নতুন ৩ ব্যাংক চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি

0
4039

নীতিগত সিদ্ধান্ত হলেও দীর্ঘ ১০ মাসে চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি নতুন তিন ব্যাংক। ব্যাংকগুলো হচ্ছে-বেঙ্গল কমার্শিয়াল, পিপলস ও সিটিজেন ব্যাংক। এখন পর্যন্ত বেঙ্গল কমার্শিয়াল ও সিটিজেন ব্যাংক দুটিকে লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই) বা আগ্রহপত্র দেয়া হয়েছে। কিন্তু শর্ত মোতাবেক প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে না পারায় চূড়ান্ত অনুমোদন মিলেনি ব্যাংক দুটির। এদিকে পিপলস ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসায় এখনও পায়নি এলওআই বা বাংলাদেশ ব্যাংকের আগ্রহপত্র। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে পারেনি ব্যাংকগুলো। ফলে আটকে আছে চূড়ান্ত অনুমোদন পক্রিয়া। এদিকে ব্যাংকগুলো দাবি করছে,

জানা যায়, বাংলাদেশে বেসরকারী খাতের ব্যাংকের কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৮৩ সালে। এরশাদ সরকারের মেয়াদে (১৯৮২-৯০) ৯টি ব্যাংক অনুমোদন পায়। ১৯৯১-৯৬ সালে বিএনপি সরকারের সময় নতুন ৮টি ব্যাংক অনুমোদন পায়। আওয়ামী লীগ সরকারের ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে অনুমোদন পায় ১৩ ব্যাংক। আর ২০০৯ থেকে বর্তমান সরকারের তিন মেয়াদে ১১টি ব্যাংকের অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে আরও তিন ব্যাংক অনুমোদনের। এছাড়া নতুন ব্যাংক পেয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বাংলাদেশ পুলিশও। নতুন তিন ব্যাংকের অনুমোদনের ফলে সবমিলিয়ে দেশে মোট তফসিলি ব্যাংকের সংখ্যা দাঁড়াবে ৬২টিতে।

জানা গেছে, নতুন তিন ব্যাংককে দুই বছরের মধ্যে পরিশোধিত মূলধন ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত করতে হবে। যদিও আগে অনুমোদন পর্যায়ে ব্যাংকগুলোর পরিশোধিত মূলধন ৪০০ কোটি টাকা ছিল। নতুন এই তিন ব্যাংকের মধ্যে বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক পেতে আবেদন করেছিলেন বেঙ্গল গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন। আওয়ামী লীগের সাংসদ মোরশেদ আলম বেঙ্গল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও মার্কেন্টাইল ব্যাংকের পরিচালক। প্রস্তাবিত এই ব্যাংকটির পরিচালক হিসেবে রয়েছেন চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডেও ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিলীপ কুমার আগারওয়াল, পোশাক খাতের ব্যবসায়ী সাহাবুদ্দিন, চট্টগ্রামের কেডিএস গ্রুপ ও ম্যাক্স গ্রুপ, পোশাক খাতের লাবিব ও শারমিন গ্রুপসহ আরও কয়েকজন ব্যবসায়ী।

পিপলস ব্যাংক পেতে আবেদন করেছিলেন প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা এম এ কাশেম। চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের এ অধিবাসী যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিংয়ের জন্য ব্যাংকটির আবেদন করা হয়েছে। সিটিজেন ব্যাংকের আবেদনটি এসেছে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের পরিবার থেকে। আনিসুল হকের মা জাহানারা হককে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে আবেদনপত্রে।

একইসঙ্গে এই তিনটি ব্যাংক আবেদন করলেও এখন পর্যন্ত লেটার অব ইন্ট্যান্ট (এলওআই) বা সম্মতিপত্র পায়নি বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক ও সিটিজেন ব্যাংক। ইতোমধ্যে দুইবার এলওআইয়ের সময় বৃদ্ধির আবেদন করেছেন এ দুটি ব্যাংকের উদ্যোক্তারা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৩৯৯তম বোর্ড সভায় বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়।

সভাসূত্রে জানা যায়, পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাবে আরও সময় চেয়েছে ব্যাংক দুটি। ৩৯৮তম বোর্ড সভায়ও একই কারণে সম্মতিপত্র পায়নি তারা। এর আগে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর ‘কমিউনিটি ব্যাংক অব বাংলাদেশ’কে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোঃ সিরাজুল ইসলাম বলেন, বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক এবং সিটিজেন ব্যাংকের এলওআইয়ের বিষয়ে আরও সময় দেয়া হয়েছে। তবে পিপলস ব্যাংকের পক্ষ থেকে কোন আবেদন না আসায় এ বিষয়ে সভায় কোন আলোচনা হয়নি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই পর্ষদ সভায় বলা হয়েছিল, ব্যাংকের চেয়ারম্যান যেহেতু প্রবাসী সেহেতু সম্পদের হিসাব পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক সত্যায়িত হয়ে আসতে হবে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) সাবেক মহাপরিচালক তৌফিক আহমেদ চৌধুরী বলেন, নতুন ব্যাংক অনুমোদন দেয়া না দেয়ার বিষয়টি যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তারচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো একটা ‘এক্সিট পলিসি’ ঠিক করা। তিনি বলেন, ‘নতুন ব্যাংকের লাইসেন্স দেয়া যেতেই পারে। যদি কেউ সব শর্ত পূরণ করতে পারে তাহলে তিনি লাইসেন্স পেতেই পারেন।’ তিনি জানান, তবে এক্সিট পলিসি থাকলে কোন ব্যাংক ব্যর্থ হলেও সে মার্কেট থেকে বেরিয়ে যেতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, এখন সবাই মনে করছে লাইসেন্স পাওয়াটাই আসল। একবার লাইসেন্স পেয়ে গেলে এরপর কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকারই ব্যাংককে টিকিয়ে রাখতে যা করার করবে।

Leave a Reply