1. bankingnewsbd@gmail.com : ব্যাংকিং নিউজ : ব্যাংকিং নিউজ
  2. mosharafnbl@yahoo.com : মোশারফ হোসেন : মোশারফ হোসেন
  3. msakanda@yahoo.com : ইবনে নুর : ইবনে নুর
  4. shafiqueshams@gmail.com : Shamsuddin Akanda : Shamsuddin Akanda
  5. surjoopathik@ymail.com : শরিফুল ইসলাম : শরিফুল ইসলাম
  6. tasniapopy@gmail.com : তাসনিয়া তাবাসসুম : তাসনিয়া তাবাসসুম



কর্মসংস্থান ব্যাংক আইন, ১৯৯৮

  • প্রকাশিত: শনিবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২০

কর্মসংস্থান ব্যাংক আইন, ১৯৯৮
(১৯৯৮ সনের ৭ নং আইন)
[৬ মে, ১৯৯৮]
কর্মসংস্থান ব্যাংক প্রতিষ্ঠাকল্পে প্রণীত আইন৷

যেহেতু বেকার, বিশেষ করিয়া বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে কর্মসংস্থান ব্যাংক নামে একটি ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;
সেহেতু এতদ্‌দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল:-

সংক্ষিপ্ত শিরোনামা ও প্রয়োগ
১৷ (১) এই আইন কর্মসংস্থান ব্যাংক আইন, ১৯৯৮ নামে অভিহিত হইবে৷
(২) সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, যে তারিখ নির্ধারণ করিবে সেই তারিখে এই আইন বলবত্ হইবে৷

সংজ্ঞা
২৷ বিষয় বা প্রসংগের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে,-
(ক) “আর্থিক প্রতিষ্ঠান” অর্থ আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন, ১৯৯৩ (১৯৯৩ সনের ২৭ নং আইন) এর ধারা ২ এর দফা (খ) তে সংজ্ঞায়িত আর্থিক প্রতিষ্ঠান;
(খ) “তফসিলি ব্যাংক” অর্থ Bangladesh Bank Order, 1972 (P.O. No. 127 of 1972) এর Article 37(1) এর অধীন ঘোষিত scheduled bank;
(গ) “ব্যাংক” অর্থ কর্মসংস্থান ব্যাংক;
(ঘ) “বোর্ড” অর্থ ব্যাংকের পরিচালনা বোর্ড;
(ঙ) “বাংলাদেশ ব্যাংক” অর্থ Bangladesh Bank Order, 1972 (P.O. No. 127 of 1972) এর অধীন প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ ব্যাংক;
(চ) “চেয়ারম্যান” অর্থ বোর্ড এর চেয়ারম্যান;
(ছ) “পরিচালক” অর্থ ব্যাংকের পরিচালক;
(জ) “ব্যবস্থাপনা পরিচালক” অর্থ ধারা ১১ এর অধীনে নিযুক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক;
(ঝ) “বিধি” অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি;
(ঞ) “প্রবিধান” অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত প্রবিধান;
(ট) “ব্যাংক কোম্পানী আইন” অর্থ ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১ (১৯৯১ সনের ১৪ নং আইন)৷

ব্যাংকিং নিউজ বাংলাদেশ (A Platform for Bankers Community) প্রিয় পাঠকঃ ব্যাংকিং বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ খবরগুলো আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ ব্যাংকিং নিউজ বাংলাদেশ এ লাইক দিন এবং ফেসবুক গ্রুপ ব্যাংকিং ফর অল এ জয়েন করে আমাদের সাথেই থাকুন।

আইনের প্রাধান্য
৩৷ আপাততঃ বলবত্ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইন ও তদধীন প্রণীত বিধির বিধানাবলী কার্যকর থাকিবে৷

কর্মসংস্থান ব্যাংক প্রতিষ্ঠা, ইত্যাদি
৪৷ (১) এই আইন বলবত্ হইবার পর, যতশীঘ্র সম্ভব, কর্মসংস্থান ব্যাংক নামে একটি ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হইবে৷
(২) ব্যাংক একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং ইহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সীলমোহর থাকিবে এবং এই আইন ও বিধির বিধানাবলী সাপেক্ষে ইহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয়বিধ সম্পত্তি অর্জন করার, অধিকারে রাখার ও হস্তান্তর করার ক্ষমতা থাকিবে এবং ইহার নামে ইহা মামলা দায়ের করিতে পারিবে বা ইহার বিরুদ্ধে মামলা করা যাইবে৷
(৩) উপ-ধারা (৪) এর বিধান সাপেক্ষে, ব্যাংক কোম্পানী আইন এবং ব্যাংক কোম্পানী সম্পর্কিত আপাততঃ বলবত্ অন্য কোন আইনের বিধান ব্যাংকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না৷
(৪) সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, ব্যাংক কোম্পানী আইন অথবা ব্যাংক কোম্পানী সংক্রান্ত আপাততঃ বলবত্ অন্য কোন আইনের কোন বিধান ব্যাংকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে বলিয়া নির্দেশ জারী করিলে উক্ত বিধান ব্যাংকের ক্ষেত্রে কার্যকর হইবে৷

ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়, ইত্যাদি
৫৷ (১) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ঢাকায় থাকিবে৷
(২) ব্যাংক, বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনক্রমে, বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত স্থানে উহার আঞ্চলিক অফিস, অন্যান্য অফিস এবং শাখা স্থাপন করিতে পারিবে৷

অনুমোদিত মূলধন
৬৷ (১) ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন হইবে তিনশত কোটি টাকা৷
(২) অনুমোদিত মূলধন একশত টাকা মূল্যমানের তিন কোটি সাধারণ শেয়ারে বিভক্ত থাকিবে৷
(৩) সরকার, সময়ে সময়ে, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধনের পরিমাণ বৃদ্ধি করিতে পারিবে৷

পরিশোধিত মূলধন
৭৷ (১) ব্যাংকের প্রারম্ভিক পরিশোধিত মূলধন হইবে একশত কোটি টাকা, যাহার মধ্যে ৭৫% গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক পরিশোধ করা হইবে এবং ২৫% রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক, তফসিলি ব্যাংক, বীমা কোম্পানী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক পরিশোধ করা যাইবে৷
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন নির্দিষ্টকৃত মূলধন ব্যাংকের শেয়ার ক্রয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করা যাইবে৷
(৪) সরকার, সময়ে সময়ে, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ বৃদ্ধি করিতে পারিবে৷

পরিচালনা ও প্রশাসন
৮৷ (১) ব্যাংকের পরিচালনা ও প্রশাসন এই আইনের অধীন গঠিত পরিচালনা বোর্ড এর উপর ন্যস্ত থাকিবে এবং ব্যাংক যে সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্য সম্পাদন করিতে পারিবে পরিচালনা বোর্ডও সেই সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্য সম্পাদন করিতে পারিবে৷
(২) যে কোন নীতিগত প্রশ্নে ব্যাংক সরকার কর্তৃক প্রদত্ত নির্দেশাবলী অনুসরণ করিবে এবং কোন বিষয় নীতিগত কি না সেই সম্পর্কে প্রশ্ন দেখা দিলে উহাতে সরকারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হইবে৷
(৩) ধারা ৯ এর অধীন প্রথম বোর্ড গঠিত না হওয়া পর্যন্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক বোর্ডের যাবতীয় ক্ষমতা প্রয়োগ এবং কার্য সম্পাদন করিবে৷

বোর্ড
৯৷ (১) নিম্নবর্ণিত পরিচালক সমন্বয়ে ব্যাংকের পরিচালনা বোর্ড গঠিত হইবে, যথা:-
(ক) চেয়ারম্যান;
(খ) সরকার কর্তৃক মনোনীত চারজন পরিচালক;
(গ) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্ণর কর্তৃক মনোনীত একজন নির্বাহী পরিচালক;
(ঘ) সরকার ব্যতীত অন্যান্য শেয়ার মালিক, যদি থাকে, কর্তৃক মনোনীত দুইজন পরিচালক;
(ঙ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক৷
(২) যদি ধারা ৭(১) এর অধীন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক, তফসিলি ব্যাংক, বীমা কোম্পানী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য নির্দিষ্টকৃত মূলধন অনুরূপ কোন প্রতিষ্ঠান কর্তৃক পরিশোধ করা হয় সেই ক্ষেত্রে উক্ত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান উহার শেয়ার সংখ্যা অন্যুন ১০% হওয়া সাপেক্ষে, একজন পরিচালক মনোনীত করিতে পারিবে৷
(৩) কোন মনোনীত পরিচালক তাঁহার পদের কার্যভার গ্রহণের তারিখ হইতে তিন বত্সর পর্যন্ত স্বীয় পদে অধিষ্ঠিত থাকিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, মেয়াদ শেষ হওয়া সত্ত্বেও তাহার স্থলাভিষিক্ত ব্যক্তি কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি পরিচালক পদে বহাল থাকিবেন৷
(৪) উপ-ধারা (৩) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সরকার যে কোন সময় কোন মনোনীত পরিচালকের মনোনয়ন বাতিল করিতে পারিবে৷

চেয়ারম্যান
১০৷ (১) চেয়ারম্যান সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন৷
(২) চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হইলে কিংবা অনুপস্থিতি বা অসুস্থতাহেতু বা অন্য কোন কারণে চেয়ারম্যান দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে, শূন্য পদে নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত কিংবা চেয়ারম্যান পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত সরকার কর্তৃক মনোনীত কোন পরিচালক চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করিবেন৷

ব্যবস্থাপনা পরিচালক
১১৷ (১) ব্যাংকের একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালক থাকিবেন৷
(২) ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাংলাদেশ ব্যাংকের সহিত পরামর্শক্রমে, সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং তাহার চাকুরীর শর্তাবলী সরকার কর্তৃক স্থিরকৃত হইবে৷
(৩) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হইবেন৷
(৪) ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ শূন্য হইলে কিংবা অনুপস্থিতি বা অসুস্থতাহেতু বা অন্য কোন কারণে ব্যবস্থাপনা পরিচালক দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে, শূন্য পদে নবনিযুক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত সরকার কর্তৃক মনোনীত কোন কর্মকর্তা ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন ও কর্তব্য সম্পাদন করিবেন৷

পরিচালকের দায়িত্ব
১২৷ চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং অন্যান্য পরিচালকগণ প্রবিধান দ্বারা বা বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত ব্যবস্থা মোতাবেক ব্যাংকের দায়িত্ব পালন ও কর্তব্য সম্পাদন করিবেন৷

পদত্যাগ
১৩৷ চেয়ারম্যাান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা মনোনীত কোন পরিচালক সরকারের নিকট তাহার স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন৷

সভা
১৪৷ (১) বোর্ড এর সকল সভা, উহার চেয়ারম্যানের নির্দেশে এতদুদ্দেশ্যে নির্ধারিত ব্যাংকের কোন কর্মকর্তা কর্তৃক আহূত হইবে এবং সভার তারিখ, সময় ও স্থান চেয়ারম্যান কর্তৃক স্থিরকৃত হইবে৷
(২) এই ধারার বিধান সাপেক্ষে, বোর্ড এর সভার কার্যধারা প্রবিধান দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হইবে৷
(৩) বোর্ড এর সভার কোরামের জন্য উহার মোট সদস্য সংখ্যার অন্যুন এক-তৃতীয়াংশ সদস্যের উপস্থিতির প্রয়োজন হইবে, তবে মুলতবি সভার ক্ষেত্রে কোন কোরামের প্রয়োজন হইবে না৷
(৪) চেয়ারম্যান বোর্ড এর সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন এবং তাঁহার অনুপস্থিতিতে সভায় উপস্থিত পরিচালকদের মধ্য হইতে তাঁহাদের দ্বারা নির্বাচিত, ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাদে অন্য, একজন পরিচালক সভায় সভাপতিত্ব করিবেন৷
(৫) শুধুমাত্র কোন পরিচালক পদে শূন্যতা বা বোর্ড গঠনে ত্রুটি থাকার কারণে বোর্ডের কোন কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না এবং তদসম্পর্কে কোন প্রশ্নও উত্থাপন করা যাইবে না৷
(৬) সভার কোন আলোচ্যসূচীতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোন পরিচালকের ব্যক্তিগত স্বার্থ জড়িত থাকিলে তিনি বোর্ড এর সভায় উক্ত বিষয়ের উপর আলোচনায় অংশগ্রহণ এবং ভোটাধিকার প্রয়োগ করিতে পারিবেন না৷

কমিটি
১৫৷ বোর্ড উহার কাজের সহায়তার জন্য প্রয়োজনবোধে এক বা একাধিক কমিটি নিয়োগ করিতে পারিবে এবং উক্তরূপ কমিটির সদস্য সংখ্যা ও উহার দায়িত্ব ও কার্যাবলী নির্ধারণ করিতে পারিবে৷

ব্যাংকের কার্যাবলী
১৬৷ ব্যাংক জামানত লইয়া বা জামানত ব্যতিরেকে, নগদে বা অন্য কোন প্রকারে, সকল প্রকার অর্থনৈতিক কার্যক্রম, বিশেষ করিয়া, বেকার যুবদের আত্ম-কর্মসংস্থানের জন্য ঋণ প্রদান করিবে এবং বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক সময় সময় আরোপিত শর্তাবলী সাপেক্ষে নিম্নবর্ণিত সকল বা যে কোন কার্য করিতে পারিবে, যথা:-
(ক) সংবিধিবদ্ধ সংস্থা, কোম্পানী, ব্যাংকের ঋণ গ্রহীতা এবং সরকার কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে নির্ধারিত একক ব্যক্তি নহেন এমন অন্য কোন ব্যক্তি হইতে আমানত গ্রহণ করা;
(খ) ব্যবসা পরিচালনার জন্য উহার সম্পদ বা অন্য কিছু জামানত রাখিয়া ঋণ গ্রহণ করা;
(গ) ব্যাংক প্রদত্ত ঋণ এবং অগ্রিমের জামানত হিসাবে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির প্লেজ (pledge), বন্ধক, হাইপোথিকেশন (hypothecation) বা স্বত্বনিয়োগ (assignment) গ্রহণ করা;
(ঘ) কোন সংবিধিবদ্ধ সংস্থার শেয়ার খরিদ করা;
(ঙ) সেভিংস সার্টিফিকেট, মালিকানা দলিল বা অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী নিরাপদ হেফাজতে রাখিবার জন্য গ্রহণ করা;
(চ) যে কোন ধরনের তহবিল বা ট্রাষ্ট গঠন, উহাদের পরিচালন ও নিয়ন্ত্রণ এবং উক্তরূপ তহবিল বা ট্রাষ্টের শেয়ার ধারণ ও বিলিবণ্টন করা;
(ছ) ঋণের অর্থ বিনিয়োগের ব্যাপারে ব্যাংকের ঋণ গ্রহীতাগণকে পরামর্শ প্রদান করা;
(জ) সরকার কর্তৃক অনুমোদিত খাতে ব্যাংকের তহবিল বিনিয়োগ করা;
(ঝ) বেকারদের প্রশিক্ষণ, কল্যাণ ও উন্নয়নের জন্য কোন প্রতিষ্ঠান স্থাপন বা প্রকল্প গ্রহণ, ব্যবস্থাপনা, উন্নয়ন ও পরিচালনা করা;
(ঞ) দেশের অভ্যন্তরে অর্থ এবং সিকিউরিটিজ গ্রহণ, সংগ্রহ, প্রেরণ ও পরিশোধ করা;
(ট) ব্যবসা পরিচালনার উদ্দেশ্যে বাসস্থানসহ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি অর্জন, ব্যবস্থাপনা ও হস্তান্তর করা;
(ঠ) বেকারদের বিনিয়োগ সম্পর্কে পরামর্শদান করা;
(ড) বেকার কর্মশক্তিকে কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াকরণসহ কুটির শিল্পে বিনিয়োগে উত্সাহ প্রদান করা;
(ঢ) ঋণ গ্রহীতাদের ব্যবস্থাপনা, বিপণন, কারিগরী ও প্রশাসনিক সহায়তা প্রদান করা;
(ণ) কোন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে হিসাব খোলা বা উহাদের সহিত চুক্তি সম্পাদন করা অথবা উহাদের এজেন্ট হিসাবে কার্য সম্পাদন করা;
(ত) ব্যাংক কর্তৃক অর্জিত সকল সম্পত্তি বিক্রয় ও ব্যবস্থাপনা;
(থ) কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে কোন দাতা সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান হইতে ঋণ অথবা অনুদান গ্রহণ করা;
(দ) দেশে কর্মসংস্থান, বিশেষ করিয়া, আত্ম-কর্মসংস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ, গবেষণা এবং প্রকাশনার ব্যবস্থা গ্রহণ করা;
(ধ) সরকার কর্তৃক সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা অন্য যে সব কার্য ব্যাংক কর্তৃক করা যাইতে পারে বলিয়া নির্দিষ্ট করা হয় সেই সকল কার্য করা;
(ন) এই আইনের উদ্দেশ্যের সহিত সংগতিপূর্ণ অন্য যে কোন প্রয়োজনীয় ও প্রাসংগিক কার্য করা৷

বন্ড এবং ঋণপত্র
১৭৷ (১) ব্যাংক, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, বন্ড এবং ঋণপত্র (debenture) জারী এবং বিক্রয় করিতে পারিবে এবং সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সুদের হারই হইবে উক্ত বন্ড ও ঋণপত্রের সুদের হার৷
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন জারীকৃত এবং বিক্রিত বন্ড এবং ঋণপত্রে সরকারী নিশ্চয়তা থাকিবে৷

হিসাব-নিকাশ
১৮৷ বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক সময় সময় জারীকৃত নির্দেশাবলী সাপেক্ষে আয় ও ব্যয়ের হিসাব ও ব্যালেন্সশীটসহ ব্যাংক যথাযথভাবে উহার হিসাব সংরক্ষণ করিবে এবং হিসাবের বার্ষিক বিবরণী প্রস্তুত করিবে৷

নিরীক্ষা
১৯৷ (১) বোর্ড কর্তৃক নিযুক্ত Chartered Accountants Order, 1973 (P.O. No. 2 of 1973) এর Article 2(1)(b) তে সংজ্ঞায়িত দুইজন chartered accountant দ্বারা ব্যাংকের হিসাব প্রত্যেক বত্সর নিরীক্ষা করা হইবে৷
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন নিয়োগকৃত নিরীক্ষককে ব্যাংকের বার্ষিক ব্যালেন্সশীট ও অন্যান্য হিসাবের কপি সরবরাহ করা হইবে এবং তাঁহারা ব্যাংকের সকল রেকর্ড, দলিল, দাপ্তরিক ও অন্যান্য সম্পত্তি পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পারিবেন এবং এতদুদ্দেশ্যে ব্যাংকের যে কোন পরিচালক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন৷
(৩) নিরীক্ষকগণ এই ধারার অধীন কৃত নিরীক্ষা প্রতিবেদন সরকারের নিকট পেশ করিবেন এবং উক্ত প্রতিবেদনে এই মর্মে উল্লেখ করিতে হইবে যে, তাঁহাদের মতে বার্ষিক ব্যালেন্সশীটে এমন প্রয়োজনীয় বিবরণাদি সন্নিবেশিত করা হইয়াছে এবং উহা এমনভাবে প্রস্তুত করা হইয়াছে যাহাতে ব্যাংকের কার্যক্রমের সত্য এবং সঠিক চিত্র প্রদর্শিত হয় এবং এই সকল ব্যাপারে ব্যাংকের নিকট হইতে তাঁহারা কোন ব্যাখ্যা বা তথ্য চাহিয়া থাকিলে উহার সরবরাহ সন্তোষজনক ছিল কিনা তাহাও উল্লেখ করিবেন৷
(৪) সরকার এবং ব্যাংকে অর্থ জমাকারীদের স্বার্থরক্ষায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইয়াছে কিনা তাহা নিরীক্ষিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করিতে হইবে৷
(৫) ব্যাংকের কার্যক্রম নিরীক্ষার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট বিধি-বিধানের পর্যাপ্ততা সম্পর্কে নিরীক্ষকগণের নিকট প্রতিবেদন চাহিয়া সরকার যে কোন সময় নির্দেশ জারী করিতে পারিবে এবং যে কোন সময় সরকার নিরীক্ষার বিষয়াদি সম্প্রসারণ অথবা নিরীক্ষার পদ্ধতি পরিবর্তন করার জন্য নিরীক্ষকগণকে নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে৷

প্রতিবেদন
২০৷ (১) সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনমত ব্যাংকের নিকট হইতে ব্যাংকের যে কোন বিষয়ের উপর প্রতিবেদন বা বিবরণী আহ্বান করিতে পারিবে এবং ব্যাংক সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের চাহিদা মোতাবেক প্রতিবেদন বা বিবরণী প্রেরণ করিতে বাধ্য থাকিবে৷
(২) প্রত্যেক আর্থিক বত্সর শেষ হইবার তিন মাসের মধ্যে ব্যাংক ধারা ১৯ এর অধীন নিরীক্ষা প্রতিবেদনের একটি কপি সরকারের নিকট প্রেরণ করিবে এবং উহাতে নিরীক্ষকের মন্তব্য, যদি থাকে, তত্ভিত্তিতে ব্যাংকের মতামত প্রদান করিবে৷

সংরক্ষিত তহবিল
২১৷ ব্যাংক একটি সংরক্ষিত তহবিল গঠন করিবে, যাহাতে ব্যাংকের বার্ষিক আয় হইতে বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত পরিমাণ টাকা জমা হইবে৷

লভ্যাংশ বিলি-বণ্টন
২২৷ ধারা ২১ এর অধীন সংরক্ষিত তহবিলে জমা করার এবং পরিশোধ বন্ধ হইয়াছে বা উহা সন্দেহজনক পর্যায়ে আছে এমন ঋণ, সম্পদের ঘাটতি এবং সচরাচর ব্যাংক কর্তৃক নির্দিষ্টকৃত অনুরূপ অন্যান্য ঘাটতির ব্যবস্থা করার পর ব্যাংকের লভ্যাংশ বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে বিলি-বণ্টন করা যাইবে৷

কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ
২৩৷ (১) ব্যাংক উহার দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালনের জন্য প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে৷
(২) ব্যাংকের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়োগ ও চাকুরীর শর্তাবলী প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে৷

ব্যাংকের পাওনা আদায়
২৪৷ (১) ব্যাংকের পাওনা বকেয়া ভূমি রাজস্ব হিসাবে আদায়যোগ্য হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, ঋণ গ্রহীতা বা ঋণ পরিশোধে বাধ্য এমন ব্যক্তিকে পনের দিনের নোটিশ প্রদান ব্যতিরেকে কোন টাকা উক্তরূপে আদায় করা যাইবে না:
আরো শর্ত থাকে যে, ব্যাংক ঋণ গ্রহীতা বা ঋণ পরিশোধে বাধ্য এমন ব্যক্তিকে নোটিশে উল্লিখিত কিস্তিতে টাকা পরিশোধের বিষয় অবগত করিবে এবং কোন কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হইবার পূর্ব পর্যন্ত কিস্তিতে টাকা পরিশোধের সুযোগ অব্যাহত রাখিবে৷
(২) ব্যাংকের পাওনা আদায়ের ক্ষেত্রে Public Demands Recovery Act, 1913 (Ben. Act III of 1913) অতঃপর উক্ত Act বলিয়া উল্লিখিত, এর section 7, 9, 10 এবং 13 এর বিধান প্রযোজ্য হইবে না এবং উক্ত Act এর section 6 এর অধীন জারীকৃত সার্টিফিকেটে উল্লিখিত টাকা ব্যাংকের পাওনার ব্যাপারে চূড়ান্ত প্রমাণ হিসাবে গণ্য হইবে৷
(৩) শুধুমাত্র ব্যাংকের পাওনা টাকা আদায়ের জন্য ব্যাংকের কোন কর্মকর্তা তাহার অধিক্ষেত্রের মধ্যে উক্ত Act এর অধীন সার্টিফিকেট কর্মকর্তার ন্যায় ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারিবেন৷

ক্ষমতা অর্পণ
২৫৷ ব্যাংকের দক্ষতা নিশ্চিতকরণকল্পে এবং দৈনন্দিন ব্যবসায়িক লেনদেন কার্যক্রম সহজতর করার জন্য বোর্ড উহার যে কোন ক্ষমতা বা দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট শর্তে চেয়ারম্যান, পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক অথবা ব্যাংকের অন্য কোন কর্মকর্তাকে অর্পণ করিতে পারিবে৷

শাস্তি ইত্যাদি
২৬৷ (১) কোন ব্যক্তি এই আইনের অধীন ঋণ বা অন্য কোন সুবিধা নেওয়া বা মঞ্জুর করানোর জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বিবরণ প্রদান করিলে বা কাহাকেও মিথ্যা বিবরণ প্রদানে বা জামানত হিসাবে ব্যাংকে জমাকৃত দলিলে মিথ্যা বিবরণ রাখার সুযোগ প্রদান করিলে, তিনি অনুর্ধ্ব এক বত্সর কারাদণ্ড বা দশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন৷
(২) কোন ব্যক্তি ব্যাংকের লিখিত অনুমতি ব্যতিরেকে কোন বিজ্ঞাপন বা প্রসপেক্টাসে ব্যাংকের নাম ব্যবহার করিলে, তিনি অনুর্ধ্ব ছয় মাস কারাদণ্ড বা দশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন৷

অপরাধ বিচারার্থে গ্রহণ
২৭৷ বোর্ড কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তার লিখিত অভিযোগ ব্যতিরেকে কোন আদালত এই আইনের অধীন শাস্তিযোগ্য কোন অপরাধ বিচারার্থে গ্রহণ করিবে না৷

সরল বিশ্বাসে কৃত কাজকর্ম রক্ষণ
২৮৷ ব্যাংকের কোন পরিচালক, কর্মকর্তা বা কর্মচারী কর্তৃক সরল বিশ্বাসে কৃত কোন কাজের ফলে কোন ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হইলে বা ক্ষতিগ্রস্ত হইবার সম্ভাবনা থাকিলে তজ্জন্য সংশ্লিষ্ট পরিচালক, কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোন দেওয়ানী বা ফৌজদারী মামলা বা অন্য কোন আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা যাইবে না৷

আনুগত্য ও গোপনীয়তা
২৯৷ (১) ব্যাংকের প্রত্যেক পরিচালক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী তাহার দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে ব্যাংক কর্তৃক বা বিধি দ্বারা নির্ধারিতভাবে ব্যাংকের আনুগত্য ও গোপনীয়তা রক্ষার ঘোষণা প্রদান করিবেন৷
(২) কোন পরিচালক, কর্মকর্তা বা কর্মচারী উপরোক্ত আনুগত্য ও গোপনীয়তার প্রতিশ্রুতি ভংগ করিলে তিনি অনধিক ছয় মাসের কারাদণ্ড অথবা দশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন৷

ব্যাংকের অবসায়ন
৩০৷ ব্যাংক কোম্পানীসহ যে কোন কোম্পানীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য অবসায়ন সংক্রান্ত আইনের বিধান ব্যাংকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না এবং সরকারের নির্দেশ ও সিদ্ধান্ত ব্যতিরেকে ব্যাংকের অবসান ঘটিবে না৷

ব্যাংক দোকান ইত্যাদি বলিয়া গণ্য হইবে না
৩১৷ আপাততঃ বলবত্ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন ব্যাংক Factories Act, 1965 (E.P. Act IV of 1965), Shops and Establishments Act, 1965 (E.P. Act VII of 1965) এবং Industrial Relations Ordinance, 1969 (XXIII of 1969)-এর মর্মানুসারে “কারখানা (factory)” “দোকান (shop)” বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান “(commercial establishment)” বা “শিল্প প্রতিষ্ঠান (Industry)” বলিয়া গণ্য হইবে না৷

বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা
৩২৷ এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে৷

প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা
৩৩৷ এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে বোর্ড, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে এবং সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইন ও বিধির সহিত অসমঞ্জস না হয় এইরূপ প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে৷

সোর্সঃ লজ অব বাংলাদেশ

Leave a Reply



লেখাটি ভালো লাগলে শেয়ার করে অন্যকে দেখার সুযোগ করে দিন:

এই বিভাগের অন্যান্য লেখা





ইমেইল সাবস্ক্রাইব করুন

আমাদের নতুন নতুন পোষ্ট গুলো ই-মেইল এর মাধ্যমে পেতে রেজিষ্ট্রেশন করুন।




আর্কাইভ



বিভাগ সমূহ