ঋণ/লীজ/বিনিয়োগ অবলােপন (write off) নীতিমালা

0
4861

আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের বিতরণকৃত ঋণ/লীজ/ বিনিয়ােগ পর্যালােচনায় অনেক ক্ষেত্রে এগুলাের গুনগত মান হ্রাস ও আদায়ে অনিশ্চয়তা পরিলক্ষিত হয়। ঋণ ব্যবস্থাপনার স্বার্থে আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের বিনিয়ােগকৃত সম্পদের শ্রেণীকরণ এবং এর বিপরীতে নির্ধারিত হারে সংস্থান (Provision) সংরক্ষণ করা হয়ে থাকে। দীর্ঘদিনের অনাদায়ী ঋণ/লীজ/বিনিয়ােগ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের স্থিতিপত্রে প্রদর্শনের ফলে স্থিতিপত্রের আকার অনাবশ্যকভাবে স্ফীত হতে থাকে। দেশের আর্থিক খাতের বিদ্যমান অবস্থা পর্যালােচনান্তে শ্ৰেণীকৃত ঋণ/লীজ/বিনিয়োগ-এর অবলোপনের বিষয়ে নিম্নোক্ত নীতিমালা অনুসরণের জন্য নির্দেশনা দেয়া যাচ্ছেঃ

০১। অবলােপনযােগ্য ঋণ/লীজ/বিনিয়ােগ হিসাবসমূহ চিহ্নিতকরণঃ
ক) যে সকল ঋণ/লীজ/বিনিয়োগ হিসাবের বকেয়া দীর্ঘদিন যাবৎ অনাদায়ী রয়েছে ও নিকট-ভবিষ্যতে আদায়ের কোন সম্ভাবনা নেই এবং যে সকল ঋণ/বিনিয়ােগ হিসাব একাদিক্রমে ০৩ (তিন) বছর মন্দ/ক্ষতিজনক মানে শ্ৰেণীকৃত রয়েছে এরূপ ঋণ/লীজ/বিনিয়ােগ হিসাব অবলােপন করা যাবে।

খ) আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিজস্ব বিবেচনায় মৃত ব্যক্তির নিজ নামে অথবা তাঁর একক মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের নামে গৃহীত ঋণ/লীজ/বিনিয়ােগ হিসাব ঋণ-শ্রেণীমান নির্বিশেষে ও অর্থ ঋণ আদালত আইন, ২০০৩ অনুযায়ী মামলাযোগ্য না হলে মামলা দায়ের ব্যতিরেকে অবলােপন করতে পারবে। তবে একক মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির উপার্জনক্ষম উত্তরসূরী রয়েছে কিনা তা বিবেচনায় নিতে হবে।

০২। ঋণ/লীজ/বিনিয়ােগ হিসাব অবলােপন পদ্ধতিঃ
ক) অবলােপনযোগ্য ঋণ/লীজ/বিনিয়োগ এর বিপরীতে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অনুকুলে বন্ধকীকৃত সম্পত্তি (যদি থাকে) নিয়মানুগভাবে বিক্রয়ের প্রচেষ্টা গ্রহণ করতে হবে। বিক্রয় প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে কিংবা গ্যারান্টরের কাছ থেকে পাওনা অর্থ আদায়ে অসমর্থ হলে উক্ত ঋণ/লীজ/বিনিয়োগ অবলােপনের আওতায় আসবে।

খ) অবলােপনের জন্য নির্বাচিত ঋণ/লীজ/বিনিয়ােগ হিসাবসমূহের ক্ষেত্রে পূর্বে আইনগত ব্যবস্থা সূচিত না হয়ে থাকলে অবলােপনের পূর্বে অবশ্যই অর্থ ঋণ আদালত আইন, ২০০৩ অনুযায়ী মামলা দায়ের করতে হবে। তবে ক্ষুদ্র অংকের ঋণের ক্ষেত্রে অর্থ ঋণ আদালত আইন, ২০০৩ এর আওতায় অত্যাবশকীয়ভাবে মামলাযােগ্য না হলে প্রয়ােজনে ২,০০,০০০/- (দুই লক্ষ) টাকা পর্যন্ত যে কোন অংকের অবলােপনযােগ্য ঋণ/লীজ/বিনিয়ােগ আদালতে মামলা দায়ের ব্যতিৱেকে অত্র সার্কুলারের ২(গ) এর নির্দেশনা পরিপালন সাপেক্ষে অবলােপন করা যাবে।

গ) অবলোপনের পূর্বে সংশ্লিষ্ট ঋণ/লীজ/বিনিয়ােগ হিসাবের স্থিতি হতে স্থগিত সুদবাবদ সংরক্ষিত অর্থ বাদ দেয়ার পর অবশিষ্ট ঋণস্থিতির সমপরিমাণ প্রভিশন রাখতে হবে। এক্ষেত্রে অবলােপনেৱ জন্য চিহ্নিত প্রতিটি ঋণ/লীজ/বিনিয়ােগ হিসাবের বিপরীতে রক্ষিত প্রভিশন পর্যাপ্ত না হলে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চলতি বছরের আয় খাত বিকলন করে অবশিষ্ট প্রভিশন সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।

ঘ) কোন ঋণ/লীজ/বিনিয়ােগ হিসাব আংশিকভাবে অবলোপন করা যাবে না।

ঙ) পরিচালনা পর্ষদের অনুমােদন ব্যতিরেকে কোনাে ঋণ/লীজ/বিনিয়োগ হিসাব অবলােপন করা যাবে না।

০৩। অবলােপন-পরবর্তী আদায় কার্যক্রমঃ
ক) অবলােপনের পরও সংশ্লিষ্ট ঋণ/লীজ/বিনিয়ােগ-এর উপর আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দাবী বহাল থাকবে। অবলােপনকৃত ঋণ/লীজ/বিনিয়ােগ আদায়ের লক্ষ্যে আইনী প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে হবে।

খ) প্রতিটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পৃথক “Debt Collection Unit” গঠন করে অবলােপনকৃত ঋণ/লীজ/বিনিয়ােগ আদায়ের পদক্ষেপ নিতে হবে।

গ) অবলােপনকৃত ঋণ/লীজ/বিনিয়ােগ হিসাবের বিপরীতে দায়েরকৃত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ কিংবা অবলােপনকৃত ঋণ/লীজ/বিনিয়ােগ হিসাবের বিপরীতে প্রাপ্য অর্থ আদায়ের জন্য প্রয়ােজনে তৃতীয় পক্ষ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানকে নিয়ােজিত করা যাবে।

০৪। অবলােপনকৃত ঋণ/লীজ/বিনিয়ােগ হিসাব রিপাের্টিং পদ্ধতিঃ
ক) অবলােপনকৃত ঋণের হিসাব একটি পৃথক লেজারে সংরক্ষণ করতে হবে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক রিপাের্ট/স্থিতিপত্রে ক্রমপুঞ্জীভূত ও চলতি বছরে অবলােপনকৃত ঋণের পরিমাণ পৃথকভাবে “Notes to the accounts” এ লিপিবদ্ধ করতে হবে।

খ) খেলাপী ঋণগ্রহীতার ঋণ/লীজ/বিনিয়ােগ অবলােপন করা হলেও সংশ্লিষ্ট ঋণগ্রহীতা তাঁর ঋণের দায় সম্পূর্ণ পরিশোধ না করা পর্যন্ত যথানিয়মে “খেলাপী” হিসেবে চিহ্নিত হবে। অবলােপনকৃত ঋণ/লীজ/বিনিয়ােগ এর তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরাে (সিআইবি)-তে “BLW” হিসেবে যথারীতি রিপাের্ট করতে হবে।

গ) ঋণ/লীজ/বিনিয়ােগ অবলােপন সংক্রান্ত তথ্য প্রতি ত্রৈমাসিকে ডিএফআইএম সার্কুলার নং-০৯/২০১২ তারিখঃ ২৯/১১/২০১২ এর নির্দেশনা অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের EDW portal ব্যবহার করে T_PS_M_WRITE_OFF LOANLEASE টেমপ্লেট এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রেরণ করতে হবে।

০৫। অন্যান্য বিধি-নিষেধঃ
ক) অবলােপনকৃত ঋণ/লীজ/বিনিয়ােগ হিসাব পুনঃতফসিল বা পুনর্গঠন করা যাবে না। শুধুমাত্র Exit Plan এর আওতায় এরূপ ঋণ/বিনিয়ােগ হিসাব এর পরিশােধসূচী নির্ধারণ করা যেতে পারে। তবে, উক্ত ঋণ/লীজ/বিনিয়ােগ হিসাবসমূহের শ্রেণীমানের ক্ষেত্রে অত্র সার্কুলারের ৪(খ) এ বর্ণিত নির্দেশনা বলবৎ থাকবে।

খ) কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালকের (উক্ত পদে থাকাকালীন) নিজ নামে কিংবা স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের (আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন, ১৯৯৩ এর ১৪(চ) ধারার ব্যাখ্যা অনুযায়ী) নামে গৃহীত ঋণ/লীজ/বিনিয়োগ অবলােপনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ হতে পূর্বানুমোদন গ্রহণ করতে হবে।

গ) আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ কোন অবস্থাতেই মূল ঋণের আসল বা আসলের অংশ বিশেষ মওকুফ করতে পারবে না।

ঘ) এই নীতিমালা জারির দ্বারা ইতােপূর্বে জারিকৃত এতদসংক্রান্ত সকল নির্দেশনা বাতিল বলে গণ্য হবে।

• নীতিমালাটি দেখতে ক্লিক করুন এখানে

সূত্রঃ আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক
ডিএফআইএম সার্কুলার নং-০২, তারিখঃ ০১ এপ্রিল, ২০১৯

Leave a Reply