ইসলামী ব্যাংকিং ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থা ছাড়া সেক্যুলার রাষ্ট্র ব্যবস্থায় পরিচালিত

0
704

ব্যাংকিং নিউজ বাংলাদেশঃ ইসলামী ব্যাংকিং পূর্নাঙ্গ আদর্শিক ব্যাংকিং নয়, এবং ইসলাম ও ইসলামী আদর্শের বাস্তবায়ন ছাড়া ইসলামী ব্যাংকিং পরিচালনা করে যাওয়াও ঈমানদারী তাকওয়ার পরিপন্থী।

তবে….বাংলাদেশের সর্বাধিক আলোচিত-সমালোচিত # ইসলামী ব্যাংক অন্য সকল ব্যাংকের তুলনায় অনেকটাই সুষ্ঠ ও সুস্থ্য আইনী কাঠামোতেই পরিচালিত হয়েছে। যার ফলে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক উন্নতি ও প্রবৃদ্ধি সাধনে ইসলামী ব্যাংক-ই বাংলাদেশের ব্যাংকিং লিডার হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত। যা বাংলাদেশের ব্যাংকিং সফলতার প্রতিনিধিত্বে বিশ্ব অর্থনীতির ১টি রোল-মডেল হিসেবে প্রমানিত হয়ে আসছে। তার কারণ হলোঃ #ইসলামী ব্যাংক পরিচালনায় ব্যাংকিং আইনের সঠিক বাস্তবায়ন ও আইনের সতর্ক অনুশাসনের বাস্তবিক প্রয়োগ এবং কর্মীদের দূর্নীতিহীন কর্ম-প্রচেষ্টা।

বাংলাদেশে #ইসলামী ব্যাংক ইসলামিক প্রক্রিয়াগত পরিচালনায় ইসলাম ও ইসলামী আদর্শের বাস্তবায়ন যতটুকুই হোক, এই ব্যাংক অন্য সকল ব্যাংকের তুলনায় অনেকটাই দূর্নীতিহীন ও আপেক্ষিক আদর্শিক ব্যাংক বটে।
কিন্তু…..ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা যদি ইসলাম ও ইসলামী আদর্শ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে না হয়, ইসলামী আদর্শ বাস্তবায়নের বিপরীতে সেই ইসলামী ব্যাংকিং-এর কোনো প্রয়োজন আছে কি? তথাপি ১টি মুসলিম দেশে ১টি ইসলামী ব্যাংক ১টি মুসলিম রাষ্ট্রের আদর্শ বৈ! ১টি ইসলামী ব্যাংক যেমন ১টি মুসলিম দেশের আদর্শ অস্তিত্ব, তেমনি ইসলামী জ্ঞানসমৃদ্ধ ১জন ইসলামী ব্যাংকারও ১টি ইসলামী ব্যাংকিং/ ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থার(ইসলামী আদর্শ প্রতিষ্ঠার) আদর্শ।

আদর্শ ও আদর্শবান মানুষের প্রতি সকল মানুষদের যেমন সম্মান ও শ্রদ্ধা থেকে যায়, তেমনি একটি আমানতদারী ও আদর্শিক সাইনবোর্ড/ আদর্শিক লেনদেনের প্রতিও সকল মানুষের শ্রদ্ধা বিকষিত হওয়াই স্বাভাবিক, যেভাবে বিকষিত হয়েছে ইসলামী সাইনবোর্ডের সর্বাধিক জনপ্রিয় ইসলামী ব্যাংক।

তাই, ঘোষিত ও প্রদর্শিত ১টি আদর্শিক সাইনবোর্ডের আদর্শবানদের বৈশিষ্ট্য/ আখলাকের একটু ব্যতিক্রম হলেই, পুরো সমাজ অন্তর থেকে নিজের বিশ্বাসের উপর আঘাত পেয়ে বসে। তখনই সবাই সেই ঘোষিত-প্রদর্শিত সাইনবোর্ডকে/ আদর্শকে আঘাত করে বলার সুযোগ নেয়।সমাজ তখন তাদেরকে ইসলামের কল্যাণে আদর্শিক কর্মী হিসেবে পায় না, কারণ তাদের নিজেদের জীবনযাত্রা ইসলামী আদর্শ বাস্তবায়নের বৈশিষ্ট্যে পরিপালিত হয় না। যেহেতু সেই আদর্শ আর বিশ্বাসের লালন-সংরক্ষনই হলো ইসলামী অর্থনীতির বৈশিষ্ট্য ও চরিত্র। আর সেই আদর্শিক বৈশিষ্ট্যের চরিত্র হরণ করার পরিকল্পনায় ঐক্যবদ্ধ ধর্মনিরপেক্ষবাদীরা আজ বাংলাদেশের ইসলামী ব্যাংকিং-কে কোনঠাষা করার আয়োজন করেছে।
হ্যাঁ, ওরা ঢুকতে পেরেছে, ঘটাতে পেরেছে। কারণ, আমরা ঈমানদারী বৈশিষ্ট্যে ও আদর্শিক চরিত্রে হয়তো দূর্বল হয়ে পড়েছি। তাই তারা সুযোগ পেয়েছে, সুযোগ গ্রহন করেছে।

সুতরাং আমরা যারা আদর্শ ব্যাংকিং এর কথা বলছি বা আদর্শ ব্যাংকিং বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি, তারা যদি ইচ্ছা-অনিচ্ছায় ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের বিধিত আইনের অধীন সুদের নীতি মেনেই চলছি, তবে আমরা নিজেদেরকে কতটা শুদ্ধ হিসেবে তুলে ধরতে পারছি?
যেহেতু আমরা জানি- ইসলামী আদর্শ ব্যাংকিং ও ইসলামী অর্থনীতির পরিচালনার পূর্বশর্ত হলোঃ ইসলামী ব্যক্তিত্ব ও ইসলামী শরীয়ত সমৃদ্ধ জ্ঞান এবং তার আদর্শিক বাস্তবায়ন।

আর ইসলামী ব্যক্তিত্বের পূর্বশর্ত হলোঃ-ইসলামী জ্ঞান ও ইমানদারী জ্ঞানের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকা, সেহেতু আমরা আল্লাহর নির্দেশিত মুক্তির নির্দেশনায়-ইসলাম ও ইসলামী আদর্শ বাস্তবায়নের পক্ষে কতটা ইমানদারী আদর্শ রক্ষা করছি-করতে পারছি?

আত্মসমালোনার বৈশিষ্ট্যে….প্রকৃত ইসলামী ব্যাংকিং বাস্তবায়নে নিজেদের যতটা আদর্শ জ্ঞানের প্রয়োজন, সেই পর্যালোচনার পাশাপাশি আমরা কৃতজ্ঞচিত্তে স্বীকার করছি- ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র ও রাষ্ট্র ব্যবস্থার মাঝে ইসলামী ব্যাংকিং প্রচেষ্টা ও সফল অগ্রযাত্রা অন্য সকল ব্যাংকগুলোর তুলনায় নৈতিক এবং আদর্শিক।

সৌজন্যেঃ আকরামের বাবা, অনলাইন এক্টিভিষ্ট।

Leave a Reply