এনজিওদের ক্ষুদ্রঋণ নাকি দাদন ব্যবসা

0
381

ব্যাংকিং নিউজ বাংলাদেশঃ বাংলাদেশ একটি অতি দরিদ্র দেশ। এখানে এখনো শতকরা ৪০ ভাগ লোক অতি দরিদ্র। তারা দুইবেলা পেটপুরে খেতে পায় না। তিনবেলা পেট পুরে খেতে পারে এমন লোকের সংখ্যা শতকরা ৩০ ভাগ। বাকি ৩০ ভাগ দুইবেলা খাবার অনেক কষ্টে সংগ্রহ করে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে যুদ্ধ বিধ্বস্ত অর্থনৈতিক অবস্থায় মানুষ খুবই অসহায় অবস্থায় পড়ে। সেই অসহায় মানুষের বাঁচার পথ খুবই সংকুচিত ছিল। বিশ্বের ধনী দেশগুলোর দরদী মানুষের এইসব অসহায় মানুষের সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেন। অক্সফাম, ডানিডা, খৃস্টান সোসাইটি ইত্যাদি তাদের সাধ্যের মধ্যে সহায়তা দিতে থাকে। কিন্তু তাতে অভাবী মানুষের প্রয়োজন ও চাহিদা পূরণ হচ্ছিল না। তাদের জনবল কম ছিল।

ইতিমধ্যে ডঃ ইউনূস ক্ষুদ্র ঋণের একটা কাঠামো তৈরি করে সীমিত আকারে কাজ শুরু করেন। এই ঋণ ব্যবস্থা পশ্চিমা বিশ্বের দাতাদেশগুলোর কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায়। তাই তারা সরকারকে সরাসরি সাহায্যের পরিমাণ কমিয়ে দিতে শুরু করে এবং বেসরকারি পর্যায় তারা গরীব লোককে সাহায্য বিতরণের পদক্ষেপ নেয়। তখন ভূঁইফোড়ের মতো হাজার হাজার বেসরকারি সাহায্য প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে যার নাম হয় এনজিও (Non-Government Organisation)। সরকারের লাল ফিতার দৌরাত্ম্যে গরীব লোকের নিকট তাদের দেয়া সহায়তা পৌঁছতো না। এনজিওদের দ্বারা উহা দ্রুত তাদের নিকট পৌঁছানো যাবে-সেই আশায় ধনী দেশের সরকার ও বেসরকারি সাহায্য প্রতিষ্ঠান তাদেরকে অকাতরে অর্থ দিতে থাকে। চুক্তি ছিল তারা গরীবদের না লাভ-না লোকসান (No Loss-No Profit) ভিত্তিতে অসহায় মানুষকে ঋণ ও সহায়তা দেবে। তারা গরীবদের নিকট থেকে শুধু সার্ভিস চার্জ নেবে প্রশাসনিক খরচ বহন করার জন্য।

কিন্তু আজকে আমরা এনজিওদের কাজের কি চিত্র দেখি। তারা গরীব লোককে তো সহায়তা করে না, বরং সুদী কারবার করছে। গ্রামের মহাজনরা গরীব লোকদের দাদন দিতো সামান্য বর্ধিত সুদে অথবা ফসলে পরিশোধ করতো। জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় মাসে চাষীর খোরাকে যখন টান পড়ে তখন সে মহাজনের নিকট থেকে শতকরা ১০/১৫ ভাগ সুদে লোন নিতো অথবা কিছু কম দামে ধানের মওসুমে তা ধান/চাল দিয়ে শোধ করতে হতো। কোন সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসল নষ্ট হলে তা পরিশোধের জন্য সময় বাড়িয়ে দিতো। আর বর্তমান এনজিওরা কি করছে? বিদেশ থেকে অনুদান বা সামান্য সুদে ক্ষুদ্র ঋণের নামে টাকা এনে তা অকল্পনীয় সুদে সে টাকা গরীব লোককে দেয়।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে কোন কোন এনজিও শতকরা ৮৫ ভাগ পর্যন্ত সুদ আদায় করে। এমন এনজিও আছে যারা শতভাগও সুদ আদায় করে। আর তাদের আদায়ের পদ্ধতিও অদ্ভুত। লোন নেয়ার পরের সপ্তাহ থেকে কিস্তি আদায় শুরু হয়ে যায়। আর ফসল ভালো না হলে ঋণ গ্রহীতাকে ঘরের গরু-ছাগল, লোটা, বাটি বিক্রি করে ঋণ শোধ করতে হয়। যখন তাতেও কুলায় না তখন ভিটা-মাটি ও ঘর বিক্রি করতে হয়। এমনও বহু ঘটনা ঘটেছে, যে লোন আদায়কারীরা ঋণের দায় ঘর-দোর ভেঙ্গে নিয়ে যায়। এ বীভৎস দৃশ্য দেখে অনেকে আত্মহত্যা করেছে। পত্রিকায় এমন ঘটনা হরহামেশা দেখা যায়।

ক্ষুদ্র ঋণের মাজেজার যে কথা ডঃ ইউনূস, ডঃ ফারুক, ফজলে হাসান সাহেবরা বলে বেড়ান তাতে তো বিগত ৩০ বছরের তাদের ক্ষুদ্র ঋণের কর্মকান্ডে বাংলাদেশে একটি লোকও অভাবী থাকতে পারে না। সবাই আত্মনির্ভরশীল হয়ে যেত। কিন্তু তা হচ্ছে না কেন? ভোগবাদী অতি লোভী লোক দ্বারা কোন ভালো কাজ হতে পারে না। বড় বড় এনজিওগুলো আজ নানা কোম্পানি ফেঁদে হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক। ডঃ ইউনূসের গ্রামীণ ব্যাংক, গ্রামীণ ফোন, গ্রামীণ চেক ইত্যাদিতো পশ্চিমা পুজিবাদী ধনকুবেরদেরেও হার মানিয়েছে। একইভাবে ব্র্যাক ব্যাংক ঋণ দেয়া থেকে শুরু করে কৃষিকাজে তারা ভাগ বসিয়েছে। শোনা যায়, বড় বড় এনজিওগুলো হাইব্রিড ধান বীজ করে তা ঋণ গ্রহীতাদের উচ্চমূল্যে ক্রয় করতে বাধ্য করে।

যে লোকের জমি নেই তাকেও এ বীজ কিনতে হয়। তাদের অন্যান্য উৎপাদিত পণ্যও কৃষকদেরে তাদের নির্ধারিত দোকান থেকে অধিক মূল্যে কিনতে হয়। পেটের জ্বালায় এ ঋণ নিতে বাধ্য হলেও তা শোধ করার সুযোগ না পেয়ে এক কৃষক হয়তো প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে ২/৩টি এনজিওর নিকট থেকে লোন নেয়। শেষে শোধ করার কোন সুযোগ না থাকায় তারা বাড়ি ছেড়ে রাতের অন্ধকারে অনিশ্চিত পথে শহরমুখী হয়। ঢাকা শহরসহ বড় শহরগুলোতে এ রকম লোকের ভিড় অনেক বেড়ে গেছে। প্রফেসর ইউনূসের ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্প একটি মহৎ প্রকল্প ছিল। পশ্চিমা বিশ্বও তার প্রশংসা করেছে। পরিণতিতে তিনি বিশ্বের সেরা পুরস্কারটি পেয়েছেন। কিন্তু কথা হলো ক্ষুদ্র ঋণের আদর্শ মোতাবেক কাজ করলে তো তাকে টিনের ঘরে অফিস করতে হতো-এতো বহুতল অট্টালিকা, বালাখানা, যানবাহনের জৌলুস, ব্যবসা-বাণিজ্যের এ অভূতপূর্ব প্রসার করতে পারতেন না। তার নীতি বাক্যের সাথে কাজের মিল থাকা দরকার।

বহু অভিযোগের মধ্যে তার পার্টনার নরোজিয়ান কোম্পানি অভিযোগ তুলেছেন তিনি ১০ কোটি মার্কিন ডলার গ্রামীণ ফোন ও ব্যাংক থেকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছেন। যদিও তিনি বলে বেড়ান তার গড়া সব প্রতিষ্ঠানের মাসিক ঋণ গ্রহীতারা। কিন্তু ঋণ গ্রহীতরা এসব প্রতিষ্ঠান থেকে কি সুফলটা পেয়ে থাকে, তা তার জনসমক্ষে প্রকাশ করা উচিত। ওদিকে কাজী ফারুক প্রশিকার অর্থের কি কেলেংকারী করে বেড়ান তা প্রায়ই পত্রিকায় আসে। তিনি বিদেশ থেকে আনা অর্থের অধিকাংশই ব্যক্তিস্বার্থ ও রাজনৈতিক কারণে ব্যয় করে থাকেন। শোনা যায়, ২০০৬ সালের সেই রাজনৈতিক অপক্কতার সময় তিনি ঢাকা শহরকে অচল করে দেয়ার জন্য ১০ লাখ লোকের সমাগম ঘটাবার ষড়যন্ত্র করেছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন অঞ্চলে তার পছন্দের দলের পক্ষে কাজ করতে গিয়ে কোটি কোটি টাকা খরচ করেছেন। এনএসআই, ডিএসবি প্রতিবেদনে এসব কথা ওঠে আসে।

আর ওদিকে ঋণ গ্রহীতা অসহায় গরীব লোকের ওপর চালানো হতো বর্বর যুগের নির্যাতন। তাদের অপরাধ তারা অভাবের তাড়নায় ঋণ শোধ করতে পারছিল না। তার এসব অনিয়ম এনজিওর পরিপনন্থী কমকান্ডের জন্যই প্রশিকার মধ্যে তার বিরুদ্ধে দারুণ ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল এবং তাকে বহিষ্কারও করা হয়েছিল। অনুরূপভাবে ব্র্যাক আজ যে সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে সে অর্থের অধিকাংশই হলো ঋণগ্রহীতা হতদরিদ্রের নিকট থেকে আদায় করা সুদের পাহাড়। তার ব্যক্তিগত ব্যবসা আড়ং, কৃষিখামার, ব্যাংক ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের টাকার উৎস খুঁজলে আসল গোমর বের হয়ে আসবে। কিছু ছোট ছোট এনজিও স্থায়ীভাবে সামান্য কিছু ভালো কাজ করলেও সমস্ত বড় বড় এনজিওগুলোর নীতি একই। তারা মানবতার জন্য কাজ করে না- করে শুধু আখের গোছানোর জন্য। এ ধরনের এনজিও কার্যক্রম চলতে দেয়া যায় না।

গরীব মানুষের অসহায়ত্ব দূর করার জন্যই এনজিওর সৃষ্টি। কিন্তু তা যদি রক্ত চোষার মত মানুষকে শুষে খায় তাহলে তার প্রয়োজনটা কি? বিগত এক যুগ যাবত বলে আসছি সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের ক্ষুদ্রঋণ সম্প্রসারণ করার জন্য। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতা গ্রহণের এক মাসের মাথায় তাকে পত্রিকায় একটা খোলা চিঠি দেই। তাতে দেশের ১৪/১৫টি সমস্যার মধ্যে বেশি গুরুত্ব দেই দেশের কৃষি ও কৃষকদের ওপর। তাতে বলি, বাংলাদেশ এখনো কৃষিপ্রধান। তাই চাষীদের সবদিক দিয়ে সহায়তা করতে হবে। চাষাবাসের সহায়তার জন্য ৪ কোটি চাষী পরিবারকে সার, বীজ, তেল, বিদ্যুৎ, কীটনাশক বাবদ, ঋণ ১০ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা হোক। আর তাদেরকে সহজ শর্তে ২০ হাজার কোটি টাকা লোন দেয়া হোক। বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানে যে লোন দেয়া হয়, দেখা যায় তা সঠিক কাজে না লাগিয়ে সেসব টাকা দিয়ে বাড়ি, গাড়ি ও ভোগবিলাসে ব্যবহার করে।

এমন অভিযোগও রয়েছে, যে টাকা বিদেশে পাচার করে সেখানে ব্যবসা বাণিজ্য করে। তারা লোনের টাকা কিস্তি মত শোধ করে না বলে ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকা অবলোকন করতে হয়। আর যা কিছু আদায় হয় তা শতকরা ৩০ ভাগের বেশি নয় এবং ধারাবাহিকভাবে রি-সিডিউল করতে হয়। এদিকে হতদরিদ্র চাষী খেয়ে না খেয়ে ব্যাংকের লোন সময়মত শোধ করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষুদ্রঋণের লোন আদায়ের হার ৯৫ থেকে ৯৭.৫ ভাগ পর্যন্ত। চাষীরা প্রাপ্ত লোন তাদের কৃষির উন্নতির জন্যই বেশি খরচ করে। ফলে দেশে কৃষির উৎপাদন দিন দিন বাড়ছে। ঝড়-তুফান, বান-ভাসীতে কৃষকের ফসল নষ্ট না হলে তারা কখনো লোন পরিশোধে পিছিয়ে থাকে না। তারা জানে লোন শোধ না করলে পরবর্তীতে লোন পাওয়া যায় না।

আমাদের উৎপাদন আরো বাড়াতে হবে এবং খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে হবে। কিন্তু বিশ্ব বাজারে খাদ্য দ্রব্যের মূল্য সমানে বাড়ছে। বিদেশ থেকে খাদ্যদ্রব্য আমদানি করে দেশের মানুষ বাঁচিয়ে রাখা যাবে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্নর আতিউর রহমান ক্ষুদ্রঋণ প্রদানের ওপর বেশ গুরুত্ব দিচ্ছেন। সমস্ত সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকে এ ঋণ দেয়ার জন্য তিনি সমানে চাপ দিয়ে যাচ্ছেন। কৃষকদের ক্ষুদ্রঋণ সঠিকভাবে দেয়া হচ্ছে কিনা তা তদারকির জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকিও বাড়ানো হচ্ছে। এটি ভাল লক্ষণ। তবে সমস্যা হচ্ছে শাখা/লেভেলের ব্যবস্থা করা সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে গা ঝাড়া দিয়ে ওঠতে আলসেমী করছেন। তারা বড় বড় ব্যবসায়ীদের বেশি টাকার ফান্ড দিতে আগ্রহী। এতে কম পরিশ্রম করতে হয়। আবার কিছু কমিশন পাওয়া যায়।

জাতির বৃহত্তর স্বার্থে তাদেরকে অবশ্যই গা ঝাড়া দিয়ে ওঠতে হবে। কৃষি অধিদফতরের ফিল্ড লেভেলের লোকদের সাথে মিলে মিশে এ ক্ষুদ্রঋণ পরিচালনা করলে ফল ভাল পাওয়া যাবে। এতে সঠিক লোকের হাতেই ঋণ পৌঁছবে। কোন কোন ক্ষেত্রে এমন অভিযোগ পাওয়া যায় যে, ম্যানেজাররা স্থানীয় জোতদারদের কোটি কোটি টাকা লোন দেন। তারা সে টাকা স্থানীয় চাষীদের কাছে উচ্চ সুদে খাটিয়ে দাদন ব্যবসা করে। তার বখরা নাকি ব্যাংকের লোকেরাও পায়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে পারে। বর্তমানে কৃষিমন্ত্রণালয় ও অর্থমন্ত্রণালয় কৃষির দিকে গুরুত্ব দেয়ায় আশা করা যায়, ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্প বেগবান হবে। এত দিন সরকার এনজিওদের কার্যক্রম তেমন গুরুত্ব দিয়ে দেখে নাই। এনজিও বিষয়ক অধিফতর থাকলেও তাদের কার্যক্রম খতিয়ে দেখতো না। এনজিওরা যা- তা একটা হিসেব দিলে তাকে ভিত্তি করেই সরকার অর্থও দিতো। এতে তাদের আরো পোয়াবারো। কোন প্রকার জবাবদিহিতা ছিল না।

ইদানীং দেখা যাচ্ছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এনজিওদের অবৈধ কাজকর্মে অসন্তুষ্ট। তিনি চান এনজিও’র যা আসল উদ্দেশ্য সেভাবে কাজ করতে হবে। অর্থমন্ত্রী মোহিতও বিভিন্ন সময় তাদের জবাবদিহিতার কথা বলেছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকও চায় এনজিওরা সুনির্দিষ্ট নীতিমালার মাধ্যমে কাজ করুক। সাধারণ ঋণ গ্রহীতারাও চায় এই ঋণের মাধ্যমে তাদের ভাগ্য উন্নয়ন হোক। তারা যেন এনজিওদের শোষণের হাতিয়ারে পরিণত না হয়। এটা তখনই সম্ভব হবে যখন কৃষি ব্যাংক, সরকারি ব্যাংক ও বেসরকারি ব্যাংক প্রচুর পরিমাণে গ্রামের কৃষকদের সহজ শর্তে লোন দেবে। আর সর্বপর্যায়ে তদারকি জোরদার হবে। এনজিওদের সার্ভিস চার্জ কোনভাবেই শতকরা ১০ ভাগের বেশি হতে পারবে না। তাদের মাথা ভারী প্রশাসন বন্ধ করতে হবে। যারা এনজিও করবে তারা অন্য কোন ব্যবসা করতে পারবে না।

অন্য কোন ব্যবসা করতে হলে তাকে এনজিও থেকে পদত্যাগ করেই তা করতে হবে। এনজিওতে যারা চাকরি করবে তাদের নীতি হতে হবে সাধারণ জীবন ও উচ্চ চিন্তা (Plain living & high thinking) তা না হলে মানবসেবা কি হবে? মানবসেবার জন্য আল্লাহ তাদেরকে যে সুযোগ দিয়েছেন তা তাদের স্মরণ রাখতে হবে। মানুষ আল্লাহর সেরা সৃষ্টি। তাই তার চিন্তা চেতনায় মানবসেবার কথাটা সব সময় মাথায় রাখতে হবে। তা হলে এনজিওর কর্মকান্ডের মাধ্যমেও মানুষের নিকট থেকে সম্মান-মর্যাদা পাওয়া যাবে। এখন এমন এক অবস্থার সৃষ্টি-এনজিও করেছে যে, তাদের কথা শোনলে মানুষ পাঁচ পা পিছনে সরে যায়। এটা তো হওয়ার কথা ছিল না। আশা করি, দেশের বড় বড় এনজিওগুলো তাদের কার্যক্রমের পুনঃমূল্যায়ন করবে এবং অসহায় মানুষের পাশে থেকেই আনন্দ পাবে। অন্যথা তাদের এনজিও কার্যক্রম পরিত্যাগ করা উচিত।

কার্টেসিঃ প্রকৌশলী এসএম ফজলে আলী

Leave a Reply