ইসলামী ব্যাংক ট্রাভেল কার্ড

0
474

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড “নগদ অর্থের প্রয়োজন নাই ট্রাভেল কার্ডে বিদেশ যাই” এই স্লোগানকে সামনে রেখে চিকিৎসা, ভ্রমণ, হোটেল ভাড়া, ব্যবসা বাণিজ্য অথবা অফিসিয়াল কাজে বিদেশ ভ্রমণকারীদের নিরাপদে অর্থ ব্যবহারের সুবিধার্থে “আইবিবিএল ট্রাভেল কার্ড” নামে ভিসা প্রি-পেইড কার্ড চালু করেছে।

➡ Sources of Fund of the Card (কার্ডের তহবিলের উৎস)
একটি প্রিপেইড কার্ড হিসাবে “আইবিবিএল ট্রাভেল কার্ড” এর ফান্ড ক্লায়েন্টের নিজস্ব উৎস থেকে নগদ অর্থ অথবা আইবিবিএলে অবস্থিত ক্লায়েন্টের হিসাবের মাধ্যমে (BDT/FC) ডেবিট করা হবে।

➡ Features of IBBL Travel Card (আইবিবিএল ট্রাভেল কার্ড এর বৈশিষ্ট্য)
আইবিবিএল ট্রাভেল কার্ড এর এর গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য এবং শর্তাবলী ( GFET-2009 এবং আইবিবিএল এর অভ্যন্তরীণ নীতিমালা অনুযায়ী) নীম্নে তুলে ধরা হলো-
০১. “আইবিবিএল ট্রাভেল কার্ড” আইবিবিএলের গ্রাহক এবং আইবিবিএলের গ্রাহক নয় তাদের জন্য ভ্রমণের সময় উপকৃত হতে পারে এই উদ্দেশ্যে চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে গ্রাহকরা তাদের অর্থের মাধ্যমে বিদেশী মুদ্রায় (স্থানীয় মুদ্রায় যেখানে ভ্রমণকারীরা তাদের ভ্রমণ সম্পাদন করে থাকে) লেনদেনের সুবিধা পাবেন।
০২. “আইবিবিএল ট্রাভেল কার্ড” এডি শাখার মাধ্যমে ফরোয়ার্ডিং শাখার দ্বারা ইস্যু করা হয়ে থাকে এবং যথাযথ ডকুমেন্টেশন এর বিপরীতে যেকোন AD শাখা থেকে ফান্ড লোড করা হয়।
০৩. “আইবিবিএল ট্রাভেল কার্ড” ভ্রমণকারীদের জন্য ০২ (দুই) বছরের জন্য ইস্যু করা হয়।
০৪. কার্ড হোল্ডারগণ “আইবিবিএল ট্রাভেল কার্ড” ব্যবহার করে বিদেশী মুদ্রা (যেখানে ভ্রমণকারীরা তাদের ভ্রমণ সম্পাদন করবেন) গ্রহণ করতে/উত্তোলন করতে পারবেন এবং এই বিষয়ে লেনদেনের ক্ষেত্রে ভিসা বিনিময় হার প্রযোজ্য হবে।
০৫. “আইবিবিএল ট্রাভেল কার্ড” বিদেশে অবস্থিত সকল VISA সমর্থিত দোকান, গাড়ী ভাড়া কোম্পানি, ট্রাভেল এজেন্ট, এটিএম ইত্যাদিতে ব্যবহার করা যাবে।
০৬. বিদেশে অবস্থিত VISA সমর্থিত আউটলেট (দোকান, ট্রাভেল এজেন্ট, রেন্ট এ কার) থেকে “আইবিবিএল ট্রাভেল কার্ড” এর মাধ্যমে ক্রয়ের জন্য কোন অতিরিক্ত চার্জ দিতে হবে না।
০৭. VISA সমর্থিত এটিএম থেকে স্থানীয় নগদ অর্থ উত্তোলন করা হলে ন্যূনতম চার্জ এবং কমিশন দিতে হবে।
০৮. ট্রাভেল কার্ডটি PIN দ্বারা সুরক্ষিত থাবে।
০৯. ভ্রমণ শেষ করার পর “আইবিবিএল ট্রাভেল কার্ড” হোল্ডার AD শাখায় একটি লিখিত আবেদনের মাধ্যমে এই কার্ড বন্ধ করে দিবে এবং কার্ডে অবশিষ্ট অর্থ গ্রাহক ফেরত পাবেন।
১০. “আইবিবিএল ট্রাভেল কার্ড” এর লেনদেন কার্ডে লোডকৃত ব্যালেন্সের বিপরীতে করা হবে, কার্ড ধারক কোন ক্রেডিট সুবিধা পাবেন না।
১১. গ্রাহক তার কার্ড ব্যালেন্স এবং লেনদেনের বিবরণ সম্পর্কে ২৪ ঘন্টা কার্ড সাপোর্ট সেন্টার অথবা আইবিবিএল কল সেন্টার ১৬২৫৯ এর মাধ্যমে জানতে পারবেন।

➡ Benefit of “IBBL Travel Card” (“আইবিবিএল ট্রাভেল কার্ড” এর সুবিধা)
০১. নগদ বৈদেশিক মুদ্রা বহন করার প্রয়োজন নেই।
০২. পণ্য কেনাকাটায় কোন চার্জ নেই।
০৩. পিন প্রটেক্টেড কার্ড।
০৪. নগদ অর্থ উত্তোলনের জন্য সামান্য চার্জ প্রযোজ্য।
০৫. VISA সমর্থিত ২৬ লক্ষ ATM থেকে লেনদেন সুবিধা।
০৬. ট্রাভেল কোটার সমপরিমাণ US ডলারের বিপরীতে স্থানীয় মুদ্রার অ্যাক্সেস সুবিধা।
০৭. বিশ্বব্যাপী চার কোটি চুয়াল্লিশ লক্ষ POS আউটলেট থেকে কেনাকাটার সুবিধা।
০৮. “আইবিবিএল ট্রাভেল কার্ড” ১০০% ইসলামী শরিয়াহ সম্মত।

➡ Selected Currency (নির্বাচিত মুদ্রা)
ট্রাভেল কার্ড ইস্যু ও লোড হবে ইউএস ডলারে কিন্তু কার্ড হোল্ডার স্থানীয় মুদ্রায় (যেখানে ভ্রমণকারীরা তাদের ভ্রমণ সম্পাদন করবেন) লেনদেন করতে পারবে।

➡ Validity of “IBBL Travel Card” (“আইবিবিএল ট্রাভেল কার্ড” এর মেয়াদ)
কার্ডের অপারেশন/লেনদেনের মেয়াদ/বৈধতা: ইস্যু তারিখ থেকে ০২ (দুই) বছর। তবে ০১ (এক) বছর পর কার্ড নবায়ন করতে হবে।

➡ Charges and Fees (চার্জ এবং ফি)
ইসলামী ব্যাংক ট্রাভেল কার্ডের চার্জ/ফি/কমিশন নিম্নরূপ তুলে ধরা হলো-
০১. ট্রাভেল কার্ড ইস্যু ফি- ৩০০ টাকা।
০২. নবায়ন ফি- ৩০০ টাকা।
০৩. প্রাথমিক টাকা লোড- ফ্রি।
০৪. ATM ক্যাশ উত্তোলন ফি- (ভিসা কর্তৃপক্ষের সাথে চুক্তি অনুযায়ী)।
০৫. কার্ড অ্যাক্টিভেশন ফি- ফ্রি।
০৬. পুনরায় টাকা লোড- ফ্রি।
০৭. কার্ড বন্ধ এবং ফান্ড ফেরত ফি- ২০০ টাকা।
০৮. ক্রয়ের জন্য লেনদেন ফি- (ভিসা কর্তৃপক্ষের সাথে মার্চেন্ট চুক্তি অনুযায়ী)।
০৯. ব্যালেন্স অনুসন্ধান ফি- ফ্রি।
১০. কার্ড/পিন রিপ্লেসমেন্ট ফি- ৩০০ টাকা।
১১. স্টেটমেন্ট ফি- ১ম বার ফ্রি এবং ২য় বার ১০০ টাকা।
১২. সার্টিফিকেট ফি- ২০০ টাকা।
(সকল লেনদেনের ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ভ্যাট প্রযোজ্য হবে)

➡ Mode of Payment (পেমেন্ট পদ্ধতি)
০১. আইবিবিএল গ্রাহক এবং নন আইবিবিএল গ্রাহকগণ নগদ অর্থ, পে অর্ডার বা চেক (অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত ব্যালান্স সাপেক্ষে) ট্রাভেল কার্ড ক্রয় করতে পারবেন।
০২. FC হিসাব হোল্ডাররা তাদের এনটাইটেলমেন্ট অনুযায়ী আইবিবিএল বা অন্য ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে তহবিল স্থানান্তর করতে পারেন।

➡ Required Papers (প্রয়োজনীয় কাগজাদি)
০১. বৈধ পাসপোর্ট।
০২. বৈধ ভিসা ও কনফার্ম টিকেট।
০৩. আইবিবিএল ট্রাভেল কার্ড আবেদন ফর্ম।
০৪. ০২ (দুই) কপি সাম্প্রতিক তোলা রঙিন ছবি।
০৫. TM ফরম ও ঘোষণা।
০৬. বাংলাদেশ ব্যাংককে রিপোর্ট করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং নথি।

➡ Procedures for using “IBBL Travel Card” (“আইবিবিএল ট্রাভেল কার্ড” ব্যবহার করার পদ্ধতি)
নিম্নে “আইবিবিএল ট্রাভেল কার্ড” ব্যবহার করার পদ্ধতি তুলে ধরা হলো-

✔ ক. For making purchase with the Card (কার্ড দিয়ে পার্চেজ করার জন্য)
০১. কার্ড ধারককে অবশ্যই একটি ভিসা সমর্থিত মার্চেন্ট, দোকান বা আউটলেটে যেতে হবে।
০২. কোনও কিছু কেনার সময় বিল পরিশোধ করার সময় মার্চেন্ট টার্মিনালের সাথে কার্ডটি সোয়াইপ করবে।
০৩. অনুমোদনের পর একটি স্লিপ/বিল প্রিন্ট হবে।
০৪. মার্চেন্ট মেশিন থেকে স্লিপটি নিয়ে কার্ড ধারককে স্লিপে তার স্বাক্ষর করার অনুরোধ করবে। স্বাক্ষর করার পর মার্চেন্ট তার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের জন্য এটি সংরক্ষণ করবে।
০৫. কার্ড ধারক মার্চেন্টের কাছ থেকে স্লিপের একটি অনুলিপি পাবেন এবং লেনদেনের প্রমাণ হিসাবে এটি সংরক্ষণ করবে।

✔ খ. For withdrawal of cash from ATM (ATM থেকে নগদ টাকা উত্তোলনের জন্য)
০১. কার্ড ধারক ভিসা সমর্থিত এটিএম বুথে যাবেন।
০২. কার্ড ধারক তার কার্ডটি ভিসা-সমর্থিত এটিএমের মধ্যে প্রবেশ করাবে।
০৩. তারপর সিস্টেমের নির্দেশ অনুযায়ী পিন প্রদান করবেন।
০৪. যদি পিন সিস্টেমের সাথে মিলে যায় কার্ড ধারককে সিস্টেমে অর্থ নির্বাচন করতে হবে।
০৫. লেনদেন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার পরে ক্যাশ ট্রে থেকে টাকা নিতে হবে।
০৬. লেনদেন সম্পন্ন হওয়ার পরে ভবিষ্যতের রেকর্ডের জন্য লেনদেন স্লিপ সংরক্ষণ করতে হবে।

✔ ট্রাভেল কার্ডের আবেদন ফরম পেতে ক্লিক করুন এখানে

➡ বিস্তারিত জানতে
* ব্যাংকের যে কোন শাখায় যোগাযোগ করুন
* কল সেন্টার ১৬২৫৯ অথবা ০২-৮৩৩১০৯০

লেখকঃ মোহাম্মদ শামসুদ্দীন আকন্দ, ব্যাংকার

Leave a Reply