ইসলামী ব্যাংক ব্যবস্থা

0
893

ব্যাংকিং নিউজ বাংলাদেশঃ ইসলামী ব্যাংক ব্যবস্থা একটি ব্যতিক্রমধর্মী ব্যাংক ব্যবস্থা। ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী এ ব্যাংক ব্যবস্থা পরিচালিত। ইসলামের সুমহান নীতিমালা অনুযায়ী একটি সুদমুক্ত শােষণহীন সমাজ গড়ে তোলার পথে একটি বস্তুনিষ্ঠ প্রয়াস হচ্ছে ইসলামী ব্যাংক। ন্যায় ও ইনসাফের মাধ্যমে জুলুম ও নিপীড়নমুক্ত সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তুলতে ইসলামী ব্যাংক ব্যবস্থা এটি অনন্য সাধারণ ব্যবস্থা। একটি কল্যাণময় আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিনির্মাণে ইসলামী ব্যাংকের প্রয়ােজনীয়তা অনস্বীকার্য।

ইসলামী ব্যাংক ব্যবস্থা কাঠামােগত দিক থেকে প্রচলিত ব্যাংক ব্যবস্থার মত মনে হলেও আদর্শ ও মূলবােধের দিক থেকে উভয়ের মধ্যে পার্থক্য বিদ্যমান। কেননা প্রচলিত ব্যাংক ব্যবস্থা সুদ লেন-দেন ও ব্যবসা-বাণিজ্যকে উৎসাহিত করে। পক্ষান্তরে ইসলামী ব্যাংক ব্যবস্থা ইসলামী শরীয়াহ মৌলনীতিমালা অনুসরণের মাধ্যমে পরিচালিত ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য হচেছ-একটি সুদমুক্ত শােষণহীন সমাজা গড়ে তােলা। যার মাধ্যমে ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে যুলম ও নিপীড়নমুক্ত আর্থ-সামাজিক অবকাঠামাে গড়ে উঠে।

১৯৭৮ সালে সেনেগালের রাজধানী ডাকারে অনুষ্ঠিত ওআইসি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্মেলনে ইসলামী ব্যাংকের যে সংজ্ঞা অনুমােদিত ও গৃহীত হয় তারই আলােকে সারা বিশ্বে ইসলামী ব্যাংক পরিচালিত হচেছ।

ইসলামী ব্যাংক মানবজাতিকে একটি পরিপূর্ণ ও আদর্শিক জীবন গঠনে অর্থনৈতিক লেন-দেনের ক্ষেত্রে সহযােগীতা করে আল্লাহ ও তার রাসূলের (স) মনােনীত বিধান জীবনের সকল ক্ষেত্রে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করে থাকে। সে লক্ষ্যে অর্থনীতি ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে আল্লাহ ও তার রাসূলের (স) বিধান তথা ইসলামী অর্থ ব্যবস্থা কায়েম করতে হলে ইসলামী ব্যাংকের প্রয়ােজনীয়তা অপরিসীম।

ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা ইসলামী অর্থনীতির একটি দিক। ইসলামী অর্থ ব্যবস্থার ব্যাপক চাহিদা ও জনপ্রিয়তা সারা বিশ্বে থাকলেও এর অবকাঠামােগত বিকাশ বেশী দিনের নয়। ইসলামী অর্থ ব্যবস্থার অনুপস্থিতিতে পুঁজিবাদী ও সমাজবাদী অর্থ ব্যবস্থার সীমাহীন স্বেচছাচারিতায় বর্তমান বিশ্বকে অন্তহীন সমস্যায় জর্জরিত করে রেখেছে।

দারিদ্র, বেকারত্ব, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য, মুদ্রাস্ফীতি, শােষণ, নির্যাতন, শ্রেণীগত সংঘাত প্রভৃতির কারণে বিশ্ব আজ বিপর্যস্ত। বিশ্ব মানবতাকে এহেন অবস্থা থেকে মুক্ত করতে ইসলামী ব্যাংক ব্যবস্থা তথা ইসলামী অর্থ ব্যবস্থা একমাত্র কার্যকর পন্থা। কেননা মানব রচিত মতবাদ কখনােই সার্বিক কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না।

Leave a Reply