পাঠাও ও শিওর ক্যাশ একীভূত হয়ে যাচ্ছে

0
487

এক হয়ে যাচ্ছে প্রযুক্তি খাতের দেশীয় মালিকানাধীন দুই কোম্পানি পাঠাও ও শিওর ক্যাশ। দুটি কোম্পানিই এ দেশে যাত্রা শুরু করে ২০১৫ সালে। এর মধ্যে পাঠাও দেশজুড়ে ব্যাপকভাবে পরিচিত অ্যাপভিত্তিক রাইড শেয়ারিং, খাবার সরবরাহ ও ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান হিসেবে। আর শিওর ক্যাশ পরিচিত মুঠোফোনে আর্থিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে। এখন এ দুই কোম্পানি মিলে এক হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কোম্পানি আইনের সংজ্ঞায় দুই প্রতিষ্ঠানের এক হয়ে যাওয়ার এ ঘটনাকে বলা হচ্ছে ‘মার্জার’ বা ‘একীভূতকরণ’।

কোম্পানি দুটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পাঠাও ও শিওর ক্যাশ এক হয়ে গেলেও আলাদাভাবেই চলবে তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম। তবে মালিকানার ধরন, সম্পদমূল্য ইত্যাদি বিষয়ে প্রতিষ্ঠান দুটির কেউই কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এমনকি একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়া শুরুর বিষয়েও কোম্পানি দুটি কোনো মন্তব্য করতে নারাজ। একাধিক সূত্রে জানা গেছে, দুই প্রতিষ্ঠানের একীভূত হওয়ার বিষয়টি প্রাথমিকভাবে আলাপ-আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পরই এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে।

জানা গেছে, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং নতুন নতুন সেবা দেওয়ার জন্যই মূলত প্রতিষ্ঠান দুটি এক হওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রযুক্তি খাতের কোম্পানি হিসেবে পাঠাও ও শিওর ক্যাশের এক হয়ে যাওয়া এখন পর্যন্ত এ খাতের এবং দেশীয় কোম্পানির সবচেয়ে বড় একীভূতকরণের ঘটনা। বর্তমানে পাঠাওয়ের ৫০ লাখ নিবন্ধিত গ্রাহক রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির রাইড শেয়ারিং সেবার জন্য নিবন্ধিত চালকের সংখ্যা ২ লাখ এবং ১০ হাজার রেস্টুরেন্টের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি চুক্তিবদ্ধ। ২০১৫ সালে কুরিয়ার সার্ভিসের ব্যবসা দিয়ে পাঠাওয়ের যাত্রা শুরু। এরপর একে একে যুক্ত হয় অ্যাপভিত্তিক রাইড শেয়ারিং, খাবার সরবরাহ ও ই-কমার্স ব্যবসা। বাংলাদেশের পাশাপাশি নেপালেও বিভিন্ন ধরনের সেবা প্রদান করছে পাঠাও। ২০১৭ সালে পাঠাওয়ে ২০ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করে ইন্দোনেশিয়ার বৃহৎ রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠান গো–জ্যাক। পাঠাও বাইক, পাঠাও কার, পাঠাও ফুড, পাঠাও পার্সেল ও পাঠাও কুরিয়ার নামে পাঠাওয়ের পাঁচটি প্ল্যাটফর্ম রয়েছে।

অন্যদিকে শিওর ক্যাশের রয়েছে ২ কোটি গ্রাহক, ২ লাখ এজেন্ট ও ১ হাজার লেনদেনকারী অংশীদার বা পেমেন্ট পার্টনার। বর্তমানে রাষ্ট্রমালিকানাধীন রূপালী ব্যাংক, বেসরকারি খাতের ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স (এনসিসি) ব্যাংক, যমুনা ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিং সেবা প্রদান করে থাকে শিওর ক্যাশ। শিওর ক্যাশ ব্যবহার করে গ্রাহকেরা টাকা জমা ও উত্তোলন, বিভিন্ন ইউটিলিটি সেবার বিল, প্রবাসী আয় প্রেরণ, স্কুল-কলেজের ফি পরিশোধসহ বিভিন্ন ধরনের আর্থিক লেনদেন করতে পারেন। ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করে। মোবাইল ব্যাংকিং সেবার জন্য প্রতিষ্ঠানটির যে প্ল্যাটফর্ম রয়েছে, সেটি নিজেদের প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, গো-জ্যাকের বাইরে প্রতিষ্ঠান দুটিতে জাপান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, হংকংসহ বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগ রয়েছে। এখন এ দুই প্রতিষ্ঠান এক হলে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের সুযোগ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন উভয় প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

Leave a Reply