: দারু ইবনিল জাওযী, ১৪৩১/২০১০), পৃ: ৩২৮।
[11]. রাগিব ইস্পাহানী, আল-মুফরাদাতু ফী গারীবিল কুরআন (বৈরূত: দারুল মা‘রিফাহ, ১৪২০ হিঃ), পৃ: ১৯১।
[12]. ইরওয়া হা/১৩৯৭-এর আলোচনা দ্রঃ।
[13]. প্রফেসর শাহ মুহাম্মাদ হাবীবুর রহমান, সূদ (রাজশাহী : হাদীছ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ২য় সংস্করণ, ২০১০), পৃ: ১০-১১।
[14]. হাফেয ইবনু কাছীর, তাফসীরুল কুরআনিল আযীম (কায়রো: মাকতাবাতুছ ছাফা, ১৪২৫হিঃ/২০০৪খ্রিঃ), ২/১৬১।
[15]. মুসলিম হা/২৫৭৮; মিশকাত হা/১৮৬৫।
[16]. মাসিক আত-তাহরীক, সেপ্টেম্বর’১৪, প্রশ্নোত্তর ৩৭/৪৩৭, পৃঃ ৪২।
[17]. ইবনু মাজাহ হা/২১৮৫; ইবনু হিববান হা/৪৯৬৭; ইরওয়াউল গালীল হা/১২৮৩, হাদীছ ছহীহ।
[18]. বুখারী হা/৩৬৪২; আবূদাঊদ হা/৩৩৮৪; তিরমিযী হা/১২৫৮; আহমাদ হা/১৯৩৬২।
[19]. ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা ১৩/৯১, ফৎওয়া নং ৬১৬১।
[20]. https://binbaz.org.sa/old/28754
[21]. আহমাদ হা/৩৭৫৪; মিশকাত হা/২৮২৭, সনদ ছহীহ।
[22]. মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুর রহীম, ইসলামী অর্থনীতি বাস্তবায়ন (ঢাকা: ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ১৯৮০), পৃ: ১৪।
[23]. ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমূঊল ফাতাওয়া (সঊদী আরব: আর-রিআসাহ আল-আম্মাহ লিশুঊনিল হারামাইন আশ-শরীফাইন, তাবি), ২৯/৩৬০-৩৬১।
[24]. বুখারী হা/২০৮৭; আবূদাঊদ হা/৩৩৩৫।
[25]. মুসলিম হা/১৬০৬।
[26]. মুসলিম হা/১৬০৭; ইবনু মাজাহ হা/২২০৯।
[27]. শাহ অলিউল্লাহ দেহলভী, হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ (বৈরূত: দারুল কুতুব আল-ইলমিইয়াহ), ২/২০৩।
[28]. মু‘জামুল মুছতালাহাত ওয়াল আলফায আল-ফিক্বহিয়্যাহ, ৩/৪০০।
[29]. ইবনু হাযম, আল-মুহাল্লা বিল-আছার (বৈরূত: দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ, তাবি), ৭/৩৭২।
[30]. ইবনু রুশদ আল-কুরতুবী, বিদায়াতুল মুজতাহিদ ওয়া নিহায়াতুল মুকতাছিদ (বৈরূত: দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ, ১৪০৮হিঃ/১৯৮৮খ্রিঃ), ২/১৬৭।
[31]. বুখারী হা/২৭২৭, ৬৯৬৩।
[32]. ড. ছালেহ বিন ফাওযান, আল-বুয়ূ আল-মানহী আনহা ফিল ইসলাম (রিয়াদ : মাকতাবাতুছ ছাফাদী, ১ম প্রকাশ, ১৪১১/১৯৯১), পৃঃ ২৪-২৫।
[33]. বুখারী হা/২১৪০; মুসলিম হা/১৪১৩; আবূদাঊদ হা/৩৪৩৮; নাসাঈ হা/৩২৩৯।
[34]. আল-মুগনী, ৬/৩০৪-৫।
[35]. বুখারী হা/২১৪২-এর পূর্বে।
[36]. আব্দুর রহমান মুবারকপুরী, তুহফাতুল আহওয়াযী (বৈরূত: দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ, ১৪১০হিঃ/১৯৯০ খ্রিঃ), ৪/৩৪৫।
[37]. ড. ওয়াহবা আয-যুহায়লী, আল-ফিক্বহুল ইসলামী ওয়া আদিল্লাতুহু (দামেশক: দারুল ফিকর, ৩য় সংস্করণ ১৪০৯হিঃ/১৯৮৯খ্রিঃ), ৪/২৩৯।
[38]. বুখারী হা/২১৬৫; আবূদাঊদ হা/৩৪৩৬।
[39]. মুসলিম হা/১৫১৯; দারেমী, ২/৭০৫, হা/২৫৬৬।
[40]. হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ ২/২০১।
[41]. বুখারী ‘ক্রয়-বিক্রয়’ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-৭১, হা/২১৬২-এর পূর্বে।
[42]. তিরমিযী হা/১২২১।
[43]. মুসলিম হা/১৬০৫।
[44]. ইমাম নববী, আল-মিনহাজ শারহু ছহীহ মুসলিম (বৈরূত: দারুর রাইয়ান লিত-তুরাছ, ১৪০৭ হিঃ/১৯৮৭খ্রিঃ), ১১/৪৩।
[45]. বুখারী হা/৫৩৫৭।
[46]. মাসিক আত-তাহরীক, এপ্রিল’১১, প্রশ্নোত্তর ১৪/২৫৪, পৃঃ ৫১।
[47]. আল-ফিক্বহুল মুয়াসসার ফী যাওয়িল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (মিসর : মাকতাবাতুল হুদা আল-মুহাম্মাদী, ২য় সংস্করণ, ১৪৩৭/২০১৬), পৃঃ ২২৮।
[48]. আল-বুয়ূ আল-মানহী আনহা ফিল ইসলাম, পৃঃ ২১-২২।
[49]. মাজমূঊল ফাতাওয়া ২৯/৩০।
[50]. আল-বুয়ূ আল-মানহী আনহা ফিল ইসলাম, পৃঃ ২১-২২।
[51]. আবুদাঊদ হা/৩৪৬২; সিলসিলা ছহীহাহ হা/১১।
[52]. আল-বুয়ূ আল-মানহী আনহা ফিল ইসলাম, পৃঃ ১৯-২০।
[53]. তিরমিযী হা/১২৩২; আবুদাঊদ হা/৩৫০৩; নাসাঈ হা/৪৬১৩; ইবনু মাজাহ হা/২১৮৭; ইরওয়া হা/১২৯২; হাদীছ ছহীহ।
[54]. إنَّ اللهَ إذا حرَّمَ شيئاً، حرَّمَ ثَمَنَهُ ছহীহ ইবনু হিববান হা/৪৯৩৮, সনদ ছহীহ।

সোর্সঃ ইসলামিক অনলাইন মিডিয়া

Leave a Reply