বাংলাদেশী ব্যাংকসমূহের জন্য মুডিসের দৃষ্টিভঙ্গি

0
606

ব্যাংকিং নিউজ বাংলাদেশঃ দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ভালো হলেও ব্যাংক খাতের চিত্র নেতিবাচক বলে মন্তব্য করেছে আন্তর্জাতিক ঋণ মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা মুডিস। মুডিস বলছে, বাংলাদেশে ব্যাংকের সংখ্যা এখন অনেক বেশি বেড়ে গেছে। ঋণ পুনঃ তফসিলের মাধ্যমে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমানোর যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তাতে ব্যাংকের সম্পদের মান আরো ঝুঁকিতে পড়েছে।

মুডিস ইনভেস্টর সার্ভিসের এক প্রতিবেদনে এ নিয়ে বলা হয়েছে, ব্যাংকের সম্পদের মান খারাপ হওয়ায় (খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ায়) এ খাতের অবস্থা খুব ভালো নয়।

সিঙ্গাপুর থেকে প্রকাশিত মুডিসের Banking System Outlook-Bangladeshi Banks: High asset risks drive negative outlook despite robust economy” শীর্ষক প্রতিবেদনে এই পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে খেলাপি ঋণ কমিয়ে দেখাতে ব্যাংকগুলো একরকম উদারভাবে ঋণ পুনঃ তফসিল করছে যাতে বিশেষ অনুমোদন দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

মুডিসের বিশ্লেষক তেংফু লি বলেছেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা থাকায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারা চলমান থাকবে। ঋণ প্রবৃদ্ধির হার স্থিতিশীল ও প্রবাসী আয়ের ধারা বজায় থাকার কারণে দেশের মানুষের ভোগ ব্যয়ও বাড়বে।

তবে বাংলাদেশে ব্যাংকের সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। এই খাতের সম্পদের মানও কমে যাচ্ছে। বিশেষ করে রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকের করপোরেট সুশাসনের অন্তর্নিহিত দুর্বলতার কারণে ২০১৮ সালের জুন মাসে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১০.৪ শতাংশে উঠে গেছে। এছাড়া ঋণ পুনঃ তফসিলের মাধ্যমে খেলাপির পরিমাণ কমানোর যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তাতে সম্পদের মান আরো ঝুঁকিতে পড়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশে ৫৯টি ব্যাংক কার্যক্রম এ থাকার পরও নতুন করে ব্যাংক দেওয়ার জন্য তৎপরতা চলছে। বাজার অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে নয়, এর সব হচ্ছে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বিবেচনায়, যাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোন ভূমিকা থাকছে না।

৬টি গুরুত্বপূর্ণ সূচকের ভিত্তিতে মুডিস এই পর্যবেক্ষণ রিপোর্ট দিয়েছে। বিশেষ করে মুডিস দেখেছে, ব্যাংকিং পরিবেশের অবনতির পাশাপাশি সম্পদের ঝুঁকি বাড়ছে। অন্যদিকে পুঁজি, মুনাফা ও দক্ষতা কমছে। তবে ব্যাংকের তহবিল ও তারল্য স্থিতিশীল রয়েছে। সরকার থেকে ব্যাংক খাতকে মূলধন যোগান দেওয়া হচ্ছে বলেই তহবিল ও তারল্যের পরিস্থিতি ইতিবাচক রয়েছে।

তবে মুডিসের আশঙ্কা, সম্পদের মান পড়ে যাওয়ায় ঋণের ব্যয় বাড়বে। এই পরিস্থিতিতে ব্যাংকের মুনাফার পরিমাণ কমে যাবে। আর কেন্দ্রীয় ব্যাংক যদি সুদের হার নির্ধারণ করে দেয়, তাহলে মুনাফার হার আরও কমবে। এদিকে সরকারি ব্যাংকে মূলধন ঘাটতি আছে। সরকারের কাছ থেকে মূলধন পাওয়ার ওপর তাদের আর্থিক অবস্থা নির্ভর করবে।

মুডিস মনে করছে, বাংলাদেশের ব্যাংকগুলো যথেষ্ট তহবিল ও তারল্য বজায় রাখতে পারবে। ২০১৮ সালের প্রথম ভাগে আর্থিক খাতে বেশ কড়াকড়ি আরোপ করা হলেও বছরের দ্বিতীয় ভাগে ঋণ-আমানত অনুপাত সমন্বয়ের সময় বাড়ানো ও নগদ জমার হার কমিয়ে দেওয়ার কারণে পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে। ২০১৯ সালের মার্চের মধ্যে এই ঋণ-আমানতের অনুপাত সমন্বয় করতে হবে। ফলে এই সময়ের মধ্যে ব্যাংকগুলোর পক্ষে অর্থায়ন করা অতটা ঝুঁকিপূর্ণ হবে না।

মুডিস আশা করে, বাংলাদেশ সরকার ব্যাংক খাত কে সমর্থন দিয়ে যাবে। সরকার আগেও ব্যাংক খাতের ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হলে আগেভাগে সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে, সেই পরিস্থিতিতে মুডিস এমনটা আশা করছে। এছাড়া তারা মনে করে, প্রয়োজনের সময় সরকার ব্যাংক খাতকে সহায়তা করার সক্ষমতা রাখে।

Leave a Reply